বলিউডে যৌন হয়রানির প্রতিবাদে ‘হ্যাশট্যাগ মি টু’ ঝড়

ঢাকার নায়িকারা কী ভাবছেন?

  হাসান সাইদুল ২৫ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকার নায়িকারা কী ভাবছেন?
ঢাকার নায়িকারা কী ভাবছেন?

বলিউডজুড়ে চলছে যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে অঘোষিত আন্দোলন। ‘হ্যাশট্যাগ মি টু’ নামে এ আন্দোলনে শরিক হয়ে নিজেদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া দুঃসহ স্মৃতির কথা অনেক নারীই তুলে ধরেছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়।

বলিউডে শুরু হওয়া এ প্রতিবাদের ছোঁয়া এখনও লাগেনি বাংলাদেশি মিডিয়ায়। তবে আমাদের নায়িকারা মিডিয়ায় যৌন হয়রানির বিষয়ে কী ভাবছেন? এ নিয়ে কথা হয়েছিল কয়েকজন নায়িকার সঙ্গে। সেটাই তুলে ধরা হয়েছে এ প্রতিবেদনে। লিখেছেন-

‘কাস্টিং কাউচ’ শব্দটি সম্পর্কে কম-বেশি অনেকেই পরিচিত। বিশ্বজুড়ে মিডিয়ায় এই কাস্টিং কাউচের শিকার হন নারীরাই। কাজের বিনিময়ে প্রযোজক, নির্মাতারা নবাগতদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলাই হচ্ছে এর ব্যাখ্যা।

মাঝে মধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠিত নায়িকা কিংবা গায়িকাও এই কাস্টিং কাউচের শিকার হন। এই কাস্টিং কাউচ তথা যৌন হেনস্তার বিরুদ্ধে বলিউডে যখন ঝড় চলছে তখন আমাদের মিডিয়া কিন্তু নীরব।

অর্থাৎ বাংলাদেশি কোনো নায়িকা কিংবা গায়িকা মিডিয়ায় কাজ করতে এসে যৌন হয়রানি নিয়ে কোনো ধরনের কথা বলেননি। কিংবা জিজ্ঞেস করলেও বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন।

তবে কী বাংলাদেশি মিডিয়ায় যৌন হয়রানির শিকার হননি কোনো নারী? কথা হয়েছিল কয়েকজন নায়িকার সঙ্গে। মিডিয়ায় যৌন হয়রানি নিয়ে কী ভাবছেন তারা? কিংবা কখনও শিকার হয়েছিলেন কি?

এ প্রসঙ্গে এক সময়ের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা বলেন, ‘কাস্টিং কাউচ বিষয়টি আমাদের দেশে দেখা যায়নি। তাই এ বিষয়ে আমার কিছু বলার নেই। অভিনয় করতে গিয়ে ব্যক্তিগতভাবেও আমি এ ধরনের কোনো কিছুর শিকার হইনি। আসলে কর্মক্ষেত্রে এ বিষয়টি গ্রহণযোগ্য নয়। অভিনয় শিল্পীদের সবাই সম্মান করা উচিত, বিশেষ করে নারীদের।’

চিত্রনায়িকা পপিও কথা বললেন একই সুরে। তিনিও কাজ করতে গিয়ে কখনও যৌন হয়রানির শিকার হননি বলে জানিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে পপি বলেন, ‘আমার সঙ্গে এরকম কিছু ঘটেনি।

অভিনয়কে ভালোবেসে মিডিয়ায় কাজ করছি। তবে মাঝে মধ্যে শুটিংয়ে অভিনেত্রীদের সঙ্গে কিছু অসাধু লোক এ ধরনের কাজ করার চেষ্টা করে। তাদের বিচারের আওতায় আনা উচিত বলে আমি মনে করি।

অভিনয় শিল্পের পাশাপাশি অনেকের জীবিকারও উৎস, বিলাসিতা নয়। এখানে কোনো নারীকে যৌন হেনস্তা করা ঠিক নয়। অভিনেত্রীদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেয়া উচিত।

অভিনয়ে নতুন যেসব মেয়েরা আসবে তাদের প্রতি আমার পরামর্শ থাকবে লোভ থেকে দূরে থাকতে। অভিনয়কে ভালোবেসে কাজ করতে। বিবেকের কাছে অপরাধী না হয়ে কাজ করতে হবে। অভিনয় একটি শিল্প, এই শিল্পকে উন্নয়নের দিকে নিয়ে যেতে তারা কাজ করে যায় এই প্রত্যাশা।’

নিজের জীবনে না ঘটলে বাংলাদেশি মিডিয়ায় যৌন হয়রানির বিষয় যে একেবারেই নেই সেটা মানতে নারাজ অভিনেত্রী বাঁধন। তিনি বলেন, ‘আসলে অভিনেত্রী বলেই যে যৌন হেনস্তার শিকার হয় তা নয়।

শুধু অভিনেত্রীরাই নয়, অনেক ক্ষেত্রে একটি মেয়ে পরিবার থেকেই হেনস্তার শিকার হয়, তারপর সমাজ এমনকি কর্মক্ষেত্রেও। এর বিরুদ্ধে সবারই সোচ্চার হওয়া উচিত। আজ আমি হেনস্তার শিকার হব, কাল আমার মেয়ে! এভাবে চলতেই থাকবে।

এটি যেন হেনস্তাকারীর অধিকার হয়ে যাচ্ছে! এ থেকে নিস্তার পেতে হলে সবাইকে সোচ্চার এবং প্রতিবাদী হতে হবে। শুধু অভিনেত্রীই নয়, সবাই কোনো না কোনোভাবে যৌন এবং অন্য কোনোভাবে লাঞ্ছিত হয়। বিশ্বজুড়ে প্রতিবাদ শুধু অভিনেত্রীদের মাধ্যমে নয়, সব শ্রেণীর নারীদের মাধ্যমে হোক এটা কামনা করি।’

চিত্রনায়িকা বিদ্যা সিনহা মিম বিষয়টিকে উড়িয়ে দেননি। তিনি বলেছেন, ‘বিষয়টি আসলেই দুঃখজনক। অভিনয় পেশা অভিনয় শিল্পীদের জীবিকার উৎস। সে হিসেবে বলতেই পারি এই জীবিকা আমাদের মৌলিক অধিকারও বটে।

যদিও আমার সঙ্গে এরকম অপ্রীতিকর বিষয় ঘটেনি। যখন শুনি কেউ এর শিকার হয়েছে তখন কষ্ট লাগে। বিষয়টি আমাকে ভাবিয়ে তোলে। পারিশ্রমিক নিয়ে শিল্পী কাজ করবেন, কাজ শেষে বাড়ি যাবেন, এই তো।

এখানে কেন নোংরামি আসবে? যারা নোংরামি করছে তাদের বিরুদ্ধে যে আন্দোলন শুরু হয়েছে এটি আমি ভালোভাবে দেখি। নারীদের এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে। আমি সচেতন ছিলাম এবং এমন করার সাহসও কারও হয়নি। এ ক্ষেত্রে নতুন যারা কাজ করছে বা অভিনয়ে আসতে চায় তাদের বলব, কাজের প্রতি যত্নবান এবং সচেতন হতে।’

আরেক অভিনেত্রী সোহানা সাবাও জানালেন, তার জীবনে এমন ঘটনা ঘটেনি। তিনি বলেন, ‘আমার অভিনয় জীবনে এমন ঘটনার শিকার কখনও হইনি। তাই এ বিষয়ে বিশেষ কিছু বলতেও পারছি না। তবে যাদের সঙ্গে এমনটি হচ্ছে তাদের প্রতিবাদ করা উচিত।’

আমাদের দেশেও মিডিয়ায় যৌন হয়রানি হয় বলে জানিয়েছেন মৌসুমী হামিদ। কারও নাম প্রকাশ না করে তিনি বলেন, ‘বলিউড-হলিউডজুড়ে মি টু আন্দোলন শুরু হয়েছে, এটি ভালো।

আমাদের দেশে শুধু শোবিজই নয় বরং নারীদের সর্বক্ষেত্রে হেনস্তার নজির রয়েছে। মেয়েরা যখন দাবি পূরণ করে তখন তারা ভালো, আর অন্যায় আবদার গ্রহণ না করে সতর্ক হলে খারাপ, এমন নজির অনেক দেখেছি।

অনেক ক্ষেত্রে মেয়েদের হুমকি পেতেও দেখেছি। অভিনয়ের শুরুতে আমাকে একজন কুপ্রস্তাব দিয়েছিল কিন্তু আমি পাত্তাই দেইনি এবং তারপর থেকে ওই লোকের সঙ্গে আমি কাজ করিনি।

তিনি অনেকবার আমাকে সরি বলেছেন, কিন্তু আমি তার প্রজেক্টে আর কাজ করিনি। পরে আরও অনেকের কাছে তার সম্পর্কে শুনেছি। একটি বিষয় কী? হলিউডের এক অভিনেত্রী এবিসি চ্যানেলের সবচেয়ে দামি প্রডিউসারের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ করলে চ্যানেল কর্তৃপক্ষ ওই প্রডিউসারকে অব্যাহতি দেন। আমাদের দেশে এটি হবে না।

বরং কোনো চ্যানেলের কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে ওই চ্যানেলের কোনো কাজে অভিযোগকারীকে আর নেয়াই হবে না। কারণ আমাদের দেশে প্রতিবাদ-প্রতিরোধের সংস্কৃতি এখনও চালু হয়নি।

সব ক্ষেত্রে মেয়েরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না, এটি খোঁজ নিলেই জানা যাবে। তবে আরেকটি বিষয় লক্ষণীয়, শুধু পুরুষরা খারাপ বা যৌন হেনস্তা করে তা কিন্তু নয়, অনেক সময় মেয়েরাও কাজের তাগিদে এসবে সায় দিয়ে থাকেন। তাই মেয়েদেরও কাজের ক্ষেত্রে সতর্ক এবং সচেতন হতে হবে।’

এ সময়ের নায়িকা তমা মির্জা বাংলাদেশি মিডিয়ায় কাস্টিং কাউচ প্রসঙ্গে বলেন, ‘অভিনয় করতে গিয়ে যৌন হেনস্তার শিকার হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। নিজেকে সতর্ক রেখেছি, সাবধান হয়ে কাজ করেছি। অনেকেই অনেকভাবে যৌন হয়রানি করার চেষ্টাও কম করেনি। কিন্তু আমি সায় দেইনি। আমার কাজ অভিনয় করা, আমি মনোযোগ দিয়ে অভিনয় করে যাচ্ছি।’

নানার বিরুদ্ধে তনুশ্রীর অভিযোগ

বলিউডে যৌন হয়রানি নিয়ে অভিনেতা নানা পাটেকারের ওপরই সবচেয়ে বেশি ক্ষোভ তনুশ্রী দত্তের। ২০০৮ সালে ‘হর্ন ওকে প্লিজ’ ছবির একটি আইটেম গানের শুটিংয়ের সময় নানা পাটেকার তার সঙ্গে কী আচরণ করেছিলেন, সে বিষয়টি সামনে এনে বেশ আলোচিত এ নায়িকা।

সে সময়ের কথা স্মরণ করে তনুশ্রী বলেন, ‘তিনি জোরে আমার হাত ধরেন। আমাকে নাচ শেখাচ্ছিলেন। কোরিওগ্রাফার গণেশ আচার্যও ওই নাচে নতুন নতুন স্টেপস দেন, যাতে আরও বেশি করে নানা পাটেকারকে আমি স্পর্শ করি। আমি ওভাবে নাচতে চাইনি।

কিন্তু আমাকে ওভাবে নাচার জন্য জোর করা হয়। ওভাবে নাচতে অস্বীকার করার পর আমার নামে বদনাম রটানোর হুমকি দেন ছবির প্রযোজক সামি সিদ্দিকি। সেদিন বাড়ি যাওয়ার পথে আমার গাড়িতে হামলা চালানো হয়।

পুলিশের সহায়তায় আমি ওই সময় রক্ষা পাই। অথচ শুটিংয়ের আগেই জানিয়েছি অশ্লীল বা অস্বস্তিকর নাচ আমি করব না। কিন্তু শুটিংয়ের চতুর্থ দিনেই নানা পাটেকারের আচরণ অসহ্য হয়ে ওঠে।’

ইরানি নায়িকাও বলিউডে যৌন হয়রানির শিকার

বলিউডে কাজ করতে এসেছিলেন ইরানি নায়িকা ও মডেল ইলনাজ নরৌজি। যৌন হয়রানির শিকার তিনি হয়েছিলেন সেখানে। তিনি বলেছেন, ‘নমস্তে ইংল্যান্ড ছবির পরিচালক বিপুল অমৃতলাল শাহ আমাকে বিরক্ত করেছিল।

এই ছবিতে কাজ করার সুযোগ দিয়েছিলেন তিনি। অডিশনে অংশ নিতে বারবার ডাকা হয় আমাকে। অডিশন দিতে গেলে বিপুল নিজের অফিসে আমাকে প্রায়ই জড়িয়ে ধরতেন, চুমু খাওয়ার চেষ্টা করতেন।

এমনকি শরীরে স্পর্শকাতর অঙ্গও ছোঁয়ার চেষ্টা করেছেন। আমাকে ছবিতে নেয়ার কথা বলেও তিনি প্রতারণা করেছেন। আমাকে নেয়া হয়নি।’ স্ক্রিপ্ট শোনানোর জন্য প্রায়ই পাতিয়ালার একটি হোটেলে বিপুল তার রুমে ডেকে পাঠান বলে অভিযোগ করেছেন ইলনাজ নরৌজি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘রুমে যাওয়ার পর আমাকে পেছন থেকে ধরে তার দিকে টেনে নেয়ার চেষ্টা করেন বিপুল।

কিন্তু আমি তার রুম থেকে দ্রুত বেরিয়ে যাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিপুল আমাকে তিন মাস নির্যাতন করেছে। বিপুলের সঙ্গে যদি বিছানা শেয়ার করতাম, তাহলে অবশ্যই ওই চরিত্রে আমিই অভিনয় করতাম।’

একই পথের পথিক অমিতাভ বচ্চনও!

বলিউড বিগ বি অমিতাভ বচ্চনের বিরুদ্ধে যে যৌন হয়রানির অভিযোগ করতে পারে সেটা বিশ্বাসই করতে পারছেন না অনেকেই। ‘মি টু’ ইস্যুতে প্রথম দিকে চুপ থাকলেও পরে অমিতাভ বচ্চন নারীদের হয়রানির বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার কথা জানিয়ে টুইটারে একটি পোস্ট দেন। তিনি লিখেছেন, ‘যারা এ ধরনের গর্হিত কাজ করে তাদের শাস্তির আওতায় আনা উচিত।

নারীদের কর্মস্থান নিরাপদ করতে হবে। শুধু মিডিয়ায় নয়, সব ক্ষেত্রেই নারীদের সম্মান করতে হবে।’ অমিতাভের এই টুইটটি দেখার পরই এ অভিনেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন ভারতের বিখ্যাত হেয়ার স্টাইলিস্ট স্বপ্না ভাবনানি।

তিনি বলেছেন, ‘বচ্চনের যৌন হেনস্তার বহু ঘটনার কথা শুনেছি। আশা করব সেসব মহিলা এবার অন্তত মুখ খুলবেন। ওর ভণ্ডামি দেখতে দেখতে ক্লান্ত। বচ্চন মিথ্যা কথা বলেন।

তিনি পিঙ্ক ছবিতে এসেছেন এবং গেছেন। নারীরা মুখ খুললে তার প্রতিবাদী ইমেজ বদলে যাবে। সত্যি শিগগিরই সবার সামনে চলে আসবে।’ বচ্চনকে উদ্দেশ করে স্বপ্না আরও বলেন, ‘মনে হচ্ছে, এরপর শুধু নখ খাওয়া আপনার জন্য যথেষ্ট হবে না, আপনি নিজের পুরো হাতই চিবিয়ে খাবেন।’ স্বপ্নার এই কথার জবাবে অমিতাভ বচ্চন এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।

সালমানের বিরুদ্ধেও রয়েছে অভিযোগ

মি টু আন্দোলনে সালমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেখে নিশ্চয়ই সবার চোখ কপালে উঠবে। বলিউড ভাইজানের বিরুদ্ধে ঠিক এমন অভিযোগ করেছেন ভারতের টিভি অভিনেত্রী ও ‘বিগ বস’-এর সাবেক প্রতিযোগী পূজা মিশ্র। তিনি বলেছেন, ‘সুলতান ছবির কাজের সময় সালমান ও শত্রুঘ্ন সিনহার পরিবার আমাকে যৌন হেনস্তা করেছে। প্রতিবাদ করলে আমার বাবারও প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়।’

এ কথাগুলো বলেই শ্বেতা ক্ষান্ত হননি। তিনি আরও বলেছেন, ‘সালমান খুবই ভয়ঙ্কর প্রকৃতির এবং রাগী। তার ভুলের কথা কেউ যদি ধরিয়ে দেন, তাহলে তার গায়ে হাত তুলতেও দ্বিধা করেন না তিনি।’ এ অভিনেত্রী তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে এ সংক্রান্ত ভিডিও পোস্ট করেছেন। এর আগেও পূজা মিশ্র সালমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন।

শুধু সালমানই নয়, তার ভাই আরবাজ খানও নাকি পূজাকে যৌন হয়রানি করেছে। তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগও এনেছেন পূজা। একই অভিযোগ করেছেন শত্রুঘ্ন সিনহার বিরুদ্ধেও। যদিও এসব অভিযোগকে বরাবরই অস্বীকার করে গেছেন সালমান কিংবা তার পরিবার। পূজা সেই পুরনো ইস্যু আবারও নতুন করে তুলে আগুনে ঘি ঢেলে দিলেন।

হয়রানি থেকে মুক্তি পাননি ঐশ্বরিয়াও

বলিউডে যৌন হয়রানি থেকে রেহাই পাননি বিশ্বসুন্দরী ঐশ্বরিয়া রাইও। তিনি নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে মুখ খুলেছেন। বলেছেন, ‘বলিউডে কম-বেশি সবাই যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে। আমি নাম বলব না।

কিন্তু আমার সঙ্গেও এরকম কিছু ঘটেছিল। সতর্ক ছিলাম বলে কেউ ক্ষতি করতে পারেনি। এর বিরুদ্ধে আমি আগেও কথা বলেছি। এখনও বলে যাচ্ছি। বর্তমানে নারীরা যেভাবে যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে মুখ খুলছেন, তাকে আমি স্বাগত জানাই।

আপনি বিশ্বের যেখানেই থাকুন না কেন, যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে আপনার অভিযোগ সংবাদমাধ্যম এখন গুরুত্ব দিয়ে শুনতে শুরু করেছে। সবার সামনেই এখন তা প্রকাশ হচ্ছে। এটি ভালো পদক্ষেপ। তাই শুধু বলিউড কেন, সব নারীই এ প্রতিবাদে অংশ নেয়া উচিত।

নিজেদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো প্রকাশ করা উচিত।’ তিনি আরও বলেন, ‘নারীদের ওপর যৌন হেনস্তার ঘটনা নতুন নয়। আবহমানকাল থেকেই এটা হচ্ছে। কিন্তু নারীরা যেভাবে এবার মুখ খুলতে শুরু করেছেন, তা দেখে ভালো লাগছে। যারা হেনস্তা নিয়ে কথা বলছেন, তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। তাদের ক্ষতি যাতে কেউ করতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।’

পরিচালকের বিরুদ্ধে অভিযোগ কঙ্গনার

যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন বলিউডের আরেক নায়িকা কঙ্গনা রানাউত। তার অভিযোগ পরিচালক বিকাশ বহেলের বিরুদ্ধে। কঙ্গনা বলেন, “বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে আমাদের দেখা হতো।

আমরা একে অপরকে আলিঙ্গন করে অভিবাদন জানাতাম। কিন্তু এই সুযোগে বিকাশ সবসময় তার মুখ আমার ঘাড়ে গুঁজে দিতেন। আমাকে বেশ জোরে চেপে ধরতেন। আমার চুলের ঘ্রাণ নিতেন। বিষয়গুলো আমার কাছে অস্বস্তিকর মনে হতো। ঠিক একই সময় কানের কাছে মুখ নিয়ে বলতেন, ‘তোমার শরীরের ঘ্রাণ আমার খুব ভালো লাগে কঙ্গনা।’

সবার সামনে ওই অবস্থা থেকে নিজেকে মুক্ত করতে আমাকে বেশ কষ্ট করতে হতো।” এ ছাড়া অভিনেতা ঋত্বিকের বিরুদ্ধেও কঙ্গনা অভিযোগ করে বলেছেন, ‘সে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করেছিল।’ যদিও ঋত্বিক সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

এর আগে ঋত্বিকের সঙ্গে আদান-প্রদান করা কিছু ই-মেইল ফাঁস করেছিলেন কঙ্গনা। যেখানে কঙ্গনাকে মানসিকভাবে ব্ল্যাকমেইল করার কথাও লিখা ছিল। এ বিষয়ে দু’জন দু’জনকে আইনি নোটিশও পাঠিয়েছিলেন। বিষয়টি কিছুদিন পর চেপেও যায়। কিন্তু মি টু আন্দোলনে আবারও পুরনো ইস্যু নতুন করে টেনে এনে আগুনে ঘি ঢেলে দিলেন কঙ্গনা।

ঘটনাপ্রবাহ : তনুশ্রী-নানা পাটেকর বিতর্ক

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×