আইয়ুব বাচ্চুর সেরা ৫ গানের গল্প

  যুগান্তর ডেস্ক ২৫ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রয়াত কিংবদন্তি আইয়ুব বাচ্চু
প্রয়াত কিংবদন্তি আইয়ুব বাচ্চু

অসংখ্য ভক্ত-অনুরাগীকে কাঁদিয়ে ১৮ অক্টোবর না ফেরার দেশে চলে গেছেন দেশের কিংবদন্তি ব্যান্ডসঙ্গীত শিল্পী ও গিটার বাদক আইয়ুব বাচ্চু। সঙ্গীত জীবনে অসংখ্য গানে তিনি কণ্ঠ দিয়েছেন। তার গাওয়া প্রায় প্রতিটি গানই শ্রোতাদের কাছে সাড়া জাগিয়েছে।

প্রিয় এ গানের মানুষের জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্য থেকে পাঁচটি গানের পেছনের গল্প নিয়ে যুগান্তরের সঙ্গে কথা বলেছেন গীতিকার লতিফুল ইসলাম শিবলী

কষ্ট পেতে ভালোবাসি (কথা : লতিফুল ইসলাম শিবলী) : নব্বই দশকে একটি রোমান্টিসিজম ছিল। কষ্ট, বেদনা, নিঃসঙ্গতা এসবের প্রচলন ছিল। হেলাল হাফিজ ভাই কষ্ট নিয়ে বেশ কিছু কবিতা লিখেছেন।

এ কষ্ট, নিঃসঙ্গতা নব্বই দশকের ফ্যাশন ছিল তখন। আমি তখন কবিতা লিখি। কবিতা হিসেবেই এ গানটি মাথায় আসে। এ গানটি যে ভাবনায় লেখা, তা একেবারেই নতুন ভাবনা। এ কথাগুলোকে ওই সময় রেভ্যুলিউশনারি হিসেবে ভাবত।

গানের কথা ছিল সহজ কিন্তু গভীর। এরকম একটি কঠিন কথাকে আমি সহজভাবে বলেছিলাম। তারপর তো এটি ইতিহাস। টানা কয়েক বছর টপচার্টে ছিল এই গান। আমি বলব, এটির মাধ্যমে বাচ্চু ভাই নতুন অনেক শ্রোতার কাছে পৌঁছেছিলেন। এটিকে আমি তাই রেভ্যুলিউশনারি গান বলব।

কেউ সুখী নয় (কথা : লতিফুল ইসলাম শিবলী) : এ গানটি যখন আমি লিখি তখন অনেকটা না বুঝেই লিখেছি। তবে এ সময়ে এসে আমি হিসাব মেলাতে পারি, আসলে কেউ সুখী নয়।

নিজের ব্যক্তিগত দুঃখবোধ থেকে আমার মনে হয় যে আমার মতোই সবাই। আমার মতো করে সবাই ভাবে, আমার মতো করেই সবাই দুঃখী। আমি দেখেছি অনেক তারকা কিংবা বিত্তশালীকে। যারা দিনশেষে দুঃখে থাকেন। এ গানটি যখন আমি লিখি তখন আমার বয়স ২৫ অথবা ২৬।

এ গানটির সুর আগেই তৈরি করেছিলেন বাচ্চু ভাই। পরে সেই সুরের ওপর আমি গান লিখি। যেটি খুব সহজ কাজ নয়। যেসব গান মানুষকে স্পর্শ করে সেসব গান এমনই যে কথাগুলোও আলাদা ভালো লাগবে, আবার সুরও। বাচ্চু ভাইয়ের কণ্ঠে এ গানটি শ্রোতারা মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনছে এখনও।

হাসতে দেখ গাইতে দেখ (কথা : লতিফুল ইসলাম শিবলী) : এ গানটি আসলে একজন শিল্পীর জীবন। এটি একজন এন্টারটেইনারের জীবন। যারা প্রতি মুহূর্তে মানুষকে আনন্দ দেয় নিজের কষ্টটাকে লুকিয়ে।

প্রতিটি শিল্পী কিংবা দায়িত্ববান মানুষ একটি হাসির চেহারা দেখায়, কিন্তু ভেতরে ভেতরে সে পুড়ে যায়। এটি যে শুধু শিল্পীর জীবনে ঘটবে তা নয়। এটি প্রতিটি প্রেমিক মানুষের জীবনেই ঘটে। এটি আসলে একজন ভালো মানুষের কথা।

প্রায় প্রতিটি মানুষই কোনো না কোনো কারণে দুঃখ বহন করে। কিন্তু সেটি লুকিয়ে ফেলে হাসির মাধ্যমে। এটিই আমি লিখেছি। আর বাচ্চু ভাই সুর ও কণ্ঠ দিয়ে জীবন্ত করেছে এবং তার গায়কীর কারণে গানটি এখন শ্রোতাদের মুখে মুখে।

‘ফেরারি মন’ এবং ‘চলো বদলে যাই’ (কথা : আইয়ুব বাচ্চু) : এ গান দুটি বাচ্চু ভাইয়ের লেখা। বাচ্চু ভাইকে একজন গীতিকবিই বলব। তিনি সহজ কথা সহজভাবে বলেছেন। অনেক গভীরের কথা সহজভাবে বলেছেন।

এ গান দুটিতে গভীর জীবনবোধের কথা জড়িয়ে আছে। এ কথাগুলো যতই সহজ মনে হোক না কেন, এগুলো আসলে অনেক কঠিন কথা। চেনা মানুষের কাছ থেকে আমরা যখন কষ্ট পাই, প্রতারিত হই, দুঃখ পাই, তখন সেই মানুষটা অচেনা হয়ে যায়।

সেই অচেনা হয়ে ওঠার যে দুঃখ, আমার ধারণা বাচ্চু ভাই এগুলো তার ব্যক্তিগত জীবনে ফেস করেছেন। আমি বাচ্চু ভাইকে অনেক কাছ থেকে দেখেছি। তার জীবনের অনেক বিষয়ের আমি সাক্ষী। তাই আমি এ কথাটি বললাম, এ কথাগুলো বাচ্চু ভাইয়ের মনে এমনি এমনি আসেনি। বাচ্চু ভাই অনেক ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্যে দিয়ে পথ চলেছেন।

তিনি দেখেছেন কীভাবে চেনা মানুষ অচেনা হয়ে যায়। সহজ সহজ কথায় বাচ্চু ভাই যে অসাধারণ গান রেখে গেছেন তার মধ্যে এ গান দুটি অন্যতম। তার গানে কেউ যদি সাহিত্য খুঁজে তাহলে সে সাহিত্য পাবে না, কিন্তু সেখানে জীবন পাওয়া যাবে। ঘাত-প্রতিঘাতের রক্তাক্ত এক জীবন পাবে। গীতিকবি বাচ্চু ভাইকে নিয়ে এটিই আমার মূল্যায়ন।

অনুলিখন : তারা ঝিলমিল প্রতিবেদক

ঘটনাপ্রবাহ : আইয়ুব বাচ্চু আর নেই

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×