জীবন মানে প্রতিনিয়ত মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করা

  হাসান সাইদুল ০৮ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

জনপ্রিয় অভিনেতা মোশাররফ করিম
জনপ্রিয় অভিনেতা মোশাররফ করিম

বর্তমানে টেলিভিশন নাটকে অভিনয় জগতে সবচেয়ে ব্যস্ত তারকার নাম মোশাররফ করিম। নাটকের পাশাপাশি চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন এ তারকা।

বর্তমানে বেশ কয়েকটি ধারাবাহিক নাটকের শুটিং নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন এ অভিনেতা।

অভিনয় ব্যস্ততা এবং সমসাময়িক প্রসঙ্গ নিয়ে তারাঝিলমিলের মুখোমুখি হন তিনি।

* যুগান্তর: অভিনয় জীবনে আপনি অনেক মজাদার বলেই জানেন দর্শকরা। কিন্তু বাস্তব জীবন নিয়ে আপনার অভিমত কী?

** মোশাররফ করিম: জীবন নিয়ে আমি খুব সন্তুষ্ট। মানুষ তো আর বেশি দিন বেঁচে থাকে না। ছোট্ট জীবনে, হাসি-কান্না সবই থাকে- আছে। জীবনটাকে বেশ উপভোগ করছি। কিন্তু আরও গোছান হলে ভালো হতো। জীবনকে আরও উপভোগ করতে পারতাম।

* যুগান্তর: কণ্টকময় মিডিয়ায় দীর্ঘ পথপরিক্রমায় কতটা স্বাচ্ছন্দ্যে পথ চলতে পেরেছেন বলে মনে হয়?

** মোশাররফ করিম: আমাদের এ অভিনয় জগৎটি খুব ভালো। শিল্পীদের মন আসলেই সুন্দর। না হয় এত সুন্দর সুন্দর কাজ করতে পারতাম না। অভিনয় করে সময় কেটে যায়। জীবনই তো বড় রঙ্গমঞ্চ, তার ভেতরে থেকে পর্দায় অভিনয় করছি। হাসি-কান্না আছে, সব কিছুই উপভোগ করে যাচ্ছি। তবে একটি কথা না বললেই নয়, আমাদের এ জগৎ আরও সুন্দর ও গোছাল হতে পারত, যা সম্ভব ছিল। কর্মপরিবেশ আরও সুন্দর হলে ভালো হতো।

* যুগান্তর: মঞ্চ, টেলিভিশন ও সিনেমায় অভিনয় করছেন। তিন মাধ্যমে কেমন পার্থক্য খুঁজে পান?

** মোশাররফ করিম: অভিনয় একটি শিল্প বটে। এ শিল্পের একটি সুর আছে বটে। আর এ সুর তৈরির সঙ্গে সঙ্গে চরিত্র, অভিনেতা ও দর্শক একাকার হয়ে মিশে যান। আসলে মঞ্চনাটক, টেলিভিশন নাটক বা সিনেমায় কোনো নির্দিষ্ট ছক বা ফর্মে বেঁধে ফেলা সম্ভব নয়।

আমার মনে হয়, সেটি উচিতও হবে না। অভিনয়ের ক্ষেত্রে আগে মনের মধ্যে ভালোবাসা তৈরি করতে হবে। তবেই না চরিত্র, অভিনেতা ও দর্শক হবেন একাকার। এ কারণে অভিনয় মাধ্যমের পার্থক্য নিয়ে বলা মুশকিল; বরং বলতে পারি, মঞ্চনাটকে অভিনয় করতে গিয়ে চরিত্রের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ বসবাসের সুযোগ পেয়েছি। আসলে আমি একজন অভিনেতা আমার কাছে মাধ্যম কোনো বিষয় নয়।

* যুগান্তর: অনেকেই বলেন, আপনার অভিনয়ের পুরো ক্ষমতা ব্যবহার করা হচ্ছে না। অনেক সময় একঘেয়েমিও দেখা যায়। বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?

** মোশাররফ করিম: পুরোপুরি পেশাদারিত্ব যেটাকে বলে তার মধ্য দিয়ে তো আমি বা আমরা কেউই যেতে পারছি না। আমাদের কাঠামোই পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি। আমি কী করতে পারতাম, কত দূর যেতে পারতাম, আমার তা একেবারই অজানা। তবে একঘেয়েমির বাইরেও ভালো নাটক হচ্ছে।

* যুগান্তর: বিনোদন জগতে সিনেমা, গানের পাশাপাশি নাটক কিন্তু সমাজে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। সে পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান নাটকের প্রভাব কেমন পড়ছে তরুণ সমাজের ওপর?

** মোশাররফ করিম: প্রভাব তো অবশ্যই পড়ছে। আমরা যেমন চাই তেমন হয় তো পুরোপুরি দিতে পারছি না দর্শকদের। তবে এখন সময় এসেছে সবাইকে যত্নবান হওয়ার। একজন যত্নবান হলে হবে না। সবাই মিলে আমরা আরও ভালো কাজ দেব এটাই প্রত্যাশা করি।

* যুগান্তর: অনেকেই বলেন প্রচলিত, গল্প ভালো নেই, নাটক-সংলাপও উপযুক্ত নয়, অস্থিরতা চলছে নাট্যাঙ্গনে। আপনি কি সমর্থন করেন?

** মোশাররফ করিম: আসলে জীবনের সব ক্ষেত্রে ‘সময়’ একটি বড় বিষয়। সময় সাপেক্ষে কাজ করার গুরুত্ব অনেক। আমাদের দেশে ভালো নাটক হচ্ছে বটে, তবে অস্থিরতাও আছে।

একটি উদাহরণ দিতে চাই, ব্যবসা কিন্তু ভালো বিষয়। যে কোনো ব্যবসায় গ্রাহক ধরতে ভালো পণ্যই তৈরি করতে হয় বিক্রির জন্য। খারাপ পণ্য কেন গ্রাহক কিনবে টাকা খরচ করে? নাটকের বেলায়ও তাই।

এক ঘণ্টার নাটক বানাতে যে সময় দরকার, সে সময় কিন্তু আমরা অনেকাংশে পাই না। অন্যদিকে যতটুকু সময় নিয়ে কাজ করা উচিত, সে সময়মাফিক নাটকের বাজেটও কিন্তু দেয়া হয় না। সে পরিপ্রেক্ষিতে যা হওয়ার তা-ই হয়। তবে আমরা চেষ্টা করছি আরও যত্নবান হওয়ার। আমি আশাবাদী, আমাদের নাট্যাঙ্গন আরও কর্মপরিবেশবান্ধব হবে।

* যুগান্তর: এমন কোনো চরিত্র আছে যেটিতে ইচ্ছা আছে কিন্তু অভিনয় করা হয়নি?

** মোশাররফ করিম: নির্দিষ্ট করে বলতে পারব না। যা দেখি তাই তো চরিত্র। যত ধরনের মানুষ দেখি সবই চরিত্র। মানুষ বড়ই রহস্যময়, নিজেই নিজেকে জানে না। এরকম অনেক চরিত্রই আছে। মাঝে মধ্যে মনে হয় এমন চরিত্রে যদি অভিনয় করতে পারতাম! তবে কোনো আক্ষেপ নেই।

* যুগান্তর: নিজেকে সময় দেয়াও কিন্তু মানুষের অন্যতম অধিকার। আপনি কি সে অধিকার পালন করতে পারছেন?

** মোশাররফ করিম: আসলে সব সময়ই অভিনয় নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়। এত ব্যস্ত যে আলাদা করে সময় বের করা কঠিন। তবুও শত ব্যস্ততার মাঝে নিজের জন্য সময় বের করি। নিজেকে নিয়ে ভাবার মুহূর্ত খুঁজে পাই।

* যুগান্তর: জীবনটা আপনার কাছে আসলে কী?

** মোশাররফ করিম: জটিল প্রশ্ন। আমার কাছে মনে হয় জীবন মানে প্রতিনিয়ত মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করা। এর মধ্যে যে সময় পাচ্ছি তা কাজে লাগানো জরুরি।

* যুগান্তর: অভিনয় করতে করতে অনেকেই পরিচালনায় আসেন। এ নিয়ে আপনার ভাবনা কী?

** মোশাররফ করিম: যারা অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনায় আসছেন তাদের দেখে যে আমারও আসতে হবে তা কিন্তু নয়। আমার ভেতর থেকে যদি কখনও সাড়া আসে তবে পরিচালনা করতেও পারি। তবে এ নিয়ে আপাতত ভাবছি না।

* যুগান্তর: হালদার পর নতুন কোনো চলচ্চিত্রে দেখা যায়নি কেন আপনাকে...

** মোশাররফ করিম: চলচ্চিত্রে অভিনয় করার ইচ্ছা আছে। ভালো গল্পের অক্ষোয় আছি। আগে যেসব চলচ্চিত্রে কাজ করেছি সে রকম মানসম্মত চরিত্রের অপেক্ষায় আছি। ভালো গল্প ও চরিত্র পেলে অবশ্যই অভিনয় করব। সে জন্য যত দিন অপেক্ষা করতে হয় করব। আর যদি ভালো চরিত্র না পাই তবে অভিনয় করব না।

* যুগান্তর: জীবনে কোনো অপ্রাপ্তি যদি থাকে...

** মোশাররফ করিম: নিজের কোনো চাওয়া নেই। একটি আফসোস খুব পোড়ায়,আমাদের নাটকের অবকাঠামোগত অবস্থা আজও ঠিক হচ্ছে না। এটি আমার কাছে বড়ই অপ্রাপ্তি। অনেক সময়ই মনে হয় ঠিকমতো কাজ করতে পারলাম না। তবে আমি আশাবাদী, আমাদের নাট্যাঙ্গনের সব সমস্যা অচিরেই সমাধান হবে বলে আমার বিশ্বাস।

* যুগান্তর: আপনার জীবনের সেরা সময় কোনটি?

** মোশাররফ করিম: কৈশোর আমার জীবনের সেরা সময়। আমি গ্রামের আলো-বাতাসে বড় হয়েছি। প্রত্যেক শিশুরই গ্রামের আলো-বাতাসে বড় হওয়া উচিত। কারণ এতে করে খাঁটি জিনিসগুলো উপলব্ধি করা যায়। খাঁটি আলো-বাতাস। খাঁটি মাটির গন্ধ!

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×