যৌথ প্রযোজনার ছবিতে দুই দেশের একটা বন্ধন সৃষ্টি হয়েছিল

  হাসান সাইদুল ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

অভিনেতা ফেরদৌস
অভিনেতা ফেরদৌস

জনপ্রিয় অভিনেতা ফেরদৌস আহমেদ। ঢাকাই চলচ্চিত্রে তার আত্মপ্রকাশ হয় ‘বুকের ভেতর আগুন’ ছবির মাধ্যমে। এ ছবির নায়ক ছিলেন সালমান শাহ্। শুটিং চলাকালীন মারা যান এ নায়ক।

ছবির বাকি কাজ ফেরদৌসকে দিয়েই শেষ করা হয়। মূলত সালমান শাহের প্রক্সি হিসেবেই দর্শক ফেরদৌসকে দেখতে পান। এরপর কলকাতার পরিচালক বাসু চ্যাটার্জি পরিচালিত ‘হঠাৎ বৃষ্টি’ ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে আরও পরিপূর্ণ নায়ক হিসেবে আবির্ভূত হন তিনি।

এ ছাড়া তার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে কয়েকটি ছবি নির্মাণের মাধ্যমে কুড়িয়েছেন দর্শকের প্রশংসা। বর্তমানে কয়েকটি ছবির শুটিং নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন এ নায়ক। বর্তমান ব্যস্ততা ও চলচ্চিত্রের নানা বিষয় নিয়ে সম্প্রতি তারা ঝিলমিলের মুখোমুখি হন তিনি।

যুগান্তর: চলচ্চিত্রে আপনার শুরুটা ছিল প্রয়াত নায়ক সালমান শাহ’র প্রক্সি হিসেবে কাজ করে। এ নিয়ে কোনো কষ্ট আছে কি?

ফেরদৌস: এ নিয়ে কষ্ট থাকবে কেন? ‘বুকের ভেতর আগুন’ ছবিতে অভিনয় করা অবস্থায় সালমান শাহ মারা যান। ওই সময় অনেক নায়ক ছিল। তবুও অনেকের মধ্যে থেকে আমাকে নেয়া হয়েছে। বিষয়টি আমার কাছে অনেক আনন্দের এবং গর্বের। পরিচালক ছটকু আহমেদও মেধাবী। ছবিটিকে সুন্দরভাবে শেষ করতে পেরেছেন। দর্শক আমার অভিনীত প্রথম ছবিটি ভালোভাবে নিয়েছেন। এটা আমার কাছে আনন্দের। এতে কষ্ট পাওয়ার কিছু নেই।

যুগান্তর: আপনি তো মাসুদ রানা চরিত্রে অভিনয়েরও প্রস্তাব পেয়েছিলেন। পরে কী হল?

ফেরদৌস: এটা ১০ বছর আগের কথা। ইমপ্রেস টেলিফিল্ম থেকে পরিচালক (বিপণন) ইবনে হাসান খান আমাকে মাসুদ রানা চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব দেন। তিনি বলেছিলেন, ছবিটি খুব ভালো করেই বানানো হবে। দুঃখজনক হল, বিষয়টি আর আলোর মুখ দেখেনি। অনুমতি নিয়ে কী যেন একটি জটিলতা ছিল। মাসুদ রানা চরিত্রটি আমার কাছে লোভনীয় ছিল।

যুগান্তর: হলিউডে ছবিতেও অভিনয় করার কথা বলেছিলেন। অগ্রগতি কী?

ফেরদৌস: হ্যাঁ। বলিউডে অভিনয় করেছি। হলিউডেও একটি ছবি করার ইচ্ছা আছে। আমি কলকাতার ছবিতে কাজ করতাম বলে আমার ওপর সবার অভিযোগ ছিল ফেরদৌস ছাড়া তো কলকাতায় কাউকে চেনে না। এখন আমাদের দেশে অনেকেই করছেন।

যুগান্তর: আপনার প্রযোজনা সংস্থার খবর কী?

ফেরদৌস: আমার প্রযোজনা নুজহাত ফিল্মস থেকে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের উপন্যাস ‘গাঙচিল’ অবলম্বনে একই নামে একটি ছবির কাজ শুরু করেছি। চরাঞ্চলের মানুষের জীবন নিয়ে লেখা এ উপন্যাসের বিষয়বস্তু আমার ভালো লেগেছে। আশা করি ছবিটিও দর্শকদের ভালো লাগবে।

যুগান্তর: হাতে কী কাজ রয়েছে?

ফেরদৌস: ‘কাঠগড়ায় শরৎচন্দ্র’ ছবির কাজ প্রায় শেষ। ‘পোস্টমাস্টার ৭১’ ও ‘গন্তব্য’ মুক্তির অপেক্ষায়। ‘গাঙচিল’-এর শুটিং চলছে। ‘সেইভ লাইফ’-এর শুটিং শেষ। ‘জ্যাম’-এর কাজ শুরু হয়েছে। আরও কয়েকটি ছবির কথা চলছে, চূড়ান্ত হলে সবাই জানতে পারবেন।

যুগান্তর: যৌথ প্রযোজনার ছবিতে এখন আপনাকে দেখা যায় না। কারণ কী?

ফেরদৌস: এখন তো আগের মতো কাজ হচ্ছে না। যৌথ প্রযোজনায় ছবি নির্মাণ তো প্রায় বন্ধের পথে। আগে ঢাকা ও কলকাতার প্রযোজকদের অর্থ লগ্নিতে দুই দেশের শিল্পীদের নিয়ে অনেক ভালো ভালো ছবি হয়েছে। আমি অনেক ছবিতে কাজ করেছি। দুই দেশের ছবিতে একটা বন্ধনের সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু শেষতক আমাদের দেশের কিছু মানুষ ক্ষমতার বলে অসৎ পথে কাজটি তৈরি করতে গিয়ে যৌথ প্রযোজনায় ছবি নির্মাণ শেষ করে দিল।

যুগান্তর: আপনার দৃষ্টিতে বর্তমান চলচ্চিত্রের অবস্থা কেমন?

ফেরদৌস: এখন ভালো ছবি হচ্ছে। মাঝে একটু সমস্যা ছিল। অস্থিরতা কাটিয়ে আমরা সামনে এগোচ্ছি। তবে সবাইকে একটু যত্নবান হওয়া উচিত। ইন্ডাস্ট্রির দিকে একটু নজর দেয়া উচিত। চলচ্চিত্র বাঁচলে শিল্পীরাও বাঁচবে, আমরা বাঁচব। সবাইকে কাজে লাগানো উচিত।

যুগান্তর: আপনি তো ঢাকা ও কলকাতার ছবিতে কাজ করেছেন, কারা বেশি এগিয়ে আছেন?

ফেরদৌস: কিছু দিন আগেও আমাদের এখানে প্রযুক্তিগত সমস্যা ছিল। এদিক থেকে আমরা একটু পিছিয়ে ছিলাম। অন্যান্য দিক দিয়ে আমরা সব সময়ই এগিয়ে আছি। আমাদের গল্পের একটু ভিন্নতা রয়েছে। বর্তমানে ভালো ভালো ছবি হচ্ছে। আমাদের দেশীয় চলচ্চিত্র অনেকটাই ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে।

যুগান্তর: আমাদের দেশে একটি বিষয় লক্ষ্য করা যায়- সিনিয়র শিল্পীদের প্রতি ক্রমশ মূল্যায়ন কমে যায়। বিষয়টিকে আপনি কীভাবে দেখেন?

ফেরদৌস: সত্যিকার অর্থে আমাদের দেশে জ্যেষ্ঠ অভিনয়শিল্পীদের মূল্যায়ন তেমন একটা করা হয় না। যখন একজন অভিনয়শিল্পী সিনিয়র হন, তখন সেই শিল্পীকে নিয়ে পরিচালকরা আর কাজ করেন না। সবকিছু নির্ভর করে দর্শকের ভালোবাসার ওপর। দর্শক আমাদের এখনও ভালোবাসেন। দর্শক যখন চাইবে না তখন বিষয়টি অন্যরকম দেখা যাবে। কিন্তু একটি শিল্পীকে যথাযথ মূল্যায়ন করা উচিত।

যুগান্তর: আপনি সাংবাদিকতার ছাত্র ছিলেন। কিন্তু সাংবাদিকতা করলেন না কেন?

ফেরদৌস: সাংবাদিকতায় পড়াশোনা করেছি। চলচ্চিত্রে কাজ শুরু করার পর আর ওদিকে ফিরে তাকানোর সুযোগ পাইনি। তবে আমার অনেক সাংবাদিক বন্ধু আছেন, তাদের সঙ্গে মাঝে মাঝে আড্ডা হয়। আমি বিভিন্ন অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করি, এটিও সাংবাদিকতার একটি অংশ।

যুগান্তর: এমন কোনো চরিত্র আছে যাতে অভিনয় করতে চান?

ফেরদৌস: ‘মাসুদ রানা’। এই চরিত্রটি যদি আমাকে দিয়ে করানো হতো, খুব ভালো করতাম। ‘ফেলুদা’ চরিত্রেও অনেক ভালো করতে পারতাম। শুভ্র ও বোমক্যাশ নিয়ে আমার আগ্রহটা বেশি। আমাদের দেশে কিন্তু ‘সুপারহিরো’ চরিত্র এখনও সেই অর্থে হয়নি। সব সময় মনে হয়েছে, একটা সুপারহিরোর চরিত্র যদি করতে পারতাম! এটার ধারাবাহিকতা থাকত, দুই-তিন বছর পর পর এ ছবির সিক্যুয়েল আসত।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×