গায়ক হতে চেয়েছিলাম : সাগর জাহান
jugantor
অন্তরালের তারকা
গায়ক হতে চেয়েছিলাম : সাগর জাহান

  আখন্দ জাহিদ  

২০ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সাগর জাহান

তারকাদের আড়ালে পাঠক মনে অজানাই থেকে যায় অন্তরালে থাকা তারকা নির্মাণের কারিগরদের কথা। যাদের শৈল্পিক ছোঁয়ায় একটি গল্প নাড়া দেয় দর্শক হৃদয়।

বর্তমান টেলিভিশন নাটকে জনপ্রিয় তেমনি এক তারকা নির্মাতার নাম সাগর জাহান। শিশুশিল্পী হিসেবে চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে রুপালি জগতে আগমন ঘটে তার। এরপর শুরু হয় জীবনমুখী সঙ্গীত নিয়ে পথচলা, ক্রমান্বয়ে নাটক রচনা। সব পরিচয় ছাপিয়ে বর্তমানে তিনি একজন সফল নাট্যনির্মাতা।

পুরো নাম শাহরিয়ার জাহান সাগর। সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে বেড়ে ওঠায় রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশে গেছে সংস্কৃতির ছোঁয়া। মাত্র তিন বছর বয়সে চাচা দেলোয়ার জাহান ঝন্টুর লেখা ‘টক্কর’ চলচ্চিত্রে শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে রুপালি খাতার পাতায় যুক্ত হয় তার নাম। এরপর শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় করেন ৩৪টি চলচ্চিত্রে।

পারিবারিকভাবে অভিনয়ে আগমন ঘটলেও নিজের চাওয়া ছিল সঙ্গীতশিল্পী হওয়ার। বাবা আনোয়ার জাহান নান্টু ছিলেন সঙ্গীত পরিচালক। বাবাই তার সঙ্গীতের অনুপ্রেরণা।

শিশুশিল্পী হিসেবে অষ্টম শ্রেণীতে পড়াকালীন নিজের অভিনীত ‘ভাবির সংসার’ ছবিতে ‘ফেরিওয়ালা আমি যে ভাই, ফেরি করে খাই’ শিরোনামে গানে প্রথমবারের মতো প্লেব্যাক করেন তিনি। তারপর থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর রুনা লায়লা, সাবিনা ইয়াসমিন, শাকিলা জাফর, এন্ড্রু কিশোরদের মতো অনেক সিনিয়র শিল্পীর সঙ্গে সিনেমার গানে কণ্ঠ দিয়েছেন।

একসময় পারিবারিক চাওয়া উপেক্ষা করে চলচ্চিত্রে অভিনয় আর প্লেব্যাক ছেড়ে জীবনমুখী সঙ্গীত সাধনার মধ্যে নিজের স্বপ্ন বাস্তবায়নে ছুটে চলেন সাগর জাহান। নানা প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে বন্ধুদের ভালোবাসায় ১৯৯৭ সালে নিজের লেখা এবং সুরে ‘বেকার’ নামে সাউন্ডটেক থেকে একক অ্যালবাম বের করেন।

পারিবারিক পরিচয়ের বাইরে নিজ প্রতিভায় নিজেকে মেলে ধরতে গিয়ে রূঢ় বাস্তবতার শিকার হন তিনি। জীবনমুখী সঙ্গীত সাধনে নিজের শতভাগ মেলে দিলেও দেখা মেলেনি সফলতার।

পরে কবর দিতে হয় লালিত স্বপ্নকে। মুখোমুখি হতে হয় জীবনের কঠিন বাস্তবতার। জীবনের প্রতিকূল স্রোতধারা পাড়ি দিয়ে ২০০৫ সালে নাট্য পরিচালক অরণ্য আনোয়ারের হাত ধরে শুরু করেন নাটক রচনা।

তারপর থেকে উত্থান-পতনের নানাবিধ ঝড়ঝাপটা পাড়ি দিয়ে ছোটবেলা থেকে ‘অ্যাকশান-কাট’-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত সাগর জাহান ২০০৯ সালে নিজের মেধা, সততা আর পরিশ্রমকে পুঁজি করেই শুরু করেন নাটক পরিচালনা। নিজের রচিত ও পরিচালিত একক, টেলিফিল্ম ও ধারাবাহিকসহ তার সর্বমোট নাটকের সংখ্যা ১৬৪।

সব ধরনের দর্শকের জন্য বক্তব্যধর্মী নাটক নির্মাণ করা একজন সফল নির্মাতা হিসেবে নিজের প্রাপ্তি সম্পর্কে জানতে চাইলে সাগর জাহান বলেন, ‘একজন নির্মাতা হিসেবে সবচেয়ে বড় পাওয়া হচ্ছে দর্শকের ভালোবাসা।

সবকিছু মিলিয়ে আল্লাহর অশেষ রহমতে আমার চাওয়ার চেয়ে পাওয়া অনেক বেশি। তবে আমি আমার দায়বদ্ধতা থেকে আমার সহকারীদের ভালো অবস্থানের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০১৯ সালেই সিনেমার কাজ শুরু করব ইনশাআল্লাহ।’

বর্তমান টেলিভিশন নাটকের অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের নাটকের অবস্থা খুব একটা যে ভালো তা বলব না। তবে এ অবস্থার জন্য আমরা নিজেরাই দায়ী। তবে সুস্পষ্ট নীতিমালা, জবাবদিহিতা আর পরিপূর্ণ পেশাদারিত্ব মনোভাবের সমন্বয়ে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব।’

অন্তরালের তারকা

গায়ক হতে চেয়েছিলাম : সাগর জাহান

 আখন্দ জাহিদ 
২০ ডিসেম্বর ২০১৮, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
সাগর জাহান
সফল নাট্যনির্মাতা সাগর জাহান

তারকাদের আড়ালে পাঠক মনে অজানাই থেকে যায় অন্তরালে থাকা তারকা নির্মাণের কারিগরদের কথা। যাদের শৈল্পিক ছোঁয়ায় একটি গল্প নাড়া দেয় দর্শক হৃদয়।

বর্তমান টেলিভিশন নাটকে জনপ্রিয় তেমনি এক তারকা নির্মাতার নাম সাগর জাহান। শিশুশিল্পী হিসেবে চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে রুপালি জগতে আগমন ঘটে তার। এরপর শুরু হয় জীবনমুখী সঙ্গীত নিয়ে পথচলা, ক্রমান্বয়ে নাটক রচনা। সব পরিচয় ছাপিয়ে বর্তমানে তিনি একজন সফল নাট্যনির্মাতা।

পুরো নাম শাহরিয়ার জাহান সাগর। সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে বেড়ে ওঠায় রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশে গেছে সংস্কৃতির ছোঁয়া। মাত্র তিন বছর বয়সে চাচা দেলোয়ার জাহান ঝন্টুর লেখা ‘টক্কর’ চলচ্চিত্রে শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে রুপালি খাতার পাতায় যুক্ত হয় তার নাম। এরপর শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় করেন ৩৪টি চলচ্চিত্রে।

পারিবারিকভাবে অভিনয়ে আগমন ঘটলেও নিজের চাওয়া ছিল সঙ্গীতশিল্পী হওয়ার। বাবা আনোয়ার জাহান নান্টু ছিলেন সঙ্গীত পরিচালক। বাবাই তার সঙ্গীতের অনুপ্রেরণা।

শিশুশিল্পী হিসেবে অষ্টম শ্রেণীতে পড়াকালীন নিজের অভিনীত ‘ভাবির সংসার’ ছবিতে ‘ফেরিওয়ালা আমি যে ভাই, ফেরি করে খাই’ শিরোনামে গানে প্রথমবারের মতো প্লেব্যাক করেন তিনি। তারপর থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর রুনা লায়লা, সাবিনা ইয়াসমিন, শাকিলা জাফর, এন্ড্রু কিশোরদের মতো অনেক সিনিয়র শিল্পীর সঙ্গে সিনেমার গানে কণ্ঠ দিয়েছেন।

একসময় পারিবারিক চাওয়া উপেক্ষা করে চলচ্চিত্রে অভিনয় আর প্লেব্যাক ছেড়ে জীবনমুখী সঙ্গীত সাধনার মধ্যে নিজের স্বপ্ন বাস্তবায়নে ছুটে চলেন সাগর জাহান। নানা প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে বন্ধুদের ভালোবাসায় ১৯৯৭ সালে নিজের লেখা এবং সুরে ‘বেকার’ নামে সাউন্ডটেক থেকে একক অ্যালবাম বের করেন।

পারিবারিক পরিচয়ের বাইরে নিজ প্রতিভায় নিজেকে মেলে ধরতে গিয়ে রূঢ় বাস্তবতার শিকার হন তিনি। জীবনমুখী সঙ্গীত সাধনে নিজের শতভাগ মেলে দিলেও দেখা মেলেনি সফলতার।

পরে কবর দিতে হয় লালিত স্বপ্নকে। মুখোমুখি হতে হয় জীবনের কঠিন বাস্তবতার। জীবনের প্রতিকূল স্রোতধারা পাড়ি দিয়ে ২০০৫ সালে নাট্য পরিচালক অরণ্য আনোয়ারের হাত ধরে শুরু করেন নাটক রচনা।

তারপর থেকে উত্থান-পতনের নানাবিধ ঝড়ঝাপটা পাড়ি দিয়ে ছোটবেলা থেকে ‘অ্যাকশান-কাট’-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত সাগর জাহান ২০০৯ সালে নিজের মেধা, সততা আর পরিশ্রমকে পুঁজি করেই শুরু করেন নাটক পরিচালনা। নিজের রচিত ও পরিচালিত একক, টেলিফিল্ম ও ধারাবাহিকসহ তার সর্বমোট নাটকের সংখ্যা ১৬৪।

সব ধরনের দর্শকের জন্য বক্তব্যধর্মী নাটক নির্মাণ করা একজন সফল নির্মাতা হিসেবে নিজের প্রাপ্তি সম্পর্কে জানতে চাইলে সাগর জাহান বলেন, ‘একজন নির্মাতা হিসেবে সবচেয়ে বড় পাওয়া হচ্ছে দর্শকের ভালোবাসা।

সবকিছু মিলিয়ে আল্লাহর অশেষ রহমতে আমার চাওয়ার চেয়ে পাওয়া অনেক বেশি। তবে আমি আমার দায়বদ্ধতা থেকে আমার সহকারীদের ভালো অবস্থানের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০১৯ সালেই সিনেমার কাজ শুরু করব ইনশাআল্লাহ।’

বর্তমান টেলিভিশন নাটকের অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের নাটকের অবস্থা খুব একটা যে ভালো তা বলব না। তবে এ অবস্থার জন্য আমরা নিজেরাই দায়ী। তবে সুস্পষ্ট নীতিমালা, জবাবদিহিতা আর পরিপূর্ণ পেশাদারিত্ব মনোভাবের সমন্বয়ে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব।’

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন