ফিরে দেখা ২০১৮

সঙ্গীতে মন্দের ভালোতে কেটেছে পুরো বছর

সঙ্গীতাঙ্গনে ভালো-মন্দ মিলিয়ে কেটেছে গেল বারো মাস। পুরনো শিল্পীদের গান ক্রমেই কম হলেও নতুনদেরও সফলতা তেমন দেখা যায়নি এ বছর। গেল বছরের সঙ্গীতের খতিয়ান লিখেছেন-

  হাসান সাইদুল ২৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সফলতা-অস্থিরতা নিয়েই কেটে গেল এ বছর। দর্শক কিংবা প্রকাশিত অ্যালবামের হিসাব এখন আর হয় না। এখন হিসাব হয় ভিউ আর কন্টেন্টের। চলতি বছর কার গানে কত বেশি ভিউ (দর্শক) সেটা গুনতেই ব্যস্ত ছিলেন অনেকে। ইন্টারনেট ‘ভিউ’ দিয়েই জনপ্রিয়তার মাপকাঠি বিচারে ব্যস্ত ছিলেন প্রায় সবাই। চলতি বছর প্রত্যকটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে অসংখ্য অ্যালবাম প্রকাশ হয়েছে। এর মধ্যে বেশিরভাগই প্রকাশ হয়েছে ইন্টারনেট মাধ্যমে। সিডি আকারে প্রকাশ হয়নি বললেই চলে। পুরনোদের পাশাপাশি গানের ব্যবসায় যুক্ত হয়েছে নতুন নতুন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান। ব্যবসা মন্দা বলে বিষাদের ঝড় তুললেও গান প্রকাশের মাত্রা গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছরই ছিল সবচেয়ে বেশি। বছরজুড়ে সঙ্গীতে কিছুটা আশার সঞ্চার করেছেন বাংলাদেশি গানের সবচেয়ে জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকরব। ‘ফুঁ’ শিরোনামের একটি গান দিয়ে তিনি ২০১৮ সালের সঙ্গীতাঙ্গনে অনেককেই উড়িয়ে দিয়েছেন। বছরের শুরুতে কথা দিয়েছিলেন ২০১৮ সাল হবে তার। গান করবেন একশ। নিজের দেয়া কথা অনুযায়ী একশ গানই রেকর্ডিং করেছেন তিনি। ধারাবাহিকতা ধরে রেখে পুরো বছরই কাজ করেছেন এ গায়ক। তাই বলা যায় বছরের সফল গায়ক আসিফ।

চলতি বছর সঙ্গীতশিল্পী ধ্রুব গুহের ‘তোমার ইচ্ছে হলে’ ও ‘তোমার উঁকিঝুঁকি’ শিরোনামে দুটি গান রিলিজ হয়েছে। দুটো গানই শ্রোতামহলে বেশ প্রশংসিত হয়েছে। পাশাপাশি তার প্রতিষ্ঠিত প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ধ্রুব মিউজিক স্টেশনও (ডিএমএস) ছিল আলোচনার শীর্ষে। জনপ্রিয় সঙ্গীত পরিচালক হাবিব ওয়াহিদেরও চেষ্টা ছিল চলতি বছর ভালো কিছু করার। সংখ্যায় কম হলেও ভিউতে আটকে ছিল তার গানগুলো। অন্যদিকে সংখ্যায় কম গান করেছেন হৃদয় খান। কিন্তু আলোচনা কিংবা হিট কোনো তালিকায় ছিল না তার নাম।

চির সবুজ কুমার বিশ্বজিৎও এ বছর কয়েকটি মিউজিক ভিডিওতে কাজ করেছেন। গানগুলো ভালো হয়েছে। তবে বছরজুড়ে আলোচনায় থাকার মতো কোনো গান পাওয়া যায়নি তার। শাফিন আহমেদ কয়েকটি গান প্রকাশ করে আলোচনায় থাকার চেষ্টা করেছেন। বহুদিন অনুপস্থিত থেকে বছর শেষে একটি মিউজিক ভিডিও নিয়ে হাজিরা দেন বালাম। কিন্তু আগের মতো বাজার ধরা তার পক্ষে সম্ভব হয়নি। চলতি বছর বাপ্পা মজুমদারের কয়েকটি গান প্রকাশিত হয়। তিনি ছিলেন নিজের মতোই। কাজী শুভ চলতি বছরের ঈদের সময় সর্বাধিক পরিমাণ গানের শিল্পী ছিলেন। একটি ছবিতে প্লেব্যাক ছাড়া কোনো গান পাওয়া যায়নি হালের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী আরফিন রুমির। গান নিয়ে তাহসানের কোনো আওয়াজ ছিল না চলতি বছর। বরং সিনেমায় অভিনয় নিয়েই আলোচনায় বেশি ছিলেন এ গায়ক। অন্যদিকে ইমরান ছিলেন গতানুগতিক। একটা শ্রোতা শ্রেণী তৈরি হয়েছে তার। তারাই এ শিল্পীর গান শুনেছেন। প্রীতম হাসান এ বছর ‘৭শ টাকা’ ও ‘গার্লফ্রেন্ডের বিয়ে’ নামে দুটি গান প্রকাশ করে কিছুটা আলোচনায় ছিলেন। এ ছাড়া ভিউ বিচারে আরমান আলিফ নামে নতুন এক শিল্পী চলতি বছর রেকর্ড সৃষ্টি করলেও বছর শেষে তিনি ছিলেন ম্রিয়মাণ।

পুরনো শিল্পীদের মধ্যে বহুদিন পর ঈদুল আজহায় দুটি গান নিয়ে হাজির হয়েছিলেন মনি কিশোর। তপন চৌধুরীও কয়েকটি গান উপহার দিয়েছেন শ্রোতা-দর্শকদের। সৈয়দ আবদুল হাদির সঙ্গীত জীবনের চার যুগ উদযাপন উপলক্ষে ‘সূর্যোদয়ে তুমি’ গানটির নতুন ভার্সন প্রকাশ করা হয়। ব্যান্ড তারকা নকীব খান কয়েকটি গান রেকর্ডিংয়ের খবর দিলেও কোনো গান প্রকাশ করেননি। তবে পুরনো অনেক ব্যান্ডশিল্পীকে চলতি বছর স্টেজে নতুন করে দেখা গেছে।

গায়িকাদের মধ্যে এ বছরও গান দিয়ে তেমন আলোচনায় আসতে পারেননি ন্যান্সি। তবে বছরে শেষ দিকে হাবিবের সঙ্গে একটি দ্বৈত গানে কণ্ঠ দিয়ে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন। কণ্ঠশিল্পী পড়শীরও কোনো খবরই ছিল না চলতি বছর। ‘রাস্তা’ গানে কণ্ঠ দেয়ার পাশাপাশি মডেল হওয়ায় সমালোচিত হয়েছিলেন তিনি। আসিফ আকবরের সঙ্গে ‘টিপ টিপ বৃষ্টি’ নামে একটি গান দিয়ে কিছুদিন আলোচনায় ছিলেন আঁখি আলমগীর। আলোচনায় না এলেও ফাহমিদা নবীর কিছু ভালো গান ছিল চলতি বছর। কণারও অ্যালবাম কিংবা সিঙ্গেল গান নিয়ে তেমন খবর ছিল না এ বছর। বছরজুড়ে স্টেজ শো নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন এ গায়িকা। আসিফ আকবরের সঙ্গে একটি গান ছাড়া আর কোনো খবর ছিল না সালমার। এ ছাড়া সিনিয়রদের মধ্যে সাবিনা ইয়াসমিন, রুনা লায়লা স্টেজ শো নিয়েই বছরজুড়ে খবরের শিরোনামে ছিলেন।

চলতি বছর সঙ্গীতাঙ্গনে কিছু অস্থিরতা দেখা গেছে। মাইলস ব্যান্ডে ভাঙনের সুর বাজলেও দু’মাস পর আবারও শীতলতা আসে এ ব্যান্ডে। ব্যান্ড তারকা আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যুতে শোকের ছায়ায় মুষড়ে পড়ে পুরো সঙ্গীতাঙ্গন। তবুও থেমে থাকেনি গান প্রকাশ। বিভিন্ন শিল্পীর অনেক গানই মোটামুটি শ্রোতা-দর্শকদের কাছ থেকে সাধুবাদ পেয়েছে। আবার অনেক শিল্পী হারিয়েও গেছে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×