বছরান্তে টিভি মিডিয়ার হিসাব-নিকাশ

নাটক, টেলিফিল্ম ও বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠানে এ বছর মেতেছিলেন দর্শক। কেমন লেগেছে এসব কাজ, কিংবা দর্শকদের আকৃষ্ট করার কী ছিল টেলিভিশন চ্যানেলগুলোয়। বিস্তারিত লিখেছেন -

  সোহেল আহসান ২৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নাটক, টেলিফিল্ম, ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান, গানের অনুষ্ঠানসহ বাহারি আয়োজনে ২০১৮ সালটা ভালোভাবেই পার করার চেষ্টা করেছে দেশীয় টিভি চ্যানেলগুলো। তবে ধারাবাহিক নাটকের চেয়ে এ বছর এক খণ্ডের নাটকের দর্শক ছিল বেশি। গল্প ও শুটিং বৈচিত্র্য না থাকায় বেশিরভাগ ধারাবাহিক নাটক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন দর্শক। অন্যদিকে বিজ্ঞাপন প্রচারের যন্ত্রণাকে পাশ কাটিয়ে দর্শকের মনোযোগ আকর্ষিত হয়েছে হাতেগোনা কয়েকটি ধারাবাহিক নাটক। এ বছরও কয়েকজন অভিনয়শিল্পী ধারাবাহিক নাটককে গুডবাই জানিয়েছেন। এতে করে ধারাবাহিক নাটকগুলোয় মানসম্মত অভিনয় শিল্পীর অভাব পরিলক্ষিত হয়েছে। অন্যদিকে তরুণ কয়েকজন অভিনয়শিল্পী টেলিভিশন নাটক থেকে চলচ্চিত্রের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। এতেও নতুন ধরনের সংকটে পড়েছেন নির্মাতারা। নতুন শিল্পীদের সুযোগ না দিয়ে এক খণ্ডের নাটকগুলোয় ঘুরেফিরে কয়েকজন অভিনয়শিল্পীকেই বেশি দেখা গেছে। যা বিকাশমান এ শিল্পের জন্য ভবিষ্যৎ হুমকি হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।

মোশাররফ করিম, চঞ্চল চৌধুরী, অপূর্ব, সজল, আফরান নিশো, এফএস নাঈম, তাহসান, তৌসিফ মাহবুব, জোভান, মনোজ, মম, মেহজাবিন, তানজিন তিশা, সাবিলা নূর, সাফা কবির, শারলিন ফারজানাকে নিয়ে এক খণ্ডের নাটক বেশি প্রচার হয়েছে এ বছর। নুসরাত ইমরোজ তিশা চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য নাটকে সেভাবে ব্যস্ত ছিলেন না। গতানুগতিক কিছু নাটকেই তাকে অভিনয় করতে দেখা গেছে। অন্যদিকে বড় পর্দা থেকে এসে ইমন, নিরব এ বছর বেশ কিছু নাটকে অভিনয় করেছেন। বছরের শেষ দিকে এসে অভিনয়ে ফিরেছেন এক সময়ের জনপ্রিয় মডেল অভিনেত্রী সারিকা। আনিকা কবির শখকে খুব কম নাটকে অভিনয়ে দেখা গেছে। ব্যক্তিগত জীবন নিয়েই বেশি ব্যস্ত থেকেছেন এ মডেল অভিনেত্রী। সংসার ও উচ্চতর গবেষণা কাজে সময় দেয়ার জন্য এ বছরও অভিনয়ে কম দেখা গেছে সুমাইয়া শিমুকে। নাদিয়াকে নৃত্যশিল্পের চেয়ে অভিনয়েই বেশি দেখা গেছে। দীর্ঘ ধারাবাহিক নাটকের প্রযোজক হিসেবে এ বছর আত্মপ্রকাশ করেছেন মোশাররফ করিম। পাশাপাশি বেশ কিছু এক খণ্ডের নাটকও প্রযোজনা করেছেন তিনি। চঞ্চল চৌধুরী বেশ কিছুদিন সিনেমায় অভিনয়ের কারণে নাটকে অনুপস্থিত ছিলেন। তবে বছরের শেষভাগে নাটকে এসে ফিরেছেন পুরনো ছন্দে। তৌকীর আহমেদকে খুব বেশি নাটকে পাওয়া যায়নি এ বছর। চলচ্চিত্র নির্মাণেই ব্যস্ত ছিলেন তিনি। মাহফুজ আহমেদ বছরজুড়ে অভিনয়ে সময় দিয়েছেন খুবই কম। জাহিদ হাসান অভিনয়ের পাশাপাশি উপদেষ্টা পরিচালক হিসেবে ব্যস্ত ছিলেন। বিজ্ঞাপনের কল্যাণে টিভি পর্দায় নিয়মিত দেখা গেছে বিপাশা হায়াতকে। বছরের শেষ প্রান্তে বুদ্ধিজীবী দিবসের নাটকে অভিনয়ে দেখা গেছে শমী কায়সারকে। অভিনয় এবং নির্মাণ নিয়ে মোটামুটি ছন্দে ছিলেন আফসানা মিমি। একটি ধারাবাহিক নাটক ছাড়া সেভাবে আর ছোট পর্দায় ছিলেন না সোহানা সাবা। অভিনেত্রী ঈশিতা গত ঈদে ২টি নাটকে অভিনয় করেছিলেন। এ ছাড়া বছরের শেষ দিকে এসে মিউজিক ভিডিওতে দেখা গেছে তাকে। কুসুম শিকদার কয়েকটি নাটকে অভিনয় করেছিলেন। কিন্তু সেভাবে সাড়া জাগায়নি নাটকগুলো। আনিসুর রহমান মিলন সিনেমার কাজের জন্য নাটকে খুব বেশি নিয়মিত ছিলেন না। বছরের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সময় তিনি বিদেশে ছিলেন ব্যক্তিগত কাজে। চরিত্রভিত্তিক কয়েকটি নাটকে অভিনয় করে প্রশংসিত হয়েছেন ফারজানা ছবি। নির্মাতা সালাউদ্দিন লাভলুও কয়েকটি নাটকে অভিনয় করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন।

টেলিভিশন চ্যানেলগুলোয় বেশ কিছু ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান দেখেছেন দর্শক। এ বছরের হানিফ সংকেতের ‘ইত্যাদি’র চারটি পর্ব প্রচার হয়েছে। দর্শকপ্রিয়তায় এটিই ছিল সেরা। পাশাপাশি আনজাম মাসুদের উপস্থাপনায় ‘পরিবর্তন’ ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানটিও দর্শকের কাছে সমাদৃত হয়েছে। শাইখ সিরাজের কৃষিভিত্তিক অনুষ্ঠান ‘হদয়ে মাটি ও মানুষ’ এবং ‘কৃষকের ঈদ আনন্দ’ প্রশংসিত ছিল। অন্যদিকে নির্মাণগুণে দর্শকের পছন্দের শীর্ষে ছিল সালাউদ্দিন লাভলুর পরিচালনায় ‘মায়াজাল’, ‘ফেসবুকে বিবাহ’, ‘চিরকুমার মনে মনে’ ও ‘বুকের ভেতর নূপুর বাজে’ নাটকগুলো। মাসুদ সেজানের পরিচালনায় ‘চরিত্র স্ত্রী : চরিত্র স্বামী, ‘হিরো কেন ভিলেন’ এবং ‘গরিব কেন কাঁদে’ নাটকগুলো প্রশংসিত হয়েছে। সাগর জাহানের পরিচালনায় ‘ফ্যাটম্যান ফ্যান্টাস্টিক’, ‘মাধবীলতা, ‘সোনালি ইলিশের গল্প’ এবং ‘কথা রেখেছিলাম’ নাটকগুলোও দর্শক মনে দাগ কেটেছে। দুই ঈদে সাজ্জাদ সুমন পরিচালিত ‘কলুর বলদ’ নাটকটি দেশি এবং প্রবাসী দর্শকরা আগ্রহ নিয়ে দেখেছেন। আফজাল হোসেনের পরিচালনায় ‘ছোটকাকু’ ধারাবাহিক নাটকের সব পর্বই, বিশেষ করে শিশু দর্শকরা আগ্রহ নিয়ে দেখেছে। তরুণ নির্মাতা মাহমুদ দিদারের ‘এই শহরে আমাদের কোনো ঘর নাই’, ‘ইতি সিনেমা’, ‘শরতের বিহবল পাখিগুলো’ এবং ‘গল্পের সব চরিত্র সম্পর্কে জানতে নেই’ নাটকগুলো তরুণ দর্শকদের কাছে সাড়া জাগিয়েছে।

সব টেলিভিশন চ্যানেল চেষ্টা করলেও দর্শক ধরে রাখার দৌড়ে কেউ পিছিয়ে কেউ এগিয়ে ছিল। একমাত্র রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন টিভি চ্যানেল বাংলাদেশ টেলিভিশন বছরটি দায়সারাভাবেই পার করেছে। খবরকে প্রাধান্য দিয়ে এগিয়ে যাওয়া যমুনা টিভি এ বছর বেশ কিছু ভালো অনুষ্ঠান উপহার দিয়েছে। খবর প্রচারেও চ্যানেলটি এগিয়ে ছিল। রিয়েলিটি শো প্রচারে এগিয়ে থাকা চ্যানেল আই নতুন কোনো অনুষ্ঠান প্রচার করেনি এ বছর। এটিএন বাংলায় গড়পড়তা কাজই বেশি প্রচার হয়েছে। মানসম্মত অনুষ্ঠান প্রচার করে দর্শকের বিনোদন ক্ষুধা মিটিয়েছে এনটিভি। বাংলাভিশন দুই ঈদে জমকালো কিছু অনুষ্ঠান প্রচার করে দর্শক ধরে রাখার চেষ্টা করেছে। একুশে টেলিভিশনের অনুষ্ঠান প্রচারে খুব বেশি মনোযোগী ছিল না। মাছরাঙা টিভি ধারাবাহিকের চেয়ে এক খণ্ডের নাটক প্রচারেই বেশি মনোযোগী ছিল। দেশ টিভিও পুরনো নাটক প্রচার করেছে বছরজুড়ে। এসএ টিভিও তেমন কোনো জনপ্রিয় নাটক কিংবা অনুষ্ঠান প্রচার করতে পারেনি এ বছর। বছরের মাঝামাঝি সম্প্রচারে এসে বেশ প্রশংসিত নাগরিক টিভি। অনুষ্ঠান এবং নাটক টেলিফিল্মে বৈচিত্র্য দেখা গেছে। শিশুতোষ অনুষ্ঠান প্রচার করে এ বছরও বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে দুরন্ত টিভি। তবে ভারতীয় টিভি চ্যানেলগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় দেশী টিভি চ্যানেলগুলো খুব বেশি সফল ছিল না।

আরও খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত