ইচ্ছা আছে বুলবুলের গানগুলো নতুন করে গাইবার : সাবিনা ইয়াসমিন
jugantor
ইচ্ছা আছে বুলবুলের গানগুলো নতুন করে গাইবার : সাবিনা ইয়াসমিন

  বিনোদন ডেস্ক  

২৪ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বরেণ্য সঙ্গীতশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন
বরেণ্য সঙ্গীতশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন

আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের হঠাৎ প্রয়াণে অনেকটাই বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন বরেণ্য সঙ্গীতশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন। গত বছরের শুরুতে একটি সিনেমার গান রেকর্ডিংয়ের সময় তার সর্বশেষ দেখা হয়েছিল।

কষ্ট লাগছে এই ভেবে যে, আমরা আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের সঠিক মূল্যায়ন করতে পারিনি। যতদূর জানি যখন সে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছে তখন তার বয়স মাত্র ১৫ বছর!

এত কম বয়সে বুলবুল মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল! তারপর এ দেশের একজন প্রতিথযশা সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। কিন্তু এমন একজন সঙ্গীত পরিচালকের সঠিক মূল্যায়ন আমরা করতে পারিনি। এটাই আমাকে খুব কষ্ট দিচ্ছে। বুলবুলের সঙ্গে আমার প্রথম কাজ বিটিভির জন্য একটি অনুষ্ঠানে।

১৯৭৮ সালের কথা। সেই অনুষ্ঠানে ‘মাঝি নাও ছাইড়া দে রে মাঝি পাল উড়াইয়া দে’ ও ‘একদিন ঘুম ভেঙ্গে দেখি তুমি নাই’সহ আরও দুটি গান গেয়েছিলাম বুলবুলেরই সুর-সঙ্গীতে।

কিন্তু দুঃখ হল, বিটিভি সেসব অনুষ্ঠান যথাযথভাবে সংরক্ষণ করে না। যদি যথাযথভাবে সংরক্ষণ করত, তাহলে নিশ্চয়ই এ প্রজন্মের শ্রোতারা, শিল্পীরা সেসব গান শুনে কাজে লাগাতে পারত।

এসব কথা এখন আর বলে কোনো লাভ নেই। আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল চলে গেল, যেন আমাদের সবই শেষ হয়ে গেল। আর কিছুই রইল না আমাদের। তার সুর ও সঙ্গীতে আমি ‘সব ক’টা জানালা খুলে দাওনা’ গানটি গেয়েছি। বুলবুল এই গান দিয়েই বেঁচে থাকবে যুগের পর যুগ। তার সঙ্গে আমার সম্পর্কটা ছিল বেশ বন্ধুত্বপূর্ণ।

আমি কিছু বলার আগেই সে বুঝে ফেলত আমি কী বলতে চাচ্ছি। আবার বুলবুল হারমোনিয়ামে হাত দিলেই আমি বুঝে ফেলতাম সে কী বুঝাতে চাইছে। এতটাই বোঝাপড়া ছিল আমাদের মাঝে। আমাদের পরিকল্পনা ছিল তার সুর সঙ্গীতে আমার গাওয়া দেশের গানগুলো আবার নতুন করে রেকর্ড করার।

কিছু গান করেছিও। কিন্তু সব করা হয়ে ওঠেনি। আজ বুলবুল নেই। কিন্তু তারপরও ইচ্ছা আছে তার গানগুলো নতুন করে গাইবার। দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কী হয়। সত্যি বলতে কী এগুলো ভাবছি আর নিজেকে সান্ত্বনা দিচ্ছি।

কারণ নিজেকে সান্ত্বনা দেয়া ছাড়া তো এখন আর কিছু করার নেই। বুলবুল সত্যিই চলে গেছে। আর কোনোদিন ফিরে আসবে না আমাদের মাঝে। আর কোনোদিন নতুন কোনো সুর সৃষ্টি করবে না।

চলে গেলেও বুলবুল বেঁচে থাকবে আমাদের হৃদয়ে। স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা, যেখানেই থাকুক ও যেন ভালো থাকে।

লেখক : সঙ্গীতশিল্পী

ইচ্ছা আছে বুলবুলের গানগুলো নতুন করে গাইবার : সাবিনা ইয়াসমিন

 বিনোদন ডেস্ক 
২৪ জানুয়ারি ২০১৯, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
বরেণ্য সঙ্গীতশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন
বরেণ্য সঙ্গীতশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন

আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের হঠাৎ প্রয়াণে অনেকটাই বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন বরেণ্য সঙ্গীতশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন। গত বছরের শুরুতে একটি সিনেমার গান রেকর্ডিংয়ের সময় তার সর্বশেষ দেখা হয়েছিল।

কষ্ট লাগছে এই ভেবে যে, আমরা আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের সঠিক মূল্যায়ন করতে পারিনি। যতদূর জানি যখন সে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছে তখন তার বয়স মাত্র ১৫ বছর!

এত কম বয়সে বুলবুল মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল! তারপর এ দেশের একজন প্রতিথযশা সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। কিন্তু এমন একজন সঙ্গীত পরিচালকের সঠিক মূল্যায়ন আমরা করতে পারিনি। এটাই আমাকে খুব কষ্ট দিচ্ছে। বুলবুলের সঙ্গে আমার প্রথম কাজ বিটিভির জন্য একটি অনুষ্ঠানে।

১৯৭৮ সালের কথা। সেই অনুষ্ঠানে ‘মাঝি নাও ছাইড়া দে রে মাঝি পাল উড়াইয়া দে’ ও ‘একদিন ঘুম ভেঙ্গে দেখি তুমি নাই’সহ আরও দুটি গান গেয়েছিলাম বুলবুলেরই সুর-সঙ্গীতে।

কিন্তু দুঃখ হল, বিটিভি সেসব অনুষ্ঠান যথাযথভাবে সংরক্ষণ করে না। যদি যথাযথভাবে সংরক্ষণ করত, তাহলে নিশ্চয়ই এ প্রজন্মের শ্রোতারা, শিল্পীরা সেসব গান শুনে কাজে লাগাতে পারত।

এসব কথা এখন আর বলে কোনো লাভ নেই। আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল চলে গেল, যেন আমাদের সবই শেষ হয়ে গেল। আর কিছুই রইল না আমাদের। তার সুর ও সঙ্গীতে আমি ‘সব ক’টা জানালা খুলে দাওনা’ গানটি গেয়েছি। বুলবুল এই গান দিয়েই বেঁচে থাকবে যুগের পর যুগ। তার সঙ্গে আমার সম্পর্কটা ছিল বেশ বন্ধুত্বপূর্ণ।

আমি কিছু বলার আগেই সে বুঝে ফেলত আমি কী বলতে চাচ্ছি। আবার বুলবুল হারমোনিয়ামে হাত দিলেই আমি বুঝে ফেলতাম সে কী বুঝাতে চাইছে। এতটাই বোঝাপড়া ছিল আমাদের মাঝে। আমাদের পরিকল্পনা ছিল তার সুর সঙ্গীতে আমার গাওয়া দেশের গানগুলো আবার নতুন করে রেকর্ড করার।

কিছু গান করেছিও। কিন্তু সব করা হয়ে ওঠেনি। আজ বুলবুল নেই। কিন্তু তারপরও ইচ্ছা আছে তার গানগুলো নতুন করে গাইবার। দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কী হয়। সত্যি বলতে কী এগুলো ভাবছি আর নিজেকে সান্ত্বনা দিচ্ছি।

কারণ নিজেকে সান্ত্বনা দেয়া ছাড়া তো এখন আর কিছু করার নেই। বুলবুল সত্যিই চলে গেছে। আর কোনোদিন ফিরে আসবে না আমাদের মাঝে। আর কোনোদিন নতুন কোনো সুর সৃষ্টি করবে না।

চলে গেলেও বুলবুল বেঁচে থাকবে আমাদের হৃদয়ে। স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা, যেখানেই থাকুক ও যেন ভালো থাকে।

লেখক : সঙ্গীতশিল্পী