মঞ্চ সংবাদ

ভাষার মাসে উৎসবমুখর রাজধানী

  ফারুক হোসেন শিহাব ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ভাষার মাসে উৎসবমুখর রাজধানী

মহান ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত ‘ফেব্রুয়ারি’ বাঙালির জীবনে এক অনন্য প্রেরণার উৎস। প্রতিবছর এ ভাষার মাস দেশের সর্বত্র বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে থাকে উৎসবমুখর। দেশের সর্বপ্রান্তে দেখা দেয় সৃজনশীল ও উদ্দীপনাময় সাংস্কৃতিক জাগরণ।

এখন আন্তর্জাতিকভাবেও যথাযথ মর্যাদায় একুশে ফেব্রুয়ারিকে পালন করা হয় সাড়ম্বরে। পুুুরো ফেব্রুয়ারি দেশজুড়ে ধ্বনিত হয় অমর গান- ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি।’

মায়ের মুখের ভাষা বাংলাকে আপন মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করতে বীর সন্তানরা ১৯৫২ সালের এ মাসে সারা দেশে গড়ে তুলেছিলেন এক অগ্নিঝরা আন্দোলন। বুকের তাজা রক্তে রাজপথ রাঙিয়ে দিয়ে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ভাষার অধিকার।

বাঙালির রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন একাধারে যেমন ছিল রাষ্ট্রীয় জীবনে মাতৃভাষা প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম, তেমনি এ আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি তার জাতিসত্তা ও আপন সাংস্কৃতিক অধিকারের প্রতিও সচেষ্ট হয়ে উঠেছিল।

প্রকৃতপক্ষে মহান ভাষা আন্দোলনের পথ ধরেই এসেছিল স্বাধীনতা সংগ্রামের চূড়ান্ত বিজয়। এ একুশের চেতনাকে লালন করেই প্রতিবছর ফেব্রুয়ারিতে সারা দেশে দেশজ সাহিত্য-সংস্কৃতির জাগরণ ঘটে। যার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে বাংলা একাডেমি আয়োজিত অমর একুশে বইমেলা।

প্রতিবারের মতো এবারও ফেব্রুয়ারির প্রথম দিন থেকেই বইপ্রেমী হাজার হাজার পাঠকের পদচারণায় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ হয়ে উঠেছে উৎসবমুখর। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিসহ নগরীর এ সাংস্কৃতিক বলয়ে এখন নানা উৎসবের জয়গান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার প্রাঙ্গণের হাকিম চত্বরে প্রতিবারের মতো এবার অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলা ভাষাভাষী কবি ও কবিতা অনুরাগীদের প্রাণের সংগঠন জাতীয় কবিতা পরিষদের আয়োজনে ৩৩তম জাতীয় কবিতা উৎসব।

জাতীয় কবিতা উৎসবের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি এসব কবিদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে অমর একুশের বইমেলা। এদিকে বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের উদ্যোগে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে চলছে ‘জাতীয় পথ নাট্যোৎসব ২০১৯’। ‘বিশ্বের সব মাতৃভাষা রক্ষা করবে বাংলাদেশ’ শীর্ষক এ আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতায় রয়েছে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

নাট্যোৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ। উৎসব উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. আখতারুজ্জামান। ৩১ জানুয়ারি শুরু হওয়া ৮ দিনব্যাপী এ উৎসবে অংশ নিয়েছে দেশের স্বনামধন্য অর্ধশতাধিক নাট্যদল। প্রতিদিন বিকালে নানা বিষয়-বৈচিত্র্যের পথনাটক নিয়ে আয়োজিত এ নাট্যোৎসবের সমাপ্তি ঘটবে আজ।

৫ম বারের মতো এবারও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মুক্তমঞ্চে ‘একুশে নাট্যোৎসব’ আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়েছে বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন। অন্যান্য বছর একুশের প্রথম দিন থেকে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ও বাংলা একাডেমির সহযোগিতায় আয়োজনটি শুরু হলেও এবার পৃষ্ঠপোষকতার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না পাওয়ায় বৃহত্তর এ নাট্যোৎসবটি বিলম্বিত হচ্ছে।

তবে ফেডারেশনের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। বরাবরের মতো সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় পৃষ্ঠপোষকতার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানালে ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মাসব্যাপী এ নাট্যযজ্ঞ শুরু করার আশা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সেক্রেটারি জেনারেল কামাল বায়েজিদ।

তিনি বলেন, ‘বইমেলার পাশাপাশি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মুক্তমঞ্চে একুশে নাট্যোৎসবও একটি নিয়মিত আয়োজনে পরিণত হয়েছে। এবার কিছুটা প্রশাসনিক জটিলতায় আয়োজনটি বিলম্বিত হচ্ছে। আয়োজনটি অনেক বড় বাজেটের। সারা দেশ থেকে বিভিন্ন নাট্যদলকে এখানে এনে নাট্যপ্রদর্শনী করানোর ক্ষেত্রে অনেক অর্থের প্রয়োজন। প্রতিবছর এ আর্থিক জোগানটি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় দিয়ে থাকে।

এরই মধ্যে সংস্কৃতিমন্ত্রী এ বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন। আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি। আশা করছি, দু-এক দিনের মধ্যেই বিষয়টি চূড়ান্ত হবে। উৎসবে ঢাকার সক্রিয় নাট্যদলগুলো ছাড়াও প্রতিটি বিভাগ থেকে দুটি পথনাটক এবং একটি মঞ্চনাটক অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

আমরা চেষ্টা করছি অন্যবারের চেয়েও এবারের আয়োজনে নির্বাচিত নাটকগুলো যেন অধিকতর বিষয়বৈচিত্র্যের- মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন ও সাহিত্যনির্ভর হয়।’ এদিকে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিজুড়েও নানা আয়োজনে রয়েছে মুখর।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×