ভাষা আন্দোলন নিয়ে এখনও নেই পূর্ণাঙ্গ কোনো ছবি

  এফ আই দীপু ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

চলছে ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি। ১৯৫২ সালে এ মাসেরই একুশ তারিখ ভাষার অধিকার আদায়ের জন্য জীবন দিয়েছিলেন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিউরসহ আরও অনেকে। সেই ভাষার নাম বাংলা। আমাদের মাতৃভাষা। এ ভাষাই কেড়ে নিতে চেয়েছিল তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী। কিন্তু বন্দুকের নলও দাবিয়ে রাখতে পারেনি বাংলার দামাল ছেলেদের। জীবন দিয়ে ঠিকই তারা ভাষার অধিকার আদায় করে নিয়েছেন। আমাদের দিয়ে গেছেন মাতৃভাষায় প্রাণ খুলে কথা বলার অধিকার। একই শাসকগোষ্ঠীর হাত থেকে দেশ স্বাধীন হয়েছে ১৯৭১ সালে। দেশ স্বাধীন নিয়ে স্বাধীনতা পরবর্তী অনেক ছবি নির্মিত হয়েছে। এর মধ্যে কিছু কিছু ছবিতে মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট খণ্ডিতাংশে তুলে ধরা হয়েছে। এখন কোনো কোনো ছবিতে মুক্তিযুদ্ধের রেশ পাওয়া যায়। আবার কিছু কিছু ছবি ছিল পূর্ণাঙ্গ মুক্তিযুদ্ধের। দেশ স্বাধীন নিয়ে বাংলা ভাষায় পূর্ণাঙ্গ ছবি নির্মিত হলেও অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, যে ভাষায় এসব ছবি নির্মিত হয়েছে সেই ভাষা আন্দোলন নিয়ে বাংলাদেশে পূর্ণাঙ্গ ছবি একটিও নির্মিত হয়নি। দেশ স্বাধীনের ৪৭ বছর পরও এ প্রজন্ম এখনও পায়নি মুক্তিযুদ্ধের ছবির মতো ভাষা আন্দোলনের ছবির স্বাদ। অথচ মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকার আদায়ের জন্য প্রাণ দেয়া পৃথিবীর ইতিহাসে একমাত্র দেশের নাম বাংলাদেশ!

ভাষা আন্দোলন নিয়ে পূর্ণাঙ্গ ছবি তৈরি না হলেও ১৯৫২ সালের ২১ ফ্রেব্রুয়ারি দিনটির ঘটনা কিছু কিছু ছবিতে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। যেমন- প্রয়াত জহির রায়হান পরিচালিত ‘জীবন থেকে নেয়া’ একটি উদাহরণ। তবে তার এ চেষ্টা ছিল একটি পরিবার থেকে। যে পরিবারে কর্ত্রী ছাড়া অন্য কেউ কথা বলার সুযোগ ছিল না। এই যে মানুষের কথা বলার অধিকার, বিষয়টি পরিচালক প্রতীকী অর্থে রাষ্ট্র তথা শাসকগোষ্ঠীর প্রতি বাংলার মানুষের প্রতিবাদের সূক্ষ্ম প্রতিবাদ হিসেবে দেখাতে চেয়েছেন। ভাষা আন্দোলনের সাংস্কৃতিক দলিল হিসেবে ‘জীবন থেকে নেয়া’ ছবিটিকে আমরা একমাত্র ছবি হিসেবে বিবেচনা করতে পারি। কারণ ১৯৭০ সালে দেশ যখন উত্তাল, পশ্চিম পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানের সাধারণ মানুষ মুক্তির নেশায় মত্ত, ঠিক তখন অর্থাৎ ১৯৭০ সালের ১০ এপ্রিল মুক্তিপ্রাপ্ত জহির রায়হান এ ছবির মাধ্যমে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যে দুঃসাহস দেখিয়েছেন সেটা আর কারও মধ্যে ছিল না।

‘জীবন থেকে নেয়া’ মুক্তির প্রায় এক বছর পর দেশ স্বাধীন হল। এরপর দীর্ঘ সময় কেটে গেল। স্বাধীন দেশে মাতৃভাষায় কথা বলছি আমরা। সিনেমা বানাচ্ছি, নাটক বানাচ্ছি, গান লিখছি, গাইছি। কিন্তু যে ভাষায় স্বাধীনভাবে এত কিছু করছি সেই ভাষা আন্দোলন নিয়ে পূর্ণাঙ্গ আর কোনো ছবি তৈরি হয়নি। কোনো ছবিতে একটি বা দুটি দৃশ্যে কিংবা দু-চারটি সংলাপে ভাষা আন্দোলনের মতো বৃহৎ একটি রাজনৈতিক বিষয় তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন কোনো কোনো নির্মাতা। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে কিছুটা জোরালো ভূমিকা রেখেছেন প্রয়াত চিত্রপরিচালক শহীদুল ইসলাম খোকন। তার পরিচালনায় নির্মিত ‘বাঙলা’ ছবিটিকে অনেকে ভাষা আন্দোলনের ছবি হিসেবে অভিহিত করে থাকেন। ছবিটির গল্প নেয়া হয়েছে প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক আহমেদ ছফার ‘ওংকার’ থেকে। এ ছবিতেও ভাষা আন্দোলনের বিষয়াদি পরিচালক তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।

সম্প্রতি এ সময়ের নির্মাতা তৌকীর আহমেদ ‘ফাগুন হাওয়ায়’ নামে একটি ছবি মুক্তি দিয়েছেন। পরিচালকের দাবি, এ ছবিতে ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেছেন। কিন্তু ভাষা আন্দোলনের দীর্ঘ রাজনৈতিক বৈরিতা, কোন্দল সেসব কিছুর পুঙ্খানুপুঙ্খ কোনো দৃশ্যপট নেই। নির্মাতা হিসেবে তৌকীর আহমেদ এ সময়ে এসে যে এমন একটি সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছেন সেটা অবশ্যই সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। এ ছাড়া আর চতুর্থ কোনো ছবি নেই, যাকে বলা যায় ভাষা আন্দোলনের ছবি। অথচ রাজনৈতিক বিচার-বিশ্লেষণে ভাষার অধিকার আদায়ের দাবিতে পূর্ব বাংলার মানুষের ওপর পাকিস্তানিদের অন্যায়, অত্যাচার, শোষণ, নীপিড়ন তথা রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, ঘটনার অন্তরালের ঘটনা এসব চিত্রনাট্য দিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ভাষা আন্দোলনের ছবি হতে পারত এ স্বাধীন বাংলাদেশে। যেটার দাবি এখনও রয়ে গেছে। নতুন প্রজন্মের কাছে জবাবদিহিতার জন্য হলেও একটি পূর্ণাঙ্গ ভাষা আন্দোলনের ছবি বাংলাদেশে হওয়া উচিত বলে মনে করেন এ সময়ের সিনেপ্রেমীরা। সেই দায়িত্ব কোনো ব্যক্তি না হলেও, রাষ্ট্র অন্তত নিতে পারে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×