গীতিকবির কলাম

গান অজ্ঞান হওয়ার ইনজেকশন নয়

মাতৃভাষায় কথা বলার জন্য জীবন দেয়ার ইতিহাস সারা পৃথিবীতে একমাত্র বাংলাদেশেরই আছে। ১৯৫২ সালের এই দিনে ভাষার জন্য লড়াই করে শহীদ হয়েছেন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিউরসহ আরও অনেকে। সে দিনকে স্বচক্ষে অনুধাবন করে লেখা হয়েছে ‘একুশের গান’। পরবর্তীতে এই ভাষায় অনেক গান লেখা হলেও তার মধ্যে অনেক গানেই ভাষার প্রতি অবহেলা ফুটে উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে কলম ধরেছেন প্রখ্যাত গীতিকবি গাজী মাজহারুল আনোয়ার। তার লেখনীতে উঠে এসেছে ভাষার প্রতি ভালোবাসা-

  যুগান্তর ডেস্ক    ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

যে গান আত্মাকে করে না স্পন্দিত

জীবনকে করে না নন্দিত

শ্রোতার কাছে হয় নিন্দিত

সে গান গান নয়-

-সে গান অজ্ঞান হওয়ার ইনজেকশন।

স্বাধীনতার যুদ্ধে আমি লিখতে পেরেছিলাম-

‘জয় বাংলা, বাংলার জয়

হবে- হবে হবে হবে নিশ্চয়

কোটি প্রাণ এক সাথে

জেগেছে অন্ধরাতে

নতুন সূর্য ওঠার এইতো সময়।’

হ্যাঁ। আমাদের গানে সংগ্রামে নতুন সূর্য উঠেছিল। ভাষার সময় ভাইয়েরা লিখেছিলেন-

-ওরাই আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়

ওরা কথায় কথায় শেকল পরায়

আমার হাতে পায়-

হ্যাঁ। আমাদের ভাষা-স্বদেশি পথ পেল। গান আবেগকে জাগিয়ে দেয়। প্রয়োজনে আত্মাকে উদ্বুদ্ধ করে। আবার প্রবাহমান জীবনকে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায়। হ্যাঁ। এই একটি ফুলকে বাঁচাবো বলেই- বারবার যুদ্ধ করেছিলাম। গান বহুবার বহু ধারায় সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু অনাসৃষ্টির বিরুদ্ধেই বারবার যুদ্ধ করেছি। অশ্লীলতা কোনো দিনও প্রশ্রয় পায়নি। রঙ্গ ব্যঙ্গ এবং অশ্লীলতা কোনো দিনও এক কাতারে দাঁড়াতে পারেনি। যে গান বাড়িতে প্রবেশ করে পরিবারের সমর্থন অর্জনে ব্যর্থ হয়। তাহলে সে গান জনপ্রিয়তা পেতে পারে না। নিজের কুৎসিত কামনাকে প্রকাশ করে জনোত্তেজনা বৃদ্ধির প্রয়াসে যারা গানকে ব্যবহার করে। অথবা নিজে প্রবিদ্ধ হতে চায় তারা যেন তীরবিদ্ধ আহত পাখির মতোই। অল্প সময়ে পাখা ঝাপটাতে ঝাপটাতে মাটিতে পড়ে যাবে। সে তৃপ্ত হোক আর না হোক। এটা তার নিজস্ব জনপ্রিয় হওয়ার আকাক্সক্ষা মাত্র। এতে অল্প সময়ের জন্য পাওয়া যেতে পারে- হাততালি কিন্তু চিরদিনের জন্য পাবে মুখে চুনকালি।

মাইনড হেজ ইটস অউন প্লেস। ইট কেন ম্যাইক। হেভেন অব হেল অ্যান্ড হেল অব হেভেন।

সংস্কৃতি একটি জাতির ঐতিহ্য এবং মূল্যায়ন। হাজার বছরের এই ঐতিহ্যকে আমরা ম্লান হতে দিতে পারি না। সম্মুখে ঠেলেছি আমরা পশ্চাতের আমি। সেই আদর্শকে সামনে রেখেই বলতে চাই-

যখন আমি ছোট্ট ছিলাম-

খেজুর রসের মিঠায় ছিলাম

পৌষ পার্বণের পিঠায় ছিলাম

দাদি নানির গল্পে ছিল মধুর পরিবেশ

তখনই তো বুঝে ছিলাম

এটাই আমার দেশ।

হ্যাঁ। এই বাংলা দেশটা আমাদের

তার- সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধরে রাখার দায়িত্বও আমাদের।

সে জন্য আমাদের সংস্কৃতির অন্যতম ধারক গানকে শব্দ বিকৃতির মাধ্যমে নষ্ট করে দিতে পারি না। সে জন্য আমাদের গান লেখার ক্ষেত্রে আরও সচেতন হতে হবে। মনে রাখতে হবে গান মানে শুধু তুই তুমিই নয়। গান মানে শুধু প্রেম ভালোবাসা নয়, গান মানে মনের অনুপ্রেরণার খোরাক। মনের খোরাক। যা জীবনকে স্বচ্ছ আলোকে নিয়ে আসে। এই দায়িত্ববোধ থেকে অর্থহীন কারণে সুস্থ জনগণকে কাতুকুতু দিতে যেন প্রয়াসী না হই। শুধু মুখের কথাই নয়, হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করতে হবে- প্রথম এবং শেষ, আমার বাংলাদেশ।

আরও পড়ুন
--
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×