এই সময়ে

অভিনয়ের জন্য মন কাঁদলেও লেখালেখি করেই এখন সময় কাটে কল্পনার

  হাসান সাইদুল ১৪ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

অভিনয়ের জন্য মন কাঁদলেও লেখালেখি করেই এখন সময় কাটে কল্পনার
জনপ্রিয় অভিনেত্রী খালেদা আক্তার কল্পনা

খালেদা আক্তার কল্পনা। ঢাকাই চলচ্চিত্রের মমতাময়ী মা। এক সময় লাইট, ক্যামেরা, অ্যাকশনেই দিনের পুরোটা সময় কেটে যেত। কিন্তু সে সব এখন শুধুই অতীত। ইচ্ছা থাকলেও ক্যামেরার সামনে এখন আর দাঁড়াতে পারেন না তিনি। কেউ ডাকে না। কেমন আছেন এ অভিনেত্রী? কীভাবে সময় কাটছে তার? এসব নিয়ে এ সপ্তাহের আয়োজন ‘এই সময়ে’ হাজির হয়েছেন প্রখ্যাত এ অভিনেত্রী

১৯৮৪ সালের কথা। তখন শিক্ষকতা করেন খালেদা আক্তার কল্পনা। লন্ড্রি দোকান থেকে আনা কাপড়ের সঙ্গে এক টুকরা কাগজে এফডিসির ‘নতুন মুখের সন্ধানে’ কার্যক্রমের বিজ্ঞাপন দেখতে পান তিনি।

বিজ্ঞাপন পড়ার পর কৌতূহলবশে ওই ঠিকানায় একটি আবেদন পাঠিয়ে দেন। যদিও তা পরে তার মনে ছিল না। কিছুদিন পর স্কুল ছুটি থাকায় তিনি ঢাকায় বেড়ানোর উদ্দেশে রওনা হন। পথেই দেখা হয় এক সময়ে মঞ্চে একসঙ্গে অভিনয় করা বন্ধু পঙ্কজ বৈদ্যর সঙ্গে। তার কাছেই জানতে পারেন সেই আবেদনে তাকে অডিশনের জন্য সিলেক্ট করার কথা।

পঙ্কজের সঙ্গে অডিশন দিতে প্রথম এফডিসিতে আসেন। প্রথম দিনেই তাৎক্ষণিকভাবে একটি অভিনয় দেখাতে বলেন বিচারকরা। তিনি তখন পাগল চরিত্রে অভিনয় করে উপস্থিত সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং পরবর্তীতে নতুন মুখের শিল্পী হিসেবে নির্বাচিত হন। এরপর খালেদা আক্তার কল্পনা ঢাকাই ছবির একটি ইতিহাস!

ঢাকাই চলচ্চিত্রে মা চরিত্রে অভিনয় করে যে কয়জন অভিনেত্রী জনপ্রিয়তা পেয়েছেন তার মধ্যে খালেদা আক্তার কল্পনা অন্যতম। এখন আর অভিনয়ে দেখা যায় না তাকে।

শেষ কোন ছবিতে কবে শুটিং করেছিলেন মনে করতে পারেন না তিনি।

এ প্রসঙ্গে কষ্ট বুকে নিয়ে বলেন, ‘এমনও দিন গেছে একদিনে কয়েকটি ছবির শুটিং করেছি। সকালে একটা, দুপুরে, রাতে এমনকি মধ্যরাতেও ছবির শুটিং করেছি। কিন্তু এখন আর নেই কোনো শুটিং। বাস্তব জীবন এখন গল্পের মতো হয়ে গেছে।’ এ পর্যন্ত পাঁচ শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন খালেদা আক্তার কল্পনা। ইবনে মিজানের ‘হনুমানের পাতাল বিজয়’ চলচ্চিত্রে প্রথম অভিনয় করলেও তার অভিনীত প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র হচ্ছে মতিন রহমানের ‘রাধাকৃষ্ণ’।

বর্তমানে এ অভিনেত্রীর সময় কাটে বাসায় শুয়ে-বসে। তাই বেশিরভাগ সময় গল্প লেখেন তিনি। সেগুলোর স্ক্রিপ্টও তৈরি করেছেন। বাংলাদেশের সমসাময়িক প্রসঙ্গ, মা দিবস ও ভালোবাসা দিবস নিয়েও কয়েকটি স্ক্রিপ্ট লিখেছেন তিনি। কিন্তু চ্যানেল কিংবা জনপ্রিয় কোনো পরিচালকের সঙ্গে তেমন যোগাযোগ নেই বলে স্ক্রিপ্টগুলো কাজে লাগাতে পারছেন না।

যুগান্তরের সঙ্গে একান্ত আলাপকালে এ অভিনেত্রী বলেন, ‘এখন আর অভিনয়ের জন্য কেউ ডাকে না। কারও সঙ্গে আমার যোগাযোগও নেই তেমন। বেশিরভাগ সময় এখন বাসায় থাকি। মাঝে মাঝে প্রতিবেশীদের কোনো অনুষ্ঠান হলে দাওয়াতে যাই। ঢাকার বাইরেও মাঝে মাঝে যাওয়া হয়। অলস সময়গুলো লেখালেখি করে কাটাই। চলচ্চিত্রের অবস্থাও নাকি এখন খুব বেশি ভালো নয় বলে শুনেছি। কারও সঙ্গে তেমন যোগাযোগ হয় না। বর্তমানে অন্তত ১৫টি নাটকের স্ক্রিপ্ট লেখা আছে। স্ক্রিপ্টগুলো কাকে দেব তাও বলতে পারছি না। জানি না বেঁচে থাকতে নিজের লেখা নাটক পর্দায় দেখে যেতে পারব কিনা।’ ভালো কোনো প্রযোজক বা পরিচালককে স্কিপ্টগুলো দিতে চান এ অভিনেত্রী।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যম থেকে যদি সহযোগিতা করে তাহলে হয়তো আমার গল্পগুলো আলোর মুখ দেখবে।’ খালেদা আক্তার কল্পনার প্রথম পেশা ছিল শিক্ষকতা। শিক্ষকতা থেকেই অভিনয়ে আসেন তিনি। অভিনয় জীবনে খালেদা আক্তার কল্পনা ‘জিনের বাদশা’ (১৯৮৪) ছবিতে পার্শ্বচরিত্রে অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান।

আরও পড়ুন
--
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×