মঞ্চ রিভিউ

নাট্যজনের সফল নাটক মুনতাসির

  তারা ঝিলমিল প্রতিবেদক ১৪ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মুনতাসির। নাট্যাচার্য সেলিম আল দীনের অনবদ্য সৃষ্টি। অনেকটা লোকজ ও কাব্যনাট্য রীতিতে নাটকটি লিখেছেন তিনি। যদিও লোকজ ধারাটিকে তিনি আধুনিকতায় রূপ দিয়েছেন এ নাটকে। নাটকটি আগেও কয়েকটি দল মঞ্চায়িত করে। সম্প্রতি এ নাটকটি মঞ্চে এনেছে ঢাকার নাট্যদল নাট্যজন। এটি তাদের দশম প্রযোজনা। জাতীয় শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল হলে নাটকটির উদ্বোধনী প্রদর্শনী ছিল দর্শকসমৃদ্ধ। একেবারেই নবীন কিছু নাট্যকর্মী নিয়ে নাটকটির উদ্বোধনী মঞ্চায়ন করে দলটি। নাটকের নির্দেশক সেলিম কামাল। মঞ্চে তার এটাই প্রথম নির্দেশনা। প্রথমবারই সেলিম আল দীনের ‘মুনতাসির’ নিয়ে মাঠে নেমেছেন তিনি, এটা অবশ্যই সাহসিকতার পরিচয়। কিন্তু মঞ্চে কতটা সফল ছিলেন তিনি কিংবা তার অভিনেতা-অভিনেত্রীরা, সেটাই আলোচ্য বিষয়।

শুরুতেই সূত্রধররূপে কেউ একজন দর্শকদের দল এবং নাটক সম্পর্কে পরিচয় করিয়ে দিয়ে বলেন, এটি একটি ‘মিউজিক্যাল কমেডি’। সত্যিকার অর্থেই মুনতাসির একটি মিউজিক্যাল কমেডি। নতুন দর্শক কিংবা যারা নাটকটি আগে দেখেননি বা পড়েননি স্বভাবতই তারা উপভোগ্য নাটক দেখবেন বলে একটু নড়েচড়ে বসলেন। নাটকের শুরু থেকেই বাদ্যের তালে তালে একদল পারফর্মার মঞ্চে আবির্ভূত হয়। সেই তালে আবার কেউ কেউ ক্ষণে ক্ষণে প্ল্যাকার্ড হাতে নাটক কিংবা মূল চরিত্র মুনতাসির সম্পর্কে তথ্য দিতে থাকেন। মুনতাসির একটি সর্বভুক চরিত্র। বস্তু থেকে শুরু করে সৃজনশীলতা, প্রেম, দ্রোহ, ইতিহাস, আন্দোলন সবই খেয়ে ফেলার তাড়না নিয়ে মঞ্চে চলমান থাকে চরিত্রটি। এ চরিত্রটি ঘিরে ঘূর্ণায়মান আরও কত চরিত্র নাটকটিকে পরিপূর্ণতা দিয়েছে। এক কথায় মুনতাসিরের চরিত্রে সমাজ, রাষ্ট্র, অফিস, আদালত, এমনকি হাসপাতালের মতো মানবিক চেতনায় উন্মুখ থাকার জায়গাটিও হয়ে ওঠে অবহেলা আর উদাসীনতার প্রতীক। মোদ্দাকথা বৃহত্তর জনসমাজকে পায়ে দলে কিছু মানুষ যে দেশের সব সম্পদ গিলে খাচ্ছে, এ নাটকের মাধ্যমে সেটাই ফুটে উঠেছে।

নাটকে মুনতাসির চরিত্রে শেখ খায়েরের অভিনয়ে কিছুটা দুর্বলতা ছিল। যেহেতু কেন্দ্রীয় চরিত্র, তাই চেষ্টা করলে চরিত্রটিকে তিনি আরও ধারণ করতে পারতেন। জেনারেল ম্যানেজার ও প্রোডাকশন ম্যানেজারের চরিত্র দুটিতে মহসীন শামীম ও শাহীন শিবলীর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব লক্ষ করা গেছে। জিএম অতিরিক্ত কমেডি করেছেন, পিএম সেটার সঙ্গে নিজেকে মেলাতে না পেরে সিরিয়াস হয়ে গেছেন। মহিলা সহকারী চরিত্রে তৃতীয় লিঙ্গরূপী নয়নকে সংলাপ প্রক্ষেপণে আরও শক্তিশালী হতে হবে। মনে রাখতে হবে মঞ্চে কণ্ঠই হচ্ছে অভিনেতার মূল উপকরণ। ডাক্তারদের অভিনয় ছিল দর্শনীয়। বিশেষ করে হালাকু খান চরিত্রে তবিবুল ইসলাম বাবু নিজ চরিত্রে উতরে গেছেন। নারী স্টেনোগ্রাফার চরিত্রে আশার কণ্ঠ ছিল বেশ সাবলীল। আরেকটু পরিশ্রম করলে নিজ চরিত্রে তিনি সেরা হতে পারবেন। ক্যাশিয়ার চরিত্রে অভি প্রামাণিককেও সাবলীল মনে হয়েছে। অন্যান্য চরিত্রের মধ্যে সবাই কম-বেশি চেষ্টা করেছেন নিজেদের ফুটিয়ে তুলতে। তবে এর মধ্যে প্ল্যাকার্ডধারী অভিনেতাদের পারফর্মেন্স ছিল লক্ষণীয়। বিশেষ করে নৃত্যের তালে তালে তাদের মঞ্চে প্রবেশ ও প্রস্থান ছিল চোখে পড়ার মতো। সবকিছু মিলিয়ে প্রথম মঞ্চায়ন হিসেবে তারা অনেকটা সফল ছিলেন। তবে নাটকের সঙ্গীত ও সেটের ব্যাপারে নির্দেশককে নতুন করে ভাবতে হবে। যেহেতু মঞ্চ নাটক নির্দেশনায় তিনি একেবারেই নবীন, তাই ‘মুনতাসির’-এর মতো একটি কঠিন নাটককে মঞ্চে সহজবোধ্য করে উপস্থাপনের জন্য সাধুবাদ তিনি পেতেই পারেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×