টেলিভিশনে মুক্তি সংগ্রামের নাটক

  আতাউর রহমান ২১ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাঙালি হাজার বছরের গৌরবের ঐতিহ্যকে ধারণ করে চলেছে তার শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে। আমরা তার উত্তরাধিকার অর্জন করে আজও পথ চলেছি। ব্রিটিশ ও পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসনকালে আমাদের সংস্কৃতি ও জীবনাচরণ বিঘ্নিত হয়েছিল। আমরা পাকিস্তানি ভূখণ্ডের অধিবাসী হলেও জীবনের কোনো কোনো ক্ষেত্রে সমমর্যাদা ও সমঅধিকার পাইনি; আমরা পাকিস্তানি দুর্বিনীত শাসক চক্রের হাতে নিগৃহীত হয়েছি প্রতিনিয়ত এবং প্রায় ক্রীতদাসের জীবনযাপন করেছি। আমরা, বাঙালিরা প্রথম মাথা তুলে দাঁড়ালাম ১৯৫২ সালে বাংলা ভাষার অধিকার অর্জনের সংগ্রামে; আমরা জয়ী হয়েছিলাম রক্তদানের বিনিময়ে।

আমাদের অর্থাৎ বাংলাদেশের বাঙালিদের সংগ্রামী জীবনের চিত্র সার্বিকভাবে আমরা খুঁজে পাব আমাদের শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চার প্রতিটি শাখায়। আমাদের দেশের উপন্যাসে, গল্পে, কাব্যে, সঙ্গীতে, নৃত্যে, ভাস্কর্যে তথা সব রকমের চারু ও কৃত্য শিল্পে আমাদের মুক্তি-সংগ্রাম ও স্বাধীনতা যুদ্ধের চিত্র প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রতিভাত হয়েছে। মঞ্চ-নাটকে আবদুল্লাহ্ আল মামুন, মামুনুর রশীদ, মান্নান হীরা এবং সর্বোপরি সৈয়দ শামসুল হকের বিভিন্ন নাটকে বাঙালির মুক্তি সংগ্রাম ও যুদ্ধের চিত্র খুঁজে পাওয়া যায়। বহুপ্রভা লেখক সৈয়দ শামসুল হক এমনকি তার শেক্সপিয়রের নাটকের অনুবাদ ও রূপান্তরেও আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ও বাঙালির সার্বিক জীবন সংগ্রামের চিত্র প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বিধৃত করেছেন।

চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন নাটকেও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে চিত্রিত হয়েছে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস। বাংলাদেশ টেলিভিশন আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেছিল। তখন মাত্র দেশে একটি টিভি চ্যানেলই ছিল, তা হল বিটিভি। বিটিভি ভবন থেকে পাকিস্তানি শাসক চক্রের রক্ত চক্ষুকে অবজ্ঞা করে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উড্ডীন করা হয়েছিল। বিটিভির একজন কীর্তিমান নাট্য প্রযোজক এবং উচ্চ পদস্থ হিসাবরক্ষক (অ্যাকাউন্টস চিফ) পাকিস্তানি মিলিটারিদের গুলিতে প্রাণ বিসর্জন দিয়েছিল। তখন বিটিভির নাট্য প্রযোজনাসহ অন্যান্য প্রযোজকেরা ছিলেন আপদমস্তক বাঙালি, যারা বাঙালির জয়ধ্বজ্জা উড়িয়েছেন। মুনির চৌধুরী, আনিস চৌধুরী, নুরুল মোনেম, আবদুল্লাহ আল মামুন, মামুনুর রশীদসহ অনন্যা নাট্যকারদের নাটকে বাঙালির জীবন সংগ্রামের চিত্র পরিস্ফুট ছিল, যা বিটিভি নিয়মিতভাবে প্রচার করত। পাকিস্তানি আমলেও রবীন্দ্র জয়ন্তী ও নজরুল জয়ন্তীতে, বিটিভিতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের গল্পের নাট্যরূপ সম্প্রচারিত হতো। এর পরের টিভি চ্যানেলের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে, আমাদের মাতৃভাষা দিবস, স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবসের নাটক নিয়মিতভাবে নাটক সম্প্রচার করা হয়। এখন দেশে টিভি চ্যানেলের প্রায় ৩০টির মতো। একাধিক চ্যানেল বিচারকমণ্ডলীদের রায়ের মাধ্যমে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বার্ষিক পুরস্কার প্রদান করে আসছে। একাধিক চ্যানেলে আমাদের ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ওপর নাটকের জন্য বিভিন্ন (রচনা, পরিচালনা ও অভিনয়) পুরস্কার প্রদান করে থাকে। এক কথায়, আমাদের ভাষা আন্দোলন এবং মুক্তিযুদ্ধ যেভাবে আমাদের সার্বিক জীবনাচরণের ক্ষেত্রে আশ্লিষ্ট হয়ে আছে; তেমনি শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি, চলচ্চিত্র এবং টেলিভিশন মাধ্যমেও তার প্রতিভাস উদ্ভাসিত।

লেখক : অভিনেতা, নাট্য নির্দেশক, লেখক ও কবি এবং একুশে পদকপ্রাপ্ত

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×