যুদ্ধ নিয়ে তৈরি হলিউডের সেরা ছবি

  তারা ঝিলমিল ডেস্ক ২১ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

যুদ্ধ মানেই নারকীয় যন্ত্রণা। হোক সেটা একজন যোদ্ধা কিংবা সাধারণ মানুষের জন্য। প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে যুদ্ধ বয়ে নিয়ে আসে বৈরী বাতাস। গড়ে তোলে ধ্বংসযজ্ঞের পাহাড়। ছোট কিংবা বড় হোক, প্রত্যেকটি দেশেই কোনো না কোনোভাবে যুদ্ধের ভয়াবহতার ইতিহাস রয়েছে। হোক সেটা প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ। দেশে দেশে এসব যুদ্ধ নিয়ে তৈরি হয়েছে অসংখ্য সিনেমা। বিশ্বের সবচেয়ে বড় সিনেইন্ডাস্ট্রি হলিউড তো যুদ্ধের গল্প নিয়ে সিনেমা বানানোর ক্ষেত্রে যুদ্ধই বাধিয়ে বসে। তাদের সিনেমার গল্প এবং শুটিংয়ের আয়োজন দেখে রীতিমতো এক সত্যিকারের যুদ্ধক্ষেত্রই বলা যায়। হলিউডের এ রকম কয়েকটি যুদ্ধের সিনেমা নিয়ে এ আয়োজন।

যুদ্ধের গল্প নিয়ে ১৯৩০ সালে লেউইস মাইলস্টোন নির্মাণ করেছেন ‘অল কোয়ায়েট অন দ্য ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট’। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নির্মিত এ ছবিটি এরিক মারিয়া রেমার্কের বিখ্যাত উপন্যাস ‘অল কোয়ায়েট অন দ্য ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট’ থেকে চিত্রায়িত হয়েছে। ১৯৩০ সালে এ ছবিটি সেরা ছবি, সেরা পরিচালক ও সেরা সিনেম্যাটোগ্রাফি ক্যাটাগরিতে অস্কার জিতে নেয়।

ইতালির বিখ্যাত পরিচালক রবার্তো রোসেলিনির দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তীকালীন নির্মাণ করে যুদ্ধ নিয়ে অন্যতম সেরা ছবি ‘রোম, ওপেন সিটি’। ১৯৪৬ সালে কান চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা ছবির পুরস্কার পেয়েছিল এ ছবিটি। এর চিত্রনাট্য লিখেছিলেন আরেক বিখ্যাত চলচ্চিত্রকার ফেদরিকো ফেলিনি ও সের্গিও আমিদি। এ ছবিতেও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বেশ কিছু ভয়াবহ দৃশ্য ফুটে উঠেছে।

হেনরি হ্যাথাওয়ে ১৯৫১ সালে জার্মানির ধূর্ত সেনানায়ক ফিল্ড মার্শাল রোমেলকে উপজীব্য করে তৈরি করেন ‘দ্য ডেজার্ট ফক্স’। এ ছবিতে দেখান হয়েছে এ চৌকস সমরবিদের লড়াই। ছবিতে রোমেলের চরিত্রে অভিনয় করেন জেমস ম্যাসন। দারুণ এক যুদ্ধকৌশল দেখতে চাইলে এ ছবিটির বিকল্প এখনও তৈরি হয়নি বলেও অনেকের মতো।

যুদ্ধ ও প্রেম যে একসঙ্গে চালান যায় সেটা প্রমাণ করেন পরিচালক ফ্রেড জিনারম্যান। তিনি ১৯৫৩ সালে ‘ফ্রম হিয়ার টু ইটার্নিটি’ ছবিটি নির্মাণ করে দেখিয়ে দেন যুদ্ধ মানুষের প্রেম-ভালোবাসার আবেগ দমিয়ে রাখতে পারে না। ছবিটি সেরা ছবিসহ আটটি ক্যাটাগরিতে অস্কার জিতে নিয়েছিল। বলা হয় গায়ক ফ্র্যাঙ্ক সিনাত্রার পড়ন্ত ক্যারিয়ার আবার নতুন করে জাগিয়ে তুলেছিল এ ছবি।

যুদ্ধভিত্তিক গল্প নিয়ে লেখা জোসেফ কনরাডের উপন্যাস ‘হার্ট অব ডার্কনেস’। এ উপন্যাস অবলম্বনে ফ্রান্সিস ফোর্ড কপোলার ১৯৭৯ সালে নির্মাণ করেন ‘অ্যাপোক্যালিপস নাউ’। ছবির গল্পে সঙ্গে পরিচালনের অসাধারণ নির্মাণশৈলী ছবিটিকে এতটাই উপভোগ্য করে তুলেছে যে, সে সময় ছবিটি দেখার জন্য টিকিট নিয়ে হাঙ্গামার কথাও শোনা গিয়েছিল।

মায়ের প্রতি অগাধ ভালোবাসা নিয়ে ১৯৫৯ সালে নির্মিত হয়েছে ‘ব্যালাড অব আ সোলজার’। যুদ্ধে বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মানসূচক মেডেল না নিয়ে তার পরিবর্তে মায়ের সঙ্গে দেখা করার জন্য যুদ্ধক্ষেত্র থেকে চার দিনের ছুটি নেয় এক যোদ্ধা। এ অসাধারণ গল্প নিয়ে নির্মিত সোভিয়েত ইউনিয়নের (বর্তমান রাশিয়া) পরিচালক গ্রেগরি চুখরাজের ছবি ‘ব্যালাড অব আ সোলজার’। ছবিটি সেরা চিত্রনাট্যের জন্য অস্কার পুরস্কার পায়।

ভিয়েতনাম যুদ্ধ ইতিহাসের এক বর্বরতম যুদ্ধ। এ যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বেরি লেভিনসন ১৯৮৭ সালে নির্মাণ করেন ‘গুড মর্নিং ভিয়েতনাম’। এ ছবিতে অভিনয় করেছিলেন প্রয়াত অভিনেতা রবিন উইলিয়ামস। ছবিতে তিনি একজন রেডিও জকি হিসেবে অভিনয় করেছেন। এ ছবির জন্য তিনি সেরা অভিনেতা হিসেবে অস্কারের জন্য মনোনয়নও পেয়েছিলেন। এ ছবিটিও যুদ্ধের ছবি হিসেবে সেরার তালিকায় স্থান করে নিয়েছে।

যুদ্ধের ছবি নির্মাণে সিনেমার ইতিহাসে আলাদা জায়গা দখল করে আছেন স্টিভেন স্পিলবার্গ। যুদ্ধ নয় শান্তি, এমন স্লোগান নিয়ে তিনি ১৯৯৩ সালে নির্মাণ করেন ‘শিন্ডলার্স লিস্ট’। বিশ্ব সিনেমার ইতিহাসের অন্যতম যুদ্ধবিরোধী ছবি। এ ছবি সেরা ছবিসহ মোট সাতটি ক্যাটাগরিতে অস্কার জিতেছিল।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×