সীমানা পেরিয়ে নিরবের সাফল্য

মডেল হিসেবে পরিচিতি পেলেও এক সময় অভিনয়েও নাম লেখান নিরব। নাটকের মাধ্যমে অভিনয় শুরু করে পরে সিনেমায়ও আলো ছড়িয়েছেন তিনি। পাঁচ বছর আগে একটি মালয়েশিয়ান ছবিতে অভিনয় করেছিলেন এ অভিনেতা। সম্প্রতি সে ছবিটি ওখানে মুক্তি পেয়েছে। মুক্তির পর এই ছবি মালয়েশিয়ায় প্রশংসিত। নিরবও প্রশংসায় ভাসছেন। তার কাজের বিষয় নিয়ে লিখেছেন-

  সোহেল আহসান ২১ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

২০১৩ সালের কথা। মালয়েশিয়ান চিত্রপরিচালক নেম উই বাংলাদেশ ভ্রমণে এসেছিলেন। তখন তার মাথায় সিনেমা নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। ঢাকার আলোকচিত্রী আবদুল লতিফ অপূর্বের সঙ্গে পরিচালকের পরিচয়ের সূত্র ধরে নিরবের সঙ্গে সেই পরিচালকের যোগাযোগ ঘটে। মালয়েশিয়ান ভাষার মালয়েশিয়ার জন্য ‘বাংলাশিয়া’ নামে একটি ছবি নির্মাণ করা হবে। যেখানে বাংলাদেশি একজন অভিনেতার চাহিদার কথা বলেন পরিচালক। নিরবের সঙ্গে পরিচালকের কথা চূড়ান্ত করে নেম উই ফিরে যান মালয়েশিয়া। এরপর শুটিংয়ের জন্য পরিচালকের আহ্বানে নিরব মালয়েশিয়ায় যান। খুলে যায় স্বপ্নের দরজা। নিজেকে উপস্থাপনের প্রস্তুতি নেয়া শুরু হয় এই বাংলাদেশি অভিনেতার। এ প্রসঙ্গে নিরব বলেন, ‘আসলে ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পর থেকেই ভাষা নিয়ে আমি উৎকণ্ঠায় ছিলাম। মালয়েশিয়ান ভাষাতেই আমাকে অভিনয় করতে হবে। কিন্তু সেখানে পরিচালক থেকে শুরু করে সবাই সেই ভাষা রপ্ত করতে দারুণ সহযোগিতা করেন তখন। তারপর একটানা ৪২ দিনে ছবিটির শুটিং করি।’

ছবিটি দ্রুত নির্মাণ করা হলেও মুক্তি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। পাঁচ বছর অপেক্ষার পর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ছবিটি মালয়েশিয়ার ১১৬ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়। মুক্তির পর থেকেই সেখানকার প্রেক্ষাগৃহে দর্শকের ঢল নামে। নিরব এ ছবিতে একজন বাংলাদেশি মালয়েশিয়ান প্রবাসী ছেলের চরিত্রে অভিনয় করেন। এ ছবির মাধ্যমে শাকিব খানের পর দ্বিতীয় অভিনেতা হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সাফল্য আনলেন নিরব। এ প্রসঙ্গে নিরব বলেন, ‘আসলে একজন অভিনয়শিল্পীর লক্ষ্যই থাকে অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের মনোযোগ আকর্ষণ করা। ছবিটি সেখানে মুক্তির পর দর্শকের প্রতিক্রিয়া দেখে মনে হয়েছে, ছবিটিতে আমার অভিনয় তাদের ভালো লেগেছে। কারণ মুক্তির সময় বেশ কিছুদিন আমি প্রেক্ষাগৃহে গিয়েছি। সেখানকার স্থানীয় দর্শকের পাশাপাশি বাঙালি দর্শকের উপস্থিতিও আমার চোখে পড়েছে। সবাই আমাকে শুভ কামনা জানিয়েছেন। তারা বাংলাদেশের সিনেমার বিষয়েও খোঁজখবর রাখেন। এটাকে আমার অভিনয় ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ একটি অর্জন হিসেবেই মনে রাখব।’

ভিনদেশের সাফল্যের সেই সুবাতাস নিয়ে দেশে ফিরেছেন নিরব। দেশেও চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট অনেকেই শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তাকে। এর মধ্যে ঢালিউডের শীর্ষ নায়ক শাকিব খান অন্যতম। এটাকে বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখছেন নিরব। দেশে ফিরেই হাতে থাকা ছবিগুলোর কাজ নিয়ে ব্যস্ত হয়েছেন নিরব। বর্তমানে তিনি ঢালিউডের পাঁচটি ছবিতে অভিনয় করছেন। এগুলো হল- সাইফ চন্দনের পরিচালনায় ‘আব্বাস’, রফিক শিকদারের ‘হৃদয়জুড়ে’, বন্ধন বিশ্বাসের ‘অফিসার রিটার্নস’, বুলবুল জিলানির ‘রৌদ্র ছায়া’ এবং আরিফুজ্জামান আরিফের ‘কাঠগড়ায় শরৎচন্দ্র’। শিগগিরই আরও কয়েকটি ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হবেন বলে জানিয়েছেন এই অভিনেতা।

২০০৯ সালে শাহীন সুমনের পরিচালনায় ‘মন যেখানে হৃদয় সেখানে’ ছবি দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক হয় নিরবের। এরপর থেকে সিনেমায় নিয়মিত কাজ করা চিত্রনায়কদের তালিকায় শুরুর দিকেই তার অবস্থান। ঢাকাই সিনেমার মন্দা সময়েও কাজে ব্যস্ত থাকা প্রসঙ্গে নিরব বলেন, ‘কাজের জায়গায় আমি শতভাগ সততা দিয়ে কাজ করি। নির্মাতা, প্রযোজক কিংবা সহশিল্পীরা আমাকে দারুণ সহযোগিতা করেন। তাদের ভালোবাসা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করে পথ চলি। তাই হয়তো কাজে নিয়মিত থাকার সুযোগ পাচ্ছি।’ মেধা, মনন আর পরিশ্রমের মিশেলে কাজের মাধ্যমে সাফল্যের নতুন দুয়ার উন্মোচিত হোক নিরবের। এটাই ভাবছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×