নগরের আগুন ও তারকার হৃদয়ে দহন

  তারা ঝিলমিল প্রতিবেদক ০৪ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নগরের আগুন ও তারকার হৃদয়ে দহন

যে কোনো দুর্ঘটনা দেশের সার্বিক উন্নয়নের অন্তরায়। বাংলাদেশে বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় প্রায়ই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটছে। সর্বত্র এখন আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে সম্প্রতি কয়েকটি সড়ক ও অগ্নি দুর্ঘটনার কারণে সব শ্রেণীর মানুষের পাশাপাশি শোবিজাঙ্গনেও আতঙ্ক বিরাজ করছে। আতঙ্ক ও শোকের মধ্যেও সবচেয়ে ন্যক্কারজনক ঘটনা হচ্ছে সেলফি। সবকিছুতে মানুষের মধ্যে এই সেলফি ছবি তোলাটাও যেন ক্যান্সারের মতো ভয়াবহ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এসব দেখে যেন মনে হয়, দুর্ঘটনাস্থলে মানবতা বিপন্ন। এসব নিয়েই কয়েকজন তারকা জানিয়েছেন তাদের বক্তব্য। সেটাই তুলে ধরা হয়েছে এ প্রতিবেদনে। * ‘আগুনে মানুষ পুড়ে মরার দৃশ্য দেখলে মনে হয় আমার হৃদয় পুড়ছে। তবে এসব দৃশ্য যারা ভিডিও করে, ছবি তোলে তাদের মতো অমানুষ আর একটিও নেই। এ ধরনের হীন মানসিকতা থেকে আমাদের সরে আসা উচিত।

- সাদিকা পারভীন পপি চিত্রনায়িকা

রাজধানীতে পর কয়েকট দুর্ঘটনা ঘটে গেছে। চকবাজার অগ্নি ট্র্যাজেডি, কুড়িলে সড়ক দুর্ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু, এরপর বনানী ও গুলশান মার্কেটে অগ্নি ট্র্যাজেডি- সবকিছু মিলিয়ে দেশ যেন কিছুটা স্থবির হয়ে গিয়েছিল।

একটি শোক কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই আরেকটি সামনে হাজির। সাধারণ মানুষের মতো শোবিজাঙ্গনের মানুষও হতবিহ্বল, শোকাহত। মানুষকে বিনোদন দেয়া যাদের কাজ, সেই মানুষের করুণ পরিণতিতে নিজেদের স্বাভাবিক কাজও যেন তারা করতে পারছিলেন না।

বনানী ট্র্যাজেডির দিন ঈদের নাটকের শুটিং করছিলেন জনপ্রিয় অভিনেতা অপূর্ব। ইউনিটের একজনের কাছে তিনি দুর্ঘটনার খবর পান। এরপর থেকেই স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারেননি তিনি। দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা তো মানুষ। অভিনয় করে তারকা খ্যাতি পাই সেটি অন্য হিসাব।

কিন্তু আমাদেরও মন আছে। শট শুরু হতে না হতেই যখন শুনি কোথাও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে বা কোথাও আগুন লেগেছে, তখন আর কোনো কাজই ভালো লাগে না। কিসের শুটিং আর কিসের খাওয়া দাওয়া। তবে সবচেয়ে লজ্জার বিষয় হচ্ছে, দুর্ঘটনার ছবি তুলতে গিয়ে নিরাপত্তাদানকারী কর্মীদের প্রবেশে বাধার সৃষ্টি করার বিষয়টি। খুব কষ্ট হয় এসব দেখে।’

একই দিন চলতি ধারাবাহিক নাটকের শুটিং নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন নির্মাতা অভিনেতা সালাহউদ্দীন লাভলু। যুগান্তরের সঙ্গে আলাপকালে

তিনি বলেন, ‘দেশে যখন কোনো দুর্ঘটনা ঘটে তখন আতঙ্কেই থাকি। আসলে মানুষ যখন শোকে আচ্ছন্ন তখন শোবিজের প্রতি তাদের মন থাকে না। এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আমরা যখন দুর্ঘটনার কথা শুনি তখন শুটিংয়ে মন দিতে পারি না। কখন কীভাবে দুর্ঘটনা ঘটে যায় বলা যায় না। রাজধানীতে কোলাহল একটু বেশি। না হয়েও তো উপায় নেই। আমরা সবাই যদি একটু সচেতন হয়ে কাজ করি তবে সড়ক দুর্ঘটনা, এমনকি ভবনে আগুন লাগার মতো দুর্ঘটনা থেকে হয়তো রেহাই পাব। এ বিষয়ে ভবন নির্মাণ কর্তৃপক্ষের সচেতনতা জরুরি বলে আমি মনে করি। পাশাপাশি সবাইকে অনুরোধ করব, সেলফি নামক ব্যাধির কারণে যাতে মানবতা বিপন্ন না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে।’

বনানী দুর্ঘটনার সময় ‘মিশন এক্সট্রিম’ ছবির শুটিংয়ে ব্যস্ত ছিলেন চিত্রনায়ক আরিফিন শুভ। আগুন লাগার ঘটনার কথা ফেসবুকে দেখতে পেয়ে পরে তিনি আর ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে পারেননি বলে জানিয়েছেন। আগুন লাগার বিষয়ে যতটা না কষ্ট পেয়েছেন তার চেয়ে বেশি মর্মাহত হয়েছেন মানুষের সেলফি তোলার দৃশ্য দেখে।

তিনি বলেন, ‘মানুষের ছবি তোলার ভিড়ের জন্য ফায়ার সার্ভিস আসতে পারছিল না, এটি খুবই দুঃখজনক। দুর্ঘটনার ভেতর এমন অমানবিক বিষয় আর দেখতে চাই না। সরকারের কাছে অনুরোধ দেশের সবগুলো রাস্তায় যেন ফায়ার সার্ভিস যাতায়াতের ব্যবস্থা থাকে, বিশেষ করে রাস্তার আয়তন বৃদ্ধির বিষয়টি দেখার জন্য অনুরোধ করছি। আর একটা বিষয় সবাইকে বলতে চাই, আপনারা ছবি তুলুন কিন্তু তাই বলে মানুষ মারা যাচ্ছে সে দৃশ্য তুলবেন, এতটা নির্দয় হবেন না।’

সঙ্গীতশিল্পী কুমার বিশ্বজিৎও পরপর ঘটে যাওয়া এসব দুর্ঘটনা নিয়ে বেশ মর্মাহত। তিনি বলেন, ‘বনানী ঘটনার দিন আমি একটি অনুষ্ঠানে ছিলাম। অনুষ্ঠানে থাকলেও মনটা বনানীর জন্য আকুল ছিল। আসলে কী বলব, আর কবে আমাদের বোধ হবে? এই যে এত দুর্ঘটনা, এর তো নির্দিষ্ট কারণ আছে। যারা ভবন নির্মাণ করেন তাদের সার্বিক বিষয় ভেবে ভবন নির্মাণ করা উচিত।

ব্যবসাকে মুখ্য আর জীবনকে গৌণ দেখা এখন স্বাভাবিক হয়ে গেছে। তা না হলে এত প্রাণহানির ঘটনা ঘটত না। আমরা যদি সতর্ক না হই তবে এমন ঘটনা আরও ঘটতে থাকবে সামনে। এ ছাড়া একটি লজ্জার বিষয় না বলে পারছি না। কেউ ভবন থেকে পুড়ে এবং পড়ে মরছে, আর কেউ ছবি তুলছে বিষয়টি দুঃখজনক।

আমাদের কবে লজ্জাবোধ হবে আমি জানি না। আমরা আর কবে মানুষ হব? আমাদের মন থেকে কি মানবিকতা উঠে যাচ্ছে? বুঝতে পারছি না সামনে কী হবে!’

এ দিকে ২৮ মার্চ বনানীর আগুন দুর্ঘটনার জন্য কয়েকজন তারকা তাদের ওই দিনের নির্দিষ্ট অনুষ্ঠান বাতিল করেছেন। এরই মধ্যে রয়েছে আসিফ আকবরের নতুন গান প্রকাশ।

ধ্রুব মিউজিক স্টেশন থেকে এ শিল্পীর নতুন গান ‘লাশ’ প্রকাশ হওয়ার কথা ছিল। গানটি ওইদিন প্রকাশ না করে দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের প্রতি শোক ও সম্মান জানিয়ে ৩১ মার্চ প্রকাশ করা হয়েছে। অন্যদিকে দেশসেরা চিত্রনায়ক শাকিব খানেরও জন্মদিন ছিল ২৮ মার্চ। বনানী ট্র্যাজেডির কারণে সেদিন তিনি জন্মদিনের অনুষ্ঠান করেননি।

সাদামাটাভাবেই কয়েকজন ভক্তের অধিক আগ্রহে ছোট্ট একটি কেক কেটেছেন। যেটা সেদিন ফেসবুকেও প্রকাশ করেননি তিনি। বিভিন্ন শুটিং স্পটেও শিল্পীরা তাদের স্বাভাবিক শুটিং করতে পারেননি। অনেকে শুটিং বন্ধ করে দেয়ার খবরও পাওয়া গেছে। এসব কিছু করা হয়েছে কিন্তু মানবিক কারণে। কিন্তু মানুষ হিসেবে আমরাও কতটা মানবিক. সেটা বিবেচনার করা উচিত।

ঘটনাপ্রবাহ : বনানীতে এফআর টাওয়ারে আগুন

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×