বাংলাদেশে ব্যর্থ কলকাতার তারকারা

  অরণ্য শোয়েব ১৮ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশে ব্যর্থ কলকাতার তারকারা

বাংলাদেশের মতো ভারতের অঙ্গরাজ্য পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিও প্রায় খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। দর্শক টানতে পারছে না কোনো ছবিই। গত কয়েক বছর ধরে তাই কলকাতার তারকাশিল্পীরা বাংলাদেশের বাজার ধরতে ঢাকাই ছবিতে অভিনয় করতে মরিয়া ছিলেন।

কিন্তু বিধিবাম! কলকাতার যে ক’জন তারকাই ঢাকায় এসেছেন সবাই ব্যর্থ হয়েছেন। বিস্তারিত লিখেছেন-

বাংলাদেশের শিল্পীরা কলকাতায় গিয়ে অভিনয় করতে মুখিয়ে থাকেন, এমন অভিযোগ নতুন নয়। এটা মিথ্যা নয়, একটা সময় কলকাতার অভিনয়শিল্পীরাও বাংলাদেশে অভিনয় করতে মুখিয়ে থাকতেন। কারণ সে সময় কলকাতার চেয়ে বাংলাদেশে পারিশ্রমিক বেশি ছিল। তাই তো কালে কালে কলকাতার ইন্ডাস্ট্রি থেকে অনেকেই এসেছেন বাংলাদেশের ছবিতে অভিনয় করতে। অনেকে চেয়েছিলেন স্থায়ী হয়ে যেতেও।

ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত তো রীতিমতো ঢাকাই ছবিতে আসন গেড়ে বসেছিলেন। এরপর সময়ের কালক্রমে আরও অনেকেই এসেছেন। বলা যায়, বাংলাদেশি নির্মাতারাই তাদের নিয়ে এসেছেন বেশি লাভ কিংবা ছবি হিট করার আশায়। কিন্তু সে আশায় গুড়েবালি। এরপরও থেমে থাকেনি কলকাতার শিল্পীদের ঢাকাই ছবিতে পথচলা। কিন্তু সে তুলনায় কেউ সাফল্য নিয়ে আসেতে পারেনি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কলকাতার কিছু শিল্পী নিয়ে আলোচনাটা একটু বেশিই হচ্ছে।

কলকাতার নায়িকা রিয়া সেন একসময় ঢাকাই ছবিতে অভিনয় করেছেন। তখন অবশ্য ঢাকাই নায়কদের গুণে তিনি পার পেয়ে গেছেন। ইদানীং আবারও ঢাকাই ছবিতে তার অভিনয়ের কথা শোনা যাচ্ছে।

কোনো কিছু এখনও চূড়ান্ত না হলেও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রযোজক-পরিচালক এ নায়িকাকে নিয়ে ছবি বানাতে ইচ্ছুক। গত কয়েক বছরের কলকাতার শিল্পীদের ব্যর্থতার হিসাব-নিকাশ করলে রিয়া সেন ফের বাংলাদেশে সফলতা পাবেন কিনা সেটা প্রশ্নসাপেক্ষ। কিছুদিন আগে বাংলাদেশের ছবিতে অভিনয় করেছেন কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেত্রী শ্রাবন্তী।

মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজের পরিচালনায় ‘যদি একদিন’ নামে একটি ছবিতে তিনি অভিনয় করেন। কিন্তু ছবিটি মুক্তির পর আলাদা করে নজর কাড়তে পারেননি শ্রাবন্তী। অথচ তাকে নিয়ে ছবি মুক্তির আগে ও মুক্তির সময় যে আলোচনা ছিল, মুক্তির পর সেটায় ভাটা পড়ে। আসলে তিনি সেই মাপের চরিত্র বা অভিনয় এই ছবির মাধ্যমে করতে পারেননি বলেই হয়তো আলোচনা স্তিমিত হয়ে গেছে।

শ্রাবন্তীর আগে আলোচনায় এসেছিলেন ঋতুপর্ণা। নায়ক আলমগীরের পরিচালনায় ‘একটি সিনেমার গল্প’ নামের একটি ছবির মাধ্যমে ঢাকাই ছবিতে তাকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। কিন্তু এ ছবিটিও ব্যর্থ হয়েছে। এরপরও শুটিং চলতি ইমতিয়াজ নেয়ামুলের ‘জ্যাম’ নামে একটি ছবিতেও ঋতুপর্ণাকে নেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের পূজার সঙ্গে কলকাতার আদৃত জুটি হয়ে করলেন ‘প্রেম আমার টু’। ছবিটি কলকাতায় যতটা চলেছে তার ছিটেফোঁটাও চলেনি বাংলাদেশে। ‘গাদ্দার’ ছবিতে অভিনয় করতে ২০১৭ সালে ঢাকায় আসেন রিতিকা সেন। সে সময় এ নিয়ে মাতামাতি।

পরবর্তী সময়ে অবশ্য ছবিটির আর কোনো খবর নেই। ইন্দ্রনীল এসে বাংলাদেশে ‘সম্রাট’ ও ‘চোরাবলি’ নামে দুটি ছবি করলেন। কিন্তু তিনি ছবি দুটির জন্য কোনো সফলতা এনে দিতে পারেননি।

পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় এ পর্যন্ত মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ভয়ঙ্কর সুন্দর’ ও ‘ভূবনমাঝি’ নামে দুটি ঢাকাই ছবিতে অভিনয় করেছেন। কিন্তু তার সফলতাও শূন্য। কিছুদিন আগে থেকে সরকারি অনুদানের একটি ছবিতেও অভিনয় করছেন এ অভিনেতা। সেটার ভাগ্যও কী হবে তা সহজেই অনুমেয়। নির্মাতা সৈয়দ অহিদুজ্জামান ডায়মন্ড তার দুই ছবিতে শাশ্বত চ্যাটার্জি এবং সমদর্শী দত্তকে নিলেন।

স্বপন আহমেদের ‘পরবাসিনী’ ছবিতে মুম্বাইয়ের উর্বশী রাওতেলা ও সব্যসাচী আশ্রয় পেলেন। অনন্য মামুন বলিউডের রাখি সাওয়ান্তকে ‘আমি তোমার হতে চাই’ ছবিতে কাস্ট করলেন ঠিকই, আনতে পারলেন না দেশের মাটিতে। তাকে নিয়ে নেপালে গিয়ে এই ছবির শুটিং করতে হয়েছে। রফিক শিকদার দিলেন প্রিয়াংকা সরকারকে এফডিসিতে কাজের সন্ধান, দিলেন ‘হৃদয় জুড়ে’ ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ। সে ছবিটি অবশ্য এখনও মুক্তি পায়নি। মুক্তি পাওয়ার পর এ ছবির অবস্থাও যে তথৈবচ হবে সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না।

অনন্ত জলিলের একটি ছবিতে দেখা গিয়েছিল বলিউডের স্নেহা উল্লালকে। কিন্তু ওই ছবির পরে বাংলাদেশে তার আর কোনো আলোচনা নেই। যদিও অনন্তর জন্যই ছবিটি দেখতে দর্শকরা সিনেমহলে ভিড় করেছিল।

সে সময় স্নেহাকে নিয়ে দর্শকদের মধ্যে কোনো আলোচনাই লক্ষ্য করা যায়নি। পাওলি দাম কত আলোচনা তৈরি করে বাংলাদেশের শাকিব খানের সঙ্গে অভিনয় করলেন। তিনিও রাখতে পারলেন না কোনো সফলতার চিহ্ন।

ইরফান খানের মতো অভিনয়শিল্পী বাংলাদেশে এসে কোনো তাক লাগাতে পারেননি। এসব তারকারা যখন বাংলাদেশি ছবিতে অভিনয় করেছেন তখন, এত অধিকসংখ্যক হারে, প্রচার মাধ্যমে হইচই করে, তর্ক-বিতর্কের তুফান ছুটিয়ে কখনই ভারতীয় শিল্পীদের কাজ করতে দেখা যায়নি। আলোচনার পাশাপাশি এই বিপুল কাজের সুযোগের বিনিময়ে হয়েছে ব্যাপক সমালোচনা।

কলকাতার নায়িকাদের কেউ কেউ বাংলাদেশে এসে খোলামেলা পোশাকেও অভিনয় করে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেছেন। বিশেষ করে ঋতুপর্ণা তো ‘রাঙা বউ’ ছবিতে এতই খোলামেলা ছিলেন যে, সে সময় বাংলাদেশের রুচিশীল দর্শকদের কাছে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছিলেন এ নায়িকা।

এই খোলামেলা পোশাকের অভিনয় দিয়েও পরবর্তীতে বাংলাদেশের আর কোনো ছবিতে তেমন সফলতা পাননি ঋতু। তবে কলকাতার সিনেমায় মন্দার কারণে করে খাওয়ার জন্য তিনি অনেকটাই বাংলাদেশি ছবির ওপর নির্ভরশীল ছিলেন।

ঢাকাই ছবি ছাড়াও বাংলাদেশ-ভারত যৌথ প্রযোজনার ছবিতে ওপার বাংলার মিঠুন চক্রবর্তী, শতাব্দী রায়, প্রসেনজিৎ, রচনা ব্যানার্জি, রিয়া সেন, ঋতুপর্ণা, শুভশ্রী, অঙ্কুশ হাজরা, সোহম, ওম, দেব, জিৎ, বনি, সূর্য, রজতাভ দত্ত, আশীষ বিদার্থীসহ বেশ কিছু তারকাকে দেখেছেন আমাদের দেশের দর্শকরা। যদিও এসব ছবিতে সব সময়ই কলকাতার তারকাদের প্রাধান্য দেয়া হয়েছে।

তাতেও ভাগ্যে শিকে ছিঁড়েনি সেসব তারকাদের। দু-একটি ছবিতে ছবি যাও সফল হয়েছে সেগুলো বাংলাদেশি তারকাদের জন্যই। যেমন শাকিব খানের কয়েকটি ছবি ব্যবসাসফল হয়েছে, কিন্তু সেগুলো শুধু শাকিবের জন্য সফলতা পেয়েছে। কলকাতার কোনো শিল্পীর জন্য নয়।

প্রশ্ন হচ্ছে, যৌথ প্রযোজনার ছবিতে দুই দেশের শিল্পী থাকবেন, এটাই নিয়ম। কিন্তু ঢাকাই ছবিতে কলকাতার তারকা কেন? তাদের নিয়ে যারা ছবি নির্মাণ করছেন তাদের মধ্যে কোনো কোনো নির্মাতা মনে করেন, বাংলাদেশি তারকাদের কেউ কেউ নিয়মিতই শুটিং সেটে আসেন দেরি করে, আবার মাঝে মধ্যে সিডিউল ফাঁসিয়ে দেয়ার অভ্যাসও আছে।

ফলাফল, ছবির কাজ শেষ করতে কখনও কখনও এক থেকে দুই বছরও লেগে যায়। এতে করে ছবির বাজেট বেড়ে দাঁড়ায় দ্বিগুণ। কিন্তু একই পারিশ্রমিকে কলকাতার তারকাদের এনে কাজ করালে, টানা কাজ শেষ করা যায়। কোনো বাড়তি চাপ থাকে না। আর ওপার বাংলার প্রতি এ দেশের দর্শকের মোহটাও নতুন কিছু নয়। দর্শকের এই মোহ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে সাফল্য না পাওয়াটা কলকাতার তারকাদের জন্য স্রেফ দুর্ভাগ্য বৈ আর কিছু নয়- এমনটিও মনে করছেন অনেকে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×