এই সময়ে

বই পড়ে আর গান শুনে সময় কাটে শবনমের

  তারা ঝিলমিল প্রতিবেদক ১৮ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বই পড়ে আর গান শুনে সময় কাটে শবনমের
অভিনেত্রী শবনম

ষাটের দশকে নৃত্যশিল্পী হিসেবেই চলচ্চিত্রে আত্মপ্রকাশ হয় অভিনেত্রী শবনমের। সে সময় তার প্রকৃত নাম ছিল ঝর্ণা বসাক। ওই বছরেই তিনি নৃত্যশিল্পীর পাশাপাশি অতিরিক্ত শিল্পী হিসেবে কয়েকটি ছবিতে অভিনয় করেন।

মুস্তাফিজ পরিচালিত ‘হারানো দিন’ ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে ১৯৬১ সালে নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। মূলত এ ছবিতেই তিনি শবনম নাম ধারণ করেন। নায়িকা হিসেবে প্রথম ছবিতেই দর্শক মহলে ব্যাপক সাড়া ফেলেন তিনি। ১৯৬২ সালে উর্দু ‘চান্দা’ ছবির মাধ্যমে তৎকালীন সমগ্র পাকিস্তানে রাতারাতি তারকাখ্যাতি পান। এ দুটি ছবিই তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) ঢাকা থেকে মুক্তি পেয়েছিল।

এর পরের বছর ‘তালাশ’ নামে একটি ছবি পাকিস্তানে মুক্তি পেলে ওই সময়ের সর্বাপেক্ষা ব্যবসাসফল ছবির মর্যাদা লাভ করে। ষাটের দশকে শবনম পাকিস্তানের সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় অভিনেত্রী হিসেবে চিহ্নিত হন। পেশাজীবী মনোভাবের কারণে তিনি ১৯৬৮ সালে পাকিস্তানের করাচিতে স্থায়ীভাবে বাস করতে থাকেন। সত্তর দশকের শুরুতে শবনম ললিউডে (লাহোর) পাকিস্তানের ইতিহাসে সবচেয়ে জনপ্রিয় নায়িকা হিসেবে নিজের স্থান পাকাপোক্ত করেন।

তিনি নায়িকা হিসেবে পাকিস্তানের চলচ্চিত্র শিল্পে ধস নামার পূর্বে আশির দশকের শেষ পর্যন্ত প্রবল প্রতাপে প্রাধান্য বিস্তার করেছিলেন। এ অভিনেত্রীর ক্যারিয়ার পর্যালোচনা করলে বলা চলে, বিশ্বে তিনিই একমাত্র চলচ্চিত্র অভিনেত্রী যিনি ১৯৬০-এর দশক থেকে ১৯৮০-এর দশক পর্যন্ত তিনটি দশক ধারাবাহিক ও সফলভাবে রোমান্টিক চরিত্রে অভিনয় করে অগণিত দর্শক মন জয় করেছিলেন।

সিনেমায় বর্ণিল ক্যারিয়ার গড়লেও শবনম অভিনয়ে নেই দীর্ঘ সময়। তার অভিনীত শেষ ছবি কাজী হায়াত পরিচালিত ‘আম্মাজান’ মুক্তি পায় ১৯৯৮ সালে। এ প্রসঙ্গে শবনম বলেন, ‘আমার ভাগ্য ভালো যে, আমার অভিনীত প্রথম ও শেষ ছবি ছিল আমার ক্যারিয়ারের সেরা ছবি।’

এ অভিনেত্রীকে এখন আর ক্যামেরার সামনে দেখা যায় না। সময় কীভাবে কাটে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বই পড়ি, গান শুনি। নিজের যত্ন নিই। এভাবেই দিন কেটে যায়।’ ক্যারিয়ারে পাকিস্তান কিংবা বাংলাদেশে অনেকের সঙ্গেই অভিনয় করেছেন। অনেকের সঙ্গেই তৈরি হয়েছিল বন্ধুত্ব। এখন তারা কেউ কোনো খবর নেন কিনা জানতে চাইলে শবনম বলেন, ‘সবাই কাজে ব্যস্ত থাকেন। আমিই বা কয়জনের খবর নিই।

সুচন্দা, ববিতা ও চম্পার সঙ্গে প্রায়ই দেখা হয় কথা হয়। বলা চলে ওদের সঙ্গে যোগাযোগ নিয়মিত হয়। অন্যদের মধ্যে নির্দিষ্ট নাম বলতে পারব না। তবে দেখা হলে সবাই আপনের মতো আচরণ করে।’

জীবনের এ পর্যায়ে এসে কোনো না পাওয়া কিংবা চাওয়ার কিছু আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অভিনয় জীবনে অনেক পেয়েছি। তেমন কিছু চাওয়ার নেই। তবে যতদিন বাঁচি যেন সুস্থ থাকি এটাই প্রত্যাশা করি। এ জীবনে কোনো আক্ষেপ নেই, কোনো ব্যথা নেই। অনেক পেয়েছি।’ তবে অভিনয়ের প্রতি এখনও আগ্রহ আছে এ অভিনেত্রীর।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অভিনয়ই তো আমার পেশা। শিখেছি তো অভিনয়। অভিনয় করার ইচ্ছা আছে। তবে অভিনয় করতে না পারলে কোনো কষ্ট থাকবে না।’

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×