সিনেমায় একজন মায়াবতী

  সোহেল আহসান ১৬ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা
অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা

গান এবং অভিনয়- দু’মাধ্যমেই কৃতিত্বের সাক্ষর রেখেছেন নুসরাত ইমরোজ তিশা। গানে অনিয়মিত হলেও অভিনয়ে নিয়মিত তিনি। নাটক-সিনেমায় নিয়মিত দেখা যাচ্ছে তাকে। প্রথমবার একটি সিনেমায় নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন এ অভিনেত্রী।

গ্রামের এক সহজ-সরল মেয়ে মায়াবতী। মানবিক গুণাবলিসম্পন্ন এ মেয়েটির গানের গলা ভালো। এর জন্য পরিবারের সবার কাছে আদরের। এই মায়াবতী দুর্ভাগ্যবশত ছোটবেলাতেই নারী পাচারকারী চক্রের হাতে পড়ে পাচার হয়ে যায়। ঠাঁই হয় পতিতাপল্লীতে।

শুরু হয় তার নতুন একটি জীবন। রঙিন স্বপ্নগুলো ধূসর হয়ে যায়। বেঁচে থাকার জন্য পতিতাপল্লীতেই অবরুদ্ধ জীবন কাটে তার। জীবনটা যখন বিষিয়ে উঠতে শুরু করে, ঠিক তখনই গানপ্রিয় এক খদ্দের মায়াবতীর গান শুনে মুগ্ধ হয়ে এই ঘৃণ্য পেশা থেকে বের করে নিয়ে আসে। একজন ওস্তাদের কাছে নিয়ে গিয়ে তাকে গান শেখায়।

এখান থেকেই মায়াবতী নতুন এক জীবনের সন্ধান পাওয়ার সিঁড়ি পেয়ে যান। মায়াবতীর আবাসস্থলের পাশেই এক ব্যারিস্টারের উচ্চ শিক্ষিত ছেলে তার গানের ভক্ত হয়ে যায়। হতাশার মাঝেও মায়াবতীর জীবনে আশার আলোগুলো একে একে জ্বলে উঠতে থাকে।

সেই ছেলের সঙ্গে ভালোবাসার জালে আবদ্ধ হন মায়াবতী। এমনই এক গল্পের ছবিতে নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা। ছবিটির নাম ‘মায়াবতী’। পরিচালনা করছেন অরুন চৌধুরী। এ ছবিতে মায়াবতী চরিত্রে অভিনয় করেন তিশা।

এতে অভিনয় প্রসঙ্গে তিশা বলেন, ‘মায়াবতীর মাধ্যমে প্রথমবার সিনেমার নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছি। এটির গল্প আমার চরিত্রকে ঘিরেই। অনেক সুন্দর একটি চরিত্র। এ ধরনের চরিত্রে প্রথম অভিনয় করেছি। আমার সাধ্যানুযায়ী চরিত্রটি ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি। আমার সহশিল্পীরাও আমাকে অভিনয়ে সহযোগিতা করেছেন। আশা করছি, এ ছবিটি আমার অভিনয় ক্যারিয়ারের একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।’

ছবিটি শুটিং শেষে এখন সম্পাদনার টেবিলে আছে। সম্পাদনার কাজ শেষে আগামী ঈদের পর মুক্তির তারিখ ঘোষণা করা হবে বলে পরিচালকসূত্রে জানা গেছে।

সিনেমায় এখন পরিণত একজন অভিনয়শিল্পী হিসেবেই কাজ করছেন তিশা। নাটকের পাশাপাশি এক দশক থেকে সিনেমায় অভিনয় করছেন। এর মধ্যে বড় পর্দায় অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও পেয়েছেন।

২০০৯ সালে ‘থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় নুসরাত ইমরোজ তিশার। এরপর ২০১২ সালে ‘টেলিভিশন’, ২০১৬ সালে ‘অস্তিত্ব’, ২০১৭ সালে ‘ডুব’ ও ‘হালদা’ এবং ২০১৯ সালে ‘ফাগুন হাওয়ায়’ ছবিগুলোর মাধ্যমে নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার অভিযাত্রায় যুক্ত হন তিশা।

প্রতিটি ছবিতেই গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে প্রাণবন্ত অভিনয়শৈলীর মাধ্যমে দর্শকের মনে জায়গা করে নেন এ অভিনেত্রী।

সেই ছোটবেলা থেকেই মিডিয়ায় কাজ করছেন নুসরাত ইমরোজ তিশা। গান দিয়েই মিডিয়ায় শুরু হয়েছিল তার অভিযাত্রা। ‘নতুন কুঁড়ি’ নামের প্রতিভা অন্বেষণ প্রতিযোগিতায় গানে নৈপুণ্যের জন্য পুরস্কার পান সেই ছোটবেলাতেই।

গানের মাধ্যমে শ্রোতাদের মন জয় করার প্রত্যয় নিয়ে সমসাময়িক কয়েকজনের সঙ্গে মিলে একটি ব্যান্ড দলও গঠন করেন সেসময়। একজন সঙ্গীতশিল্পী হিসেবেই নিজেকে মেলে ধরার কাজ করতে থাকেন। সে সময়েই শখের বশে আহসান হাবীব পরিচালিত ‘সাত প্রহরের কাব্য’ নাটকে অভিনয় করেন। সেই থেকে অভিনয় অঙ্গনে প্রবেশ করেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে তিশা বলেন, ‘যখন থেকে বুঝতে শিখেছি, ঠিক সে সময় থেকেই গান শেখা শুরু করি। অভিভাবকদের ইচ্ছা ছিল আমি যেন একজন সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হই। আমারও সে রকম ইচ্ছাই ছিল। বিভিন্ন অনুষ্ঠান কিংবা জাতীয় পর্যায়ের গানের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করি। গানের জন্য একাধিক পুরস্কারও পাই। কিন্তু এক সময় হঠাৎই অভিনয়ের সুযোগ পেয়ে যাই। প্রথম কাজ নাটকটি ছিল শখের বশে করা। এটি প্রচার হওয়ার পর থেকে অভিনয়ে একটু একটু করে কাজ বাড়তে থাকে।’

তিনি আরও বলেন, ‘শুরুতে গান-অভিনয় দুটোই চালিয়ে গেছি। যখন পূর্ণোদ্যমে অভিনয় শুরু করি, তারপর থেকে গানের কাজ কমে যেতে থাকে। এখন নিজের জন্য অবসর সময়ে গান করি। এর আগে টেলিভিশনের গানের অনুষ্ঠানেও গান গেয়েছি। ইদানীং অভিনয় ব্যস্ততা ও সংসারে সময় দেয়ার কারণে গানে সেভাবে আর মনোযোগ দিতে পারছি না। তবে নতুন গান প্রকাশের পরিকল্পনা আছে আমার।’

অন্যদিকে এ মুহূর্তে সিনেমার শুটিং না থাকায় নাটকে অভিনয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন এ অভিনেত্রী। বেশ কিছুদিন আগে থেকেই ঈদের নাটকে কাজ শুরু করেছেন। মে মাসের প্রথম সপ্তাহে দুটি ঈদের নাটকের শুটিং করে এসেছেন ব্যাংকক থেকে। আগামী ঈদে প্রায় সব টেলিভিশন চ্যানেলেই তিশা অভিনীত নাটক প্রচার হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×