এখনই আমার বিয়ের কোনো সম্ভাবনা নেই

  আহসান মাহমুদ ১৬ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

এখনই আমার বিয়ের কোনো সম্ভাবনা নেই
অভিনেত্রী মিম মানতাসা

২০১৮ সালে লাক্স সুপারস্টার প্রতিযোগিতায় সেরা হয়ে মিডিয়ায় আসেন মিম মানতাসা। মিডিয়ায় পথচলার শুরু থেকেই সংখ্যায় কম হলেও মানসম্মত নাটকে অভিনয় করে দর্শক এবং সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি কাড়তে সক্ষম হয়েছেন এ নবাগতা।

এক বছরের এ মিডিয়া ক্যারিয়ারের নানা বিষয় নিয়ে সম্প্রতি যুগান্তরের মুখোমুখি হন তিনি।

যুগান্তর: বর্তমানে অভিনয়ে ব্যস্ততা কেমন যাচ্ছে?

মিম মানতাসা: আমি ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই কম কাজ করছি। কারণ শুরু থেকেই চিন্তা করেছি, যদি গড়পড়তা কাজ করতে থাকি তাহলে ক্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। তাই গুরুত্বহীন কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকার ইচ্ছা ছিল না। এখনও করছি না। আগামী ঈদের জন্য এখন পর্যন্ত দুটি নাটকে অভিনয় করেছি। এছাড়া আরও কিছু নাটকের প্রস্তাব আছে। সেগুলোর গল্প পেলে তারপর সিদ্ধান্ত নেব। ভালো কাজের আশায় আছি।

যুগান্তর: আপনি তো লাক্সের শুভেচ্ছাদূত। এর জন্য কোনো কাজ করছেন নাকি?

মিম মানতাসা: হ্যাঁ। বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে ওদের কর্মসূচিগুলোতে যোগ দিচ্ছি। শুভেচ্ছাদূত হিসেবে আমার চুক্তি যতদিন থাকবে, ঠিক ততদিনই আমি আন্তরিকতার সঙ্গে কাজটি করতে চাই।

যুগান্তর: কিছুদিন আগে একটি ওয়েব সিরিজে অভিনয় করেছিলেন। সেটি কবে প্রচারে আসবে?

মিম মানতাসা: এটি নির্মাতা অনিমেষ আইচ দাদা ভালো বলতে পারবেন। সিরিজটির নাম ‘বিউটি অ্যান্ড দ্য বুলেট’। ৭ পর্বে সাজানো হয়েছে এটির গল্প। এতে আমি সাধারণ এক মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছি। এ সিরিজের মাধ্যমে মম এবং মিম আপুর সঙ্গে অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছি। তারা দু’জনেই আমাকে সহযোগিতা করেছেন। তাদের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি।

যুগান্তর: গত ১১ মে আপনার মিডিয়ায় কাজের এক বছর পূর্তি হয়েছে। এই এক বছরে প্রাপ্তি কী?

মিম মানতাসা: আমি যতটুকু ভেবেছি, তার থেকে বেশিই পেয়েছি। অনেক ভালো কিছু মানুষের সঙ্গে কাজ করব কিংবা তাদের সহযোগিতা পাব এটা ভাবিনি। এটা আমার অন্যতম অর্জন। এ পর্যন্ত যা পেয়েছি, নিজের জায়গা ঠিক রেখে কাজ করতে পেরেছি, তাতে আমি খুশি।

যুগান্তর: মিডিয়ায় আসার আগের জীবন আর এখনকার জীবনযাপন নিয়ে অভিজ্ঞতা কী?

মিম মানতাসা: আগের জীবনযাপন তো ভালোই ছিল। তবে মিডিয়ায় আসার পরের জীবনটাও ভালোই লাগে। রাস্তাঘাটে কিংবা জনারণ্যে যখন মানুষ আমাকে দেখে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তখন নিজেকে খুব ভাগ্যবতী মনে হয়। আমি সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথাও বলি, একটুও বিব্রত হই না। আগে কিন্তু আমি খুব কম কথা বলতাম। কিন্তু এখন সেই ধারণটা পাল্টে ফেলেছি। সাধারণ মানুষদের জন্যই তো আমরা কাজ করি। তাই ওদের সঙ্গ দিতে পারা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

যুগান্তর: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করছেন। মিডিয়ায় আসার পর সহপাঠীদের সঙ্গে আপনার কি কোনো দূরত্ব তৈরি হয়েছে?

মিম মানতাসা: মোটেও না। তাদের সঙ্গে আগে যে রকম সম্পর্ক ছিল, এখনও ঠিক তাই আছে। শুধু সহপাঠীরাই নয়, আমার শিক্ষকরাও আমাকে পছন্দ করতেন,

দিকনির্দেশনা দিতেন।

এখনও তেমনই করছেন। আর শুটিংয়ের ব্যস্ততার কারণে বন্ধুদের সঙ্গে একটু কম দেখা হয়। এ জন্য ওরা আমার উপস্থিতির অভাব বোধ করে।

যুগান্তর: একাডেমিকভাবে আপনি চিত্রশিল্পী। আবার অভিনয়েও এখন কাজ করছেন। কোনটাকে গুরুত্ব দেবেন?

মিম মানতাসা: চারুকলার শিক্ষার্থী হিসেবে আমার যে জগৎটা আছে সেটাতে অবশ্যই আমি কাজ করব। আপাতত রং-তুলির কাজটা থেকে একটু বিরতি নিয়েছি। কারণ আমি মিডিয়াতে নতুন এসেছি। মিডিয়ায় নিজেকে অ্যাডজাস্ট করার পরই রং-তুলি নিয়ে বসব। আপাতত মিডিয়ার কাজটাকেই গুরুত্ব দিয়ে অভিনয়ে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার সংগ্রাম করে যাচ্ছি।

যুগান্তর: অভিনয় শেখার জন্য কাউকে অনুসরণ করেন?

মিম মানতাসা: আমি দেশের প্রশংসিত অনেক অভিনয়শিল্পীর অভিনয় অনুসরণ করি। তারা কীভাবে সংলাপ বলেন কিংবা কোন চরিত্র কীভাবে ফুটিয়ে তোলেন, এগুলো দেখি। হলিউডের অভিনয়শিল্পীরা কম এক্সপ্রেশনে কাজ করেন। কিন্তু বলিউড তার ব্যতিক্রম। বাংলাদেশের সব টিভি নাটকের শিল্পীদের অভিনয় দেখি। আর বলিউডের কাজল, দীপিকা পাড়–কোনদের অভিনয় ভালো লাগে।

যুগান্তর: সিনেমায় অভিনয়ের পরিকল্পনা আছে?

মিম মানতাসা: দর্শক যদি সিনেমার জন্য আমাকে পছন্দ করেন, তাহলে অবশ্যই সিনেমায় অভিনয় করব। যে কোনো অভিনয়শিল্পীর জন্যই সিনেমায় অভিনয় করা স্বপ্নের বিষয়। আমারও ঠিক তা-ই। ভালো গল্প এবং নির্মাতার কাছে থেকে সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগ এলে যে কোনো সময়েই এ মাধ্যমে কাজ করার ইচ্ছা আছে।

যুগান্তর: বিয়ে নিয়ে পরিকল্পনা কী?

মিম মানতাসা: বিয়ে নিয়ে আমি আপাতত কিছুই ভাবছি না। আমার কাছে মনে হয় বিয়ে মানুষের দায়িত্ব বাড়িয়ে দেয়। তাই ক্যারিয়ারের এ সময়ে এখনই আমার বিয়ের কোনো সম্ভাবনা নেই। পরিবার থেকেও এ নিয়ে কোনো চাপ নেই। এখন কিছুদিন কাজ করে নিজের ক্যারিয়ারটাকে সমৃদ্ধ করি, তারপর বিয়ের পিঁড়িতে বসব। তবে যাকেই করি না কেন সে হবে মিডিয়ার বাইরের লোক।

যুগান্তর: রমজান মাস চলছে। রোজা নিয়ে ছোটবেলার কোনো স্মৃতি মনে আছে?

মিম মানতাসা: আমি যখন ক্লাস থ্রিতে পড়ি ঠিক তখন থেকে রোজা রাখি। সে সময় থেকেই পুরো মাস রোজা করে আসছি। আমাদের পরিবারের সবাই রোজা রাখেন। রোজা না রাখলে খুব খারাপ লাগে আমার। খুব বেশি সমস্যা না থাকলে আমি প্রতি বছরই রোজা রাখি। সেসঙ্গে সবগুলো নামাজও আদায় করি।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×