ক্রিকেট খেলা নিয়ে নির্মিত যত ছবি

আজ থেকে ইংল্যান্ডে শুরু হয়েছে ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় আসর বিশ্বকাপ ক্রিকেট। এ আসরে অংশগ্রহণ করতে বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল ইংল্যান্ডে অবস্থান করছে। বিশ্বকাপ ঘিরে পৃথিবীতে ক্রিকেটপ্রেমী সব মানুষের রয়েছে নানা উত্তেজনা। চলছে নানা আয়োজন। বিশ্বকাপ নিয়ে কবিতা, গান এবং বিজ্ঞাপনও দেখা গেছে অনেক। তবে ক্রিকেট খেলা নিয়ে অনেক ছবিও নির্মিত হয়েছে। ক্রিকেট খেলাকেন্দ্রিক গল্পে নির্মিত কয়েকটি ছবি নিয়েই আজকের বিশেষ আয়োজন লিখেছেন -

  হাসান সাইদুল ৩০ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দ্য ফাইনাল টেস্ট : ১৯৫৩ সালে বৃটিশ পরিচালক অ্যান্থনি অ্যাস্কুইথ ‘দ্য ফাইনাল টেস্ট’ নামে একটি ছবি নির্মাণ করেন। এ ছবির কাহিনী রচনা করেন তখনকার জনপ্রিয় বৃটিশ নাট্যকার টেরেন্স রর্টিগান। এ ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্র স্যাম পামার, যে তার শেষ টেস্ট ম্যাচ খেলতে যাচ্ছে এবং তিনি চেয়েছিলেন একই ম্যাচে তার ছেলেও মাঠে থাকুক। কিন্তু তা আর হয়নি। তার ছেলে এক কবির পেছনে ঘুরে বেড়াতে থাকে। ‘দ্য ফাইনাল টেস্ট’ ছবিকে আনুমানিকভাবে বিশ্বের ক্রিকেটকেন্দ্রিক নির্মিত প্রথম ছবি বলা যায়।

আউটসাইড এজ : এটি প্রকৃতপক্ষে রিচার্ড হ্যারিসের লেখা একটি মঞ্চনাটক। এর বিষয়বস্তু একটি ক্রিকেট দলকে কেন্দ্র করে। যে দলটিকে খেলার বদলে বেশি চিন্তা করতে হয় খেলোয়াড়দের প্রেম ও দাম্পত্যবিষয়ক নানা জটিলতা নিয়ে। ১৯৮২ সালে এ মঞ্চনাটকটি টিভি-মুভি হিসেবে নির্মাণ করা হয়। যা ওই সময় জনপ্রিয় হয়।

পি-টাং, ইয়াং, কিপারব্যাং : ১৯৮২ সালেই বৃটিশ টিভি চ্যানেল ‘চ্যানেল ফোর’ যাত্রা শুরু করে। আর চ্যানেলটির যাত্রার দ্বিতীয় রাতেই প্রদর্শিত হয় পি-টাং, ইয়াং, কিপারবাং নামে টিভি ছবি। এ ছবির কাহিনী রচনা করেন জ্যাক রোজেনথ্যাল। ছবির মূল বিষয় ছিল অ্যালান ডাকওয়ার্থের ক্রিকেট প্রেম ও প্রেমিকার সঙ্গে প্রথম চুম্বন।

আর্থার’স হ্যালোড গ্রাউন্ড : ১৯৮৪ সালে ইংল্যান্ডে ফ্রেডি ইয়াং পরিচালিত আর্থার’স হ্যালোড গ্রাউন্ড নামে একটি ছবি মুক্তি পায়। এ ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্র এক গ্রাউন্ডসম্যান, যিনি ৪৫ বছর ধরে একটি মাঠে কাজ করছেন। তবে তার নতুন সহকারী নিয়োগ পেলে, তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। এ নিয়েই ছবির গল্প।

প্লেয়িং অ্যাওয়ে : ১৯৮৭ সালে ‘প্লেয়িং অ্যাওয়ে’ নামে একটি ছবি ইংল্যান্ডে মুক্তি পায়। এ ছবির কাহিনী ও চিত্রনাট্য রচনা করেন ক্যারিল ফিলিপস, পরিচালনা করেন হোরেস ওভে। এ ছবিতে দেখা যায় এক বিশেষ উৎসব উপলক্ষে ইংল্যান্ডের এক গ্রামের ক্রিকেট দল দক্ষিণ লন্ডনের একটা ওয়েস্ট ইন্ডিয়ানদের দলকে প্রীতি ম্যাচ খেলার দাওয়াত দেয়। সেই খেলাকে কেন্দ্র করে বেশ কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে।

আওয়াল নাম্বার : ‘আওয়াল নাম্বার’ নামে ছবিটি ১৯৯০ সালে বলিউডে মুক্তি পায়। এ ছবিই মূলত ইংল্যান্ডের বাইরেই ক্রিকেট নিয়ে নির্মিত প্রথম ছবি। দেব আনন্দের কাহিনী ও পরিচালনায় হিন্দি এ ছবির নাম-ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন দেব আনন্দ, আমির খান এবং আদিত্য পাঞ্চলি।

লগান : ‘লগান’ বলিউডে ক্রিকেট নিয়ে নির্মিত সবচেয়ে আলোচিত ও পুরস্কৃত ছবি। ২০০১ সালে মুক্তি পাওয়া বিগ বাজেটের এ ছবির কাহিনী ও পরিচালনায় ছিলেন আশুতোষ গোয়ারিকর। কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেন আমির খান ও গ্রেসি সিং। ন্যারেটর হিসেবে কণ্ঠ দেন অমিতাভ বচ্চন। সঙ্গীত পরিচালনা করেন এ আর রাহমান। এ ছবি বলিউড ছাড়িয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে। ভারতের ইতিহাসের তৃতীয় চলচ্চিত্র হিসেবে অস্কারের ফরেইন ল্যাঙ্গুয়েজ ফিল্মের জন্যও এ ছবি প্রাথমিকভাবে মনোনীত হয়।

ওয়ান্ডার্স অবলিভিয়ন : ২০০৩ সালে আবার বৃটেনে ক্রিকেট নিয়ে নির্মিত ছবি এটি। এ ছবির কাহিনী ও পরিচালনায় ছিলেন পল মরিসন। এর কাহিনী এগিয়েছে প্রতিবেশী এক ইউরোপিয়ান ইহুদি ও এক ক্যারিবিয়ান পরিবারের সদস্যদের সখ্যকে কেন্দ্র করে, যে সখ্যের মূল ক্রিকেটের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা।

হিট ফর সিক্স : ওয়েস্ট ইন্ডিজের দেশগুলোর মধ্যে এখন পর্যন্ত ক্রিকেট নিয়ে ছবি নির্মাণ করা হয়েছে মাত্র একটি দেশে (বার্বাডোজে)। ম্যাচ পাতানোর দায়ে অভিযুক্ত এক ক্রিকেটারের খেলায় ফেরার সংগ্রাম নিয়ে নির্মিত এ ছবিতে নিজ ভূমিকায় অভিনয় করেছেন এভার্টন উইকস, ওয়েস হল, ডেসমন্ড হেইন্স, গর্ডন গ্রিনিজের মতো কিংবদন্তি ক্রিকেটার। এছাড়াও বৃটিশ ক্রিকেটার রোল্যান্ড বুচার, বৃটিশ ধারাভাষ্যকার টনি ক্রেজিয়ার ও ফাজির মোহাম্মদও অভিনয় করেন এ ছবিতে।

আই নো হাউ মেনি রানস ইউ স্কোর্ড লাস্ট সামার : অস্ট্রেলিয়ায় ক্রিকেট নিয়ে প্রথম ছবি নির্মাণ করা হয় ২০০৮ সালে। এ ছবির কাহিনী রচনা করেন ডগ টার্নার। তার সঙ্গে এ ছবি যৌথভাবে পরিচালনা করেন স্টেসি এডমন্ডস। ক্রিকেট উপকরণ ব্যবহার করে ক্রিকেটারদের ধারাবাহিকভাবে খুন করার কাহিনীর এ ছবি অবশ্য একটু বেশিই লো-রেটেড।

সিনহলোকানায়া : শ্রীলঙ্কায় ক্রিকেট নিয়ে প্রথম ছবি নির্মিত হয় ২০১১ সালে। এ ছবি পরিচালনা করেন সুনেথ মালিঙ্গা লোকুহেওয়া। মূল চরিত্রে অভিনয় করেন দেলন জয়াসিংহে ও রানি চারুকা গুনাথিলাকা।

পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী-২ : বাংলাদেশে ক্রিকেট খেলাকেন্দ্রিক নির্মিত প্রথম ছবি এটি। সাফিউদ্দিন সাফি পরিচালিত এ ছবিটি ৮ এপ্রিল ২০১৬ সালে মুক্তি পায়। এ ছবিতে অভিনয় করেন শাকিব খান, জয়া আহসান, ইমন ও মৌসুমী হামিদ। দুটি বিশেষ চরিত্রে অভিনয় করেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক হাবীবুল বাশার সুমন ও বাংলা কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবর।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×