ঈদেও অপ্রতিদ্বন্দ্বী শাকিব খান

এবারের ঈদে সিনেমাহলে তিনটি ছবি মুক্তি পেয়েছে। এর মধ্যে দুটি ছবিতে অভিনয় করেছেন শাকিব খান। একটি তার নিজের প্রযোজনার ছবি। বরাবরের মতো এবারের ঈদেও শাকিব খান ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। তার সঙ্গে ফাইট দেয়ার মতো কেউ ছিল না। বলা যায় ঈদের বাজারে একক রাজত্ব করেছেন ঢালিউডের এই নাম্বার ওয়ানখ্যাত নায়ক। ঈদ পরবর্তী ঈদের ছবির হালহকিকত নিয়ে লিখেছেন-

প্রকাশ : ১৩ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  এফ আই দীপু

শাকিব খান। ঢাকাই ছবির এ মুহূর্তের এ অপ্রতিরোধ্য যোদ্ধার নাম। যার কোনো বিকল্প নেই। তৈরিও হয়নি। আগামী পাঁচ বছরে তৈরি হবে কিনা তা নিয়েও রয়েছে যথেষ্ট সমালোচনা। প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। তাই নিজের মতো করেই চলছেন ইন্ডাস্ট্রিতে। বাধার সম্মুখীন যে হচ্ছেন না, তা কিন্তু নয়। হচ্ছেন, তবে সেটাকে খুব সূক্ষ্মভাবে পাশ কাটিয়ে মোক্ষম জবাব দিয়ে এগিয়েও যাচ্ছেন। যার সুস্পষ্ট ছাপ দেখা গেছে এবারের ঈদের ছবিতে। গেল ঈদে শাকিব খান অভিনীত দুটি ছবি মুক্তি পেয়েছে। একটি মালেক আফসারি পরিচালিত ‘পাসওয়ার্ড’ ও অন্যটি সাকিব সনেট পরিচালিত ‘নোলক’। পাসওয়ার্ডে শাকিবের নায়িকা বুবলী। নোলকে রয়েছেন ববি।

‘পাসওয়ার্ড’ শাকিব খানের নিজস্ব প্রযোজনার ছবি। এ ছবিটি টানা শুটিং করে মুক্তি দিয়েছেন। লক্ষ্য ছিল ঈদে মুক্তি দেয়ার। সেটিই করেছেন তিনি। ব্যবসায়িক দিক থেকে ঈদে বেশ সফল বলা যায় এ ছবিকে। মুক্তির আগেই অগ্রিম ‘বুকিং মানি’ নিয়ে বেশ আলোচনায় ছিল এ ছবি। মুক্তির পরও দর্শক অনেকটা হুমড়ি খেয়ে পড়ে এ ছবি দেখার জন্য। এই দর্শক কিন্তু বেশিরভাগই শাকিব খানের ভক্ত। এই ভক্তদের মধ্যেও রয়েছে বিভেদ। কেউ শাকিব খানের দুটি ছবিই দেখতে উৎসাহী করেছেন অন্যদের। আবার কেউ শাকিব খানের নিজস্ব প্রযোজনার ছবি দেখতে উৎসাহী হয়েছেন এবং করেছেন। শাকিব খানও নিজের প্রযোজিত ছবি ছাড়া অন্য ছবির জন্য ‘টুঁ’ শব্দও করেননি। যদিও আনঅফিসিয়ালি ঈদে ‘নোলক’ মুক্তি না দেয়ার জন্য এর পরিচালক কাম প্রযোজক সাকিব সনেটকে নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু নোলকের কর্ণধাররা সেটি শোনেননি। তাই শাকিব থাকা সত্ত্বেও ঈদে নোলকের ভরাডুবি হয়েছে। অথচ ‘নোলক’ও হতে পারত এবারের ঈদের সেরা ছবি। কারণ একমাত্র এ ছবিটিই এবারের ঈদের শতভাগ মৌলিক ছবি।

এবারের ঈদে প্রচার-প্রচারণাসহ অন্যান্য দিক থেকে পাসওয়ার্ড এ মুহূর্তে শাকিবের জন্য পুরোপুরি প্রশংসা পাওয়ার মতো ছবি। কিন্তু বাণিজ্যিক সফলতা পাওয়া সত্ত্বেও এ ছবির পরিচালক মালেক আফসারির মিথ্যাচার ও অতিকথনের জন্য শাকিব খানকেও সমালোচনার শিকার হতে হচ্ছে। ছবিটি মুক্তির আগে মালেক আফসারি বলেছেন এ ছবির গল্প নকল- এমনটি যদি কেউ ধরিয়ে দিতে পারেন তাহলে তাকে দশ লাখ টাকা পুরস্কার দেয়া হবে। মুক্তির পর দেখা গেল ‘পাসওয়ার্ড’ কোরিয়ান ছবি ‘দ্য টার্গেট (শ্রিবাত ৭৫)’-এর হুবহু নকল। অথচ ছবিতে শাকিব খানের নান্দনিক অভিনয়, ইমনের দুর্দান্ত ফেরা, বুবলীর পরিপক্বতা- কোনো কিছুরই ঘাটতি ছিল না। শুধু পরিচালক মালেক আফসারির মিথ্যাচার ও অতিকথনের কারণে শাকিব খানকে একটি সফল ছবি নিয়েও মানুষের ‘কটু’ কথা শুনতে হচ্ছে। এসব পরিচালকের সঙ্গে কাজ করার বিষয়টি ভবিষ্যতে শাকিব খানের ভেবে দেখা উচিত বলে সিনে বিশেষজ্ঞরা তাদের মন্তব্যে বলেছেন।

এদিকে শাকিব খান নিজে প্রচারণা না চালালেও ‘নোলক’ ছবিটিও ঈদে হতে পারত আলোচিত আরেকটি ছবি। কিন্তু এ ছবিটি নিয়ে বিতর্ক ছিল বেশ আগে থেকেই। শুরুতে এ ছবির পরিচালক ছিলেন নাট্যপরিচালক রাশেদ রাহা। কাজে গাফিলতি, অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করাসহ আরও কয়েকটি অভিযোগে প্রযোজক এ ছবি থেকে পরিচালককে বাদ দেন। পরবর্তীতে প্রযোজক সাকিব সনেট নিজের পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে কাজ শেষ করেন। রাশেদ রাহা নিজের অধিকার ফিরে পেতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। কিন্তু বিষয়টি এখনও অমীমাংসিত। অন্যদিকে শাকিব খানও এ ছবির ব্যাপারে সুস্পষ্ট কোনো বক্তব্য মিডিয়ায় দেননি। খণ্ড খণ্ডভাবে তার যেসব বক্তব্য গণমাধ্যমে এসেছে সেটা নিয়ে তার ভক্তরাও দ্বিধায় রয়েছে। তাই ঈদের ছবির প্রচারণা থেকে শাকিব ভক্তরাও নোলককে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে। প্রিয় নায়কের সম্পূর্ণ মৌলিক ছবি দেখতে সিনেমাহলের ছায়াও মাড়াননি বেশিরভাগ শাকিব ভক্ত। ফলাফল- ঈদের ছবির ব্যবসায়িক তালিকায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সিনেমাহলেও মুক্তি দিয়েও অবস্থানগতভাবে অনেক পিছিয়ে আছে ‘নোলক’। এমনিতে এ ছবিতে ববির অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে।

অন্যদিকে কোনো ধরনের সিনেমার তারকাশিল্পী ছাড়াই শুধু গল্পকে প্রাধান্য দিয়ে অনন্য মামুন ঈদে মুক্তি দিয়েছেন তার পরিচালিত ছবি ‘আবার বসন্ত’। এটি মূলত একটি মনস্তাত্ত্বিক গল্পের ছবি। দেশের সিনেপ্লেক্সগুলোয় এ ছবিটি মুক্তি দেয়া হয়েছিল। তবে এ ধরনের ছবি দেখার জন্য আমাদের দর্শক (যারা বিভিন্ন নায়ক-নায়িকার ভক্ত) এখনও পুরোপুরি প্রস্তুত হয়নি। তবে ছবিতে তারিক আনাম খান ও অর্চিতা স্পর্শিয়ার রসায়ন বেশ আলোচিত ছিল।