ঈদের অনুষ্ঠানে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের প্রভাব

বছর ঘুরে এসেছিল খুশির ঈদ। ঈদ উদযাপনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অনুষঙ্গ টেলিভিশন অনুষ্ঠান। এসব অনুষ্ঠান কি আদৌ দর্শকের নজর কেড়ে কিংবা বিনোদিত করতে পেরেছে? তা এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। বিস্তারিত লিখেছেন-

  সোহেল আহসান ১৩ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঈদ উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী দেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোয় নাটক, সিনেমা, গানের অনুষ্ঠানের পাশাপাশি ভিন্নধর্মী কিছু অনুষ্ঠান প্রচার করতে দেখা গেছে। টেলিভিশনের ঈদ অনুষ্ঠান প্রচারের সময় ভাগ বসিয়েছে বিশ্বকাপ ক্রিকেট খেলা। যে কারণে বিশালসংখ্যক টেলিভিশন অনুষ্ঠান থেকে সরে গিয়ে ক্রিকেট খেলা দেখা নিয়েই বেশি মনোযোগী ছিল। তবে ক্রিকেট খেলায় পছন্দের দলের পরাজয়ের কষ্ট ভুলতে অনেকে আবার টেলিভিশন অনুষ্ঠানেও ফিরে গেছেন। এবারের ঈদে তুলনামূলকভাবে কমেডি নাটকের প্রতি দর্শকের আগ্রহ ছিল বেশি। তবে কোন কোন নাটকে ভাড়ামির আধিক্য দর্শকদের বিরক্তির কারণ হয়েছে। এ ছাড়া সরাসরি প্রচারিত গানের অনুষ্ঠানগুলো দর্শকের বিনোদনের তৃপ্তি মিটিয়েছে।

বাংলাদেশ টেলিভিশন : বিশ্বকাপ ক্রিকেট খেলা সরাসরি সম্প্রচারের কারণে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় মালিকাধীন চ্যানেল বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) ঈদের অনুষ্ঠানমালা সংকুচিত করা হয়েছিল। এবার প্যাকেজ আওতায় এ চ্যানেলে কোনো নাটক প্রচার হয়নি। বিটিভির নিজস্ব প্রয়োজনায় ৪টি নাটক প্রচার হয়েছে। নাটকগুলো ছিল গড়পড়তা। তবে সব সময়ের মতো ঈদের দ্বিতীয় দিন প্রচারিত হানিফ সংকেতের ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’ এবারও দর্শকের পছন্দের তালিকায় শীর্ষেই ছিল। এ ছাড়া বিটিভির নিজস্ব অনুষ্ঠান ‘আনন্দমেলা’র দর্শক ছিল এভারেজ।

এনটিভি : এ চ্যানেলে সাগর জাহানের পরিচালনায় ৬ পর্বের ঈদ ধারাবাহিক নাটক ‘সৌদি গোলাপ’ দর্শকের নজর কেড়েছে। অসীম গোমেজের পরিচালনায় ‘রং চা’ এবং মীর সাব্বিরের ‘মতলব’ নাটকটিও কিছুটা আলোচনায় ছিল। এ ছাড়া এসএ হক অলিকের ‘আমার হাতটা একটু ধরো’, গোলাম সোহরাব দোদুলের ‘ইতি তোমার হিচকক’ এবং আরিফ খানের ‘মোহজাল’ নাটকগুলোও ভালো হয়েছে।

চ্যানেল আই : এ চ্যানেলে ফরিদুর রেজা সাগরের ‘ছোট কাকু’ সিরিজের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত ৮ পর্বের নাটক ‘জয় হল জয়দেবপুরে’ ছিল একমাত্র ঈদ ধারাবাহিক। বরাবরের মতো এ নাটকটির শিশু-কিশোরদের আনন্দ জুগিয়েছে। এ ছাড়া শাইখ সিরাজের পরিকল্পনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনায় ‘কৃষকের ঈদ আনন্দ’ অনুষ্ঠানটি উপভোগ্য ছিল। চ্যানেলটিতে এন্ড্রু কিশোরের আংশগ্রহণে গানের অনুষ্ঠানটি ছিল দর্শকপ্রিয়। এ ছাড়া নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামুলের পরিচালনায় ‘তাহার সহিত বসবাস’, মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজের ‘বুক ভরা ভালোবাসা’, সাজ্জাদ সুমনের ‘নটি ফর্টি’ এবং আরিফ খানের ‘পক্ষ-বিপক্ষ’ নাটকগুলো অলোচনায় ছিল।

বৈশাখী টেলিভিশন : এ চ্যানেলের একক নাটকগুলোর মধ্যে আকাশ রঞ্জনের ‘ভাবির দোকান’ সকাল আহমেদের ‘মন্টু মিয়ার মোটরসাইকেল’, মিলন ভট্টের ‘লেডিস সু’ ছিল উপভোগ্য। ধারাবাহিক নাটকের মধ্যে এসএম শাহীন পরিচালিত ‘আয়না মতি’, আদিত্য জনির পরিচালনায় ‘নায়িকার বিয়ে-২’, ফরিদুল হাসান পরিচালিত ‘বউয়ের দোয়া পরিবহন-২’ এবং সকাল আহমেদের ‘ঈদ বোনাস’ চোখে পড়েছে। এ চ্যানেলের কমেডি নাটকগুলো দর্শক আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।

বাংলাভিশন : এ চ্যানেলে স্বল্প বিরতির কয়েকটি নাটক উপভোগ্য ছিল। তবে বেশিরভাগ নাটকের গল্প ছিল দুর্বল। ধারাবাহিক নাটকগুলো ছিল গতানুগতিক। অন্যান্য বছরের ঈদ আয়োজনের মতো এবারের ঈদে এই চ্যানলেটিতে সেলিব্রেটি শোর আধিক্য ছিল না।

নাগরিক টেলিভিশন : এ চ্যানেলে ঈদের দিন থেকে প্রতিদিন রাত ১১টায় লাইভ গানের অনুষ্ঠানে গেয়েছেন আসিফ আকবর, ‘দলছুট’, মনির খান-রিজিয়া পারভীন, মাহতিম শাকিব ও ইমরান, শাহনাজ বেলি ও সানিয়া সুলতানা লিজা। প্রায় প্রত্যেকটি গানের অনুষ্ঠানই দর্শকের চোখে পড়েছে। ক্রিকেট খেলা শেষ হওয়ার পর গানের অনুষ্ঠানে দর্শক মেতেছিল। ঈদ ধারাবাহিকগুলোর মধ্যে আকাশ রঞ্জনের পরিচালনায় ‘ওভার স্মার্ট’, আদিবাসী মিজানের ‘ডায়াবেটিস’, মারুফ মিঠুর ধারাবাহিক ‘নকল হইতে সাবধান’ নাটকগুলো সমাদৃত হয়েছে।

আরটিভি : চ্যানেলটিতে সাদিয়া ইসলাম মৌয়ের একক নৃত্যানুষ্ঠানটি আয়োজনের জৌলুস বাড়িয়েছে। চ্যানেলটিতে অন্যান্য বছরের মতো এবারও মোশাররফ করিম অভিনীত সাতটি নাটক নিয়ে ‘মোশাররফ উৎসব’ শিরোনামে ঈদের দিন থেকে ঈদের ৭ম দিন পর্যন্ত ৭টি বিশেষ নাটক প্রচার হয়েছে। নাটকগুলোয় মোশাররফ করিমের অভিনয় ছিল গতানুগতিক। এ ছাড়া ধারাবাহিক নাটক সাজিন আহমেদ বাবু পরিচালিত ‘মিস্টার অজুহাত’, মাসুদ সেজানের ‘ধামাকা অফার’ এবং সাগর জাহানের ‘তালমিছরি নাকি হাওয়াই মিঠাই’ ছিল উপভোগ্য। শেখ সেলিমের পরিচালনায় ‘মামুন মামা’, সকাল আহমেদের ‘শেষের অপেক্ষায়’ এবং ‘বিসিএস বক্কর’, সাজ্জাদ সুমনের ‘ময়ূরি শক দেয়’, আজাদ কালামের ‘যমজ ১১’ নাটকগুলো দর্শক টেনেছে।

দেশটিভি : অনেকটা অনাড়ম্বর ঈদ আয়োজন ছিল এই চ্যানেলে। এ চ্যানেলের নাটকগুলোর আগের মতো জৌলুসতা ছিল না। নাটক কিংবা অনুষ্ঠানে অনেকটা দায়সারাভাবই লক্ষ করা গেছে। এ চ্যানেলের নাটকের চেয়ে গানের অনুষ্ঠানগুলোয় কিছুটা দর্শক টানতে পেরেছিল। সর্বোপরি দর্শক আকর্ষণের প্রতিযোগিতায় পেছনের দিকে ছিল চ্যানেলটি।

এটিএন বাংলা : এ চ্যানেলে ঈদের দিন প্রচারিত হানিফ সংকেতের পরিচালনায় ‘ভুল ভাঙ্গাতে ভুল করা’ নাটকটি দর্শকপ্রিয় ছিল। এ ছাড়া শামীম জামানের পরিচালনায় ‘সুইসাইড নিউজ’ ও ‘টিভি চোর’, প্রীতি দত্তের ‘বেদের মেয়ে’ নাটকগুলো আলোচনায় এসেছে। মোহন খানের পরিচালনায় ‘গল্পটি শেষ হয়নি’ এবং কায়সার আহমেদের ‘প্রেমের দুষ্টচক্র’ ঈদ ধারাবাহিক দুটিও অন্যান্য নাটকের ভিড়ে জায়গা করে নিতে পেরেছে।

একুশে টেলিভিশন : এ চ্যানেলে ঈদ ধারাবাহিকের মধ্যে সাজিন আহমেদ বাবুর পরিচালনায় ‘কোট পরা ভদ্রলোক’ নাটকটি ভালো ছিল। একক নাটকের মধ্যে খোকন কর্মকারের ‘লেট মি ভাই’, বর্ণনাথের ‘মহুয়ার আত্মহনন’, অঞ্জন আইচের ‘অনেকটা সত্যি গল্পের মতো’ কিছুটা দর্শক আকর্ষণের চেষ্টা করেছিল। অন্যান্য ঈদকেন্দ্রিক অনুষ্ঠানগুলো ছিল গড়পড়তা ধরনের।

এশিয়ান টিভি : এ চ্যানেলের নাটকগুলো দর্শক আকর্ষণের চেষ্টা করেছে। এর মধ্যে ইমরাউল রাফাতের ‘আমি গাধা বলছি’, কাজল আরেফিন অমির ‘টম অ্যান্ড জেরি-২’ নাটকগুলো ছিল উপভোগ্য। ধারাবাহিক নাটকের মধ্যে আনিসুর রহমান মিলনের ‘আব্বা উকিল ডাকব’ ও মেহেদী মাহিনের ‘ঈদের সালামী’ দর্শক ধরে রাখার চেষ্টা করেছে। এ ছাড়া সেলিব্রেটি আড্ডা অনুষ্ঠানগুলোয় ভালো করার চেষ্টা ছিল।

এ ছাড়া এবারের ঈদে মাছরাঙা টিভি ও গাজী টিভিতে ঈদের কোনো অনুষ্ঠান ছিল না। বিশ্বকাপ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের খেলাগুলো লাইভ প্রচারের কারণে ঈদের অনুষ্ঠান নিয়ে দর্শকদের সঙ্গে আলাদাভাবে থাকা তাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×