বদলে যাওয়া তারকারা

অভিনয় কিংবা গান কারও কাছে নেশা কারও কাছে পেশা। আবার কেউ কেউ শখের বশে গান কিংবা অভিনয় করে থাকেন। এটা সত্য যে বাস্তব জীবনের সব রকমের পেশা থেকেই মানুষ অবসর নেন। যেমন সরকারি চাকরি থেকে নির্দিষ্ট একটি বয়সসীমার পর অবসরে যেতে হয়। অন্যান্য পেশাতেও তাই। কিন্তু অভিনয় লেখালেখি কিংবা গান গাওয়া এমন একটি নেশা এবং পেশা যা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত করা সম্ভব। তবু কেউ কেউ আছেন যারা এ পেশায় আসেন এবং এক সময় আবার অন্য পেশায় মনোনিবেশ করেন। তবে তারও একটি সুনির্দিষ্ট কারণ থাকে। অভিনয় কিংবা গান ছেড়ে অন্য পেশায় ব্যস্ত কয়েকজন তারকা নিয়েই এ প্রতিবেদন। লিখেছেন -

  হাসান সাইদুল ১৩ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

যে কোনো কাজের মূল কারণেই উপার্জন। এটাই স্বাভাবিক। উপার্জন থেকে চলে নিজের খরচ। পরিবারকেও চালিয়ে নেয়া হয় এর মাধ্যমে। কিন্তু সময় ব্যয় করে যখন কেউ কেউ সময়ের মূল্য পান না তখনই পরিবর্তন করেন সময় ব্যয়ের ধরন। এমনই একজন জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী নকীব খান। এ শিল্পী জীবনের অনেকটা অংশই সঙ্গীতের পেছনে ব্যয় করেছেন। তবে উপযুক্ত উপার্জন পাননি বলেই ব্যস্ত হয়েছেন অন্য পেশায়। নকীব খান নেসলে বাংলাদেশের করপোরেট অ্যাফেয়ার্স ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করছেন বেশ কয়েক বছর ধরে। যদিও শুরুটা ফিলিপস কোম্পানিতে। বর্তমানে এ শিল্পী গান থেকে অনেকটা দূরেই আছেন। অন্য পেশায় মনোনিবেশের কারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শিল্পী কিংবা তারকার বাইরে আমরা মানুষ। আমাদের সংসার আছে। আমাদেরও উপার্জন করতে হয়। সে উপার্জন গান থেকে পাই না বলেই অন্য পেশায় আসা।’ তবে সঙ্গীতচর্চা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং সময় পেলেই গান করেন। বিভিন্ন শো করেন এ শিল্পী। শুধু গান গেয়ে আশির দশকে জীবিকা নির্বাহ করা বেশ কঠিন ছিল। তাই গান গাওয়ার পাশাপাশি একটি জুতসই চাকরির চেষ্টায় ছিলেন। তিনি বলেন, ‘যতক্ষণ অফিসে থাকি, তখন শতভাগ অফিসের কাজেই ব্যস্ত থাকি। অফিসে বেশি সময় দেয়া হয় বলেই গানে কম সময় দিই। তবে গান একেবারই ছেড়ে দেব না।’

অনেকেই আছেন যারা অন্য পেশায় থাকলেও গান করতেন শখের বশে। পারদর্শিতার কারণে শখ এক সময় পেশায় পরিণত হয়। কিন্তু পেশা থেকে যখন উপার্জন না আসে তবে কত দিন বিনাপয়সা শ্রম দেয়া যায়? সঙ্গীতে দীর্ঘসময় পার করলেও উপযুক্ত উপার্জন না পাওয়ার কারণে আবারও আগের পেশায় ফিরে যান কেউ কেউ। এমনই একজন সঙ্গীতশিল্পী হায়দার হোসেন। ভিন্ন ঘরানার গান গেয়ে শ্রোতামহলে এখনও শিল্পী হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয় তিনি। তার সবচেয়ে আলোচিত গান, ‘তিরিশ বছর পরও আমি স্বাধীনতাটাকে খুঁজছি’ ও ‘চিৎকার করিয়া কাঁদিতে চাহিয়াও করিতে পারিনি চিৎকার’। জনপ্রিয় এ শিল্পী এখন গানে নেই। দীর্ঘদিন ধরে দেখা যায় না কোনো কনসার্ট ও টিভি অনুষ্ঠানে। বর্তমানে নিজের ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত আছেন তিনি। গান ছেড়ে অন্য পেশায় কেন এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এ শিল্পী বলেন, ‘একটি গানে অনেক শ্রম দিতে হয়। যে সময় যায় সে সময়ের পারিশ্রমিক দিয়েই সংসারের চাহিদা মিটাতে হবে। এর চাহিদা গান দিয়ে হয় না বলেই অন্য পেশায় আছি।’ গানে আর ফিরবেন কিনা জানতে চাইলে অনেকটা অপারগতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমার অনেক গান রেকর্ড করা আছে কিন্তু একটি গান করতে যে খরচ করা হয় তা আর উঠে আসে না। তাই নিশ্চিত বলতে পারছি না গানে আর নিয়মিত হব কিনা।’

নকীব খান ও হায়দার হোসেনের মতো একই কথা বলেন এক সময়ের জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী মনি কিশোর। এ শিল্পীর গান এখনও মানুষের মুখে মুখে শোনা যায়। কিন্তু বর্তমানে গানে নেই তিনি। ব্যস্ত আছেন নিজের ব্যবসা নিয়ে। এ শিল্পী বর্তমানে নিজের পাথরের ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত আছেন। কেন অন্য পেশায় আসছেন প্রশ্ন করতেই কিছুটা ক্ষোভের মুখে তিনি বলেন, ‘কত আর বিনাপয়সায় গান করা যায়। গান তৈরি করলে তো টাকা লাগে। নিজের সংসারও আছে। সংসার চালানোর জন্য অনেক খরচ লাগে। এসব গান করে পাইনি বলে বাধ্য হয়ে অন্য পেশায় ব্যস্ত আছি। গান করার আর ইচ্ছাও নেই।’

নিজের কাজের জন্য সফল ও জনপ্রিয়তা থাকলেও অনেক সময় বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের কারণে কেউ কেউ স্বেচ্ছায় আড়ালে চলে যান। আত্মসম্মান রক্ষা করতে এবং জীবিকা নির্বাহের জন্য বাধ্য হন অন্য পেশা বেছে নিতে। এমন একজন ঢাকাই চলচ্চিত্রের এক সময়ের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক শাকিল খান। তিনি নিজের ব্যবসা ও রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ত আছেন। হানা গ্রুপ অব কোম্পানির মালিক তিনি। নিজস্ব কোম্পানিতেই কাটে তার সময়। অভিনয়ে আর ফিরবেনও না বলে জানিয়ে দিয়েছেন। অভিনয়ে না ফেরা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অভিনয় ছেড়েছি অনেক বছর হয়ে গেল। মাঝে ফেরার আগ্রহ ছিল। কিন্তু নিজের ব্যবসা ও রাজনীতিতে ব্যস্ততার কারণে আর সময়ই পাওয়া গেল না। মন চাইলেও আর অভিনয়ে ফেরা হবে না।’

ছোটবেলা থেকে সবারই একটি লক্ষ্য থাকে। সে লক্ষ্যে অনেকেই পৌঁছে যান। সন্তুষ্ট থাকেন নিজের লক্ষ্যে পৌঁছে যাওয়ার ফলে। শোবিজাঙ্গনের পরিচিত মুখ আদিল হোসেন নোবেল তেমনই একজন। ছোটবেলা থেকেই তার লক্ষ্য ছিল একটি খ্যাতনামা কোম্পানির উচ্চপদে চাকরি করবেন। চাকরি করছেনও। পাশাপাশি তার শখ ছিল মডেলিং করার। তবে একটা সময় মডেলিংয়ে বেশ ব্যস্ত ছিলেন। এখন চাকরি জীবনে ব্যস্ততা বেশি তার। তাই মডেলিংয়ে তেমন দেখা যায় না তাকে। প্রায় দুই দশকের বেশি সময় ধরে করপোরেট জগতে চাকরি করছেন তিনি। এ প্রসঙ্গে নোবেল বলেন, ‘চাকরির আগে থেকেই মডেলিং করি। যদিও এখন চাকরিই আমার প্রধান পেশা। তবে সময় পেলে মডেলিং ও অভিনয় করি। তবে মডেলিংকে পেশা হিসেবে নেয়ার ইচ্ছা কখনই ছিল না। আমার পেশা চাকরি। চাকরির পাশাপাশি সময় পেলে অভিনয় করব।’

শোবিজে অনেকেই আছেন উন্নত জীবনের প্রত্যাশায় বিদেশে পাড়ি জমান। উন্নত জীবন পেয়েও যান। তাই হয়তো পেছনে ফিরে তাকান না কেউ কেউ। এক সময় অভিনয়ে ব্যস্ত থাকা অভিনেত্রী মোনালিসাও এমন একজন। ২০১৩ সালে হঠাৎ করেই যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। নিউইয়র্কে একটি প্রতিষ্ঠানে বিউটি অ্যাডভাইজার হিসেবে কাজ করছেন। ওই কোম্পানিতে শুরুটা মেকআপ আর্টিস্ট দিয়ে হলেও চার বছর অনেক সিঁড়ি পেরিয়ে এখন তিনি বিউটি অ্যাডভাইজার। মোনালিসার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সৌন্দর্যচর্চার জগৎ ঘিরেই। জানালেন, যুক্তরাষ্ট্রে এটির কদর আকাশচুম্বী। সেখানে মেকআপের জন্য একজন আর্টিস্টকে হাজার হাজার ডলার ঘণ্টা চুক্তিতে ভাড়া করা হয়। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে এ কাজের এখনও তেমন মূল্যায়ন নেই। তবে ক্রমশ এর মূল্যায়ন বাড়বে।

আমাদের দেশের এর মূল্যায়ন বৃদ্ধিতে কাজ করব। তবে অভিনয়ে নিয়মিত হওয়ার এখন ইচ্ছা নেই আমার। মাঝে মাঝে সময় পেলে হয়তো দু-একটি নাটকে কাজ করতেও পারি।’ মোনালিসার মতো অনেকেই উন্নত জীবনের আশায় আমেরিকায় স্থায়ী হয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন টনি ডায়েস, প্রিয়া ডায়েস, রিচি সোলায়মান, তমালিকা কর্মকারসহ অনেকে। এরা এখন মাঝে মধ্যে দেশে এসে অভিনয় করেন। কিন্তু পেশা হিসেবে অভিনয়কে ছেড়ে দিয়েছেন আগেই।

এমন অনেকেই আছেন যারা একটা সময় অভিনয় ও গান নিয়ে খুব ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন চিত্রনায়ক আলমগীর, রুবেল, আমিন খান, রিয়াজ, কণ্ঠশিল্পী রবি চৌধুরী, অভিনেত্রী তানিয়া আহমেদ, আফসানা মিমি, শমী কায়সার, রোকেয়া প্রাচীসহ অনেকে। এখন তারা অন্য পেশায় ব্যস্ত। সময় পেলে অভিনয় বা গান করেন। এদের মধ্যে কারও কারও চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে, আবার কেউ কেউ ভেরিয়েশনের জন্য পেশা বদল করেছেন।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×