দুই দশক পর...

নব্বই দশক বা তার আগে জন্ম নেয়া প্রত্যেকের টিভি অভিজ্ঞতার একটা বড় অংশজুড়ে রয়েছে বেশকিছু টিভি বিজ্ঞাপন। তখনকার সময়টাকে বিজ্ঞাপনের স্বর্ণযুগও বলা হতো। এ টিভি বিজ্ঞাপনগুলো শুধুই টিভি বিজ্ঞাপন হয়ে থাকেনি। অনেকে এখনও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু বিজ্ঞাপন শেয়ার করে নিজেদের স্মৃতি রোমন্থন করেন। লিখেছেন -

  হাসান সাইদুল ২৭ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আজ থেকে প্রায় বিশ বছর আগে তৈরি হয়েছিল একটি রঙের বিজ্ঞাপন। ঘরের দেয়াল সাজানো নিয়ে নববিবাহিত দম্পতির খুনসুটি দেখা গেছে সেই বিজ্ঞাপনে। এতে অভিনয় করেছিলেন মডেল অভিনেতা মনির খান শিমুল ও লামিয়া তাবাসসুম চৈতি। এক সময়ের টিভির পর্দার জনপ্রিয় এ বিজ্ঞাপনটিই আবারও ফিরে এসেছে। সঙ্গে নিয়ে এসেছে আবারও সেই জুটিকে। যাদের খুনসুটিতে মুগ্ধ হয়েছিল তখনকার তরুণ প্রজন্ম। প্রথম প্রচারের পর কেটে গেছে প্রায় কুড়ি বছর। এত দিন বাদে টিভি পর্দায় আবারও দেখা গেল সেই একই বাড়ি। তবে এবারে বাড়ির প্রাণ সেই দম্পতি অনুপস্থিত, বরং দেখা গেল বাড়ি সাজাতে বাড়ির ছেলেমেয়েদের তুমুল ব্যস্ততা। অপেক্ষা দ্বিতীয় হানিমুন থেকে ফিরে আসতে থাকা বাবা-মায়ের জন্য বিবাহবার্ষিকী উদযাপন। অপেক্ষার প্রহর শেষে আগমন ঘটে সেই কুড়ি বছর আগের সেই নববিবাহিত শিমুল-চৈতি দম্পতির। জীবনানন্দের ‘কুড়ি বছর পরে’ কবিতার ‘আবার বছর কুড়ি পরে তার সঙ্গে দেখা হয় যদি!’- এ পঙ্ক্তিটি ফিরিয়ে নিয়ে যায় কুড়ি বছর আগে।

এই বিজ্ঞাপন দিয়ে বিশ বছর পর আবারও কাজে ফিরেছেন চৈতি। সঙ্গে রয়েছে পুরনো সেই পর্দার স্বামী শিমুল। বিজ্ঞাপনটিতে আবার কাজ করা প্রসঙ্গে শিমুল বলেন, ‘প্রায় দুই যুগের ক্যারিয়ারে এ ধরনের কাজ এবারই প্রথমবারের মতো করা। বিশ বছর পর নিজের করা চরিত্রই আবার পর্দায় ফুটিয়ে তোলা স্বাভাবিকভাবেই বেশ আবেগপ্রবণ মুহূর্ত ছিল আমার জন্য।’ অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে বলেন, ‘দ্বিতীয়বারের মতো এ প্রস্তাব পেয়ে এক মুহূর্তও ভাবতে হয়নি। শুটিং করার সময় বেশ স্মৃতিকাতর হয়ে যাই।’

চৈতির সঙ্গে দুই দশক পর কাজ করার অনুভূতি জানতে চাইলে মনির খান শিমুল বলেন, ‘এটি খুব ভালো লাগার বিষয়। দীর্ঘ দুই দশক পর আমরা একসঙ্গে কাজ করলাম। আমার কাছে মনেই হয়নি, এতদিন পর একসঙ্গে কাজ করেছি। সম্মানবোধ, ভালোবাসা, নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা সবকিছুই যেন একই রকম ছিল। কাজ করতে গিয়ে নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া করতে হয় তাতে কোনো সমস্যা হয়নি।’ আগামীতে দু’জনকে একসঙ্গে দেখা যাবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘একসঙ্গে তো কাজ করতেই চাই। আরও কয়েকটি বিজ্ঞাপনে আমরা কাজ করব। তবে নির্মাতারা চাইলে অবশ্যই নাটক টেলিফিল্মে কাজ করব।’

শিমুল এমনিতে ব্যবসা নিয়েই ব্যস্ত। তবে ইদানীং অভিনয়েও সময় দিচ্ছেন। এ মাধ্যমে বর্তমান ব্যস্ততা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি এমনিতে কাজ কম করি। নিজের ব্যবসা নিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকতে হয়। তাই হাতে খুব বেশি কাজ নেই। তবে ৫টি ছবিতে অভিনয় করব। এর মধ্যে তিনটিই সরকারি অনুদানের। জুলাই মাসে দুটি ছবির কাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এর বেশি কিছু বলতে পারব না। কারণ আমি কাজ শুরু করে সবাইকে জানাই। অনেক সময় দেখা গেছে শুটিং চলতি অবস্থায় কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এতে করে সমালোচনায় পড়তে হয়। তাই হাতে কাজ থাকলেও শুরুর আগে বলতে চাই না।’

অন্যদিকে চৈতি বর্তমানে শিক্ষকতা পেশার সঙ্গে জড়িত। চাকরি করছেন রাজধানীর একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে। দীর্ঘদিন পর ক্যামেরার সামনে আসার অনুভূতি প্রসঙ্গে চৈতি বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর ক্যামেরার সামনে আসার আনন্দ অন্যরকম। বিশেষ করে পুরনো কলিগের সঙ্গে বিজ্ঞাপনে কাজ করেছি। এটা আরও বেশি আনন্দের।’

ফিরতি যাত্রায় কত দিন স্থায়ী থাকবেন মিডিয়ায়? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সেটি ঠিক জানি না। তবে টুকটাক কাজ করার ইচ্ছা আছে। আমি শুরু থেকেই বেছে কাজ করতাম। এখনও তাই করব। ভালো গল্প ও চরিত্র পেলে অবশ্যই কাজ করব। দীর্ঘদিন পর অভিনয়ে ফিরে অবাক হলাম, দর্শক আজও আমাকে ভালোবাসেন, তারা আমাকে সম্মানের সঙ্গে মনে রেখেছেন। সে সম্মান ও ভালোবাসার জায়গাটা নষ্ট করতে চাই না সস্তা কোনো কাজ করে। নাটক টেলিফিল্ম কিংবা চলচ্চিত্র যা-ই বলুন, সব মাধ্যমে কাজ করার আগ্রহ আছে। প্রস্তাব পেলে এবং সবকিছু ঠিক থাকলে দর্শক আমাকে অভিনয়ে নিয়মিত দেখতে পাবেন।

বর্তমানে হাতে কী কী কাজ আছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখন একটি বিজ্ঞাপনের কাজ হাতে আছে। আরও কয়েকটি বিজ্ঞাপনে কাজ করার কথা চলছে। ঈদুল আজহা উপলক্ষে কয়েকটি নাটকে অভিনয় করব। শুটিং কবে শুরু হবে এখন বলতে পারছি না।’

আরও পড়ুন

'কোভিড-১৯' সর্বশেষ আপডেট

# আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ ৫৬ ২৬
বিশ্ব ৯,৬২,৮৮২২,০৩,২৭৪৪৯,১৯১
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

 
×