আমি চিত্রনাট্য না পড়ে কখনই কাজ করি না

বাংলাদেশে মঞ্চ ও টেলিভিশন মিডিয়ার জীবন্ত কিংবদন্তি অভিনেত্রী ফেরদৌসী মজুমদার। টেলিভিশন ও মঞ্চে সমান তালে সৃজনশীল অভিনয়ের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন আপন আলোয়। এক সময়ের ব্যস্ততম এ অভিনেত্রীকে এখন আর অভিনয়ে খুব একটা দেখা যায় না। কেবল চিত্রনাট্য পছন্দ হলেই মাঝে মধ্যে অভিনয় করেন। তবে মঞ্চে কাজ করছেন নিয়মিত। পাশাপাশি সংসার ও শিক্ষকতা নিয়ে কাটছে তার বর্তমান সময়। সার্বিক বিষয় নিয়ে সম্প্রতি যুগান্তরের সঙ্গে কথা বলেছেন ‘মঞ্চজননী’খ্যাত এ অভিনেত্রী। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন -

  ফারুক হোসেন শিহাব ২৭ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পুরো জীবনটা সৃজনকর্মেই কেটে যাচ্ছে। এ অনুভূতিটা কেমন?

সময়গুলো যে কীভাবে কেটে যায় বোঝা বড়ই দায়, ঠিক নদীর স্রোতের মতো বয়ে যাচ্ছে। সৃজনশীল কাজের সঙ্গে আছি এটাই আনন্দের। আমি অভিনয় ভালোবাসি, সংসার ভালোবাসি, বাচ্চাদের পড়াতে ভালোবাসি। তিনটি জিনিস একসঙ্গে করেছি। আবার মাঝে মাঝে মনে হয়, কিছুই করা হয়নি। কিন্তু যখন দেখি, মানুষ ভালোবাসছে, শ্রদ্ধা করছে, তখন একটু শান্তি পাই, মনে হয় কিছু তো করেছি।

আগের দিনগুলোকে কি আবার ফিরে পেতে ইচ্ছা করে?

মাঝে মাঝে ভাবি যদি সেই তারুণ্যে ভরা জীবনটা ফিরে পেতাম! যদি সেই যৌবনে, সেই কৈশোরে ফিরে যেতে পারতাম! তাহলে প্রাণভরে শ্বাস নিতাম। এখন বয়সের ভার ভর করেছে, শরীরের শক্তি কমেছে, কিন্তু কাজ করার ইচ্ছা তো কমেনি। সে জন্যই মনে হয়, আহা- যদি আরেকটু শক্তি পেতাম, আরেকটু সময় পেতাম।

‘অভিনয়’ শিল্পটাকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

আমরা কিন্তু কমবেশি সবাই অভিনয় করে যাচ্ছি। অভিনয় সব ক্ষেত্রেই লাগে। শেকসপিয়ারের কথাটাই ঠিক, ‘পুরো পৃথিবীটাই একটি রঙ্গমঞ্চ’। অভিব্যক্তি দিয়ে যখন বাচ্চাদের পড়াই, তখন বুঝতে পারি, বাচ্চারা পছন্দ করছে। অভিনয়ে আমার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছিল না, জীবন থেকে নিয়েই আমি অভিনয় করেছি। বাবার কাছ থেকেই নিজের অজান্তে অভিনয়ের প্রথম পাঠ পেয়েছিলাম।

বাংলাদেশে একক নাটকের পথিকৃৎ হিসেবে একে কতটা কষ্টসাধ্য কাজ বলে মনে করেন?

একক নাটকে অভিনয় করাটা অত্যন্ত দুরূহ ও কঠিন বিষয়; দুঃসাহসিকও বটেই। পুরো মঞ্চে একা অভিনয় করতে হবে- এ অনুভূতিটাই তো অভিনেতা-অভিনেত্রীকে ভীতু করে দেয়। তবে মনোবল নিয়ে চরিত্রের ভেতরে ঢুকে পড়লে সেই জড়তা কেটে যায়। একক কিংবা অনেকে মিলে যাই হোক না কেন, ভালো পাণ্ডুলিপি ছাড়া ভালো নাটক সম্ভব নয়। ভালো পাণ্ডুলিপি ছাড়া কোনো অভিনয়শিল্পীরই দর্শক ধরে রাখার সাধ্য নেই।

নিজের অভিনয় ও সংসার জীবনের নানা বিষয় নিয়ে ‘যা ইচ্ছা তাই’ শিরোনামে সম্প্রতি একটি বই প্রকাশ করেছেন....

আমি যা লিখি তা জীবন থেকে লিখি। পরিবারের উৎসাহেই লিখেছি। লিখতে লিখতে জীবনটাকে নতুন করে উপলব্ধি করলাম। সিনেমার রিলের মতো পেছন ফিরে দেখি কত কিছুই না ফেলে এসেছি। সেসব থেকে কিছু কিছু এখানে লিপিবদ্ধ করেছি। বেশ আনন্দও পেয়েছি। আবার লিখতে গিয়ে মনে হয়েছে সময় যেন ফুরিয়ে এসেছে। বইটি প্রকাশের পর সবাই উৎসাহ দিয়েছে, যেন আরও লিখি। জানি না আর লেখার সুযোগ হবে কিনা।

টেলিভিশন নাটকে নিয়মিত কাজ না করার কারণ কী?

এখন তো আগের মতো শরীরও টানে না। ভালো কাজের সংখ্যাও কম। আমি চিত্রনাট্য না পড়ে কখনই কাজ করি না। চিত্রনাট্য পড়ার পর যদি পছন্দ হয়, বিশেষ কিছু পাই, তখন কাজ করি। তবে মঞ্চে মোটামুটি নিয়মিত কাজ করছি। যতদিন শরীরটায় সয় মঞ্চে থাকতে চাই।

থিয়েটারের প্রতি নতুনদের আগ্রহ কমে যাওয়ার কারণ কী বলে মনে করেন?

মঞ্চ হচ্ছে প্রকৃত শিক্ষার জায়গা। এখান থেকেই একজন শিল্পী তৈরি হয়। এখন তথ্যপ্রযুক্তির সময়। আসলে দিন বদলেছে, মানুষের মন-মানসিকতা ও চাহিদায় পরিবর্তন এসেছে। আমরা যেভাবে কাজ করতাম এখন একজন নাট্যকর্মী চাইলেও সেভাবে পারছে না, হয়তো সম্ভবও নয়। এখন আমরা রাস্তাতেই থাকি চার ঘণ্টা। আমি নিজেকে ভাগ্যবতী মনে করি, কারণ আমি যে সময় কাজ করেছি, সে সময় জীবন এত কঠিন ছিল না। এখন জীবনটা অনেক বেশি যান্ত্রিক হয়ে গেছে। সময়ের বিবর্তনকে তো আর থামিয়ে রাখা যাবে না। প্রকৃতি তার নিজের গতিতেই চলবে।

একজন নাট্যশিল্পীর জন্য আপনার কী ধরনের পরামর্শ থাকবে?

থিয়েটারকে অন্তর দিয়ে ভালোবাসতে হবে। কোনো ধরনের অজুহাত দিয়ে থিয়েটার হয় না। অভিনয়ের জন্য রিহার্সেলের কোনো বিকল্প নেই। সেটা না হলে অভিনয়টা কোনোভাবেই যথাযথ হয়ে ওঠে না। এ বিষয়টাকে হালকাভাবে দেখার কোনো সুযোগ নেই। এখনও যদি আমি কিছু করি, চেষ্টা করি দু-চারবার মহড়া করে নিতে।

আরও পড়ুন

'কোভিড-১৯' সর্বশেষ আপডেট

# আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ ৫৬ ২৬
বিশ্ব ৯,৬২,৮৮২২,০৩,২৭৪৪৯,১৯১
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

 
×