বৃষ্টি রে বৃষ্টি আয় না জোরে...

  হাসান সাইদুল ও আখন্দ জাহিদ ১৮ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বৃষ্টি রে বৃষ্টি আয় না জোরে...

‘বৃষ্টি রে বৃষ্টি আয় না জোরে, ফিরে যাব না আজকে ঘরে, বৃষ্টি রে বৃষ্টি থেমে যা রে, ভেজা শাড়িতে লজ্জা করে’- ঠিক ধরেছেন, জনপ্রিয় জুটি সালমান শাহ ও শাবনূর অভিনীত বৃষ্টিস্নাত দৃশ্যসমেত ঢাকাই ছবির জনপ্রিয় গান এটি। চলছে বর্ষাকাল। এ সময় বৃষ্টির অঝোর ধারায় মন ভাসে সুরের ভেলায়। বৃষ্টির দিনে রোমাঞ্চিত মনে সুরে সুরে খেলা করতে থাকে গানেরা।

কবি হৃদয়ে দোলা দিতে থাকে নতুন নতুন নানা কবিতার পঙ্ক্তি। শিল্পীরা আনমনে গেয়ে ওঠেন নিজের কিংবা অন্যের গাওয়া কোনো বৃষ্টির গান। অন্যদিকে সিনেমার নায়িকারাও দর্শকদের আনন্দ দিতে বর্ষার ভরা যৌবনে নিজেকে উজাড় করে দেন।

দর্শকরা নায়িকার বৃষ্টিস্নাত দৃশ্য দেখে মনে মনে তৃপ্তির ঢেঁকুর তোলেন! যদিও সেই বর্ষা কিংবা বৃষ্টি প্রকৃতির সৃষ্ট নয়। কৃত্রিমভাবে বৃষ্টি তৈরি করে সেখানেই ক্যামেরার সামনে ভিজতে থাকেন। এর অবশ্য কারণও আছে। প্রাকৃতিক বৃষ্টিতে দৃশ্যধারণ করা সহজ নয়। তাই কৃত্রিম বৃষ্টিতেই ভরসা নির্মাতাদের। এই বৃষ্টি আবার নায়িকার কাছে কখনও মজার, কখনও কষ্টের কিংবা কখনও বিব্রতকর। সিনেমার তিন প্রজন্মের পাঁচ নায়িকার বৃষ্টি ভেজা দৃশ্যে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে এ আয়োজন।

বৃষ্টিতে মজার অভিজ্ঞতার পাশাপাশি অনেক কষ্টের অভিজ্ঞতাও আছে

প্রাকৃতিক বৃষ্টিতে আমাদের খুব কমই শুটিং হয়। বেশিরভাগ শুটিংই করতে হয় কৃত্রিম বৃষ্টির মধ্যে। একবার রাজ্জাক আঙ্কেলের (নায়করাজ রাজ্জাক) পরিচালনায় ‘সন্তান যখন শত্রু’ ছবির একটি গানের শুটিং করছিলাম। পারিবারিক ঘরানার একটি গান। সুন্দরভাবে গানের শুটিং করছিলাম। কিন্তু হঠাৎ করেই প্রচুর বৃষ্টি শুরু হয়ে যায়। আমরা সবাই মনে করেছি গানের শুটিং বন্ধ। কিন্তু রাজ্জাক আঙ্কেল তখন শুটিং বন্ধ করেননি। তিনি বৃষ্টির মাঝেই ক্যামেরা ওপেন করে বললেন, বৃষ্টিতেই গানের শুটিং হবে। একদিকে গান বাজছে আরেকদিকে বৃষ্টি ঝরছে। অন্যদিকে আমরা গানের শুটিংয়ের মধ্য দিয়ে কাদা মাটিতে গড়াগড়ি খাচ্ছি। সব কিছু মিলিয়ে এ গানের এমন শুটিংয়ের মধ্য দিয়ে আমি তখন শৈশবে হারিয়ে গিয়েছিলাম। বৃষ্টিতে এমন মজার অভিজ্ঞতার পাশাপাশি কষ্টের অভিজ্ঞতাও রয়েছে। কৃত্রিম বৃষ্টির এমন অনেক গানের শুটিং হয়েছে যে শুটিং করতে করতে এক পর্যায়ে জ্বর চলে এসেছিল। এমনও হয়েছে, অনেক সেটে বৃষ্টিতে কাজ করতে করতে ঠাণ্ডায় শরীর হিম হয়ে যেত। আবার অনেক সময় ১০৩-১০৪ ডিগ্রি জ্বর নিয়ে বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে শুটিং করতে হয়েছে।

দিলারা হানিফ পূর্ণিমা, চিত্রনায়িকা

‘অ্যাকশন’ বলার সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টি এসে সবাইকে ভিজিয়ে দিল

বৃষ্টির দিনে আমার অনেক শুটিং পেকাপ করা হয়েছে। তাই বলতে পারি বৃষ্টির দিনে শুটিং সেটে শুটিংয়ের বাইরের অভিজ্ঞতার কথা। তারিখ মনে নেই। আমি ও রাজ্জাক ভাইসহ একটি ছবির শুটিংয়ে কক্সবাজার অবস্থান করছি। তুমুল বৃষ্টি। অনেকক্ষণ বৃষ্টি হওয়ার পর যখন একটু থামল রাজ্জাক ভাই বলেন, সবাই তৈরি, চল শুরু করা যাক। আমিও মেকাপ নিয়ে ক্যামেরার সামনে রেডি। কিন্তু পরিচালক ‘অ্যাকশন’ বলতে বলতেই সবাই আবার সেটে ফিরে এলো। কারণ আবার বৃষ্টি শুরু হয়ে গেছে। আমি ততক্ষণে ভিজে গেছি। পরে ওইদিন আর শুটিং হল না। সেটে বসে বসে কাটিয়েছি। ইউনিটের অন্যরা বিভিন্ন রকম খেলা খেলতে শুরু করল।

লুডু, তাসসহ বিভিন্ন রকম খেলা। আমি লুডু খেলতে পারলেও তাস খেলতে পারতাম না। সেটের অন্যরা খেলছিল আমি তাদের জয় পরাজয় দেখছিলাম। তবে ওইদিন একটু বৃষ্টিতে ভিজেই আমার ঠাণ্ডা লেগে গিয়েছিল। যার ফলে পরদিনও আমি শুটিং করতে পারিনি। রাজ্জাক ভাইয়ের শুটিং শেষ হয়ে গিয়েছিল।

কিন্তু আমার আরও কয়েকদিন থাকতে হয়েছিল। বৃষ্টির দিনে এমন আরও মজার অনেক অভিজ্ঞতা রয়েছে। কিন্তু এখন তো বয়স হয়েছে। সবকিছু তো আর মনে রাখতে পারিনি। তবে ওই যে মজার একটি বিষয় ‘অ্যাকশন’ বলার সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টি এসে সবাইকে ভিজিয়ে দিল, এটা ভোলার নয়। যেন, অ্যাকশন বলে বৃষ্টিকেই ডাকা হল! - ফরিদা আক্তার ববিতা, অভিনেত্রী

বৃষ্টি দেখে ঠাণ্ডা লেগেছিল আর বৃষ্টিতে ভেজা শেষ ঠাণ্ডাও শেষ

আমার অভিনীত প্রথম ছবিতে বৃষ্টিতে ভিজে শুটিং করার মজার অভিজ্ঞতা হয়েছে। ‘আমার আছে জল’ নামে এ ছবির ‘আমার আছে জল’ শিরোনামে গানে কৃত্রিম বৃষ্টিতে ভিজে অভিনয় করেছিলাম। দিন তারিখ মনে নেই। ওই দিন শট দেয়ার জন্য প্রস্তুত হলাম। বৃষ্টি আমার প্রিয় একটি বিষয়, কিন্তু ভিজলেই ঠাণ্ডা লেগে যায়। ওই দিনও তাই হয়েছে, তবে উল্টোভাবে। কৃত্রিম বৃষ্টি দেখে ভেজার আগেই ঠাণ্ডা লেগে যায় আমার। কিন্তু ওই দিন যে বৃষ্টিতে ভেজার আগেই ঠাণ্ডা লেগে যাবে বুঝতে পারিনি। তারপরও কৃত্রিম বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে শট দিয়েছিলাম। বেশি শট দিতে হয়নি। ঠিকঠাক ছিল সব। ভালোই লেগেছিল। তবে আমি ভেবেছিলাম, শুটিং করতে পারব না। কারণ আমি ঠাণ্ডা সহ্য করতে পারি না। প্রার্থনা করেছি, প্রথম কাজ যেন ভালো হয়। হয়েছেও তাই। তবে ওই দিন আমার মজা লেগেছিল অন্য কারণে। সেটি হচ্ছে, বৃষ্টিতে ভিজে শট দেয়া শেষ, আমার ঠাণ্ডাও শেষ হয়ে গেল! আমি তো অবাক! বৃষ্টি দেখে ঠাণ্ডা লেগেছিল আর বৃষ্টিতে ভেজা শেষ ঠাণ্ডাও শেষ- এ এক দারুণ অভিজ্ঞতা। এরপর আরেকটি ছবির গানেও বৃষ্টিতে ভিজে শট দিয়েছিলাম। তবে সেটি কৃত্রিম বৃষ্টি হলেও দিনটি মেঘলা ছিল। ভালোই লেগেছিল। এ অভিজ্ঞতা আমার অনেক দিন মনে থাকবে।

- বিদ্য সিনহা মিম, চিত্রনায়িকা

বৃষ্টিতে ভিজে টানা কয়েকদিন শুটিং করার পর আমার নিউমোনিয়া হয়ে গিয়েছিল

দর্শকরা মনে করে থাকেন শুটিং করা অনেক আরামের। রাজকীয়ভাবে স্বর্গীয় সুখ নিয়ে আমরা কাজ করে থাকি! যে যে পেশায়ই কাজ করুক না কেন, তারা ইচ্ছা করলেই যে কোনো সময় ছুটি নিতে পারেন। পৃথিবীতে অভিনয়টাই মনে হয় একমাত্র পেশা যেখানে অভিনয় শিল্পীদের নিজস্ব কোনো ইচ্ছাশক্তি নেই। যাদের চলতে হয় অন্যের ইচ্ছার ওপর। কেউ মারা গেলেও, শরীর খারাপ নিয়েও কিংবা রোদ, ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করেই আমাদের কাজ করতে হয়।

বৃষ্টিস্নাত একটি দৃশ্যের কথা আমার মনে আছে। ‘এই মন তোমাকে দিলাম’ ছবির একটি গানের শুটিং করতে হয়েছে শীতকালে বরফের সেটের মধ্যে। আবার তার সঙ্গে ছিল কৃত্রিম বৃষ্টিও। শীতের মধ্যে সন্ধ্যা থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত বৃষ্টিতে ভিজে টানা কয়েকদিন শুটিং করার পর আমার নিউমোনিয়া হয়ে গিয়েছিল। এরপর আমাকে এক মাসেরও বেশি সময় বিশ্রামে থাকতে হয়েছে। এ ছাড়া ‘জিদ্দি’ ছবির একটি গানের শুটিংও শীতকালে বৃষ্টির মধ্যে করতে হয়েছিল।

প্রচণ্ড জ্বর নিয়ে তখন আমি গানের শুটিং করেছিলাম। শুটিং করতে করতে কয়েকবার আমি মাথা ঘুরে পড়ে গিয়েছিলাম। আবার নিজেকে সামলে এই কনকনে শীতের দিনে বৃষ্টির পানিতে ভিজে শুটিং করেছি। অভিনয় জীবনের জার্নিতে এ রকম অনেক কষ্টের অভিজ্ঞতা ঝুড়িবন্দি হয়ে আছে। তবে এসব কষ্ট এক নিমিষেই দর্শকের অকৃত্রিম ভালোবাসার মধ্য দিয়ে হাওয়ায় মিলিয়ে যায়। - সাদিকা পারভীন পপি, চিত্রনায়িকা

শুটিং শেষে দেখলাম আমার সারা শরীর অ্যালার্জিতে ভরে গেছে

আমার কপালে কখনই বৃষ্টি ভেজা দৃশ্যের শুটিং গরমের মধ্যে ছিল না। সবকিছুই হয় শীতে। প্রথম ছবিতেই আমাকে বৃষ্টিতে ভিজে শুটিং করতে হয়েছিল। তাও আবার শীতকালে! ‘ভালোবাসার রঙ’ ছবির শুটিং শুরু করেছি ‘এন্ড ক্লাইমেক্স’ অর্থাৎ শেষের দৃশ্য দিয়ে। ওই দৃশ্যে আমাকে বৃষ্টিতে ভিজতে হবে। রাতের বেলা, খুব শীত পড়ছে। নতুন নতুন শুটিং করছি, কোনো অভিজ্ঞতা নেই।

শীতের রাতে বৃষ্টিতে ভিজতে হবে। ইউনিটের অনেকেই ভয় দেখাচ্ছে, যে পানি ছিটানো হবে সেটা কোনো খাল থেকে নাকি নিয়ে আসা হয়েছে। তারা যে মজা করছে সেটাও বুঝতে পারছি না। ভয় পাচ্ছিলাম খুব। সত্যি যদি নোংরা পানি হয়! কারণ আমার পানিতে অ্যালার্জি আছে।

শুটিংয়ে অনীহা দেখে পরে সেটের লোকজন নিশ্চিত করল, এটা ভালো পানি। তবুও টেনশনে ছিলাম। সাবধানে কাজ করেছি। দেখলাম পানি ভালো ছিল। তবুও শুটিং শেষে আমার সারা শরীর অ্যালার্জিতে ভরে গেছে। প্রথম ছবিতেই বৃষ্টির দৃশ্যে অভিনয় করা কষ্টদায়ক অভিজ্ঞতা ছিল আমার জন্য।

- মাহিয়া মাহি, চিত্রনায়িকা

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×