শুটিংয়ে বৃষ্টি বিড়ম্বনা

  সোহেল আহসান ১৮ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বৃষ্টি নিয়ে অনেক আগে থেকেই মানুষ আপ্লুত। এই বৃষ্টিতে যেমন সুখকর অনেক বিষয় আছে, পাশাপাশি আছে ভোগান্তিও। বর্ষাকালের বৃষ্টিপাত শুরু হলেই গ্রামে-গঞ্জে মাছ ধরা থেকে শুরু করে মুখরোচক অনেক খাবার তৈরি করেন গৃহবধূরা। তবে সেই সঙ্গে কিছু ভোগান্তিও তৈরি হয়। রাস্তাঘাট ডুবে চলাচলের রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। আবার বন্যাকবলিত হয়ে নিদারুণ কষ্টে সময় কাটান গ্রামের মানুষজন। তেমনই নাটক-সিনেমার শুটিংয়েও তৈরি হয় সমস্যা। যেহেতু শুটিং করতে গেলে সময় নিয়ন্ত্রণ করতে হয় সবার। তাই কোনো কারণে বা বৃষ্টির কারণে যদি কাজ বন্ধ হয়ে যায় তাহলে অর্থ ক্ষতি ছাড়াও কর্মহীন হয়ে পড়েন এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে অভিনেতা ও নির্মাতা জাহিদ হাসান বৃষ্টির বিড়ম্বনায় পড়েছেন একাধিকবার। তিনি বলেন, ‘বৃষ্টির অপর নাম রোমান্টিকতা। কবিতা কিংবা উপন্যাসে বৃষ্টি ব্যাপক জায়গা দখল করে আছে। মানুষের মনে বৃষ্টি সুখানুভূতি তৈরি করে। তবে সেই সঙ্গে রাজধানীতে যানজট তৈরির অন্যতম উপাদান বৃষ্টি। এই আকস্মিক বৃষ্টির কারণে কত যে শুটিং সিডিউল বিপর্যয় হয়েছে আমার, সেটি আমিই ভালো করে জানি। বিশেষ করে কাজের প্যাঁচ লেগে যায়। এতে করে নির্মাতা থেকে সহশিল্পী ও কলাকুশলীরাও ভুক্তভোগী। এই অনাকাক্সিক্ষত বৃষ্টি নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা কারও নেই। এর মধ্য দিয়েই আমরা কাজ করে যাই।’

অভিনেতা ও নাট্য প্রযোজক মোশাররফ করিমেরও বৃষ্টি নিয়ে তিক্ত অভিজ্ঞতা আছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের সময় মেপে মেপে পথ চলতে হয়। কোনো কারণে যদি সিডিউল বিপর্যয় হয় তাহলে এর প্রভাব শুটিং সংশ্লিষ্ট সবার ওপরই পড়ে। আমার সঙ্গে বৃষ্টি বিড়ম্বনা অনেকবার হয়েছে। বিশেষ করে গ্রামের আউটডোর শুটিংয়ের সময় এমন হলে তখন পরিস্থিতি আর নিয়ন্ত্রণে থাকে না। ঘরের মধ্যে চুপচাপ বসে থাকতে হয়। আমার তো শুটিং সিডিউল আগে থেকেই ঠিক করা থাকে। তাই এ রকম অনাকাক্সিক্ষত ঘটনায় নিরুপায় হয়ে অপেক্ষা করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না।’

নাটক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা এসএ হক অলিকেরও বৃষ্টিতে কাজের নেতিবাচক অভিজ্ঞতা আছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এমনিতেই আমরা নানা ধরনের সীমাবদ্ধতা নিয়ে কাজ করি। অনাকাক্সিক্ষত বৃষ্টির কবলে পড়লে আর্টিস্ট থেকে শুরু করে আমরা সবাই কম্প্রোমাইজ করে কাজ করি। চরিত্রটি ফুটিয়ে তোলার জন্য যেসব দৃশ্য ধারণ করার পরিকল্পনা থাকে সেগুলো থেকে সরে আসতে হয়েছে। আমার পরিচালিত ‘আকাশ ছোঁয়া ভালোবাসা’ ছবির শুটিংয়ের জন্য লোকেশন ছিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ। একটি দৃশ্যে গরুর গাড়ি ব্যবহারের জন্য মানিকগঞ্জ থেকে গরুর গাড়ি নিয়েছিলাম। কিন্তু টানা তিন দিন বৃষ্টির কারণে ওই সময় আর শুটিংই করতে পারিনি। এভাবে নাটক নির্মাণের সময় অসংখ্যবার এমন হয়েছে। এ ছাড়া অর্থনৈতিক ক্ষতিও কম নয়।’

অভিনেতা ও নির্মাতা সালাউদ্দিন লাভলু সাম্প্রতিক সময়ে বৃষ্টি বিড়ম্বনা সহ্য করেই কাজ করছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘গত তিন বছর ধরে ঈদ হচ্ছে বর্ষাকালে। টিভি চ্যানেলগুলো ঈদের অল্প সময় আগে ওয়ার্ক অর্ডার দিচ্ছে। এতে করে স্বল্প সময়ের মধ্যে নাটক তৈরি করতে হচ্ছে। এ শুটিংয়ের কাজটি করতে হচ্ছে বৃষ্টি বিড়ম্বনা মাথায় নিয়ে। একজন অভিনয়শিল্পী এবং নির্মাতা হিসেবে দুই মাধ্যমেই আমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। এবারও বৃষ্টি মাথায় নিয়েই কাজ করতে হচ্ছে। এতে করে মানসম্মত কাজ করা যাচ্ছে না। এগুলো বিবেচনায় রেখে নাটক দেখার জন্য দর্শকদের প্রতি অনুরোধ থাকবে।’

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×