চারপাশে আরও আলো ছড়িয়ে দেয়া দরকার : মোশাররফ করিম

  হাসান সাইদুল ২২ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মোশাররফ করিম
মোশাররফ করিম

বর্তমানে টেলিভিশন নাটকে অভিনয়ে ব্যস্ত তারকার নাম মোশাররফ করিম। নাটকের পাশাপাশি চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন তিনি। আজ এ তারকার জন্মদিন।

বিশেষ এ দিনে তিনি পাড়ি জমাবেন কানাডা। এটি তার পারিবারিক সফর। ব্যস্ততার ফাঁকে জন্মদিন, অভিনয় এবং সমসাময়িক প্রসঙ্গ নিয়ে যুগান্তরের মুখোমুখি হন এ অভিনেতা। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন-

যুগান্তর: সত্যিকারার্থে জন্মদিন আপনার কাছে কী অর্থ বহন করে?

মোশাররফ করিম: কিছুই না। আমি প্রতিদিন বাঁচি। প্রতিদিনই আমার কাছে সমান মূল্যবান ও গুরুত্বপূর্ণ। তাই জন্মদিনকে আমি বড় কিছু মনে করি না। এটি অন্য দিনের মতোই একটি দিন।

যুগান্তর: তারপরও জন্মদিন এলে আপনার কাছে কেমন লাগে?

মোশাররফ করিম: এ দিন উপলক্ষে ভক্তরা কিছু আয়োজন করার চেষ্টা করেন। অনেকেই দেখা করতে আসেন। উপহার দেন। কেউ কেউ মুঠোফোনে শুভেচ্ছা জানান। এটি ভালো লাগে। কিন্তু কেক কাটা, মোমবাতি জ্বালানো ভালো লাগে না।

যুগান্তর: ভালো না লাগার কারণ কী?

মোশাররফ করিম: কোনো কারণ নেই। আমার মনে হয়, চারপাশে আরও আলো ছড়িয়ে দেয়া দরকার। আলোর অভাব রয়েছে। আরও আলো চাই, আরও অনেক আলো, অনেক ভালোবাসা! মানুষকে, মানুষের কাজকে, এ দেশকে ভালোবাসা দরকার। এটি বিশেষ দিনে নয়, জীবনের প্রতিটি দিনে।

যুগান্তর: আজ কোথায় থাকবেন?

মোশাররফ করিম: আজ কানাডা যাচ্ছি পরিবার নিয়ে। জন্মদিন দু’দেশে পালিত হবে বলা যায়। কানাডায় দু’সপ্তাহের মতো থাকব।

যুগান্তর: ঈদ উপলক্ষে প্রচারিত নাটকগুলো সম্পর্কে আপনার পর্যবেক্ষণ কী?

মোশাররফ করিম: আমার সব নাটক দেখার সুযোগ হয়নি। কারণ ঈদের পরদিনও শুটিং করতে হয়েছে। ব্যস্ততার মধ্যেই ছিলাম। তবে এর ফাঁকে অনেকের ফোন পেয়েছি। অনেকেই খুদেবার্তা পাঠিয়েছেন। ইউটিউবে নিজেও কয়েকটি নাটক দেখার চেষ্টা করেছি। ভালো হয়েছে। সব যে ভালো হয়েছে তা বলা যাবে না। ভালো-মন্দ মিলিয়েই ঈদের নাটক হয়েছে বলা যায়।

যুগান্তর: নাট্যাঙ্গনের সিস্টেম নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। যার ফলে ভালো নাটক হচ্ছে না। আপনিও কী তাই মনে করেন?

মোশাররফ করিম: আসলে আমি মূলত ছাত্রজীবন থেকেই থিয়েটারপাগল ছিলাম। পরবর্তী সময়ে হুমায়ুন ফরীদি ও তারিক আনাম খানের কাছে সাক্ষাৎকার দিয়ে ‘নাট্যকেন্দ্র’-এ যোগ দিই। পরের গল্পটা তো সবাই জানেন কমবেশি। শেখা ছাড়া তো কোনো কিছু হয় না, সম্ভবও নয়। আমাদের দেশে তো অভিনয়ের জন্য কোনো ইন্সটিটিউট নেই, যেটি খুবই দরকার।

অন্য সমস্যার কথা তো সবাই জানেন। কিন্তু শেখার জন্য যে সমস্যা রয়েছে সেটি ক’জন জানেন কিংবা মানেন? অন্যান্য সেক্টর- ব্যবসা কিংবা শিক্ষকতা, চিকিৎসার বিষয় যেমন শিখতে হয়, তবে অভিনয়ের ক্ষেত্রে কেন নয়?

এটি যদি ঠিক করা যায় তবে আমাদের দেশে আরও ভালো অভিনেতা তৈরি হবে। অভিনয় শেখা অর্থাৎ কর্মশালার একটি শূন্যতা রয়েছে, এটি পূরণ করা দরকার।

যুগান্তর: গল্পের ক্ষেত্রেও তো অনেক দুর্বলতা রয়েছে...

মোশাররফ করিম: দুর্বলতা যেসব ক্ষেত্রে তা বলতে চাই না। আমি একটি বিষয়ই বলতে চাই, ভালো-মন্দ মিলিয়েই নাটক হচ্ছে। ভালো গল্প আছে, আরও গল্প দরকার। শুধু অভিনয়শিল্পী নয় একজন ট্রলিবয় থেকে শুরু করে সবার সম্মিলিতভাবে যত্নসহকারে কাজ করতে হবে। এর ফল অনেক ভালো হবে।

যুগান্তর: আপনাকে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন চরিত্রে দেখা যায়। এ চরিত্রগুলো নিজের ভেতর ধারণ করেন কীভাবে?

মোশাররফ করিম: সব সময়ই চেষ্টা করি দর্শকদের ভিন্ন কিছু দেয়ার। সে জন্য প্রতিনিয়তই নতুন চরিত্রে নিজেকে হাজির করার চেষ্টা করি। এটাই তো আমার কাজ। তবে এখানে নির্মাতার ভূমিকা বেশি। পাশাপাশি গল্পকারের অবদানও রয়েছে। নির্মাতা আমাকে যে চরিত্রে অভিনয় করার কথা বলেন তা নিজের ভেতর ধারণ করার চেষ্টা করি। কতটা পারি দর্শক তা বলতে পারেন।

যুগান্তর: আপনি কমেডি ঘরানার নাটকে বেশি অভিনয় করেন। এটি কি ইচ্ছা করেই?

মোশাররফ করিম: আমি তো একজন অভিনয়শিল্পী, নির্মাতা নই। নির্মাতা আমাকে যা করতে বলবেন সেটিই করার চেষ্টা করি। সব সময় হয়তো নির্মাতার মনমতো কাজ করতে পারি না। তবে চেষ্টা তো থাকেই।

আর আরেকটি বিষয় আমি মনে করি, অভিনয় করে যদি একজন দর্শকের মন ভালো করে দিতে পারি তবে আমার মনে হয়, আমি কাজ করতে পেরেছি। তবে এটাও সত্য অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের কিছু শেখানোও দরকার। কিন্তু তা নাটক বানিয়েই শেখাতে হবে এমন নয়।

যুগান্তর: এখন তো স্থায়ী চরিত্রের অভাব রয়েছে। এ নিয়ে আপনার বক্তব্য কী?

মোশাররফ করিম: স্থায়ী চরিত্র হচ্ছে না এটা শতভাগ সত্য না। তবে আগের মতো হচ্ছে না বা দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে না এটা বলা যেতে পারে। এর অনেক কারণ আছে। এর মধ্যে দর্শক কোনটা রেখে কোনটা দেখবেন এ নিয়ে ধাঁধায় থাকেন। পুরো নাটক দেখা শেষ করতে পারেন কিনা এ নিয়েও প্রশ্ন থাকে। এর জন্য বিজ্ঞাপনের আধিক্য তো আছেই।

অন্য দিকে নির্মাতাদেরও আরও যত্নবান হওয়া দরকার। গল্পকারদেরও সচেতন হতে হবে। আমরা তো অভিনয়শিল্পী। আমাদের যে চরিত্র দেয়া হবে তা-ই করার চেষ্টা করি। হয়তো অনেক সময় চরিত্রকে ভাঙার চেষ্টা করি।

যুগান্তর: চলচ্চিত্রেও আপনি দক্ষতা দেখিয়েছেন। এ মাধ্যমে কোন বিষয়গুলোয় গুরুত্ব দেন?

মোশাররফ করিম: নাটক, চলচ্চিত্র- দু’জায়গাতেই আমি মনোযোগ দিয়ে অভিনয় করতে চাই। চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে গেলে চরিত্র নিয়ে কাজ করার সময়টা বেশি পাওয়া যায়, এতে কাজে আত্মনিয়োগ করা যায় বেশি। তবে আমি শেষ অবধি যত্ন নিয়ে অভিনয়ই করি। ভালো গল্প ও চরিত্রকে গুরুত্ব দিয়ে।

যুগান্তর: জীবনে কোনো অপ্রাপ্তি যদি থাকে...

মোশাররফ করিম: নিজের কোনো চাওয়া নেই। একটি আফসোস খুব পোড়ায়, আমাদের নাটকের অবকাঠামোগত অবস্থা আজও ঠিক হচ্ছে না। এটি আমার কাছে বড়ই অপ্রাপ্তি। অনেক সময়ই মনে হয়, ঠিকমতো কাজ করতে পারলাম না। তবে আমি আশাবাদী, আমাদের নাট্যাঙ্গনের সব সমস্যা অচিরেই সমাধান হবে বলে আমার বিশ্বাস।

যুগান্তর: জনপ্রিয়তায় তুঙ্গে থাকা অনেক তারকাকে আড়ালে যাওয়ার ঘটনা স্বাভাবিক। আপনার ক্যারিয়ারেও ভাটা আসতে পারে! এ নিয়ে আপনার প্রস্তুতি কী?

মোশাররফ করিম: কোনো প্রস্তুতি নেই। আমি এসব নিয়ে ভাবি না। এখন যে কাজ করি এটি যত্নসহকারে করি। এমন কাজ করতে চাই যেগুলো মানুষ মনে রাখে। ভবিষ্যতে কী হবে কী হবে না এসব নিয়ে ভেবে সময় নষ্ট করতে চাই না। কেননা আমরা কে কখন কোথায় থাকব তা বলতে পারি না।

যুগান্তর: শুটিংয়ে কবে ফিরবেন?

মোশাররফ করিম: আজ কানাডা যাচ্ছি। দু’সপ্তাহ থাকব ওখানে। তারপর দেশে ফিরে নতুন কয়েকটি খণ্ড নাটক ও প্রচারচলতি ধারাবাহিক নাটকের শুটিং শুরু করব। সবার কাছে দোয়া চাই যেন সফর শেষে শুটিংয়ে ফিরতে পারি।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×