এই সময়ে

জীবনে যা পেয়েছি সেটাও অনেক : শেখ সাদী খান

  তারা ঝিলমিল প্রতিবেদক ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

জীবনে যা পেয়েছি সেটাও অনেক : শেখ সাদী খান
শেখ সাদী খান

বাংলা সঙ্গীতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম শেখ সাদী খান। তার হাত ধরে এ দেশের অনেক কণ্ঠশিল্পী কালজয়ী হয়েছেন। অসংখ্য কালজয়ী গানেরও স্রষ্টা তিনি। তার কর্মজীবনের শুরু ১৯৬৫ সালে রেডিও পাকিস্তানে বেহালা বাদক হিসেবে।

পরবর্তীতে একই কাজে ১৯৬৮ সালে তৎকালীন পাকিস্তান টেলিভিশনে যোগ দেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় যুক্ত হন স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রের সঙ্গে। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ বেতারে সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে যোগ দেন শেখ সাদী খান।

সত্তরের দশকে সঙ্গীত পরিচালক খন্দকার নুরুল আলমের সহকারী হিসেবে চলচ্চিত্রে পদার্পণ করেন এ সঙ্গীতজ্ঞ। ১৯৭৭ সালে সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। প্রথম চলচ্চিত্রের সঙ্গীত পরিচালনা করেন ১৯৮০ সালে আবদুল্লাহ আল মামুন পরিচালিত ‘এখনই সময়’ চলচ্চিত্রে।

এ চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে বাচসাস পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৮৫ সালে তার সঙ্গীত পরিচালনায় ‘সুখের সন্ধানে’ চলচ্চিত্রের গানে কণ্ঠ দেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী মান্না দে। এ ছাড়া তিনি আশা ভোঁশলে, সাবিনা ইয়াসমিন, এন্ড্রু কিশোর, রুনা লায়লাসহ দেশি-বিদেশি অনেক শিল্পী তার সঙ্গে কাজ করেন।

শেখ সাদী খানের ক্যারিয়ারের শুরু থেকে এ যাবৎ পর্যবেক্ষণ করলে বোঝা যায় বর্ণিল একটি সঙ্গীত ভুবনে ছিল তার বসবাস। একটা সময় ব্যস্ততার সঙ্গেই ছিল তার জীবনযাপন। কিন্তু শক্তিমান এ সঙ্গীত মহারথী এখন কেমন আছেন? কীভাবে কাটছে তার প্রতিটি দিন তা হয়তো অনেকেই জানেন না কিংবা কেউ খবর নেন না। এ সময় কেমন কাটছে জানতে চাইলে শেখ সাদী খান বলেন, ‘এখন বয়স হয়েছে, আমাদের বয়সী অনেকেই চলে গেছেন, আমিও যাব এটাই চরম সত্য।’

জীবনের এ পর্যায়ে এসে ক্যারিয়ারের স্বর্ণালি সময়কে কতটা মনে করেন এবং কেমন লাগে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সব শ্রেণির মানুষের যে কোনো কর্মেই তার জীবনে একটি স্বর্ণালি সময় থাকে। সেটা সব সময় এক থাকে না। একটা সময় নীরব হয়ে যেতে হয়। তার অনেক কারণও থাকে।

বয়স, মানুষের আকর্ষণ ও যুগের পরিবর্তন। আমার জীবনেও তাই হয়েছে। এখন আমি নিজকে নিয়ে ব্যস্ত থাকি। নিজেকে সময় দিই। মাঝে মাঝে চ্যানেলে যাই। গান বাজনার খবর নিই। এভাবেই দিন কেটে যায়। তবে সঙ্গীত জীবন বা আমার এ জীবন নিয়ে কোনো আক্ষেপ কিংবা অপ্রাপ্তি নেই। এক জীবনে যা পেয়েছি তাতে আমি সন্তুষ্ট। এ জীবনে যা পেয়েছি সেটাও অনেক। পরজীবনে যেন ভালো থাকি এটাই প্রত্যাশা করি।’

শেখ সাদী খান ১৯৫০ সালের ৩ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শিবপুর গ্রামের বিখ্যাত সঙ্গীত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা উপমহাদেশের বিখ্যাত সুর সাধক ওস্তাদ আয়াত আলী খাঁ। সুর সম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ তার চাচা।

পিতার হাত ধরে সঙ্গীত শিক্ষা শুরু তার। প্রথমে তবলা ও তারপর বেহালা শেখেন। তার শৈশব কাটে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লায়। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজিয়েট স্কুলে শিক্ষাজীবন শুরু করেন। আইমিউজ ও বিমিউজ সম্পন্ন করেন ঢাকা সঙ্গীত মহাবিদ্যালয় থেকে। ১৯৬৩ সালে মেজ ভাই সরোদ বাদক ওস্তাদ বাহাদুর খানের সঙ্গে ভারতে যান বেহালায় উচ্চাঙ্গসঙ্গীত শেখার জন্য। তিন বছর তার অধীনে তালিম নিয়ে ১৯৬৫ সালে বাংলাদেশে ফিরে আসেন।

সঙ্গীতজীবনে দুবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও তিনবার বাচসাস পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হন শেখ সাদী খান।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×