এই সময়ে

পরিবার ও সিনিয়র শিল্পীদের সঙ্গে আড্ডায় সময় কাটে উজ্জ্বলের

  হাসান সাইদুল ১০ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

উজ্জ্বল, ঢাকাই ছবির এক আলোকিত নক্ষত্রের নাম। তার মূল নাম আশরাফ উদ্দিন আহমেদ। কখনই মনে করেননি অভিনয়ে আসবেন। ১৯৬৭-৬৯ সালের দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএম হলে থাকাকালীন বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটকে বা টিএসসিতে অনুষ্ঠিত নাটকে অভিনয় করতেন ভালো লাগা থেকে। যেখানে সুজাতা বা রুবিনা ছিলেন তার সহশিল্পী। তখনও ভাবেননি কোনো একদিন তার পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠবে ছবিপাড়া!

এক সময় টিভি নাটকে নাম লেখান উজ্জ্বল। ১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত নিয়মিত নাটক করতেন। এখান থেকেই প্রযোজকরা তাকে সিনেমায় নেয়ার আগ্রহ দেখান। ১৯৭০ সালে সুভাষ দত্ত পরিচালিত ‘বিনিময়’ ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় তার অভিষেক ঘটে। এতে তার সহশিল্পী ছিলেন কবরী। ১৯৭২ সালে তিনি ইউসুফ জহির পরিচালিত ‘ইয়ে করে বিয়ে’ ছবিতে বুলবুল আহমেদ ও ববিতার সঙ্গে অভিনয় করেন। একই বছর সুভাষ দত্ত পরিচালিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধভিত্তিক ‘অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী’ ছবিতে তাকে দেখা যায়। এরপর সিনেপাড়ায় তার শুধুই এগিয়ে যাওয়ার গল্প। নায়কের পাশাপাশি তাকে খলনায়ক হিসেবেও দেখা গেছে। আশির দশকের শেষের দিকে মমতাজ আলী পরিচালিত ‘নসিব’ ছবি তিনি খল চরিত্রে অভিনয় করেও বেশ প্রশংসিত হন।

ঢাকাই ছবিতে আলো ছড়ানো নায়ক উজ্জ্বলকে এখন আর ক্যামেরার সামনে খুব একটা দেখা যায় না। একটা সময় চলচ্চিত্র প্রযোজক সমিতির সাধারাণ সম্পাদকের দায়িত্বেও ছিলেন তিনি। এখন সমিতিতেও তার উপস্থিতি নেই। তাহলে এ অভিনেতা এখন কী করেন? কীভাবে কাটে তার প্রতিদিন?

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে উজ্জ্বল বলেন, ‘অভিনয়ে ব্যস্ত থাকলে যেমন একটা সময় খুব ভালো লাগত। এখন অভিনয়ে ব্যস্ত না থাকলেও বাসায় আমার নাতনি নিয়ে ব্যস্ত আছি। এটাও আমার ভালোলাগার বিষয়। আমাদের সময়কালে যারা সিনেমায় কাজ করতেন তাদের মধ্যে অনেকের বাসায় আসা যাওয়া হয় এখন। বিশেষ করে গাজী (গাজী মাজহারুল আনোয়ার) ভাইয়ের বাসায় প্রায়ই আড্ডা দেই। এখন এভাবেই দিন কাটে।’

সিনিয়র অনেকেই এখন অসুস্থ, নিজের স্বাস্থচর্চায় ব্যস্ত থাকেন। এ দিক থেকে আপনার অবস্থা কেমন? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি একজন স্বাস্থ্য সচেতন মানুষ। বয়স হয়েছে। তবু এখনও নিয়মিত জিম করি। খাওয়া-দাওয়াও ঠিক মতো করি। তবে বয়স হলে শরীরে নানা সমস্যা দেখা দেয়। আমারও এমন আছে, কিন্তু ভয়ের কিছু নেই। এখন অবধি ভালো আছি।’

আপনাকে দীর্ঘদিন ক্যামেরার সামনে দেখা যায় না। লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশন শব্দ ও কর্মগুলোকে কতটা মিস করেন? এমন প্রশ্নের জবাবে উজ্জ্বল বলেন, ‘অভিনয়ের মাধ্যমেই তো আমি জীবনটা কাটালাম। মানুষের ভালোবাসা, জনপ্রিয়তা আমি লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশনের সঙ্গে থেকেই পেয়েছি। তবে এগুলোকে কি ভুলে থাকা যায়? কিন্তু এখন এগুলো থেকে দূরেই থাকতে হচ্ছে। এতে খুব কষ্ট হচ্ছে। আমাদের সময়কালের অনেকেই এখন ক্যামেরার সামনে নেই। আমাদের ব্যবহার করার মতো লোকবলও নেই। যার ফলে আমাদের চলচ্চিত্রের বর্তমান অবস্থা এমন। এর জন্য আমরা সবাই দায়ী। প্রত্যাশা করি এ চলচ্চিত্রের সব সমস্যা দূর হয়ে যাক। আমরা না থাকি, আমাদের আগামী প্রজন্ম যেন সুন্দর একটি চলচ্চিত্রাঙ্গন পায় এটা কামনা করি।’

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×