খুলনায় দুর্গম বনে বিপজ্জনক পথচলা
jugantor
শুটিং স্পট : অপারেশন সুন্দরবন
খুলনায় দুর্গম বনে বিপজ্জনক পথচলা

  নূর ইসলাম রকি, খুলনা ব্যুরো  

১৬ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দৃশ্যপট : ১

সুন্দরবনকে জলদস্যুমুক্ত করার জন্য বর্তমান সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। তারই অংশ হিসেবে ‘সুন্দরবন স্কোয়াড’ নামের একটি টিমের মাধ্যমে সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করা হবে। এ জন্য র‌্যাব ফোর্সের মধ্য থেকে চৌকস অফিসারদের নিয়ে তৈরি হবে সুন্দরবন স্কোয়াড টিম। খুলনার লবণচরা র‌্যাব-৬-এর হেডকোয়ার্টারের মাঠে এক দুপুরে র‌্যাব ফোর্সদের মধ্যে এমন নির্দেশনাই দিচ্ছিলেন এ সময়ের চিত্রনায়ক সিয়াম!

দৃশ্যপট : ২

এদিকে সুন্দরবনের কালিচর থেকে গজাল বাহিনীর প্রধান গজালসহ ১৫ জলদস্যু গ্রেফতারসহ ১২ বন্দি জেলেকে উদ্ধার করেছে ‘সুন্দরবন স্কোয়াড’ টিম। এ সময় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলা বারুদ উদ্ধার হয়। সে রাতে অভিযানের সময় গজাল বাহিনীর প্রধান বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। স্থানীয় সাংবাদিকদের সংবাদ সম্মেলনের সময় উপস্থিত ছিলেন জনপ্রিয় চিত্রনায়ক রিয়াজ।

ওপরের দুটি দৃশ্য একটি ছবির গল্পের খণ্ডাংশ। সুন্দরবনকে জলদস্যুমুক্ত করার গল্প নিয়ে তৈরি হচ্ছে পূর্ণদৈর্ঘ্য ছবি ‘অপারেশন সুন্দরবন’। পরিচালনা করছেন দীপঙ্কর দীপন। র‌্যাব ওয়েলফেয়ার কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড ছবিটি প্রযোজনা করছে। এ ছবির বেশিরভাগ শুটিং হবে সুন্দরবন, সাতক্ষীরা, মোংলা এবং খুলনায়- এমনটাই জানিয়েছেন পরিচালক। তারই অংশবিশেষ ছিল ওপরের দুটি দৃশ্য। ছবিতে অভিনয় করছেন রিয়াজ, সিয়াম, নুসরাত ফারিহা, রোশান, তাসকিন, মনোজ, শতাব্দী, সামিনা প্রমুখ।

গত বছরের একেবারে শেষ নাগাদ ছবিটির শুটিং হয়েছে খুলনার র‌্যাব-৬-এর প্রধান কার্যালয়ে। এর আগে সুন্দরবনের বিভিন্ন অংশে শুটিং করেছেন পরিচালক। তিনি জানান, আগামী ফেব্রুয়ারিতে ফের ছবির শুটিংয়ের জন্য খুলনায় আসবে ইউনিট।

শুটিং স্পটে গিয়ে দেখা যায়, এ ছবির শুটিংয়ে সহযোগিতা করছেন র‌্যাব-৬-এর সদস্য ও খুলনার স্থানীয় সাংবাদিকরা। র‌্যাবের প্রধান কার্যালয়ের বেশিরভাগ কক্ষ লাইটের আলোয় ছিল উদ্ভাসিত। কার্যালয়ের মাঠেও শুটিংয়ে সত্যিকারের র‌্যাব সদস্যদের উপস্থিতি ও উৎসাহ ছিল লক্ষ করার মতো। আরও ছিল হেলিকপ্টারের ব্যবস্থা। এক শটে ওকে হয়েছে এমন দৃশ্য নেই বললেই চলে। কখনও র‌্যাবের প্যারোটের সিনে ত্র“টি, আবার কখনও সংলাপ ভুলে যাওয়া! পাশাপাশি রোদ-ছায়ার খেলা তো আছেই।

শুটিংয়ের ফাঁকে কথা হয়েছিল পরিচালকের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘খুলনায় শুটিং করা খুবই চ্যালেঞ্জের। বিশেষ করে সুন্দরবন। আমার টিমের সবাই এ ছবির শুটিংয়ের কথা সারা জীবন মনে রাখবে। কারণ সুন্দরবন তার নিজের নিয়মে চলে। আর কাজ করতে হলে সুন্দরবনের নিয়ম মেনেই চলতে হয়। এখানে শুটিংয়ের প্রতি মুহূর্ত যুদ্ধ করেই চলতে হবে। বিশেষ করে ভরা কটাল, মরা কটাল, তীব্র কুয়াশা, নদীর চোরা চর, সাপ, মশা, মোবাইল নেটওয়ার্কের বাইরে থাকা, গেওয়া গাছের আঠা, হঠাৎ গাড়ির জ্বালানি শেষ হয়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন যুদ্ধ নিয়েই ছবিটির শুটিং করতে হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ছবিটিতে মূলত সুন্দরবনকে জলদস্যুমুক্ত করতে সরকার কী পদক্ষেপ নিচ্ছে, কীভাবে জলদস্যুরা জেলেদের বন্দি করছে, জলদস্যুদের সঙ্গে র‌্যাবের বন্দুকযুদ্ধ, জলদস্যুদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনাসহ নানা বিষয়গুলো ফুটিয়ে তোলা হবে। ছবির বেশিরভাগ শুটিং খুলনার রূপসা ঘাট, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, শিববাড়ি, শিপইয়ার্ড, সুন্দরবনের কটকা, দুবলারচর, কচিখালিসহ বিভিন্ন স্থানে করা হবে। খুলনায় শুটিং করতে এসে সবার সহযোগিতা পেয়েছি। এখানকার মিডিয়া কর্মীরাও অনেক সহযোগিতা করেছেন। সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।’

শুটিং স্পট : অপারেশন সুন্দরবন

খুলনায় দুর্গম বনে বিপজ্জনক পথচলা

 নূর ইসলাম রকি, খুলনা ব্যুরো  
১৬ জানুয়ারি ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দৃশ্যপট : ১

সুন্দরবনকে জলদস্যুমুক্ত করার জন্য বর্তমান সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। তারই অংশ হিসেবে ‘সুন্দরবন স্কোয়াড’ নামের একটি টিমের মাধ্যমে সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করা হবে। এ জন্য র‌্যাব ফোর্সের মধ্য থেকে চৌকস অফিসারদের নিয়ে তৈরি হবে সুন্দরবন স্কোয়াড টিম। খুলনার লবণচরা র‌্যাব-৬-এর হেডকোয়ার্টারের মাঠে এক দুপুরে র‌্যাব ফোর্সদের মধ্যে এমন নির্দেশনাই দিচ্ছিলেন এ সময়ের চিত্রনায়ক সিয়াম!

দৃশ্যপট : ২

এদিকে সুন্দরবনের কালিচর থেকে গজাল বাহিনীর প্রধান গজালসহ ১৫ জলদস্যু গ্রেফতারসহ ১২ বন্দি জেলেকে উদ্ধার করেছে ‘সুন্দরবন স্কোয়াড’ টিম। এ সময় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলা বারুদ উদ্ধার হয়। সে রাতে অভিযানের সময় গজাল বাহিনীর প্রধান বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। স্থানীয় সাংবাদিকদের সংবাদ সম্মেলনের সময় উপস্থিত ছিলেন জনপ্রিয় চিত্রনায়ক রিয়াজ।

ওপরের দুটি দৃশ্য একটি ছবির গল্পের খণ্ডাংশ। সুন্দরবনকে জলদস্যুমুক্ত করার গল্প নিয়ে তৈরি হচ্ছে পূর্ণদৈর্ঘ্য ছবি ‘অপারেশন সুন্দরবন’। পরিচালনা করছেন দীপঙ্কর দীপন। র‌্যাব ওয়েলফেয়ার কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড ছবিটি প্রযোজনা করছে। এ ছবির বেশিরভাগ শুটিং হবে সুন্দরবন, সাতক্ষীরা, মোংলা এবং খুলনায়- এমনটাই জানিয়েছেন পরিচালক। তারই অংশবিশেষ ছিল ওপরের দুটি দৃশ্য। ছবিতে অভিনয় করছেন রিয়াজ, সিয়াম, নুসরাত ফারিহা, রোশান, তাসকিন, মনোজ, শতাব্দী, সামিনা প্রমুখ।

গত বছরের একেবারে শেষ নাগাদ ছবিটির শুটিং হয়েছে খুলনার র‌্যাব-৬-এর প্রধান কার্যালয়ে। এর আগে সুন্দরবনের বিভিন্ন অংশে শুটিং করেছেন পরিচালক। তিনি জানান, আগামী ফেব্রুয়ারিতে ফের ছবির শুটিংয়ের জন্য খুলনায় আসবে ইউনিট।

শুটিং স্পটে গিয়ে দেখা যায়, এ ছবির শুটিংয়ে সহযোগিতা করছেন র‌্যাব-৬-এর সদস্য ও খুলনার স্থানীয় সাংবাদিকরা। র‌্যাবের প্রধান কার্যালয়ের বেশিরভাগ কক্ষ লাইটের আলোয় ছিল উদ্ভাসিত। কার্যালয়ের মাঠেও শুটিংয়ে সত্যিকারের র‌্যাব সদস্যদের উপস্থিতি ও উৎসাহ ছিল লক্ষ করার মতো। আরও ছিল হেলিকপ্টারের ব্যবস্থা। এক শটে ওকে হয়েছে এমন দৃশ্য নেই বললেই চলে। কখনও র‌্যাবের প্যারোটের সিনে ত্র“টি, আবার কখনও সংলাপ ভুলে যাওয়া! পাশাপাশি রোদ-ছায়ার খেলা তো আছেই।

শুটিংয়ের ফাঁকে কথা হয়েছিল পরিচালকের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘খুলনায় শুটিং করা খুবই চ্যালেঞ্জের। বিশেষ করে সুন্দরবন। আমার টিমের সবাই এ ছবির শুটিংয়ের কথা সারা জীবন মনে রাখবে। কারণ সুন্দরবন তার নিজের নিয়মে চলে। আর কাজ করতে হলে সুন্দরবনের নিয়ম মেনেই চলতে হয়। এখানে শুটিংয়ের প্রতি মুহূর্ত যুদ্ধ করেই চলতে হবে। বিশেষ করে ভরা কটাল, মরা কটাল, তীব্র কুয়াশা, নদীর চোরা চর, সাপ, মশা, মোবাইল নেটওয়ার্কের বাইরে থাকা, গেওয়া গাছের আঠা, হঠাৎ গাড়ির জ্বালানি শেষ হয়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন যুদ্ধ নিয়েই ছবিটির শুটিং করতে হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ছবিটিতে মূলত সুন্দরবনকে জলদস্যুমুক্ত করতে সরকার কী পদক্ষেপ নিচ্ছে, কীভাবে জলদস্যুরা জেলেদের বন্দি করছে, জলদস্যুদের সঙ্গে র‌্যাবের বন্দুকযুদ্ধ, জলদস্যুদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনাসহ নানা বিষয়গুলো ফুটিয়ে তোলা হবে। ছবির বেশিরভাগ শুটিং খুলনার রূপসা ঘাট, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, শিববাড়ি, শিপইয়ার্ড, সুন্দরবনের কটকা, দুবলারচর, কচিখালিসহ বিভিন্ন স্থানে করা হবে। খুলনায় শুটিং করতে এসে সবার সহযোগিতা পেয়েছি। এখানকার মিডিয়া কর্মীরাও অনেক সহযোগিতা করেছেন। সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।’