যদি রাত পোহালে শোনা যেত বঙ্গবন্ধু মরে নাই

  সেলিম কামাল ১২ মার্চ ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে যে ক’টি গান রচিত হয়েছে- সেগুলোর প্রায় সবই অত্যন্ত মর্মস্পর্শী এবং ঐতিহাসিক পটভূমিতে দারুণভাবে গুরুত্ববহ। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, যতদিন বাংলাদেশের ইতিহাস থাকবে- ঠিক ততদিনই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতি কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করবে। আর সে কারণেই গানে গানে বঙ্গবন্ধুকে স্মৃতির মণিকোঠায় ডেকে এনে নস্টালজিক হয়ে উঠবে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের প্রতিটি বাঙালি।

‘শোনো একটি মুজিবুরের থেকে লক্ষ মুজিবুরের কণ্ঠস্বরের ধনি আকাশে বাতাসে ওঠে রণি, বাংলাদেশ আমার বাংলাদেশ’- ১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের ফাঁকে ফাঁকে গানটি কলকাতার আকাশবাণী থেকে বাজানো হয়েছিল ‘সংবাদ পরিক্রমা’ অনুষ্ঠানে। গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারের রচনায় নিজের সুরে শিল্পী অংশুমান রায় গেয়েছিলেন গানটি। সে গান আজও কালজয়ী হয়ে বাজে বাঙালির হৃদয়ে। এ রকম আরেকটি গান ‘সাড়ে সাত কোটি মানুষের আরেকটি নাম মুজিবুর’ লিখেছিলেন শ্যামল গুপ্ত। বাপ্পী লাহিড়ীর সুরে গানটি গেয়েছিলেন আব্দুল জব্বার। এ শিল্পী মাঝি বাইয়া যাও রে গানের সুরে গাইলেন ‘মুজিব বাইয়া যাও রে, নির্যাতিত দেশের মাঝে জনগণের নাও রে মুজিব বাইয়া যাও রে’।

বাংলাদেশের পথপরিক্রমায় পটপরিবর্তন হয় ১৯৭৫ সালে জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার পর। দুর্ভাগ্যের শিকার এ জাতিকে নতুনভাবে গাইতে হল মুজিবকে নিয়ে। অন্য রকম আবেগ নিয়ে অশ্রুসিক্ত হয়ে গাইতে হল অন্য রকম মর্মস্পর্শী গান- ‘যদি রাত পোহালে শোনা যেত, বঙ্গবন্ধু মরে নাই’। এ তো শুধু গান নয়, এ যেন চিরদুঃখী বাঙালি জাতির অনন্তকালের আফসোস আক্ষেপ। অসময়ে জাতির পিতাকে হারানোর কষ্ট বুকে বয়ে বেড়ানো বাঙালির মনের একান্ত আকাক্সক্ষা। অসাধারণ এ গানের গীতিকার হাসান মতিউর রহমান, সুরকার মলয় কুমার গাঙ্গুলী। আর কণ্ঠশিল্পী সাবিনা ইয়াসমীন। ১৯৯০ সালে রচিত এ গান আজও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করার অন্যতম অনুষঙ্গ। ১৯৯১ সালে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান চেনাসুরের মাধ্যমে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে গানটি।

২০১৬ সালে নিজের কথা ও সুরে এসডি রুবেল গাইলেন, ‘বঙ্গবন্ধু তুমি সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি/ তুমি মিশে আছো এ অন্তরে/তুমি মিশে আছো এ বাংলাতে/ মিশে আছো বাঙালির হৃদয়ে জাতির পিতা হয়ে’। ঠিক একই সময়ে অটামনাল মুন নিজের কথা ও সুরে গাইলেন, ‘তুমি একতা তুমি মুক্তি, তুমি হৃদয়েতে পেশিতে শক্তি/তুমি শান্ত তুমি অগ্নি, বাঙালি তোমার ভ্রাতা ও ভগ্নি/কেউ পিতামাতা আর সন্তান, তোমার এক ডাকে সঁপে দেবে প্রাণ/তুমি গণমানুষের বন্ধু, প্রবল পিয়াসায় মহাসিন্ধু/তোমার ইতিহাস লেখে মহাকাল, তুমি আমার বঙ্গবন্ধু’। গানচিল থেকে বাজারে আসা এ গানে তার সহশিল্পী ছিলেন মুনমুন কর্মকার।

২০১৮ সালে সুজন হাজংয়ের লেখা যাদু রিচিলের সুর ও সুমন কল্যাণের সঙ্গীতায়োজনে ফাহমিদা নবী গাইলেন, ‘পিতার রক্তে রঞ্জিত এ বাংলাকে ভালোবাসি/তার রেখে যাওয়া এই বাংলার বুকে বারবার ফিরে আসি’।

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গাওয়া আরও যেসব গান রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- শহীদের গাওয়া ‘বঙ্গবন্ধুর সৈনিক’, লুমিনের গাওয়া ‘বঙ্গবন্ধু’, অশোক পালের ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব’, আবুল লায়েসের ‘তিনি কি আসবেন’, এসআই টুটুলের ‘বঙ্গবন্ধু তুমি আমার সোনার বাংলাদেশ’, সন্ধ্যা মুখার্জির ‘বঙ্গবন্ধু ফিরে এলে’, শেখ ফরিদের ‘সাত কোটি মানুষের মুক্তির জন্য’, ওমর ফারুকের ‘আমার বঙ্গবন্ধুর নৌকায় চড়ে’, সায়েফ আলীর ‘বঙ্গবন্ধু ফিরে এসো’, সুভাষ দাসের ‘ও মুজিব তুমি মিশে আছো’, বর্ষার ‘বঙ্গবন্ধু হে মহান নেতা’ প্রভৃতি।

আরও খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত