বঙ্গবন্ধুর বায়োপিক

অপেক্ষায় কুশীলবরা

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বায়োপিক নির্মিত হচ্ছে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ প্রযোজনায়। এ বায়োপিকে যারা অভিনয়ের জন্য মনোনীত হয়েছেন তারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন কবে শুটিং করবেন। পাশাপাশি অডিশন দিয়েও যারা মনোনীত হননি তারাও শুভকামনা জানাচ্ছেন নির্বাচিত অভিনয়শিল্পীদের। শিগগিরই বায়োপিকটির শুটিং শুরু হবে বলে শোনা যাচ্ছে। এটি পরিচালনা করবেন ভারতের নির্মাতা শ্যাম বেনেগাল। এ বায়োপিকে অভিনয়ের জন্য নির্বাচিত কয়েকজন অভিনয়শিল্পী যুগান্তরকে জানিয়েছেন তাদের অনুভূতি। লিখেছেন-

  সোহেল আহসান ১২ মার্চ ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আরেফিন শুভ : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চরিত্রে

‘বাংলাদেশের নামের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর নাম জড়িয়ে আছে। এই মহান নেতার নেতৃত্বেই আমাদের দেশ পরাধীনতার শেকল ভেঙে স্বাধীনতার স্বাদ পায়। বাংলাদেশের জন্মের আগে থেকেই একজন সফল রাজনৈতিক নেতা হিসেবে উপমহাদেশে তার পরিচিতি ছড়িয়ে পড়ে। সেই নেতাকে নিয়ে নির্মিত ছবিতে তার চরিত্রে অভিনয়ের জন্য আমাকে মনোনীত করা হয়েছে। এটা আমার অভিনয় ও ব্যক্তি জীবনের জন্য এক অন্য রকম মাইলফলক। অডিশনের সময়ও আমি বুঝতে পারিনি যে আমাকে নাম ভূমিকায় অভিনয়ের সুযোগ দেয়া হবে। এ চরিত্রটিতে অভিনয় করা খুব সহজ কোনো কাজ নয়। কারণ বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে প্রায় সবারই একটা স্পষ্ট ধারণা আছে। সে বিষয়টি মাথায় নিয়ে অভিনয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমি এ ইতিহাসনির্ভর ছবিতে অভিনয়ের অপেক্ষায় আছি।’

তৌকীর আহমেদ : হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী চরিত্রে

‘বঙ্গবন্ধুর বায়োপিকে অভিনয়ের সুযোগ পাওয়া অবশ্যই সৌভাগ্যের একটি বিষয়। কারণ এটি একটি ঐতিহাসিক সিনেমা। মানুষের যথেষ্ট আগ্রহ আছে এটি নিয়ে। স্বভাবতই যে কেউ চাইবেন এতে অভিনয় করার জন্য। তবে আমি আনন্দিত। অবশ্যই আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছি। শুটিং বা অন্য কোনো বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারব না। তবে আমি যে এখানে অভিনয় করছি এটি নিশ্চিত করেছেন নির্মাতা। যতটুকু জানি শিগগিরই শুটিং শুরু হবে। যথাসময়ই আমাদের জানিয়ে দেয়া হবে। আর শুটিং শুরু হলে তো নিশ্চয়ই সবাই জানতে পারবেন। সব মিলিয়ে কাজটি ভালোই হবে বলে মনে হচ্ছে। ছবিটি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে হওয়ার কারণে সবার আগ্রহ তৈরি হয়েছে এটি নিয়ে। আমি আমার চরিত্রটি নিয়ে ভাবছি। চরিত্রটির বিভিন্ন দিক বোঝার চেষ্টা করে যাচ্ছি। কবে শুটিং শুরু হবে তা এখনও জানি না। তবে কাজটি বেশ পরিকল্পনা করেই নির্মিত হবে বলে জেনেছি। এ ধরনের কাজের সঙ্গে আমাকে রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞ।’

রাইসুল ইসলাম আসাদ : আবদুল হামিদ খান ভাসানী চরিত্রে

‘আমার সঙ্গে পরিচালকের তিনটি চরিত্র নিয়ে কথা হয়েছিল। ঠিক কোন চরিত্রে নেয়া হবে তা তখন পরিষ্কার করে বলেননি শ্যাম বেনেগাল। পত্রিকা ও লোক মারফতে জেনেছি আমাকে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর চরিত্রে মনোনীত করা হয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো চিঠি কিংবা নিশ্চয়তাপত্র আমার হাতে আসেনি। একজন অভিনয়শিল্পী হিসেবে এ ছবিটি নিয়ে আমার ইতিবাচক মনোভাব আছে। কারণ বিষয়বস্তু বঙ্গবন্ধু। যদি অভিনয় করি তাহলে সাধ্যের সবটুকু দিয়েই কাজটি করব।’

খায়রুল আলম সবুজ : শেখ লুৎফর রহমান চরিত্রে

‘দুই দেশ মিলে ছবিটি করলেও এখানে বাংলা ভাষার অভিনয়শিল্পীরাই অভিনয় করছেন, এটা ভালো একটি সিদ্ধান্ত। সব কিছু তো আর হুবহু মিলবে না। আমি সম্ভবত আনন্দের সঙ্গেই এতে কাজ করতে পারব। লুৎফর রহমান সাহেবের ফুটেজ খুব একটা পাওয়া যায় না। তাই তার সম্পর্কে খুব বেশি কিছু জানারও সুযোগ পাচ্ছি না। তাকে খুব কাছে থেকে যারা দেখেছেন, তারাও এখন আর নেই। আমি এ চরিত্রটি কতটুকু ফুটিয়ে তুলতে পারব তা না জানলেও চেষ্টার কোনো ত্র“টি করব না।’

নুসরাত ফারিয়া : ছোট শেখ হাসিনা চরিত্রে

‘আমি কাজটি শুরু হওয়ার অপেক্ষায় আছি। কারণ এটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ এবং আলোচিত একটি কাজ। তবে আমার চরিত্রটি নিয়ে এখন কিছু বলতে চাচ্ছি না। এখনও অনেক কাজ বাকি আছে। তবে এ চরিত্রে আমি উপযুক্ত কি না তা ছবির পরিচালকই ভালো বলতে পারবেন। আমি একজন অভিনয়শিল্পী। আমার ভাবনায় থাকে চরিত্র। তাই যদি কাজটি করার সুযোগ পাই তাহলে আমার সেরা কাজটাই এখানে করতে চাই। এ জন্য সবার শুভ কামনা প্রত্যাশা করছি।’

মিশা সওদাগর : আইয়ুব খান চরিত্রে

‘আইয়ুব খান সম্পর্কে জানছি, পড়ছি। আইয়ুব খান যখন শাসন করেছেন এ অঞ্চল, তখন তো আমার উপস্থিতি ছিল না। এ ছাড়া স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় খুব ছোট ছিলাম। তাই মুক্তিযুদ্ধেও অংশ নিতে পারিনি। তবে যারা আইয়ুব খানকে দেখেছেন কিংবা বিস্তারিত জানেন তাদের কাছ থেকে লোকটি সম্পর্কে জানার চেষ্টা করছি। যেমন চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব ছটকু আহমেদের কাছ থেকে এ বিষয়ে সাহায্য নিচ্ছি। এমন আরও অনেক কিছুই জানার চেষ্টা করছি। অনলাইনে আইয়ুব খানের ভাষণ পড়ছি, জীবনযাপন সম্পর্কে ধারণা নিচ্ছি।’

গাজী রাকায়েত : আবদুল হামিদ, বেগম মুজিবের দাদা চরিত্রে

‘এখানে আমি বঙ্গবন্ধুর দাদাশ্বশুরের চরিত্রে অভিনয় করব। বঙ্গবন্ধুর পরিবারের প্রায় দুইশ বছরের একটি সোনালি অতীত আছে। ছোটবেলাতেই বাবা-মা মারা যাওয়ার পর এই দাদার সান্নিধ্যে লালিত হন শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। এ চরিত্রটি ছোট হলেও ইতিহাসে এর গুরুত্ব আছে ভালোই। বঙ্গবন্ধুর এ চলচ্চিত্রে যুক্ত হওয়াটাকে আমি মনে করি এটি একটি দায়বদ্ধতা। আমি পৃথিবীর একজন শ্রেষ্ঠ নেতা হিসেবে মনে করি বঙ্গবন্ধুকে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি বঙ্গবন্ধু এখনও আবিষ্কার হয় নাই।’

ফজলুর রহমান বাবু : খন্দকার মোশতাক আহমেদ চরিত্রে

‘ঐতিহাসিক একটি ছবি হবে এটি। বিষয়বস্তু যখন বঙ্গবন্ধু, তখন এটির একটি অনন্য উচ্চতা আছে। আর ভারতের প্রখ্যাত নির্মাতা শ্যাম বেনেগালের পরিচালনায় এতে অভিনয় করব, এটি একজন অভিনয়শিল্পীর জন্য বড় পাওয়া। প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সরকারিভাবে এতে অভিনয়শিল্পীদের নাম প্রকাশ করা হলেও ব্যক্তিগতভাবে এখনও কোনো চিঠি পাইনি। শুনেছি চলতি মাসেই ছবিটির কাজ শুরু হবে। ’

ফেরদৌস আহমেদ : তাজউদ্দীন আহমেদ চরিত্রে

‘আমার কাছে বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ। তাকে নিয়ে এ ধরনের কাজ অনেক আগেই হওয়া দরকার ছিল। স্বাধীনতার অনেক পরে এসে যে সিনেমাটি হচ্ছে এর জন্য আমি ব্যক্তিগতভাবে খুব খুশি। অন্তত বাংলাদেশের মানুষ, পরবর্তী প্রজন্ম সবাই জানতে পারবে বঙ্গবন্ধুকে। আমরা দেশটাকে যেন আরও সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি, এ কাজটি সেটিরই অনুপ্রেরণা জোগাবে।’

নুসরাত ইমরোজ তিশা : শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব চরিত্রে

‘অভিনয়শিল্পী হিসেবে যে কোনো ভালো কাজের সঙ্গে যুক্ত হতে পারাটা সৌভাগ্যের। লোকমুখে কিংবা বিভিন্ন মাধ্যম থেকে এতে মনোনীত হওয়ার খবর আমিও পেয়েছি। কিন্তু ছবিটির কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো চিঠি কিংবা নিশ্চয়তাপত্র পাইনি। তাই এ বিষয়ে কোনো কিছু বলতে চাচ্ছি না। যদি এতে কাজ করতে পারি, তবে তা আমার অভিনয় ক্যারিয়ারের জন্য ইতিবাচক একটি মাইলফলক হবে।’

শতাব্দী ওয়াদুদ : পাকিস্তানি আর্মি অফিসার চরিত্রে

‘বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে এ উদ্যোগকে আমি সাধুবাদ জানাই। এ ছাড়া এ সিনেমায় ছোট একটি চরিত্রে আমাকে অভিনয় করতে হতে পারে। সে জন্য আমি বেশ আনন্দিত। প্রতিটি সিনেমার চরিত্রই নতুন চরিত্র। প্রতিটি সিনেমার ভাবনাই নতুন ভাবনা। যেহেতু বঙ্গবন্ধু এবং আমার দেশ নিয়ে সিনেমা হচ্ছে সেখানে আমি যে চরিত্রই করি না কেন, সেখানে আমার কন্ট্রিবিউশন থাকায় ভাগ্যবান মনে করি।’

রওনক হাসান : শেখ কামাল চরিত্রে

‘যেহেতু এটি বঙ্গবন্ধুর বায়োপিক এবং এর ঐতিহাসিক মূল্য অনেক বেশি। তাই প্রথম থেকেই এ ছবিতে অভিনয়ে আমার আগ্রহ তৈরি হয়। বঙ্গবন্ধুর এই বায়োপিকের একজন অভিনেতা হিসেবে নিজেকে সম্মানিত মনে হচ্ছে। শুরু থেকেই আমার ভাবনা ছিল যে একটি পাসিং চরিত্র হলেও যদি এ ছবিতে থাকতে পারি, তাহলেও আমি কাজ করব। এখন প্রস্তুতি নেয়ার কাজ চলছে।’

জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি : বড় শেখ হাসিনা চরিত্রে

‘যেহেতু আমাদের প্রধানমন্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করতে হবে তাই চ্যালেঞ্জটাও অনেক বেশিই। তিনি আমার পছন্দের একজন মানুষ। একজন নারী হয়ে সফলভাবে দেশ পরিচালনা করছেন তিনি। আমার সুযোগ হয়েছে তার হাত থেকে দু’বার জাতীয় পুরস্কার নেয়ার। ছোটবেলা থেকেই তার প্রতি একটা শ্রদ্ধাবোধ কাজ করছে। আমি চেষ্টা করব চরিত্রটি ফুটিয়ে তোলার জন্য।’

আরও খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত