বছরজুড়ে মুজিবময় সাংস্কৃতিক অঙ্গন

  ফারুক হোসেন শিহাব ১২ মার্চ ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ ঘিরে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বইছে বর্ণিল আয়োজনের ধুম। বিশেষ করে যথাযথ মর্যাদায় বর্ণাঢ্য আনুষ্ঠানিকতায় ১৭ মার্চ উদযাপন করবে মঞ্চাঙ্গন। অনেক আগেই ১৭ মার্চ ২০২০ পরবর্তী এক বছর সময়কে সরকারিভাবে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তারই আলোকে সরকারি নানা কর্মসূচির পাশাপাশি বছরব্যাপী জমকালো আয়োজনের পরিকল্পনা গ্রহণ করে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিসহ দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গন। তবে হঠাৎ করেই বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস আতঙ্কের পাশাপাশি বাংলাদেশেও এ মহামারি ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে জাতীয় কর্মসূচিকে সংক্ষিপ্ত করার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। পাশাপাশি মুজিববর্ষের অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাষ্ট্রপ্রধানসহ বিদেশি অতিথিদের অংশগ্রহণের বিষয়টিও বাতিল করা হয়। তবে স্বল্প পরিসরে মুজিববর্ষের অনুষ্ঠানেও থাকবে বিশেষ আনুষ্ঠানিকতা। যার মধ্যে মুজিববর্ষের উদ্বোধনীতে বিভিন্ন পরিবেশনায় অংশ নেবে বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় এক হাজার শিল্পী। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সার্বিক পরিকল্পনা ও গ্রন্থনায় একাডেমির বাস্তবায়নে অনুষ্ঠিত হবে জমকালো এ উদ্বোধনী পর্ব।

এদিকে, জাতির জনকের জন্মশত দিবসে অনুষ্ঠিত হবে বঙ্গবন্ধুকে নিবেদন করে দৃশ্যকাব্যের ‘বাঘ’ নাটকের দুটি বিশেষ প্রদর্শনী। ১৭ মার্চ সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির এক্সেপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে মঞ্চস্থ হবে এ দুটি প্রদর্শনী। ১৯৭৩ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বান্দরবান বেড়াতে গেলে সেখানকার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর এক নেতা বঙ্গবন্ধুকে একটি বাঘের বাচ্চা উপহার দেন। বঙ্গবন্ধু ঢাকায় ফিরে বাঘটিকে ঢাকা চিড়িয়াখানায় দান করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর, পাকিস্তানের প্রেতাত্মারা এ দেশ থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলতে চায়। সে সময় বঙ্গবন্ধুর প্রিয় বাঘটিও তাদের হাত থেকে রেহাই পায়নি। বনের অবলা পশু বাঘটিকে তারা একটি বদ্ধ ঘরে না খাইয়ে কষ্ট দিয়ে মারে। তার অপরাধ ছিল সে ‘বঙ্গবন্ধুর বাঘ’। সেই ঘটনা অবলম্বন করেই আবৃত হয়েছে ‘বাঘ’ নাটকটির কাহিনী। মূলত, নতুন প্রজন্মের কাছে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, রাজনৈতিক দর্শন এবং তিনি যে বাঙালি জাতির মুক্তির দূত হয়ে এসেছিলেন, তাই এ নাটকের মূল উপজীব্য। কথাসাহিত্যিক নাসরীন মুস্তাফা রচিত এ নাটকটি নির্দেশনা দিয়েছেন সময়ের প্রতিভাদীপ্ত নির্দেশক ড. আইরিন পারভীন লোপা। মুজিব শতবর্ষকে ঘিরে চট্টগ্রামের গ্রুপ থিয়েটার নাট্যাধারের উদ্যোগে চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজন করা হয়েছে ‘বিশ্ববন্ধু নাট্যপার্বণ-২০২০’। আগামী ৩০ ও ৩১ মার্চ অনুষ্ঠিততব্য এ আয়োজনকে সাজানো হয়েছে নাটক ও যাত্রাপালা মঞ্চায়ন, সেমিনার, কবিতা পাঠ, কবির লড়াইসহ নানা আয়োজনে। এতে রয়েছে সভানাটক- ‘পণ্ডিত বিহার বিশ্ববিদ্যালয়’, যাত্রাপালা ‘বাংলার মহানায়ক’ ও মঞ্চনাটক ‘৩২ ধানমণ্ডি এবং...’-এর প্রদর্শনী। এদিকে, মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে ৫ মার্চ থেকে ফেনীতে অনুষ্ঠিত সেলিম আল দীন মেলায় অংশ নেয় ‘নাট্যাধার’। ৭ মার্চ মেলার তৃতীয় দিন রাত সাড়ে ৮টায় নাট্যাধার পরিবেশন করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সংগ্রামী জীবনভিত্তিক যাত্রাপালা ‘বাংলার মহানায়ক’। যাত্রাপালায় ১৯৬৯-এ রেসকোর্স ময়দানে শেখ মুজিবকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধী প্রদান থেকে শুরু করে ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট তাকে হত্যার ঘটনাক্রম তুলে ধরা হয়েছে। যাত্রানট মিলন কান্তি দে রচিত ও জামাল হোসাইন মঞ্জু সম্পাদিত এ যাত্রাপালাটির নির্দেশনা দিয়েছেন মোস্তফা কামাল যাত্রা। সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এমনি নানা আনুষ্ঠানিকতায় মুজিবময় হতে যাচ্ছে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষের আয়োজন।

আরও খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: jugantor.[email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত