সেলুলয়েডে বঙ্গবন্ধু

শুভর অপেক্ষায় বাংলাদেশ

২০২০ সালটিই যেন ঢাকাই ছবির নায়কদের মধ্যে আধিপত্যের পালাবদলের সময়। গত বছরের শেষ কিংবা চলতি বছরের শুরু- এ সময়ের মধ্যে মুক্তিপ্রাপ্ত কিছু ছবি যেগুলোর ব্যবসায়িক প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি, সেগুলোর মুক্তি পরবর্তী অবস্থান এবং আগামীতে আরও কিছু বিগ বাজেটের ছবি মুক্তির অপেক্ষা প্রত্যক্ষভাবে জানান দিচ্ছে, চালকের আসনের পালাবদল ঘটতে যাচ্ছে হয়তো। সেই চালকের নামের তালিকার শীর্ষে আছেন আরিফিন শুভ। বছরের শুরু থেকেই নতুন কয়েকটি ছবি নিয়ে তিনি রয়েছেন আলোচনার শীর্ষে। ধীরে ধীরে নিজেকে নির্ভরযোগ্য নায়ক হিসেবেও গড়ে তুলছেন। কাজ করছেন ঐতিহাসিক একটি ছবির এক চরিত্রে। যার নাম ‘বঙ্গবন্ধু’। যেটি শুধু দেশ নয়- বিদেশেরও অনেক নায়কের স্বপ্নের চরিত্র! এরই মধ্যে নিজের মধ্যে বঙ্গবন্ধুকে ধারণ করাও শুরু করেছেন। তার আগে আগামী ঈদে ‘মিশন এক্সট্রিম’ নিয়ে নিজেকে আরও একটি ঝালিয়ে নিতে প্রস্তুত। বিস্তারিত লিখেছেন-

  অভি মঈনুদ্দীন ১৯ মার্চ ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পুরনো ঢাকার বিউটি বোর্ডিং। আরিফিন শুভর সঙ্গে গল্পটা জমে ওঠে সেখানের এক বারান্দায় বসেই। যদিও বা প্রসঙ্গটি শুরু হওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে। কিন্তু শুরুতেই এ চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পাওয়ার গল্প এবং বিশদ নিয়ে কথা বলতে নারাজ এ নায়ক। কথা ছিল ১৭ মার্চ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ছবির পুরো টিমসহ সবকিছুর জানান দেয়া হবে। কিন্তু করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে শুটিংই যেহেতু পিছিয়ে গেল তাই আপাতত জাতির পিতাকে নিয়ে নির্মিতব্য ছবি সম্পর্কে বিশদ জানার সুযোগ থাকল না।

অভিনয়শিল্পীদের বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করার তীব্র বাসনা থাকে। যখন থেকে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ছবি নির্মাণের ঘোষণা আসে তখন থেকে এ দেশের অনেক অভিনেতাই নিজেকে বঙ্গবন্ধুর চরিত্রে কল্পনা করেছেন বা স্বপ্ন দেখেছেন। অডিশন দিয়ে কেউ কেউ তা প্রকাশ করেছেন, আবার কেউ আড়ালেই রেখেছেন। আবার এমন অনেকেই আছেন যারা জানেন, শেষ পর্যন্ত তিনি বঙ্গবন্ধুর চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পাচ্ছেন না; তার অন্য কোনো স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি কিংবা নাটকে একই চরিত্রে অভিনয় করে নিজের তৃপ্তি মিটিয়েছেন। সবাইকে ছাড়িয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে ভারতের শ্যাম বেনেগালের পরিচালনায় বঙ্গবন্ধু চরিত্রে অভিনয়ের জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েছেন আরিফিন শুভ। একজন নায়কের এরপর আর হয়তো কোনো স্বপ্নের চরিত্র থাকতে পারে না। থাকে না কোনো অতৃপ্তি। হয়তো আরিফিন শুভরও নেই। কিন্তু সেটি এখনই প্রকাশ করতে অপারগ। প্রকাশ করতে না চাইলেও বঙ্গবন্ধুর নামের সঙ্গে নিজের নাম ঐতিহাসিকভাবে জড়িয়ে যাচ্ছে সেটি কিন্তু চোখের উজ্জ্বলতায় ঠিকই ধরা পড়ে। জীবনের সেরা এ অর্জনটুকু নিয়ে হয়তো কোনো বাধার কারণে কথা বলতে পারছেন না। কিন্তু আবেগের জোয়ার কতক্ষণ ঠেকিয়ে রাখা যায়? মুখে না বললেও চোখের ভাষা বলে দিচ্ছে, ‘যার জন্য আমরা পেয়েছি একটি স্বাধীন দেশ বাংলাদেশ সেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চরিত্রে অভিনয় করতে পারাটাই যেন তার অভিনয় জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন।’

বঙ্গবন্ধু ছবির শুটিং পিছিয়েছে। কিন্তু শুভর প্রাত্যহিক কাজ থেমে নেই। চলছে নতুন ছবির প্রচারণা। যার জন্য গত এগারো মাস আর কোনো ছবিতে অভিনয় করেননি। নিজের বডি ফিটনেসের জন্য নিয়ম মেনে জিম করেছেন, রুটিন অনুযায়ী খাবার খেয়েছেন ও সময় মেনে ঘুমিয়েছেন। আগামী ঈদেই আসছে প্রত্যাশিত সেই ছবি ‘মিশন এক্সট্রিম’। সানী সানোয়ার ও ফয়সাল আহমেদ পরিচালিত থ্রিলার ও অ্যাকশনধর্মী ছবিটি নিয়ে একটু বেশিই আশাবাদী শুভ। যদিও এর আগে কাছাকাছি ধরনের একটি চরিত্রে তাকে দর্শক দীপংকর দীপনের ‘ঢাকা অ্যাটাক’ ছবিতে দেখেছেন। মূলত সে ছবিই শুভকে বদলে দেয়, আরও পরিশুদ্ধ হয়ে ওঠার দৃঢ়প্রত্যয়ী করে তোলে।

মানুষের জীবনের টার্নিং পয়েন্টের কিছু সময় আসে। শুভর জন্য সেই সময় হল ‘মিশন এক্সট্রিম’। আগেই বলা হয়েছে, ঢাকাই ছবির নায়কদের আধিপত্যের পালাবদলের সময় আসছে। সেই সময় হয়তো এসে গেছে। এখন শুধু অপেক্ষা ‘মিশন এক্সট্রিম’ মুক্তির। ছবিটিতে আরিফিন শুভ অভিনয় করেছেন বাংলাদেশ পুলিশের নতুন স্পেশাল ফোর্স ‘ক্রাইসিস রেসপন্স টিম’-এর প্রধান নাবিদ আল শাহরিয়ারের চরিত্রে। চরিত্রটি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ এগারোটি মাস আমি এ চরিত্রে নিজেকে যথাযথভাবে ফুটিয়ে তোলার জন্য কত যে কষ্ট করেছি- তা আসলে ব্যাখ্যা করে বোঝানো সম্ভব নয়। প্রথম ছয়টি মাস এতটাই নিয়মের মধ্যে চলতে হয়েছিল, আমার বন্ধুরা আমাকে অসামাজিক ভাবতে শুরু করেছিল। কারণ রাত দশটার মধ্যে ঘুমিয়ে আবার ভোরবেলা উঠতে হতো। নিয়ম করে জিমে যেতে হতো, নিয়ম করে ছয়বেলা একই খাবার খেতে হতো। মাঝে যে সময়টুকু পেতাম ঘুমানোর জন্য সেটিও জিমেই ঘুমাতে হতো আমাকে। যারা নিয়মিত এ এগারোটি মাস আমার সঙ্গে ছিলেন তারা দেখেছেন, কতটা কষ্ট করেছি চরিত্রটি যথাযথভাবে ফুটিয়ে তোলার জন্য।’

কিছুটা থেমে তিনি আবার বলেন, ‘যেহেতু চ্যালেঞ্জ নিয়েই মাঠে নেমেছি তাই প্রবল জিদ ছিল আমার ভেতর- আমাকে পারতেই হবে। অনেক কষ্ট করতে হয়েছে আমাকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মিশন এক্সট্রিমে আমাকে পরিচালক যেভাবে দেখতে চেয়েছেন, আমি চেষ্টা করেছি, সেভাবেই নিজেকে তুলে ধরতে। আগামী প্রজন্ম যেন ক্রাইসিস রেসপন্স টিমে কাজ করতে আগ্রহী হয় সে ধরনের একটি চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে নিজেকে উজাড় করে দিয়ে অভিনয় করেছি। সব মিলিয়ে এক ভীষণ ভালোলাগা।’ নিজের পরিশ্রমের এ প্রাপ্তিটি তিনি পরিবারকেই উৎসর্গ করতে চান। শুভ বলেন, ‘আমি ভীষণভাবে কৃতজ্ঞ আমার পরিবারের কাছে। কারণ নিয়ম মেনে খাবার খাওয়ার জন্য শরীরে কার্বোহাইড্রেড ও সুগার কমে যাওয়ার কারণে মেজাজ খিটখিটে থাকত। মানসিক অবস্থা স্বাভাবিক থাকত না। কিন্তু আমার অসুস্থ মা ও স্ত্রীসহ পরিবারের অন্য যারা আছেন তারা আমাকে বুঝেছেন। তারা আমার পাশে থেকেছেন।’

‘মিশন এক্সট্রিম’ নিয়ে ছবির নায়ক একাই আশাবাদী নন। পুরো টিমই এর সাফল্যের দাবিদার। এমনটিই জানিয়েছেন শুভ। যদিও বর্তমানে দেশে সিনেমাহলের সংখ্যা অনেক কমে গেছে। তারপরও ছবিটি নিয়ে এরই মধ্যে দর্শকদের মধ্যে যে আগ্রহ সেটি হলের অপ্রতুলতার কথা অবশ্যই নতুন করে ভাবাতে বাধ্য করে হলমালিকদের।

মিশন এক্সট্রিম করতে গিয়ে আর্থিক সমস্যায় পড়তে হয়েছিল এ নায়ককে। প্রস্তুতির জন্য এগারো মাস নতুন কোনো ছবিতে অভিনয় করতে পারেননি। কাজটি যেহেতু চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন তাই অর্থনৈতিক বিষয়টি সামনে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। সামলে নিয়েছেন। কারণ তিনি জানতেন, এ সময়টি থাকবে না। নতুন একটি সময় আসবে- যে সময়টি শুধুই গর্বের। সে সময় চলে এসেছে। মিশন এক্সট্রিমের নাবিদ আল শাহরিয়ার থেকে বের হয়ে এসে তিনি ধীরে ধীরে হয়ে উঠবেন একজন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যাকে পর্দায় দেখার জন্য অপেক্ষায় বাংলাদেশ, অপেক্ষায় শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবার।

মানুষ আশা নিয়েই বাঁচে। কর্মের মধ্যেও বেঁচে থাকে। জনপ্রিয় হয়। এসব কিছুই এখন আরিফিন শুভর মধ্যে বিদ্যমান। তাকে নিয়ে আশা আছে। বিশাল কর্মযজ্ঞ নিয়ে মাঠে নামছেন। ইতিহাসে ঠাঁই নিতে যাচ্ছেন। সুপারস্টার কিংবা মেগাস্টার তৈরি হয় নিজেদের সফলতায়। বলা যায়, ঢাকাই ছবিতে আরও একজন সুপারস্টারের আগমন ঘটছে। হতে পারেন মেগাস্টারও। শুধু সময়ের অপেক্ষা। যদিও এসব বিশেষণের প্রতি এখনও নজর দিতে ইচ্ছুক নন। তিনি বলেন, ‘সময়ই বলে দেবে আমাকে কোন পথে যেতে হবে। আমি শুধু সময়কে ধরে পথ চলতে চাই।’

আরও খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত