শুটিং স্পট

পালিয়ে বিয়ে করলেন নিলয় ও নাদিয়া নদী

  তারা ঝিলমিল প্রতিবেদক ১৯ মার্চ ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর উত্তরার তিন নম্বর সেক্টর। এখানে রয়েছে একটি খেলার মাঠ। তার পাশ দিয়ে হাঁটতেই চোখে পড়ে অনাকাঙ্ক্ষিত একটি জটলা। রাস্তার পাশের গাছগুলো কেটে ফেলার কারণে এমনিতেই শ্রীহীন হয়ে পড়েছে এলাকাটি। এর সঙ্গে সুয়ারেজ লাইন মেরামতের জন্য রাস্তা কেটে ফেলায় ভোগান্তি বেড়েছে সেই এলাকায়। মানুষের হেঁটে চলাই যেন দায়। এর মধ্যে আবার অসহনীয় যানজট! এ অনাকাঙ্ক্ষিত জ্যামের কারণে অসুবিধায় পড়েন সেই রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী জনসাধারণ। এক বিকালে যানজটযুক্ত ব্যস্ত এ রাস্তা অনেকটা বন্ধ করে জটলা তৈরি- বিষয়টি কৌতূহলেরই বটে। সেই কৌতূহল মেটাতে সামনে এগিয়ে যেতেই দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। ক্যামেরাসহ একদল মানুষ বেশ হাস্যোজ্জ্বল ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আড্ডা দিচ্ছেন। সেই জটলার সবার পুরো মনোযোগটিই অভিনেতা নিলয় আলমগীর ও নাদিয়া নদীর প্রতি। বোঝা গেল, শুটিং হচ্ছে। এ কারণেই উৎসাহী মানুষের ভিড়। শুটিংয়ের জন্য সুসজ্জিত হয়ে এলেও নিলয় ওনাদিয়া নদী কিছুটা অস্বস্তি বোধও করছেন। কোনো নির্দিষ্ট একটি বিষয় নিয়ে তাদের উৎকণ্ঠিতও দেখা যাচ্ছিল। এরই মধ্যে আগমন ঘটে অভিনেতা আরফান আহমেদের। নিলয় নাদিয়ার কাছে এসে সব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে সেখান তাদের নিয়ে পাশেই আপনঘর নামে একটি শুটিংবাড়ির দিকে অগ্রসর হন তিনি।

পরিস্থিতি সামাল দিতে স্পটে আগে থেকেই উপস্থিত নাট্যনির্মাতা সঞ্জিত সরকার। নির্মাতার মুখোমুখি হতেই নিলয়-নাদিয়া চুপসে যান। নির্মাতা তাদের কাছ থেকে এই চুপসে যাওয়ার ব্যাখ্যা চাইতেই যেন আরও খোলসের ভেতর চলে যাচ্ছিলেন তারা। এমন সময় নাদিয়া বলেন, ‘আসলেও বর্তমানে যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে অগ্রসর হচ্ছি তার সঙ্গে কোনোদিন পরিচয় ছিল না। কেমন যেন সংকোচ লাগছে। ভাবছি এসব দেখে পরিবারের লোকজন কী না কী ভাববেন! তবে এ পরিস্থিতিতে মানুষ কেমন আচরণ করেন তা-ও জানা হল।’ কথাগুলো বলেই নিলয়ের চোখে চোখ রেখে টিপ্পনী কাটেন তিনি। নিলয়ও কম যান না। তিনি এ সময় বলেন, ‘মেয়েদের ঢং সব সময় বেশিই থাকে। তোমাদের মুখে এসব কথা মানায় না। কাজ করার আগে বেশি ভাবা দরকার। কাজ করার পর আফসোস করার কোনো কারণ দেখি না আমি। আমি যা করেছি- তা ভেবেই করেছি। এ নিয়ে আমার কোনো পিছুটান নেই। যে কোনো পরিস্থিতিতেই আমি মানিয়ে নিতে পারি।’

দুই অভিনয়শিল্পীর এসব কথাবার্তা পাশ থেকে শুনছিলেন নির্মাতা এবং সহশিল্পীরা। তাদের এ কথোপকথনের ইতি টেনে ধরার কাজটি তারাই করেন। ‘কাট’ বলে হঠাৎ সব থামিয়ে দেন পরিচালক। এতক্ষণ যে ক্যামেরা চলছিল সেটা টের পাওয়া গেল পরিচালকের কাট শব্দ শুনে। দৃশ্য থামিয়ে দিয়ে নির্মাতা নিলয়-নাদিয়াকে কাছে ডেকে গলার স্বর নামিয়ে কী যেন বললেন। শুনে ওরা দু’জনও বেশ উৎফুল্ল হয়ে ওঠেন। গুনগুন করে গান গাইতে গাইতে সেখান থেকে প্রস্থান করে গ্রিনরুমের দিকে চলে যান।

কিছুক্ষণ পর আবারও তারা এসে হাজির হন বাড়িটির বের হয়ে যাওয়ার গেটে। ক্যামেরা প্রস্তুতই ছিল। পরিচালকের নির্দেশে ওরা দুজন আবার সক্রিয় হয়ে ওঠেন। একের পর এক দৃশ্যের ভিডিও ধারণ করা হচ্ছিল। হঠাৎ করেই সেখানে এক আগন্তুকের আগমনে দৃশ্যধারণ বন্ধ রাখা হয়। বিষয়টি পরিচালকের কাছে বিরক্তিকর মনে হলেও এসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়িয়ে যাওয়ার কোনো উপায় নেই। মেনে নিয়ে আবারও দৃশ্যধারণ শুরু করতে চাইলেন পরিচালক। কিন্তু নিলয় ও নাদিয়া কিছুটা বিশ্রামের অনুমতি চান। মনে হচ্ছে কিছুটা ক্লান্ত। পরিচালক তাতে সায় দিলে দু’জনই সোজা গ্রিনরুমে গিয়ে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের শীতল হাওয়ায় গা ভাসিয়ে দেন। সন্ধ্যা পেরিয়ে রাতের সূচনা ঘটার সেই সময়টায় আবারও সক্রিয় হয়ে ওঠেন শুটিং স্পটের সবাই। শুরু হয়ে যায় ‘লাইট, ক্যামেরা, অ্যাকশন’-এর কাজ। নিলয়-নাদিয়ার খুনসুটির বিভিন্ন ঘটনার খণ্ড খণ্ড চিত্র ধারণ হতে থাকে। ওপরে বর্ণিত ঘটনাগুলো একটি ধারাবাহিক নাটকের। নাম ‘চিটিং মাস্টার’। সঞ্জিত সরকারের পরিচালনায় এ নাটকে নাদিয়াকে নিয়ে পালিয়ে বিয়ে করেন নিলয় আলমগীর। বিয়ের পর তারা মামার বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেয়। এরপর ঘটতে থাকে নানা পারিবারিক ঘটনা। নাটকটি আরটিভিতে নিয়মিত প্রচার চলছে।

আরও খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত