দুই নায়কের চোখে স্বাধীনতা সংগ্রাম

  তারা ঝিলমিল প্রতিবেদক ২৬ মার্চ ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

২৫ মার্চ ১৯৭১। রাতের নিস্তব্ধতা ভেদ করে মুহুর্মুহু গর্জে উঠেছিল পাকিস্তানি হানাদারদের রাইফেল। ঘুমন্ত দেশবাসী বুঝতেই পারেনি কী হচ্ছিল। বোঝার সঙ্গে সঙ্গেই প্রতিরোধ করা শুরু করেছিল এ দেশের মুক্তিকামী মানুষ। এরপর থেকে শুরু হয়ে যায় রক্তক্ষয়ী এক যুদ্ধ। বিনোদন জগতের অনেকেই ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তাদের মধ্যে অন্যতম দু’জন হচ্ছেন চিত্রনায়ক সোহেল রানা ও ফারুক। ২৫ মার্চের সেই ভয়াল রাতের পর তারা কোন অবস্থায় কী করেছেন সেটাই জানিয়েছেন যুগান্তরকে। চিত্রনায়ক ও সংসদ সদস্য ফারুক বলেন, ‘ছাত্র বয়সেই সে সময়কার ছাত্রলীগের আদর্শকর্মী ছিলাম। ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধুর ডাকে ছয় দফা আন্দোলনে যোগ দেই। সে সময় আমার নামে ৩৭টি মামলা দেয়া হয়েছিল। ঊনসত্তরের গণআন্দোলনের পর দেশকে স্বাধীন করার যুদ্ধে নেমে পড়ি। আমার কাছে ২৫ বা ২৬ মার্চ বিশেষ গুরুত্বের দিন নয়। আমার কাছে গুরুত্বের দিন হচ্ছে ৭ মার্চ। কারণ এ দিনেই বঙ্গবন্ধু প্রথম চূড়ান্তভাবে স্বাধীনতার ঘোষণার ডাক দেন। আর ২৬ মার্চ মেজর জিয়া যে ডাক দিয়েছেন সেটা আমার কাছে মামুলি একটা বিষয়। ওই সময় দেশের কোনো আর্মির মাধ্যমে ঘোষণাটি দেয়ার প্রয়োজন মনে করা হয়েছিল বিধায় কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মেজর জিয়াকে দিয়ে সে ঘোষণা দেয়া হয়েছিল। ২৫ মার্চের ওই ঘোষণার সময় আমি পুরান ঢাকায় বিশাল ব্যারিকেড দিয়ে রেখেছিলাম। আমার ডাকে সেখানে শতশত মানুষ যুদ্ধে নামেন। তারা সারা রাত আমার সঙ্গে যুদ্ধ করেন। ওই রাতেই পাকিস্তানি সেনারা নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করে ইতিহাসের নির্মম কালরাত্রি রচনা করে। যা আমার নিজ চোখে দেখা। আরও অনেক ঘটনাই এখন চোখের সামনে জ্বল জ্বল করে।’

মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ ও ২৫ মার্চের কালরাত্রি প্রসঙ্গে সোহেল রানা বলেন, ‘আমার সংগ্রামী জীবন শুরু হয় ১৯৬১ সালে ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে জড়িত হওয়ার মাধ্যমে। তখন আমি ময়মনসিংহ আনন্দমোহন কলেজের সভাপতির দায়িত্ব পালন করি। ওই সময় দুটো রাজনৈতিক দল ছিল- একটি ছাত্র ইউনিয়ন, অপরটি ছাত্রলীগ। ১৯৬৫ সালে বৃহত্তর ময়মনসিংহের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হই। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে ভর্তি হই। সে সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকবাল হল (বর্তমান সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) ছাত্রলীগের ভিপি ছিলাম। টানা ১৯৭২ থেকে ৭৪ পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন করি। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন প্রতিটি রাতই আমাদের কাছে কালরাত্রি হিসেবে বিবেচিত হতো। তবে এ কালরাত্রির বিভীষিকা সবার সামনে আন্তর্জাতিকভাবে প্রকাশিত হয় ২৫ মার্চের রাতের পাকিস্তানি সৈন্যদের অমানুষিক গণহত্যার মাধ্যমে। বঙ্গবন্ধুর নাম নিয়ে যখন দ্বিতীয়বার মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন তার আগেই আমরা যুদ্ধের ময়দানে লড়াই শুরু করি। সে ঘোষণা আমাদের কানে আসেনি। আমরা তো ৭ মার্চের ভাষণের পরই চূড়ান্তভাবে যুদ্ধে নেমেছিলাম। তবে সে ঘোষণার পর যারা তখনও ঘরে ছিলেন তারা বের হয়ে পড়েন। বুঝতে পারেন দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। এখন বাঁচতে হলে শত্র“দের সঙ্গে লড়াই করেই বাঁচতে হবে। অন্যথায় শত্র“দের বুলেটে এমনি এমনিই প্রাণ দিতে হবে। ২৫ মার্চ রাতের অভিজ্ঞতা ছিল ভয়াবহ। শুধু ২৫ মার্চই কেন, যুদ্ধকালীন প্রতিটি রাতই আমাদের কাছে ছিল কালরাত্রি। স্বীকৃত ওই কালরাত্রির পর পরিস্থিতি অন্যদিকে মোড় নেয়। হায়েনাদের হাতে প্রিয় মানুষদের হত্যার শোক আমাদের কাছে শক্তিতে রূপান্তরিত হয়েছিল। সে শক্তিতে বলিয়ান হয়েই যুদ্ধ করেছি আমরা। স্বাধীন করি দেশ। লাল-সবুজের বিজয় নিশান উড়াই বাংলার অলিতে-গলিতে।’

আরও খবর
 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত