মুক্তিযুদ্ধে প্রাণসঞ্চারণী সেসব গান আর অনুষ্ঠান

  সেলিম কামাল ২৬ মার্চ ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে উজ্জীবনী গান বলতেই স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গান। সেসব গান দিয়েই সংশ্লিষ্ট কণ্ঠশিল্পী, সুরকার ও গীতিকাররা হয়ে আছেন অমর। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় গানটি হচ্ছে- গাজী মাজহারুল আনোয়ারের কথা ও আনোয়ার পারভেজের সুরে ‘জয় বাংলা বাংলার জয়’ গানটি। এটি গেয়েছিলেন শাহনাজ রহমতুল্লাহ। কাজী নজরুল ইসলামের ‘কারার ওই লৌহকপাট’ গানটিও ছিল রক্ত গরম করা উন্মাদনার। শাহনাজ রহমতুল্লাহর আরেকটি গান ‘সোনা সোনা সোনা লোকে বলে সোনা’র গীতিকার ও সুরকার ছিলেন আবদুল লতিফ। এ ছাড়াও এ তালিকায় রয়েছে গৌরিপ্রসন্ন মজুমদারের কথা ও অংশুমান রায়ের সুরে ‘শোন একটি মুজিবুরের থেকে’, আপেল মাহমুদের গাওয়া ও সুরারোপিত গোবিন্দ হালদারের লেখা ‘মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি’, আপেল মাহমুদের সুর ও সঙ্গীতে সমবেত কণ্ঠে গাওয়া ‘তীরহারা এই ঢেউয়ের সাগর পাড়ি দেব রে’, গোবিন্দ হালদারের লেখা ও সমর দাসের সুরে সমবেত কণ্ঠের গান ‘পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে রক্ত লাল’, গোবিন্দ হালদারের কথা ও আপেল মাহমুদের সুরে ‘এক সাগর রক্তের বিনিময়ে’, ফজল-এ-খোদার লেখা এবং মোহাম্মদ আবদুল জব্বারের সুর-কণ্ঠে ‘সালাম সালাম হাজার সালাম’, সিকান্দার আবু জাফরের লেখা ও শেখ লুৎফর রহমানের সুরে সমবেত কণ্ঠে ‘জনতার সংগ্রাম চলবেই’, সলিল চৌধুরীর লেখা সমবেত সঙ্গীত ‘বিচারপতি তোমার বিচার করবে যারা আজ জেগেছে এ জনতা’, নঈম গহরের লেখা ও সমর দাসের সুরে সমবেত সঙ্গীত ‘নোঙ্গর তোলো তোলো’, আলী মহসিন রাজার লেখা ও খাদেমুল ইসলাম বসুনিয়ার সুরে রথীন্দ্রনাথ রায়ের গাওয়া ‘ছোটদের বড়দের সকলের’ উল্লেখযোগ্য।

এসব গানের আবেদন এতই গভীর, সে সময়ে এসব গান বাঙালি হৃদয়ে যে উন্মাদনা তৈরি করেছিল- এখনও সে আবেগ-আবেদন এতটুকু কমেনি। আর এ কারণেই এখনও এসব গান জাতীয় দিবসগুলোয় আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে শ্রোতাদের হৃদয় কাড়ে।

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে বেশ কিছু স্লোগানও ছিল জনপ্রিয়। সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য- ‘বাংলাদেশের প্রত্যেকটি মুক্তিযোদ্ধা এক-একটি গ্রেনেড। শুধু পার্থক্য এ গ্রেনেড একবার ছুড়ে দিলে নিঃশেষ হয়ে যায়, আর মুক্তিযোদ্ধারা বারবার গ্রেনেড হয়ে ফিরে আসে’, ‘বাংলার প্রতিটি ঘর আজ রণাঙ্গন- প্রতিটি মানুষ সংগ্রামী মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিটি মানুষ স্বাধীনতার জ্বলন্ত ইতিহাস’, ‘প্রতিটি আক্রমণের হিংসাত্মক বদলা নিন, সংগ্রামকে ঢেউয়ের মতো ছড়িয়ে দিন’, ‘পশ্চিম পাকিস্তানি পণ্যসামগ্রী ব্যবহার বর্জন করুন, শত্র“র বিরুদ্ধে অবরোধ গড়ে তুলুন’, জল্লাদ বাহিনীর গতিবিধি লক্ষ করুন, নিকটবর্তী মুক্তিবাহিনীর ঘাঁটিতে খবর দিন’।

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত এমআর আখতার মুকুলের রম্যকথিকা ‘চরমপত্র’ এক ইতিহাসের নাম। এ ছাড়া কল্যাণ মিত্র রচিত রাজু আহমেদ ও নারায়ণ ঘোষের কণ্ঠে জীবন্তিকা ‘জল্লাদের দরবার’, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণের অংশবিশেষ নিয়ে নির্মিত অনুষ্ঠান ‘বজ্র কণ্ঠ’, আবু তোয়াব খানের রম্যকথিকা ‘পিণ্ডির প্রলাপ’, মুস্তাফিজুর রহমানের কথিকা ‘কাঠগড়ার আসামি’ ছিল বিশেষ উল্লেখযোগ্য।

আরও খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত