টানিং পয়েন্ট

অভিনয়টা তো আমার নিঃশ্বাস প্রশ্বাসেরই অংশ

শোবিজ তারকার গল্প শুনতে সর্বদাই কৌতূহল থাকে পাঠক মনে। প্রিয় শিল্পী কীভাবে শোবিজে যুক্ত হলেন, কীভাবে তারকা বনে গেলেন আর কীভাবে তার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরে গেল? পাঠক মনের এমন প্রশ্নের উত্তর জানতেই তারাঝিলমিলের নতুন আয়োজন ‘টার্নিং পয়েন্ট’। ক্যারিয়ারের মোড় ঘোরার গল্প নিয়ে সাজান এ আয়োজনে এবার নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা আবদুন নূর সজল

  ০২ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

২০০১ সালে একুশে টেলিভিশনে ‘ভার্জিন তাকদুম তাকদুম’ নামক একটা শোয়ে উপস্থাপনার মাধ্যমে মিডিয়াতে আসার সুযোগ হয় আমার। আর আমার প্রথম কাজটিই আমার জন্য টার্নিং পয়েন্ট হয়ে দাঁড়ায়। কারণ শো’টি সেই সময় ব্যাপক দর্শকপ্রিয়তা আর গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করতে সক্ষম হয়। কাজটিও আমার জন্য চ্যালেঞ্জিং ছিল। কারণ বাসার কাউকে কিছু না বলে লুকিয়ে লুকিয়ে কাজটি করত হতো আমাকে। যখন শো’টি জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করে তখন আশপাশের মানুষ আমার মাকে বলে, ‘আপনার ছেলে একটি শো করে। উপস্থাপনায় ভালো আয়ত্ত রয়েছে ছেলেটার।’ তখন আমার পরিবারও জেনে গেল বিষয়টি।

তবে আমি কোনো একটা কাজের কথা বলতে পারব না যা দিয়ে তারকা হতে পেরেছি। অনেক লম্বা সময় ধরে সমষ্টিগত কাজের মাধ্যমে আমি নিজেকে দর্শকদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। জীবনে প্রথম একটি টিভি শো’র মাধ্যমে দর্শকদের সামনে এসেছি, পরবর্তী কাজ ছিল একটি বিজ্ঞাপনে। কিউট শ্যাম্পুর ওই বিজ্ঞাপন চরিত্রটিও আমার জন্য সাফল্যের ছিল। এরপর অনেক টিভি নাটকে কাজ করেছি। নাটকগুলো টিভির পর্দায় দর্শকপ্রিয়তা পায়, আমি ভালো ভালো নির্মাতাদের সান্নিধ্যে কাজ করি, সহশিল্পীদের সর্বাত্মক সহযোগিতা পায়, আর এসব নিয়েই আমার ক্যারিয়ারে এগিয়ে চলা।

অবস্থান তৈরির জায়গা থেকে কিছু কাজ, বেশ কিছু ভালো ভালো নির্মাতার সঙ্গে পথচলা আমার মোড় পরিবর্তন করেছে। তন্ময় তানসেনের হাত ধরে টিভি নাটকে আমার পথচলা শুরু। পরবর্তী সময়ে আফজাল হোসেন, দীপঙ্কর দীপন, আশরাফি মিঠু, মাসুদ হাসান উজ্জ্বল, মেজবাহ উর রহমান সুমন, আফসানা মিমি, আশরাফুল আলম রিপনদের মতো গুণী নির্মাতাদের সামষ্টিক কাজের ফলস্বরূপ আজও নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছি। তাদের কাজগুলো প্রশংসিত হয়েছে বলেই আমি একটা জায়গা করে নিতে পেরেছি।

এখনও পর্যন্ত ‘অনিশ্চয়তা’ নামক এ শব্দটির সঙ্গে আমি পরিচিত নই। তবে দ্বিধাদ্বন্দ্ব তৈরি হয় প্রায়ই। দেখা যায় অনেক কাজ আমার পছন্দের, অনেক কাজ একটু কম পছন্দের, আবার অনেক কাজ কাছের মানুষদের কারণে করা হয়। সব মিলিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে গেলে সৃষ্টিকর্তার ওপর ছেড়ে দিই। তিনি যা মনে করবেন, তাই হবে।

আমার ভক্ত ও অনুসারীদের অভিযোগ আছে বড় পর্দায় কেন দেখা যায় না আমাকে? এটা সত্য যে আমি বড় পর্দায় অনিয়মিত। আসলে আমি যে ধরনের গল্প খুঁজি ও কাজ করতে চাই, সে ধরনের গল্প সামনে এলে কিন্তু আমি আর না বলি না। ‘জিন’ ছবির কাজ শেষ করেছি, তার সঙ্গে মুক্তির অপেক্ষায় আছে ‘হারজিৎ’ ছবি। মূলত, আমি বরাবরই সেই গল্পগুলোর সঙ্গে বড় পর্দায় আসতে চাই, যেই গল্পগুলো আমাকে টানে। এমন না যে আমাকে অনেক ছবি করতে হবে। এক কথায় ‘অনেক ছবি করতে চাই না’। ছোট পর্দার ক্ষেত্রেও আমি একই পন্থা অবলম্বন করি।

কখনও কখনও মনে হয়, অভিনয়টা তো আমার নিঃশ্বাস প্রশ্বাসেরই অংশ। বেঁচে থাকার জন্য নিঃশ্বাস নেয়াটা যেমন প্রয়োজন। অভিনয়টা এমনভাবে আমার সঙ্গে মিশে গেছে এবং এ কাজের জায়গাটাকে এত বেশি ভালোবাসি যে, যখন অনেক দিন কাজ করি না, দীর্ঘ বিরতি থেকে ফিরি তখন নিঃশ্বাস নিতেই কষ্ট হয়। সব মিলিয়ে সৎ, সুন্দর জীবনযাপন করতে চাই। সর্বোপরি সবাই আমাকে একজন ভালো অভিনেতা হিসেবে চেনার চেয়েও ভালো মানুষ হিসেবে জানুক।

অনুলিখন : শাফায়েত

আরও খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত