গল্পই ছিল ঈদের নাটকের প্রাণ
jugantor
গল্পই ছিল ঈদের নাটকের প্রাণ

  আখন্দ জাহিদ  

১৩ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনার প্রাদুর্ভাবে চলতি বছর রোজার ঈদে নাটক নির্মাণ বন্ধ থাকলেও কোরবানির ঈদ কেন্দ্র করে মহামারীর মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই কাজ করেছেন টেলিভিশন নাটকের শিল্পী-কলাকুশলীরা। অন্য বছরের ঈদের তুলনায় এবার কাজের সংখ্যা কম হলেও দর্শকপ্রিয় প্রায় সব তারকাশিল্পীই কম-বেশি নাটক নিয়ে হাজির হয়েছেন দর্শকমহলে। এবারের ঈদে ভাঁড়ামির চেয়ে গল্পকেই প্রাধান্য দিয়ে নির্মিত হয়েছে বেশিরভাগ নাটক। 

এবারের ঈদে গতানুগতিক নাটকের বাইরে ভিন্নধর্মী গল্পের নাটক দিয়ে আলোচিত হয়েছেন তারকাশিল্পীরা। প্রেম-ভালোবাসার বাইরে গিয়ে গল্পের মাঝে বৈচিত্র্য এনেছেন নির্মাতারাও।

কয়েকটি নাটক জায়গা করে নিয়েছে দর্শক হৃদয়ে। করোনার এ সময়ে অনেক নাটকের মধ্যে এবারের ঈদে ইতি-মা, ভিকটিম, স্বার্থপর, বোধ, কেন, শহর ছেড়ে পরানপুর, গিরগিটি, ভুল এই শহরের মধ্যবিত্তদেরই ছিল, অযান্ত্রিক, নির্বাসন ও ব্যঞ্জনবর্ণ’সহ আরও কিছু নাটক ছিল দর্শক পছন্দের তালিকায়। শুধু উল্লিখিত নাটকই নয়- মূলত এসব নাটককে উদাহরণ হিসেবে ধরে এবারের ঈদের নাটকে গল্পের বৈচিত্র্যের কথাই তুলে ধরা হয়েছে এ প্রতিবেদনে।

মানুষ বাঁচে তার কর্মের মধ্য দিয়ে। মৃত্যুর পর মানুষের কর্মই তার পরিচয় বহন করে। মোশাররফ করিম অভিনীত ‘বোধ’ নাটকের মাধ্যমে পরিচালক রাফাত মজুমদার রিংকু বর্তমান সময়ে মানুষের ভেতরে ঘুমিয়ে থাকা সত্তা আর বোধটিকে জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন।

অভিনয়শিল্পীদের অভিনয় তো বটেই কিন্তু এ নাটকের গল্পই মানুষের মূল্যবোধ জাগিয়ে তোলার মূল শক্তি। একই অভিনেতার ‘ব্যঞ্জনবর্ণ’ নাটকটিও ছিল মনুষ্যত্ব তৈরি করার অন্যতম মাধ্যম। মাবরুর রশিদ বান্না পরিচালিত এ নাটকটিতে খুঁজে পাওয়া গেছে, পরিচয় নয়- মানুষকে মূল্যায়ন করতে হয় তার গুণ দিয়ে।

অনেকের মতে, যান্ত্রিক এ যুগে ভালোবাসা খুঁজে পাওয়া বিরল। কিন্তু কিছু কিছু ভালোবাসার গল্প আজও জানান দেয়, ভালোবাসায় ঘেরা মনুষ্যত্ব আজও বেঁচে রয়েছে। মিজানুর রহমান আরিয়ান পরিচালিত ‘জানবে না কোনদিন’ নাটকে তুলে ধরা হয়েছে ভালোবাসার তেমন এক গল্প। নাটকটিতে জনপ্রিয় অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব ও তাসনিয়া ফারিনের মধ্যকার রসায়ন ছিল অনবদ্য। পর্দায় তাদের রসায়ন দেখলে মনে হবে, ভালোবাসতে জানলে প্রিয়জনের মুখের হাসিতে সব অন্ধকার জয় করা সম্ভব। এ নাটক ছাড়াও একই পরিচালকের একটি সুইসাইড কেসের গল্পে থ্রিলারের ছোঁয়ায় নির্মিত ‘স্বার্থপর’ নাটকটিতে অনবদ্য অভিনয় করেছেন অপূর্ব।

এ নাটকে তার সঙ্গে জুটি বেঁধেছিলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবিন। স্বামী-স্ত্রীর ভূমিকায় ভিন্ন আঙ্গিকে পর্দায় দেখা দিয়েছেন তারা।

পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় সম্পদ বাবা-মা। সন্তান হিসেবে আমাদের সবার প্রত্যাশা থাকে বাবা-মা-ই আমাদের স্বপ্ন বা ইচ্ছা পূরণে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করবেন। কিন্তু তাদেরও যে স্বপ্ন বা ইচ্ছা থাকতে পারে, সন্তান হিসেবে আমরা সেটি হয়তো জানতে চাই না।

তেমনি সাধারণ পরিবারের এক মায়ের স্বপ্ন পূরণের গল্পে নির্মিত নাটক ‘ইতি মা’। এবারের ঈদে আশফাক নিপুণ পরিচালিত এ নাটকটি দর্শকমনে বোধ জাগিয়েছে বেশ। নাটকটিতে আফরান নিশোকে ভিন্নভাবে উপস্থিত করছেন পরিচালক। দীর্ঘ বিরতির পর পর্দায় নিজ অভিনয় নৈপুণ্যের ধারাবাহিকতায় দর্শকমন জয় করেছেন এক সময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ঈশিতা।

আশফাক নিপুনের ‘ভিকটিম’ নাটকে অভিনয়ের দ্যুতি ছড়িয়েছেন অপি করিম। এ নাটকেও অপি করিমের সহশিল্পী ছিলেন আফরান নিশো। পাশাপাশি সাফা কবিরের অভিনয়ও ছিল প্রশংসনীয়। এ নির্মাতার সমসাময়িক করোনাকালীন অনলাইন ক্লাসের বিরূপ প্রভাব ও এক প্রবীণ শিক্ষকের গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে নাটক ‘অযান্ত্রিক’। নাটকটিতে সমসাময়িক প্রসঙ্গটি নির্মাতা সুচারুভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। ঈদের মধ্যে এ ধরনের গল্পের নাটক প্রচার করা অনেকটা দুঃসাহসেরই বহিঃপ্রকাশ।

মাহমুদুর হিমি পরিচালিত ‘কেন’ টেলিছবিতে মুঠোফোনহীন আশির দশকের চট্টগ্রাম শহরের সত্যিকারের এক প্রেমের গল্প তুলে ধরা হয়েছে। রাইমা চরিত্রে অভিনয় করেছেন- মেহজাবীন ও ঈশিতা এবং আবির চরিত্রে- তৌসিফ ও আফরান নিশো। গতানুগতিক ধারার বাইরের এ গল্পও দর্শক মনে দোলা দিয়েছে।

পাশাপাশি একই পরিচালকের মহামারীর এ সময়ের বাস্তবচিত্রে ‘ভুল এই শহরের মধ্যবিত্তদেরই ছিল’ নাটকটিতে আফরান নিশো ও তানজিন তিশার অভিনয়ে আবেগতাড়িত করেছে দর্শকদের। মধ্যবিত্তরা নিজেদের খুঁজে বেরিয়েছেন এ নাটকে।

মেজবাহ উদ্দিন সুমন রচিত এবং সাজ্জাদ সুমন পরিচালিত একজন বীমাকর্মীর জীবন সংগ্রামের গল্পে নির্মিত ‘বাবার বুকের ঘ্রাণ’ নাটকে চিত্রনায়ক ইমনের অভিনয় মুগ্ধ করেছে দর্শকদের। মিজানুর রহমান আরিয়ানের ‘শহর ছেড়ে পরানপুর’ নাটকে নুসরাত ইমরোজ তিশার পাশাপাশি ইয়াশ রোহান ও তাসনিয়া ফারিনের অভিনয় দৃষ্টি কেড়েছে দর্শকদের।

ঈদের আরও অনেক নাটক ছিল, যেগুলোর গল্প গত কয়েক বছরের ঈদের নাটকের মতো নয়। একেবারেই আলাদা। গতানুগতিক প্রেম-ভালোবাসার চেয়ে দর্শক সবসময় আশপাশে ঘটে যাওয়া গল্পই দেখতে চান- তারই প্রমাণ আবারও মিলল এবারের ঈদে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এমনকি ইউটিউবের মন্তব্যের ঘরে নিজেদের এমন প্রত্যাশার কথাই জানান দিচ্ছেন দর্শকরা।

গল্পই ছিল ঈদের নাটকের প্রাণ

 আখন্দ জাহিদ 
১৩ আগস্ট ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনার প্রাদুর্ভাবে চলতি বছর রোজার ঈদে নাটক নির্মাণ বন্ধ থাকলেও কোরবানির ঈদ কেন্দ্র করে মহামারীর মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই কাজ করেছেন টেলিভিশন নাটকের শিল্পী-কলাকুশলীরা। অন্য বছরের ঈদের তুলনায় এবার কাজের সংখ্যা কম হলেও দর্শকপ্রিয় প্রায় সব তারকাশিল্পীই কম-বেশি নাটক নিয়ে হাজির হয়েছেন দর্শকমহলে। এবারের ঈদে ভাঁড়ামির চেয়ে গল্পকেই প্রাধান্য দিয়ে নির্মিত হয়েছে বেশিরভাগ নাটক।

এবারের ঈদে গতানুগতিক নাটকের বাইরে ভিন্নধর্মী গল্পের নাটক দিয়ে আলোচিত হয়েছেন তারকাশিল্পীরা। প্রেম-ভালোবাসার বাইরে গিয়ে গল্পের মাঝে বৈচিত্র্য এনেছেন নির্মাতারাও।

কয়েকটি নাটক জায়গা করে নিয়েছে দর্শক হৃদয়ে। করোনার এ সময়ে অনেক নাটকের মধ্যে এবারের ঈদে ইতি-মা, ভিকটিম, স্বার্থপর, বোধ, কেন, শহর ছেড়ে পরানপুর, গিরগিটি, ভুল এই শহরের মধ্যবিত্তদেরই ছিল, অযান্ত্রিক, নির্বাসন ও ব্যঞ্জনবর্ণ’সহ আরও কিছু নাটক ছিল দর্শক পছন্দের তালিকায়। শুধু উল্লিখিত নাটকই নয়- মূলত এসব নাটককে উদাহরণ হিসেবে ধরে এবারের ঈদের নাটকে গল্পের বৈচিত্র্যের কথাই তুলে ধরা হয়েছে এ প্রতিবেদনে।

মানুষ বাঁচে তার কর্মের মধ্য দিয়ে। মৃত্যুর পর মানুষের কর্মই তার পরিচয় বহন করে। মোশাররফ করিম অভিনীত ‘বোধ’ নাটকের মাধ্যমে পরিচালক রাফাত মজুমদার রিংকু বর্তমান সময়ে মানুষের ভেতরে ঘুমিয়ে থাকা সত্তা আর বোধটিকে জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন।

অভিনয়শিল্পীদের অভিনয় তো বটেই কিন্তু এ নাটকের গল্পই মানুষের মূল্যবোধ জাগিয়ে তোলার মূল শক্তি। একই অভিনেতার ‘ব্যঞ্জনবর্ণ’ নাটকটিও ছিল মনুষ্যত্ব তৈরি করার অন্যতম মাধ্যম। মাবরুর রশিদ বান্না পরিচালিত এ নাটকটিতে খুঁজে পাওয়া গেছে, পরিচয় নয়- মানুষকে মূল্যায়ন করতে হয় তার গুণ দিয়ে।

অনেকের মতে, যান্ত্রিক এ যুগে ভালোবাসা খুঁজে পাওয়া বিরল। কিন্তু কিছু কিছু ভালোবাসার গল্প আজও জানান দেয়, ভালোবাসায় ঘেরা মনুষ্যত্ব আজও বেঁচে রয়েছে। মিজানুর রহমান আরিয়ান পরিচালিত ‘জানবে না কোনদিন’ নাটকে তুলে ধরা হয়েছে ভালোবাসার তেমন এক গল্প। নাটকটিতে জনপ্রিয় অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব ও তাসনিয়া ফারিনের মধ্যকার রসায়ন ছিল অনবদ্য। পর্দায় তাদের রসায়ন দেখলে মনে হবে, ভালোবাসতে জানলে প্রিয়জনের মুখের হাসিতে সব অন্ধকার জয় করা সম্ভব। এ নাটক ছাড়াও একই পরিচালকের একটি সুইসাইড কেসের গল্পে থ্রিলারের ছোঁয়ায় নির্মিত ‘স্বার্থপর’ নাটকটিতে অনবদ্য অভিনয় করেছেন অপূর্ব।

এ নাটকে তার সঙ্গে জুটি বেঁধেছিলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবিন। স্বামী-স্ত্রীর ভূমিকায় ভিন্ন আঙ্গিকে পর্দায় দেখা দিয়েছেন তারা।

পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় সম্পদ বাবা-মা। সন্তান হিসেবে আমাদের সবার প্রত্যাশা থাকে বাবা-মা-ই আমাদের স্বপ্ন বা ইচ্ছা পূরণে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করবেন। কিন্তু তাদেরও যে স্বপ্ন বা ইচ্ছা থাকতে পারে, সন্তান হিসেবে আমরা সেটি হয়তো জানতে চাই না।

তেমনি সাধারণ পরিবারের এক মায়ের স্বপ্ন পূরণের গল্পে নির্মিত নাটক ‘ইতি মা’। এবারের ঈদে আশফাক নিপুণ পরিচালিত এ নাটকটি দর্শকমনে বোধ জাগিয়েছে বেশ। নাটকটিতে আফরান নিশোকে ভিন্নভাবে উপস্থিত করছেন পরিচালক। দীর্ঘ বিরতির পর পর্দায় নিজ অভিনয় নৈপুণ্যের ধারাবাহিকতায় দর্শকমন জয় করেছেন এক সময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ঈশিতা।

আশফাক নিপুনের ‘ভিকটিম’ নাটকে অভিনয়ের দ্যুতি ছড়িয়েছেন অপি করিম। এ নাটকেও অপি করিমের সহশিল্পী ছিলেন আফরান নিশো। পাশাপাশি সাফা কবিরের অভিনয়ও ছিল প্রশংসনীয়। এ নির্মাতার সমসাময়িক করোনাকালীন অনলাইন ক্লাসের বিরূপ প্রভাব ও এক প্রবীণ শিক্ষকের গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে নাটক ‘অযান্ত্রিক’। নাটকটিতে সমসাময়িক প্রসঙ্গটি নির্মাতা সুচারুভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। ঈদের মধ্যে এ ধরনের গল্পের নাটক প্রচার করা অনেকটা দুঃসাহসেরই বহিঃপ্রকাশ।

মাহমুদুর হিমি পরিচালিত ‘কেন’ টেলিছবিতে মুঠোফোনহীন আশির দশকের চট্টগ্রাম শহরের সত্যিকারের এক প্রেমের গল্প তুলে ধরা হয়েছে। রাইমা চরিত্রে অভিনয় করেছেন- মেহজাবীন ও ঈশিতা এবং আবির চরিত্রে- তৌসিফ ও আফরান নিশো। গতানুগতিক ধারার বাইরের এ গল্পও দর্শক মনে দোলা দিয়েছে।

পাশাপাশি একই পরিচালকের মহামারীর এ সময়ের বাস্তবচিত্রে ‘ভুল এই শহরের মধ্যবিত্তদেরই ছিল’ নাটকটিতে আফরান নিশো ও তানজিন তিশার অভিনয়ে আবেগতাড়িত করেছে দর্শকদের। মধ্যবিত্তরা নিজেদের খুঁজে বেরিয়েছেন এ নাটকে।

মেজবাহ উদ্দিন সুমন রচিত এবং সাজ্জাদ সুমন পরিচালিত একজন বীমাকর্মীর জীবন সংগ্রামের গল্পে নির্মিত ‘বাবার বুকের ঘ্রাণ’ নাটকে চিত্রনায়ক ইমনের অভিনয় মুগ্ধ করেছে দর্শকদের। মিজানুর রহমান আরিয়ানের ‘শহর ছেড়ে পরানপুর’ নাটকে নুসরাত ইমরোজ তিশার পাশাপাশি ইয়াশ রোহান ও তাসনিয়া ফারিনের অভিনয় দৃষ্টি কেড়েছে দর্শকদের।

ঈদের আরও অনেক নাটক ছিল, যেগুলোর গল্প গত কয়েক বছরের ঈদের নাটকের মতো নয়। একেবারেই আলাদা। গতানুগতিক প্রেম-ভালোবাসার চেয়ে দর্শক সবসময় আশপাশে ঘটে যাওয়া গল্পই দেখতে চান- তারই প্রমাণ আবারও মিলল এবারের ঈদে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এমনকি ইউটিউবের মন্তব্যের ঘরে নিজেদের এমন প্রত্যাশার কথাই জানান দিচ্ছেন দর্শকরা।