অথচ হতে পারত বছরটি তাদের
jugantor
অথচ হতে পারত বছরটি তাদের

  তারা ঝিলমিল ডেস্ক  

১৩ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বলিউড জরিপের হিসাবমতে ২০২০ সাল দখলে থাকার কথা ছিল নায়িকাদের। সেটি শুরুও করেছিলেন দীপিকা পাড়ুকোন ‘ছপক’ ছবি দিয়ে।

সত্য ঘটনানির্ভর হৃদয়বিদারক এ ছবিটি মুক্তি পেয়েছে চলতি বছরের জানুয়ারিতে। অভিনয়ের দিক থেকে নিজেকে ছাড়িয়েও গিয়েছিলেন।

মেঘনা গুলজারের পরিচালনায় অ্যাসিড-আক্রান্ত মালতীর ভূমিকায় অভিনয় করছেন এ অভিনেত্রী। ভারতীয় কিশোরী লক্ষ্মী আগরওয়াল ১২ বছর বয়সে বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় অ্যাসিড হামলার শিকার হয়। ঝলসে যায় তার মুখ ও শরীরের কিছু অংশ। সুস্থ হয়ে সেই দিনের পর থেকে প্রতিনিয়ত অ্যাসিড হামলা ও অ্যাসিড বিক্রির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে আসছে লক্ষ্মী। ২০১৪ সালে তাকে আন্তর্জাতিক সাহসী নারী পুরস্কারও প্রদান করেছিলেন মিশেল ওবামা।

এ বাস্তব ঘটনা নিয়েই ছবির গল্প। দীপিকা দেখিয়েছেন বেশ। তার সফলতায় ভরসা করে ২০২০ সালকে নিজেদের দখলে নিতে চেয়েছিলেন কঙনা রানাউত, বিদ্যা বালান, আলিয়া ভাটরা। প্রত্যেকেই নারীকেন্দ্রিক ছবিতে অভিনয় করেছেন। পর্দায় আসার কথা ছিল শক্তিশালী নারী চরিত্রে। কিন্তু বিধিবাম! করোনার ছোবলে সেই আশায় গুড়েবালি।

আলিয়া ভাটের ছবি ছিল ‘গাঙ্গুবাঈ কাথিয়াওয়ারি’। মুম্বাইয়ের মাফিয়া কুইন বলা হয় এ গাঙ্গুবাঈ কাথিয়াওয়ারিকে। ১৯৬০ সাল থেকে মুম্বাইয়ে পতিতালয়ের মাথা ছিলেন হুসেন জাইদি। তারই জীবন অবলম্বনে তৈরি হচ্ছিল এ ছবি। মুখ্য চরিত্রে আলিয়া ভাট। সঞ্জয়লীলা বানশালি পরিচালিত এ ছবিটি ১১ সেপ্টেম্বর মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কাজই নাকি শেষ হয়নি এখনও। স্বভাবতই আলিয়ার ভাগ্য খারাপ বলা যায়।

ভারতের অত্যন্ত জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেত্রী জয়ললিতার ভূমিকায় পর্দায় আত্মপ্রকাশ করার কথা ছিল কঙনা রানাউতের। ছবির নাম ‘থালাইভি’। ২৬ জুন ছবিটি মুক্তির তারিখ ছিল। কিন্তু করোনার কারণে সেটি থমকে গেছে।

দীর্ঘদিন পর ‘শকুন্তলা দেবী’কে নিয়ে ফিরতে চেয়েছিলেন বিদ্যা বালানও। কিন্তু সেটাও থামিয়ে দিয়েছে করোনাভাইরাস। নারীকেন্দ্রিক এ ছবিতে মানব কম্পিউটার, গণিতে বিস্ময়কর ক্ষমতার অধিকারী শকুন্তলা দেবী। মূলত তিনি একজন লেখিকা। তাকে ক্যালকুলেটর মানুষও বলা হয়ে থাকে।

১৯৬০ সালের মাঝামাঝি লন্ডন থেকে ভারতে ফিরে বিয়ে করেন আইপিএস অফিসার পরিতোষ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। যদিও ১৯৭৯ সালে বিবাহবিচ্ছেদ হয় তাদের। ১৯৮২ সালে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে তার নাম নথিভুক্ত হয়। জ্যোতিষবিদ্যায়ও পারদর্শী ছিলেন শকুন্তলা দেবী।

এ বাস্তব ঘটনা নিয়েই ছবির গল্প। পরিচালক অনু মেনন। মে মাসে মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল এ ছবি। কিন্তু পায়নি। ফলে ভাগ্যে শিকে ছেঁড়েনি বিদ্যারও।

এমনিতে বলিউডে খানদের রাজত্বের কাছে টিকে থাকা মুশকিল। সেখানে নারীকেন্দ্রিক ছবি নিয়ে যুদ্ধ করা আরও বেশি কঠিন। সেই কঠিন কাজটিই কিছুটা হলেও সহজ করে দিতে পারত এ ছবিগুলো। কিন্তু করোনাভাইরাস পথটিকে আরও বেশি পিচ্ছিল করে দিয়েছে।

কারণ চলতি বছরের বাকি দিনগুলোতে করোনাভাইরাস কতটা নমনীয় হবে সেটি বলা মুশকিল। তাই এ বছর আর বড় বাজেটের কোনো ছবি মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। স্বভাবতই ২০২১ সালের দিকেই নজর থাকবে বলিউড খানদের। সেই পুরনো পুরুষ রাজত্ব! এ পুরুষ রাজত্বে নায়িকারা এসব ছবি নিয়ে কতটা পথ চলতে পারবেন সেটিই এখন দেখার বিষয়।

অথচ হতে পারত বছরটি তাদের

 তারা ঝিলমিল ডেস্ক 
১৩ আগস্ট ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বলিউড জরিপের হিসাবমতে ২০২০ সাল দখলে থাকার কথা ছিল নায়িকাদের। সেটি শুরুও করেছিলেন দীপিকা পাড়ুকোন ‘ছপক’ ছবি দিয়ে।

সত্য ঘটনানির্ভর হৃদয়বিদারক এ ছবিটি মুক্তি পেয়েছে চলতি বছরের জানুয়ারিতে। অভিনয়ের দিক থেকে নিজেকে ছাড়িয়েও গিয়েছিলেন।

মেঘনা গুলজারের পরিচালনায় অ্যাসিড-আক্রান্ত মালতীর ভূমিকায় অভিনয় করছেন এ অভিনেত্রী। ভারতীয় কিশোরী লক্ষ্মী আগরওয়াল ১২ বছর বয়সে বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় অ্যাসিড হামলার শিকার হয়। ঝলসে যায় তার মুখ ও শরীরের কিছু অংশ। সুস্থ হয়ে সেই দিনের পর থেকে প্রতিনিয়ত অ্যাসিড হামলা ও অ্যাসিড বিক্রির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে আসছে লক্ষ্মী। ২০১৪ সালে তাকে আন্তর্জাতিক সাহসী নারী পুরস্কারও প্রদান করেছিলেন মিশেল ওবামা।

এ বাস্তব ঘটনা নিয়েই ছবির গল্প। দীপিকা দেখিয়েছেন বেশ। তার সফলতায় ভরসা করে ২০২০ সালকে নিজেদের দখলে নিতে চেয়েছিলেন কঙনা রানাউত, বিদ্যা বালান, আলিয়া ভাটরা। প্রত্যেকেই নারীকেন্দ্রিক ছবিতে অভিনয় করেছেন। পর্দায় আসার কথা ছিল শক্তিশালী নারী চরিত্রে। কিন্তু বিধিবাম! করোনার ছোবলে সেই আশায় গুড়েবালি।

আলিয়া ভাটের ছবি ছিল ‘গাঙ্গুবাঈ কাথিয়াওয়ারি’। মুম্বাইয়ের মাফিয়া কুইন বলা হয় এ গাঙ্গুবাঈ কাথিয়াওয়ারিকে। ১৯৬০ সাল থেকে মুম্বাইয়ে পতিতালয়ের মাথা ছিলেন হুসেন জাইদি। তারই জীবন অবলম্বনে তৈরি হচ্ছিল এ ছবি। মুখ্য চরিত্রে আলিয়া ভাট। সঞ্জয়লীলা বানশালি পরিচালিত এ ছবিটি ১১ সেপ্টেম্বর মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কাজই নাকি শেষ হয়নি এখনও। স্বভাবতই আলিয়ার ভাগ্য খারাপ বলা যায়।

ভারতের অত্যন্ত জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেত্রী জয়ললিতার ভূমিকায় পর্দায় আত্মপ্রকাশ করার কথা ছিল কঙনা রানাউতের। ছবির নাম ‘থালাইভি’। ২৬ জুন ছবিটি মুক্তির তারিখ ছিল। কিন্তু করোনার কারণে সেটি থমকে গেছে।

দীর্ঘদিন পর ‘শকুন্তলা দেবী’কে নিয়ে ফিরতে চেয়েছিলেন বিদ্যা বালানও। কিন্তু সেটাও থামিয়ে দিয়েছে করোনাভাইরাস। নারীকেন্দ্রিক এ ছবিতে মানব কম্পিউটার, গণিতে বিস্ময়কর ক্ষমতার অধিকারী শকুন্তলা দেবী। মূলত তিনি একজন লেখিকা। তাকে ক্যালকুলেটর মানুষও বলা হয়ে থাকে।

১৯৬০ সালের মাঝামাঝি লন্ডন থেকে ভারতে ফিরে বিয়ে করেন আইপিএস অফিসার পরিতোষ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। যদিও ১৯৭৯ সালে বিবাহবিচ্ছেদ হয় তাদের। ১৯৮২ সালে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে তার নাম নথিভুক্ত হয়। জ্যোতিষবিদ্যায়ও পারদর্শী ছিলেন শকুন্তলা দেবী।

এ বাস্তব ঘটনা নিয়েই ছবির গল্প। পরিচালক অনু মেনন। মে মাসে মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল এ ছবি। কিন্তু পায়নি। ফলে ভাগ্যে শিকে ছেঁড়েনি বিদ্যারও।

এমনিতে বলিউডে খানদের রাজত্বের কাছে টিকে থাকা মুশকিল। সেখানে নারীকেন্দ্রিক ছবি নিয়ে যুদ্ধ করা আরও বেশি কঠিন। সেই কঠিন কাজটিই কিছুটা হলেও সহজ করে দিতে পারত এ ছবিগুলো। কিন্তু করোনাভাইরাস পথটিকে আরও বেশি পিচ্ছিল করে দিয়েছে।

কারণ চলতি বছরের বাকি দিনগুলোতে করোনাভাইরাস কতটা নমনীয় হবে সেটি বলা মুশকিল। তাই এ বছর আর বড় বাজেটের কোনো ছবি মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। স্বভাবতই ২০২১ সালের দিকেই নজর থাকবে বলিউড খানদের। সেই পুরনো পুরুষ রাজত্ব! এ পুরুষ রাজত্বে নায়িকারা এসব ছবি নিয়ে কতটা পথ চলতে পারবেন সেটিই এখন দেখার বিষয়।