প্রাণ ফিরছে মঞ্চ নাটকে
jugantor
প্রাণ ফিরছে মঞ্চ নাটকে

  আখন্দ জাহিদ  

২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

লালজমিন - নাটকের একটি দৃশ্য

মহামারী করোনার হানায় থমকে গিয়েছিল মঞ্চাঙ্গন। নেমে এসেছিল নীরবতা। যেখানে প্রতি সন্ধ্যায় আলোর ঝলকানিতে আলোকিত হতো রাজধানীসহ সারা দেশের মঞ্চগুলো, সেখানে প্রায় দীর্ঘ পাঁচ মাসের বেশি সময় ধরে বিরাজ করছিল স্থবিরতা।

এবার সব হতাশা পেছনে ফেলে মঞ্চাঙ্গনে জেগেছে আশার আলো। আবারও সেই চিরচেনা জৌলুসে ফিরতে চলেছে মঞ্চনাটক। করোনা মহামারীর মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই শুরু হয়েছে নাটকের মঞ্চায়ন।

গত ২৮ আগস্ট বেইলি রোডের মহিলা সমিতির নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে মান্নান হীরার লেখা ও সুদীপ চক্রবর্তীর নির্দেশনায় মঞ্চস্থ হয় শূন্যন রেপার্টরি থিয়েটারের নাটক ‘লালজমিন’।

মূলত, এ নাটকের মাধ্যমেই করোনার বিরুদ্ধে অন্যরকম লড়াইয়ে নেমেছেন মঞ্চকর্মীরা। যথারীতি নাটকটিতে একক অভিনয় করেছেন মোমেনা চৌধুরী। এর আগেও দু’শতাধিকবার মঞ্চস্থ হয়েছে নাটকটি। বদলে যাওয়া সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ‘লালজমিন’ নাটকের প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে করোনা পরবর্তী সময়ে শুরু হয় নাটক মঞ্চায়ন স্রোতধারা। সেই স্রোতধারায় গত ১১ সেপ্টেম্ব ছুটির দিনে বেইলি রোডের মহিলা সমিতি মিলনায়তনে মঞ্চস্থ হয় জাগরণী থিয়েটারের নাটক ‘রাজার চিঠি’।

তারই ধারাবাহিকতায় একই মঞ্চে ১৮ সেপ্টেম্বর মঞ্চস্থ হয় নাট্যদল প্রাঙ্গণেমোরের বহুল আলোচিত নাটক ‘আওরঙ্গজেব’।

করোনাকালে থমকে যাওয়া পৃথিবীতে নতুন উদ্যমে সবকিছুই চলতে শুরু করেছে। স্বভাবত, মঞ্চের কর্মীরাও কেন বসে থাকবেন? এক্ষেত্রে নাট্যদল প্রাচ্যনাটও অভিনব এক ভাবনা নিয়ে কাজও শুরু করে দিয়েছেন। সাপ্তাহিক দুই ছুটির দিনকে কেন্দ্র করেই ৪ সেপ্টেম্বর থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শুরু করেছে মাসব্যাপী ‘মহলা মগন’ উঠান নাটকের মেলা। ‘অবসাদবিরুদ্ধ স্রোত’ স্লোগান নিয়ে মাসব্যাপী এ আয়োজন চলছে কাঁটাবনের প্রাচ্যনাটের নিজস্ব মহড়া কক্ষে।

ব্যতিক্রমধর্মী এ নাট্যমেলার উদ্বোধনী সন্ধ্যায় আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সেক্রেটারি জেনারেল কামাল বায়েজিদ ও পথনাটক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আহাম্মেদ গিয়াস। প্রাচ্যনাটের এ উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে। বিজ্ঞরা বলেছেনও তাই- ‘কাউকে না কাউকে এগিয়ে আসতে হবে। সেক্ষেত্রে প্রাচ্যনাট এগিয়ে এসেছে।’ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের পক্ষ থেকে তাদের এ জন্য সাধুবাদও জানানো হয়েছে।

পাঁচটি নাটক দিয়ে সাজান হয়েছে প্রাচ্যনাটের এ ভিন্নধর্মী আয়োজনটি। এ উঠান নাট্যোৎসবে উদ্বোধনী সন্ধ্যা থেকে শুরু করে পরপর দু’সন্ধ্যায় শুক্রবার ও শনিবার মঞ্চস্থ হয় ‘দ্য জু স্টোরি’। এডওয়ার্ড অ্যালবির লেখা থেকে এ নাটকটি বাংলায় অনুবাদ করেন আশফাকুল আশেকীন। নির্দেশনা দিয়েছেন কাজী তৌফিকুল ইসলাম ইমন। এছাড়া গত ১১ ও ১২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় প্রদর্শিত হয় ‘দ্য ডাম্ব ওয়েটার’। হ্যারল্ড পিন্টারের রচনা থেকে এটি অনুবাদ করেছেন রবিউল আলম এবং নির্দেশনা দিয়েছেন মো. শওকত হোসেন সজিব।

১৯ ও ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় প্রদর্শিত হয় ‘হানড্রেড বাই হানড্রেড’। এটি রচনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন সাইফুল জার্নাল। একইভাবে ২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় প্রদর্শিত হবে গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেসের উপন্যাস অবলম্বনে ‘কর্নেলকে কেউ চিঠি লেখে না’ নাটকটি। এটির নাট্যরূপ দিয়েছেন মো. শওকত হোসেন সজিব। নির্দেশনা দিয়েছেন কাজী তৌফিকুল ইসলাম ইমন। সর্বশেষ ২ ও ৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় প্রদর্শিত হবে ‘ফাউস্ট অথবা অন্য কেউ’।

গ্যোটের শ্রুতিনাট্য ‘ফাউস্ট’ অবলম্বনে এটি তৈরি করা হয়েছে। নাটকটি তত্ত্বাবধানে আছেন তানজি কুন। নাট্যদল প্রাচ্যনাটের পক্ষ থেকে জানান হয়, দুই সিট ফাঁকা রেখে আসনবিন্যাস করা হয়েছে। মাত্র ২০ জন দর্শকের জন্য প্রতিটি প্রদর্শনী সাজান হয়েছে। ব্যতিক্রমী এ আয়োজনের প্রতিটি নাটক মঞ্চায়ন শেষে থাকছে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আলোচনা।

প্রাণ ফিরছে মঞ্চ নাটকে

 আখন্দ জাহিদ 
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
লালজমিন - নাটকের একটি দৃশ্য
লালজমিন - নাটকের একটি দৃশ্য

মহামারী করোনার হানায় থমকে গিয়েছিল মঞ্চাঙ্গন। নেমে এসেছিল নীরবতা। যেখানে প্রতি সন্ধ্যায় আলোর ঝলকানিতে আলোকিত হতো রাজধানীসহ সারা দেশের মঞ্চগুলো, সেখানে প্রায় দীর্ঘ পাঁচ মাসের বেশি সময় ধরে বিরাজ করছিল স্থবিরতা।

এবার সব হতাশা পেছনে ফেলে মঞ্চাঙ্গনে জেগেছে আশার আলো। আবারও সেই চিরচেনা জৌলুসে ফিরতে চলেছে মঞ্চনাটক। করোনা মহামারীর মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই শুরু হয়েছে নাটকের মঞ্চায়ন।

গত ২৮ আগস্ট বেইলি রোডের মহিলা সমিতির নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে মান্নান হীরার লেখা ও সুদীপ চক্রবর্তীর নির্দেশনায় মঞ্চস্থ হয় শূন্যন রেপার্টরি থিয়েটারের নাটক ‘লালজমিন’।

মূলত, এ নাটকের মাধ্যমেই করোনার বিরুদ্ধে অন্যরকম লড়াইয়ে নেমেছেন মঞ্চকর্মীরা। যথারীতি নাটকটিতে একক অভিনয় করেছেন মোমেনা চৌধুরী। এর আগেও দু’শতাধিকবার মঞ্চস্থ হয়েছে নাটকটি। বদলে যাওয়া সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ‘লালজমিন’ নাটকের প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে করোনা পরবর্তী সময়ে শুরু হয় নাটক মঞ্চায়ন স্রোতধারা। সেই স্রোতধারায় গত ১১ সেপ্টেম্ব ছুটির দিনে বেইলি রোডের মহিলা সমিতি মিলনায়তনে মঞ্চস্থ হয় জাগরণী থিয়েটারের নাটক ‘রাজার চিঠি’।

তারই ধারাবাহিকতায় একই মঞ্চে ১৮ সেপ্টেম্বর মঞ্চস্থ হয় নাট্যদল প্রাঙ্গণেমোরের বহুল আলোচিত নাটক ‘আওরঙ্গজেব’।

করোনাকালে থমকে যাওয়া পৃথিবীতে নতুন উদ্যমে সবকিছুই চলতে শুরু করেছে। স্বভাবত, মঞ্চের কর্মীরাও কেন বসে থাকবেন? এক্ষেত্রে নাট্যদল প্রাচ্যনাটও অভিনব এক ভাবনা নিয়ে কাজও শুরু করে দিয়েছেন। সাপ্তাহিক দুই ছুটির দিনকে কেন্দ্র করেই ৪ সেপ্টেম্বর থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শুরু করেছে মাসব্যাপী ‘মহলা মগন’ উঠান নাটকের মেলা। ‘অবসাদবিরুদ্ধ স্রোত’ স্লোগান নিয়ে মাসব্যাপী এ আয়োজন চলছে কাঁটাবনের প্রাচ্যনাটের নিজস্ব মহড়া কক্ষে।

ব্যতিক্রমধর্মী এ নাট্যমেলার উদ্বোধনী সন্ধ্যায় আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সেক্রেটারি জেনারেল কামাল বায়েজিদ ও পথনাটক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আহাম্মেদ গিয়াস। প্রাচ্যনাটের এ উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে। বিজ্ঞরা বলেছেনও তাই- ‘কাউকে না কাউকে এগিয়ে আসতে হবে। সেক্ষেত্রে প্রাচ্যনাট এগিয়ে এসেছে।’ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের পক্ষ থেকে তাদের এ জন্য সাধুবাদও জানানো হয়েছে।

পাঁচটি নাটক দিয়ে সাজান হয়েছে প্রাচ্যনাটের এ ভিন্নধর্মী আয়োজনটি। এ উঠান নাট্যোৎসবে উদ্বোধনী সন্ধ্যা থেকে শুরু করে পরপর দু’সন্ধ্যায় শুক্রবার ও শনিবার মঞ্চস্থ হয় ‘দ্য জু স্টোরি’। এডওয়ার্ড অ্যালবির লেখা থেকে এ নাটকটি বাংলায় অনুবাদ করেন আশফাকুল আশেকীন। নির্দেশনা দিয়েছেন কাজী তৌফিকুল ইসলাম ইমন। এছাড়া গত ১১ ও ১২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় প্রদর্শিত হয় ‘দ্য ডাম্ব ওয়েটার’। হ্যারল্ড পিন্টারের রচনা থেকে এটি অনুবাদ করেছেন রবিউল আলম এবং নির্দেশনা দিয়েছেন মো. শওকত হোসেন সজিব।

১৯ ও ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় প্রদর্শিত হয় ‘হানড্রেড বাই হানড্রেড’। এটি রচনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন সাইফুল জার্নাল। একইভাবে ২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় প্রদর্শিত হবে গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেসের উপন্যাস অবলম্বনে ‘কর্নেলকে কেউ চিঠি লেখে না’ নাটকটি। এটির নাট্যরূপ দিয়েছেন মো. শওকত হোসেন সজিব। নির্দেশনা দিয়েছেন কাজী তৌফিকুল ইসলাম ইমন। সর্বশেষ ২ ও ৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় প্রদর্শিত হবে ‘ফাউস্ট অথবা অন্য কেউ’।

গ্যোটের শ্রুতিনাট্য ‘ফাউস্ট’ অবলম্বনে এটি তৈরি করা হয়েছে। নাটকটি তত্ত্বাবধানে আছেন তানজি কুন। নাট্যদল প্রাচ্যনাটের পক্ষ থেকে জানান হয়, দুই সিট ফাঁকা রেখে আসনবিন্যাস করা হয়েছে। মাত্র ২০ জন দর্শকের জন্য প্রতিটি প্রদর্শনী সাজান হয়েছে। ব্যতিক্রমী এ আয়োজনের প্রতিটি নাটক মঞ্চায়ন শেষে থাকছে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আলোচনা।