পরিচালকদের সম্মানী অনেক কমে গেছে: চয়নিকা

  সোহেল আহসান ১২ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পরিচালকদের সম্মানী অনেক কমে গেছে: চয়নিকা
নাট্ট নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরী

কর্মগুণে টেলিভিশন মিডিয়ায় নিজেকে পরিচিত করেছেন চয়নিকা চৌধুরী। ২০০১ সাল থেকে নাট্য পরিচালক হিসেবে বিরতিহীনভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। তার পরিচালিত বেশিরভাগ নাটকই দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে।

আগামী ঈদ উপলক্ষে এরই মধ্যে নাটক নির্মাণ শুরু করেছেন চয়নিকা চৌধুরী। নাট্য নির্মাণ এবং আনুষঙ্গিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সম্প্রতি যুগান্তরের মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সোহেল আহসান।

যুগান্তর: বর্তমান ব্যস্ততা কী নিয়ে?

চয়নিকা: এবারের বৈশাখ উপলক্ষে কোনো কাজ করতে পারিনি। কারণ এরই মধ্যে ঈদের নাটকের কাজ শুরু হয়েছে। কয়েকটি কাজও করেছি। নাটকগুলো হল- রুম্মান রশীদ খানের লেখা ‘প্রথম সকাল’, ফারিয়া হোসেনের ‘স্বপ্ন মরুভূমি’ ও ‘গল্পটি হতে পারত ভালোবাসার’, মাসুম শাহরিয়ারের ‘একদিন খুঁজেছিনু যারে’। এ ছাড়া রয়েছে ‘অস্থির বিকাল’।

যুগান্তর: ধারাবাহিক নাটকও কি নির্মাণ করছেন?

চয়নিকা: হ্যাঁ। আমার দুটি ধারাবাহিক নাটকের শুটিং চলছে। একটি হল ফারিয়া হোসেনের লেখা ‘নীল রঙা মন’। অন্যটি শফিকুর রহমান শান্তনুর ‘শ্রাবণ জোছনায়’। প্রথমটি বাংলাভিশনে, পরেরটি এনটিভিতে প্রচার হবে।

যুগান্তর: যে লক্ষ্য নিয়ে নাটক নির্মাণ শুরু করেছিলেন সেই লক্ষ্যের কাছে কি পৌঁছতে পেরেছেন?

চয়নিকা: আমার কাছে সব সময় মনে হয় আমি মেধাবী পরিচালক নই। আমি পরিশ্রমী একজন মানুষ। কাজটা করি ভালোবাসা দিয়ে, প্রেম দিয়ে, খুব যত্ন দিয়ে। টেলিভিশন হল এন্টারটেইনমেন্ট মিডিয়া। মানুষ যখন আমাকে নির্মাতা হিসেবে মনে করে, সেই জায়গাটায় আমি সফল হয়েছি। আমাকে না চিনলেও নামটা মানুষ চেনে।

যুগান্তর: অনেকদিন ধরে নাটক পরিচালনা করছেন। সিনেমা বানাচ্ছেন না কেন?

চয়নিকা: সিনেমাটা হল যে কোনো পরিচালকের একটা স্বপ্ন। ২০১৫ সালে সিনেমা বানানোর চিন্তা মাথায় আসে। কিন্তু তখন মনে হল আমি আরেকটু তৈরি হই। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এ বছর সিনেমায় হাত দেব। সেটা অবশ্যই হবে কমার্শিয়াল। একটা মিষ্টি প্রেমের ভালোবাসার গল্প তো থাকবেই।

যুগান্তর: নারী নির্মাতা হিসেবে কী কোনো প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করতে হয়েছে আপনাকে?

চয়নিকা: আসলে নির্মাতাকে কখনও আমি মনে করি না নারী। নির্মাতা নির্মাতাই। নারী হিসেবে আমাকে দিয়ে আসলে পুরো বাংলাদেশের নারীকে বোঝানো যাবে না। আমি অনেক ভাগ্যবতী যে ফ্যামিলি সাপোর্ট পেয়েছি।

মিডিয়াতে কিছু ভালো মানুষের সাপোর্ট সব সময়ই আমার কাছে ছিল। সাড়ে তিন বছর বয়স থেকে মিডিয়ার সঙ্গে জড়িত। মা আমার শিক্ষক, ওই জিনিসগুলো কাজে লেগেছে। পরিবার যখন একজন নারীকে সাপোর্ট করবে, তখন পাশের সবাই তাকে সাপোর্ট করবে।

যুগান্তর: অভিনয় কেন করলেন না?

চয়নিকা: বিয়ের পর একটি ধারাবাহিকে অভিনয় করেছিলাম। অভিনয়টা আমার কাছে সবচেয়ে কঠিন জিনিস। ডিরেকশনটা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে করতে পারছি, এটাই আমার কাছে ভালো লাগে। ভবিষ্যতে কিন্তু অভিনয় করার ইচ্ছা আছে। বিশেষ করে বিজ্ঞাপনে।

যুগান্তর: পরিচালক হিসেবে কার কাছ থেকে অনুপ্রেরণা পান?

চয়নিকা: আমার কিছু মানুষের কাজ খুব ভালো লাগে। বড় হয়েছি সত্যজিৎ রায়ের ছবি দেখে। এরপর ঋতুপর্ণ ঘোষের ছবি খুব ভালো লাগে। দেশে আবুল হায়াত, গিয়াস উদ্দিন সেলিম ও শিহাব শাহীনের কাজ ভালো লাগে। তরুণদের মধ্যে মিজানুর রহমান আরিয়ানের কাজও ভালো লাগে। আমার চোখে সেরা ডিরেকটর মাহফুজ আহমেদ। আর নির্মাতা অরুন চৌধুরীর লেখা আমার কাছে বেশি ভালো লাগে। তার লেখার প্রত্যেকটি লাইন আমাকে মুগ্ধ করে। তবে তিনি নির্মাতা হিসেবেও অনেক ভালো।

যুগান্তর: নতুন প্রজন্মের অনেক অভিনয় শিল্পীরই অভিজ্ঞতা নেই। অনেকেই বলেন, এদের গড়পড়তা কাজের জন্য দর্শক বিরক্ত। এ বিষয়ে আপনি কী বলবেন?

চয়নিকা: এটা আসলে সব ক্ষেত্রে ঠিক নয়। প্রথমেই আমি বলব মেহজাবিনের কথা। সে ভালো কাজ করে, সিনসিয়ার, স্ক্রিপ্ট পড়ে, সময়মতো শুটিং সেটে আসে। ওর অভিনয়ে মুগ্ধ আমি। এ ছাড়া রয়েছে শবনম ফারিয়া, জোভান ও সিয়াম। তারা কিন্তু অনেক সুন্দর কাজ করেন।

যুগান্তর: নাটকের বাজেট নিয়ে কি বলবেন?

চয়নিকা: অভিনয় শিল্পীদের সম্মানী বেড়ে গেছে চারগুণ। অন্যদিকে পরিচালকদের সম্মানী কিন্তু অনেক কমে গেছে। এটা একজন পরিচালকের জন্য অনেক বিব্রতকর ও কষ্টের।

যুগান্তর: দর্শকের কাছে আপনার আবেদন কী?

চয়নিকা: দর্শকের কাছে আমার একটাই আবেদন, দয়া করে বিদেশি চ্যানেল দেখা বন্ধ করুন। আপনারা আমাদের দেশের নাটক দেখুন। এখন অনেক ভালো গল্পের নাটক প্রচার হচ্ছে। এগুলো দেখুন, আমাদের দেশের কাজকে উৎসাহিত করুন।

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.