ওয়েবের কারণে টিভি চ্যানেল ও এজেন্সির সিন্ডিকেট ভাঙছে
jugantor
ওয়েবের কারণে টিভি চ্যানেল ও এজেন্সির সিন্ডিকেট ভাঙছে

  সোহেল আহসান  

২১ জানুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দীর্ঘ সময় ধরেই দর্শকদের বিনোদনের চাহিদা পূরণ করে আসছে টিভি নাটক। দর্শক বৃদ্ধির পাশাপাশি এখন টিভি নাটক নির্মাণও হচ্ছে বেশি। টিভি নাটকের বিকশিত হওয়ার সোনালি সময় ছিল যখন, ঠিক এ সময়টায়ই টিভি চ্যানেল ও কিছু এজেন্সি মিলে নাটক নিয়ন্ত্রণ করা শুরু করে। গত এক দশকে পুরো নাটক ইন্ডাস্ট্রিটাই সিন্ডিকেটের দখলে চলে গেছে। টিভি চ্যানেল আর এজেন্সি যেন হরিহর-আত্মা। গল্পের দিকে মনোনিবেশ না করে পরিচিত কিছু মুখকে নাটকে অভিনয় করার বিষয়ে অনেক বেসরকারি টিভি চ্যানেল থেকে নির্মাতাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়। তাতে করে মানের দিক দিয়ে টিভি নাটক নিম্নগামী হয়েছে। হাতেগোনা কিছু নাটক ছাড়া বেশিরভাগ নাটকই আটকে যায় একটি নির্দিষ্ট ফরমেটে। এতে করে নির্মাতারা বিকল্প পথের সন্ধানে থাকেন। এ ছাড়া এ সিন্ডিকেটের কারণে তরুণ কয়েকজন অভিনয়শিল্পীও নিজেদের মধ্যে এক ধরনের সিন্ডিকেট করে কাজ করা শুরু করেন এবং তাদের পারিশ্রমিক বৃদ্ধির কাজটিও তারা করেন কোনো ধরনের নিয়মকানুন ছাড়াই। এতে করে নাট্য নির্মাতারা এক ধরনের মানসিক চাপের মধ্যে পড়েন। তবে এখন একটু একটু করে দৃশ্যপট বদলাতে শুরু করেছে। প্রযুক্তির উন্নতি আর স্মার্টফোনের সহজলভ্যতার কারণে ওয়েবকেন্দ্রিক নাটকের দিকে দর্শকের আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই নির্মাতারাও এখন টিভিকে গুরুত্ব কম দিয়ে ওয়েব কিংবা অনলাইনের দিকে ঝুঁকছেন। তাতে সেই সিন্ডিকেটের প্রভাব কিছুটা কমতে শুরু করেছে। এ বিষয়ে জ্যেষ্ঠ অভিনেতা ও নাট্যকার ড. ইনামুল হক বলেন, ‘টিভি চ্যানেল ও এজেন্সির মধ্যে যে দহরম মহরম সম্পর্ক ছিল, তা মনে হয় কিছুটা কমছে এখন। কারণ তাদের নির্দেশিত পথেই নাটক নির্মিত হচ্ছিল বেশি। কেমন যেন একটা মেধাহীনতার মহোৎসব শুরু হয়েছিল। গল্প, অভিনয়শিল্পী নির্বাচন এবং সব কিছুতেই তাদের চিন্তাই বাস্তবায়িত হয় বেশি। আমি মনে করি, এতে করে অনেক গুণী অভিনয়শিল্পীর হাতে কাজ কমে গেছে। আর এ সুযোগে গুটিকয়েক অভিনয়শিল্পী নাকি আবার পারিশ্রমিকও বৃদ্ধি করেছে। ওয়েব নাটক সেদিক থেকে কিছুটা স্বস্তির পরিবেশ তৈরি করছে বলে আমি মনে করছি।’

এ বিষয়ে অভিনেতা ও নির্মাতা সালাউদ্দিন লাভলু বলেন, ‘ওয়েব সিরিজ, ইউটিউবে নাটক প্রচার হওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় নির্মাতারা কিছুটা স্বাধীনতা ভোগ করছেন। যেমন, টিভিতে বাজেট স্বল্পতার একটি বিষয় থাকে, সেদিক থেকে ওয়েব নাটকে বাজেট কিছুটা বেশি থাকছে। আর নির্মাতারা ক্রিয়েটিভ ওয়ার্কের বিষয়েও ব্যাপক স্বাধীনতা পাচ্ছেন। এ ছাড়া অন্য কোনো পরিবর্তন আমি দেখছি না। আগে টিভি চ্যানেলের মার্কেটিং বিভাগ থেকে নাটক নিয়ন্ত্রণ করা হতো। এখন তা চলে এসেছে এজেন্সির হাতে। কোনো কোনো টিভি চ্যানেল বছরের বিশেষ বিশেষ সময়ে নাটকের চাঙ্ক বিক্রি করে দেয় এজেন্সির কাছে। আমাদের জন্য খুবই দুর্ভাগ্যের বিষয় যে, একটি নাটক কিংবা শিল্প কর্ম সেটা কেমন হবে সে ক্ষেত্রে স্বাধীনতা নেই চ্যানেল কর্তৃপক্ষ এবং নির্মাতাদের। সেটি নির্ধারিত হচ্ছে একটি বিশেষ অর্থলগ্নিকারী গোষ্ঠী দ্বারা। এটা বাংলা টিভি নাটকের জন্য দুর্ভাগ্যজনক মনে হয় আমার কাছে।’

ওয়েবের কারণে টিভি চ্যানেল ও এজেন্সির সিন্ডিকেট ভাঙছে

 সোহেল আহসান 
২১ জানুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দীর্ঘ সময় ধরেই দর্শকদের বিনোদনের চাহিদা পূরণ করে আসছে টিভি নাটক। দর্শক বৃদ্ধির পাশাপাশি এখন টিভি নাটক নির্মাণও হচ্ছে বেশি। টিভি নাটকের বিকশিত হওয়ার সোনালি সময় ছিল যখন, ঠিক এ সময়টায়ই টিভি চ্যানেল ও কিছু এজেন্সি মিলে নাটক নিয়ন্ত্রণ করা শুরু করে। গত এক দশকে পুরো নাটক ইন্ডাস্ট্রিটাই সিন্ডিকেটের দখলে চলে গেছে। টিভি চ্যানেল আর এজেন্সি যেন হরিহর-আত্মা। গল্পের দিকে মনোনিবেশ না করে পরিচিত কিছু মুখকে নাটকে অভিনয় করার বিষয়ে অনেক বেসরকারি টিভি চ্যানেল থেকে নির্মাতাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়। তাতে করে মানের দিক দিয়ে টিভি নাটক নিম্নগামী হয়েছে। হাতেগোনা কিছু নাটক ছাড়া বেশিরভাগ নাটকই আটকে যায় একটি নির্দিষ্ট ফরমেটে। এতে করে নির্মাতারা বিকল্প পথের সন্ধানে থাকেন। এ ছাড়া এ সিন্ডিকেটের কারণে তরুণ কয়েকজন অভিনয়শিল্পীও নিজেদের মধ্যে এক ধরনের সিন্ডিকেট করে কাজ করা শুরু করেন এবং তাদের পারিশ্রমিক বৃদ্ধির কাজটিও তারা করেন কোনো ধরনের নিয়মকানুন ছাড়াই। এতে করে নাট্য নির্মাতারা এক ধরনের মানসিক চাপের মধ্যে পড়েন। তবে এখন একটু একটু করে দৃশ্যপট বদলাতে শুরু করেছে। প্রযুক্তির উন্নতি আর স্মার্টফোনের সহজলভ্যতার কারণে ওয়েবকেন্দ্রিক নাটকের দিকে দর্শকের আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই নির্মাতারাও এখন টিভিকে গুরুত্ব কম দিয়ে ওয়েব কিংবা অনলাইনের দিকে ঝুঁকছেন। তাতে সেই সিন্ডিকেটের প্রভাব কিছুটা কমতে শুরু করেছে। এ বিষয়ে জ্যেষ্ঠ অভিনেতা ও নাট্যকার ড. ইনামুল হক বলেন, ‘টিভি চ্যানেল ও এজেন্সির মধ্যে যে দহরম মহরম সম্পর্ক ছিল, তা মনে হয় কিছুটা কমছে এখন। কারণ তাদের নির্দেশিত পথেই নাটক নির্মিত হচ্ছিল বেশি। কেমন যেন একটা মেধাহীনতার মহোৎসব শুরু হয়েছিল। গল্প, অভিনয়শিল্পী নির্বাচন এবং সব কিছুতেই তাদের চিন্তাই বাস্তবায়িত হয় বেশি। আমি মনে করি, এতে করে অনেক গুণী অভিনয়শিল্পীর হাতে কাজ কমে গেছে। আর এ সুযোগে গুটিকয়েক অভিনয়শিল্পী নাকি আবার পারিশ্রমিকও বৃদ্ধি করেছে। ওয়েব নাটক সেদিক থেকে কিছুটা স্বস্তির পরিবেশ তৈরি করছে বলে আমি মনে করছি।’

এ বিষয়ে অভিনেতা ও নির্মাতা সালাউদ্দিন লাভলু বলেন, ‘ওয়েব সিরিজ, ইউটিউবে নাটক প্রচার হওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় নির্মাতারা কিছুটা স্বাধীনতা ভোগ করছেন। যেমন, টিভিতে বাজেট স্বল্পতার একটি বিষয় থাকে, সেদিক থেকে ওয়েব নাটকে বাজেট কিছুটা বেশি থাকছে। আর নির্মাতারা ক্রিয়েটিভ ওয়ার্কের বিষয়েও ব্যাপক স্বাধীনতা পাচ্ছেন। এ ছাড়া অন্য কোনো পরিবর্তন আমি দেখছি না। আগে টিভি চ্যানেলের মার্কেটিং বিভাগ থেকে নাটক নিয়ন্ত্রণ করা হতো। এখন তা চলে এসেছে এজেন্সির হাতে। কোনো কোনো টিভি চ্যানেল বছরের বিশেষ বিশেষ সময়ে নাটকের চাঙ্ক বিক্রি করে দেয় এজেন্সির কাছে। আমাদের জন্য খুবই দুর্ভাগ্যের বিষয় যে, একটি নাটক কিংবা শিল্প কর্ম সেটা কেমন হবে সে ক্ষেত্রে স্বাধীনতা নেই চ্যানেল কর্তৃপক্ষ এবং নির্মাতাদের। সেটি নির্ধারিত হচ্ছে একটি বিশেষ অর্থলগ্নিকারী গোষ্ঠী দ্বারা। এটা বাংলা টিভি নাটকের জন্য দুর্ভাগ্যজনক মনে হয় আমার কাছে।’

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন