এত ছবি মুক্তি পাবে কোথায়?
jugantor
এত ছবি মুক্তি পাবে কোথায়?

  হাসান সাইদুল  

১৮ মার্চ ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গত কয়েক বছর ধরে সিনেমা শিল্পের নানা সংকটের কথা শুনে আসছেন সবাই। গণমাধ্যম তো বটে, সোশ্যাল মাধ্যমেও ঢাকাই ছবিপাড়ার দৈন্যদশার চিত্র ফুটে ওঠে হরহামেশাই। এরই মধ্যে করোনার হানায় ভাঙা ইন্ডাস্ট্রি আরও নুয়ে পড়েছে। তবে আশার কথা হচ্ছে, করোনা আতঙ্ক এখনো না কাটলেও কর্মব্যস্ততায় মুখর হয়ে উঠেছে সিনেমাপাড়া। ব্যস্ত হয়েছেন নির্মাতা ও অভিনয়শিল্পীরা। বলা যায় পুরোদমেই শুটিং চলছে। কিছুদিন আগে শাপলা মিডিয়া নামে একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান চলতি বছর ১০০ ছবি নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে। প্রাথমিকভাবে ১০টি ছবি নির্মাণের কাজও শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। অন্যদিকে খলঅভিনেতা মনোয়ার হোসেন ডিপজলও প্রতি মাসে একটি করে ছবি নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন। তার প্রযোজনায় কয়েকটি ছবির শুটিংও চলছে। এ ছাড়া অন্যান্য প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানসহ সরকারি অনুদানের একাধিক ছবির শুটিং চলছে দেশের বিভিন্ন লোকেশনে। এরই মধ্যে রয়েছে দেশসেরা নায়ক শাকিব খান অভিনীত ছবিও। বলা যায় করোনার এই কঠিন সময়ের মধ্যেও নির্মাণের দিক থেকে ঢাকাই ছবিপাড়া একেবারেই চাঙা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিভিন্ন নির্মাতা ও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের আনুমানিক ত্রিশটি ছবির প্রি প্রোডাকশন ও শুটিংয়ের কাজ এ মুহূর্তে চলমান। কিছু ছবির শুটিং চলছে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন লোকেশনে। পুরনো নির্মাতাদের পাশাপাশি এসব ছবি পরিচালনা করছেন অনেক নতুন নির্মাতা। মহরত শেষে শুটিংয়ের অপেক্ষায় আছে কিছু ছবি। এ ছাড়া বিশের অধিক ছবি নির্মাণ শেষে সম্পাদনার টেবিলে রয়েছে। মুক্তির জন্য প্রস্তুত রয়েছে ১৫টির মতো ছবি। অর্থাৎ সম্পূর্ণ কাজ শেষ হলে চলতি বছর তৈরি ছবির পরিমাণ দাঁড়াবে ৬০-এর অধিক। অথচ দেশের সবকটি সিনেমাহল খোলা থাকা সত্ত্বেও ২০১৯ সালে মাত্র ৪১টি ছবি মুক্তি পেয়েছে। ২০২০ সাল কেটে গেছে করোনায়। একই বছরের সেপ্টেম্বর থেকে সিনেমা হল খোলার নির্দেশনা এলেও মাল্টিপ্লেক্সসহ দেশের হাতেগোনা কয়েকটি সিনেমা হল চালু হয়েছে। বাকি সব বন্ধ। স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে, নির্মাণচলতি গত বছরের তুলনায় এত বিশালসংখ্যক ছবি মুক্তি পাবে কোথায়?

শুটিংচলতি ছবিগুলোতে অভিনয় নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন দেশের জনপ্রিয় প্রায় সব শিল্পী। চিত্রনায়িকা রোজিনা পরিচালিত একটি ছবির মাধ্যমে দীর্ঘদিন পর অভিনয়ে ফিরেছেন জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। চিত্রনায়ক শাকিব খান, আরেফিন শুভ, নিরব, ইমন, সাইমন সাদিক, বাপ্পি চৌধুরী, সিয়াম আহমেদও একাধিক চলচ্চিত্রের শুটিং নিয়ে ব্যস্ত আছেন। নায়িকাদের মধ্যে প্রায় সবাই কোনো না কোনো ছবির শুটিং নিয়ে ব্যস্ত। এ ব্যস্ততা দিয়ে হয়তো শিল্পীদের বেকারত্ব ঘুচছে, কিন্তু ছবিগুলোর মধ্যে সবই কী দর্শক আদৌ দেখতে পাবেন? যদি দেখার সুযোগ থাকে তবে কীভাবে, কবে নাগাদ দেখবেন এ নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন। একদিকে সিনেমা হল বন্ধের প্রতিযোগিতা, অন্যদিকে করোনার হানা, সর্বোপরি মানসম্মত ছবির অভাবে বাংলা ছবির দর্শক এখন নেই বললেই চলে। হাতেগোনা কয়েকটি ছবি দিয়ে করোনার মতো এ দুঃসময়ে মাল্টিপ্লেক্সকেন্দ্রিক ছবি প্রদর্শন করে আদৌ কী ইন্ডাস্ট্রি টিকিয়ে রাখা সম্ভব- এটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এত ছবি মুক্তি পাবে কোথায়?

 হাসান সাইদুল 
১৮ মার্চ ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গত কয়েক বছর ধরে সিনেমা শিল্পের নানা সংকটের কথা শুনে আসছেন সবাই। গণমাধ্যম তো বটে, সোশ্যাল মাধ্যমেও ঢাকাই ছবিপাড়ার দৈন্যদশার চিত্র ফুটে ওঠে হরহামেশাই। এরই মধ্যে করোনার হানায় ভাঙা ইন্ডাস্ট্রি আরও নুয়ে পড়েছে। তবে আশার কথা হচ্ছে, করোনা আতঙ্ক এখনো না কাটলেও কর্মব্যস্ততায় মুখর হয়ে উঠেছে সিনেমাপাড়া। ব্যস্ত হয়েছেন নির্মাতা ও অভিনয়শিল্পীরা। বলা যায় পুরোদমেই শুটিং চলছে। কিছুদিন আগে শাপলা মিডিয়া নামে একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান চলতি বছর ১০০ ছবি নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে। প্রাথমিকভাবে ১০টি ছবি নির্মাণের কাজও শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। অন্যদিকে খলঅভিনেতা মনোয়ার হোসেন ডিপজলও প্রতি মাসে একটি করে ছবি নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন। তার প্রযোজনায় কয়েকটি ছবির শুটিংও চলছে। এ ছাড়া অন্যান্য প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানসহ সরকারি অনুদানের একাধিক ছবির শুটিং চলছে দেশের বিভিন্ন লোকেশনে। এরই মধ্যে রয়েছে দেশসেরা নায়ক শাকিব খান অভিনীত ছবিও। বলা যায় করোনার এই কঠিন সময়ের মধ্যেও নির্মাণের দিক থেকে ঢাকাই ছবিপাড়া একেবারেই চাঙা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিভিন্ন নির্মাতা ও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের আনুমানিক ত্রিশটি ছবির প্রি প্রোডাকশন ও শুটিংয়ের কাজ এ মুহূর্তে চলমান। কিছু ছবির শুটিং চলছে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন লোকেশনে। পুরনো নির্মাতাদের পাশাপাশি এসব ছবি পরিচালনা করছেন অনেক নতুন নির্মাতা। মহরত শেষে শুটিংয়ের অপেক্ষায় আছে কিছু ছবি। এ ছাড়া বিশের অধিক ছবি নির্মাণ শেষে সম্পাদনার টেবিলে রয়েছে। মুক্তির জন্য প্রস্তুত রয়েছে ১৫টির মতো ছবি। অর্থাৎ সম্পূর্ণ কাজ শেষ হলে চলতি বছর তৈরি ছবির পরিমাণ দাঁড়াবে ৬০-এর অধিক। অথচ দেশের সবকটি সিনেমাহল খোলা থাকা সত্ত্বেও ২০১৯ সালে মাত্র ৪১টি ছবি মুক্তি পেয়েছে। ২০২০ সাল কেটে গেছে করোনায়। একই বছরের সেপ্টেম্বর থেকে সিনেমা হল খোলার নির্দেশনা এলেও মাল্টিপ্লেক্সসহ দেশের হাতেগোনা কয়েকটি সিনেমা হল চালু হয়েছে। বাকি সব বন্ধ। স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে, নির্মাণচলতি গত বছরের তুলনায় এত বিশালসংখ্যক ছবি মুক্তি পাবে কোথায়?

শুটিংচলতি ছবিগুলোতে অভিনয় নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন দেশের জনপ্রিয় প্রায় সব শিল্পী। চিত্রনায়িকা রোজিনা পরিচালিত একটি ছবির মাধ্যমে দীর্ঘদিন পর অভিনয়ে ফিরেছেন জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। চিত্রনায়ক শাকিব খান, আরেফিন শুভ, নিরব, ইমন, সাইমন সাদিক, বাপ্পি চৌধুরী, সিয়াম আহমেদও একাধিক চলচ্চিত্রের শুটিং নিয়ে ব্যস্ত আছেন। নায়িকাদের মধ্যে প্রায় সবাই কোনো না কোনো ছবির শুটিং নিয়ে ব্যস্ত। এ ব্যস্ততা দিয়ে হয়তো শিল্পীদের বেকারত্ব ঘুচছে, কিন্তু ছবিগুলোর মধ্যে সবই কী দর্শক আদৌ দেখতে পাবেন? যদি দেখার সুযোগ থাকে তবে কীভাবে, কবে নাগাদ দেখবেন এ নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন। একদিকে সিনেমা হল বন্ধের প্রতিযোগিতা, অন্যদিকে করোনার হানা, সর্বোপরি মানসম্মত ছবির অভাবে বাংলা ছবির দর্শক এখন নেই বললেই চলে। হাতেগোনা কয়েকটি ছবি দিয়ে করোনার মতো এ দুঃসময়ে মাল্টিপ্লেক্সকেন্দ্রিক ছবি প্রদর্শন করে আদৌ কী ইন্ডাস্ট্রি টিকিয়ে রাখা সম্ভব- এটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন