শোবিজ অঙ্গনে আবারও করোনার থাবা
jugantor
শোবিজ অঙ্গনে আবারও করোনার থাবা

  এসএম শাফায়েত  

০৮ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিগত বছরজুড়ে করোনাভাইরাস নিয়ে উৎকণ্ঠা, ভয় শেষ হতে না হতেই সেকেন্ড ওয়েভ বা দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে। কেবল পশ্চিমা দেশেই নয়, বাংলাদেশ ও প্রতিবেশী দেশ ভারতেও দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলার প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান এসেছে সরকারের পক্ষ থেকে। তারপরও আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে কোভিড-১৯ সংক্রমণ। এর আগে করোনা প্রতিষেধক টিকা নিয়ে বেশ স্বতঃস্ফূর্ত ছিল সাধারণ মানুষ। ভুলে গেলে চলবে না ‘দুষ্টের ছলের অভাব হয় না’!

করোনার বর্তমান পরিস্থিতি দেখে মানুষের অন্তত এ প্রবাদ বাক্য মনে করা উচিত বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সংক্রমণের হার, মৃতের সংখ্যা কম দেখে উচ্ছ্বাসের কারণ নেই। প্রতিদিন রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধিতে স্পষ্ট যে, মানব শরীরে হানা দিতে করোনা ভাইরাস তার চারিত্রিক পরিবর্তন শুরু করেছে। আর সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ তালিকায় দীর্ঘ হচ্ছে তারকা অভিনেতা-অভিনেত্রীদের নাম। ইতোমধ্যে দেশি-বিদেশি প্রায় অর্ধশতাধিক তারকা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। কেউ সুস্থ হয়েছেন কেউ বা রয়েছেন জীবন সংকটের মধ্যে।

করোনার প্রথম ঢেউয়ের একেবারে শেষের দিকে আক্রান্ত হয়েছিলেন অভিনেতা ও সংসদ সদস্য আকবর হোসেন পাঠান ফারুক। সিঙ্গাপুর থেকে উন্নত চিকিৎসা নিয়ে দেশে ফিরেই করোনায় আক্রান্ত হন তিনি। গত বছরের ১৫ নভেম্বর তার করোনা টেস্টের রিপোর্ট পজিটিভ আসে। এরপর হাসপাতালে ভর্তি হন এ অভিনেতা। করোনামুক্ত হয়ে হাসপাতাল থেকে বাসায় ফেরার মাত্র ৮ দিনের মধ্যে আবারও একই ভাইরাসে আক্রান্ত হন তিনি। একই সঙ্গে আক্রান্ত হয়েছিলেন তার সহধর্মিণী ফারহানা ফারুকও।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে আক্রান্ত হয়েছেন চিত্রনায়ক রিয়াজ। ‘বঙ্গবন্ধু’ ছবির শুটিংয়ে মুম্বাই যাওয়ার কথা ছিল তার। তবে নিয়ম অনুযায়ী দেশ ত্যাগ করার আগে ২৮ মার্চ রাজধানীর একটি হাসপাতালে কোভিড-১৯ টেস্ট করান তিনি। পরদিন পরীক্ষার ফল হাতে এলে রিয়াজ জানতে পারেন, তার কোভিড-১৯ পজিটিভ। আপাতত শুটিংয়ে ভারত যাওয়া হচ্ছে না রিয়াজের। বাসায় থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন তিনি।

গত ২ মার্চ কোভিড-১৯ প্রতিরোধী টিকা নিয়েছিলেন স্বনামধন্য চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক, অভিনেতা কাজী হায়াৎ ও তার স্ত্রী। এরপর গত ৬ মার্চ থেকে প্রচণ্ড জ্বর হয় এ নির্মাতার। এ কারণে স্ত্রীসহ করোনা পরীক্ষা করেন তিনি। এতে দু’জনেরই ফল পজিটিভ এসেছে বলে জানানো হয়। ৮ মার্চ সকালে তাদের করোনার পরীক্ষা করা হয়েছিল। সেদিনই সন্ধ্যায় এ ফল পান তারা। কীভাবে আক্রান্ত হয়েছিলেন সে ধরনের একটি সম্ভাবনার কথাও এ নির্মাতা মিডিয়ায় তখন বলেছিলেন। ‘আক্রান্তের কারণ হতে পারে অসতর্কতা। অনেক সময় তো ভুলে মুখে মাস্ক থাকে না। লিফটে নিয়মিত ওঠানামা করতে হয়। এভাবেই হয়তো কোনোভাবে আক্রান্ত হয়েছি’- নিজের আক্রান্তের বিষয়ে এমনটিই বলেছেন কাজী হায়াৎ। তবে বর্তমানে তিনি করোনামুক্ত হয়ে নিজ বাসায় বিশ্রামে আছেন।

গত ২৬ মার্চ রাজধানীর একটি হোটেলে বেশ ঘটা করেই ছেলের বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজন করেন ওমর সানী ও মৌসুমী দম্পতি। ঠিক তার পরের দিন থেকে পরিবারের সবাই অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর করোনার নমুনা পরীক্ষা করলে ৩ এপ্রিল জানতে পারেন একমাত্র ওমর সানী ছাড়া মৌসুমীসহ পরিবারের সবাই করোনায় আক্রান্ত। অথচ গত ২৪ ফেব্রুয়ারি একসঙ্গে করোনার টিকা নিয়েছিলেন মৌসুমী ও ওমর সানী।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের আঘাতে বিপর্যস্ত কিংবদন্তি অভিনেতা, পরিচালক ও সাহিত্যিক আবুল হায়াত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে আক্রান্তের খবরসহ প্লাজমা সন্ধান করেন তার মেয়ে নাতাশা হায়াত। ৩১ মার্চ রাত থেকে হাসপাতালে ভর্তি আবুল হায়াত। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। তিনি চিকিৎসকদের সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। নাতাশা জানান, তার বাবার জন্য ‘এ’ পজিটিভ গ্রুপের প্লাজমা প্রয়োজন ছিল। সে জন্য তিন সপ্তাহ আগে করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন এমন ব্যক্তিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলেন তিনি। প্লাজমা পাওয়ার পর তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

অভিনেত্রী আফসানা মিমি করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ১ এপ্রিল তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার পারিবারিক ঘনিষ্ঠজনরা জানান, আফসানা মিমির শরীর সম্প্রতি খারাপ হওয়ায় তার করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হয়। রিপোর্টে ‘কোভিড-১৯’ পজিটিভ আসে। এরপর আফসানা মিমি নিজ বাসায়ই আইসোলেশনে ছিলেন। শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন অভিনেতা ও নির্মাতা গাজী রাকায়েত। ৩১ মার্চ তার করোনা ফলাফল পজিটিভ আসে। চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি নিজ বাসায় আইসোলেশনে আছেন।

দ্বিতীয় ধাপের করোনা আঘাত করেছে সংগীত পরিচালক ফরিদ আহমেদকেও। বেশ কয়েক দিন ভীষণ জ্বর ছিল তার। খাবারে স্বাদ-গন্ধ কিছুই পাচ্ছিলেন না। তিনবার করোনার পরীক্ষা করানো হয়। প্রথম দুই দফায় নেগেটিভ এলেও তৃতীয়বারে কোভিড-১৯ পজিটিভ ধরা পড়ে। এরপর ২৫ মার্চ রাতে তাকে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করানো হয়। করোনায় ফরিদ আহমেদের ফুসফুসের ৬০ ভাগ সংক্রমিত হয়েছে বলে জানান স্ত্রী শিউলি আক্তার। অক্সিজেনের সংকট রয়েছে।

অভিনেত্রী শামিমা তুষ্টি করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে জানিয়েছেন। আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাব্য স্থান হিসাবে তিনি শুটিং স্পটকেই দায়ী করেছেন। বর্তমানে তিনি নিজ বাসায় আইসোলেশনে আছেন। এদিকে ডিরেক্টরস গিল্ডের সদ্য নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান সাগরও করোনায় আক্রান্ত হয়ে নিজ বাসায় আইসোলেশনে রয়েছেন।

এদিকে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৫ এপ্রিল মারা গেছেন নির্মাতা মাসুদ কায়নাত। এ ছাড়া টেকনিশিয়ানদের অনেকেই করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

শোবিজ অঙ্গনে আবারও করোনার থাবা

 এসএম শাফায়েত 
০৮ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিগত বছরজুড়ে করোনাভাইরাস নিয়ে উৎকণ্ঠা, ভয় শেষ হতে না হতেই সেকেন্ড ওয়েভ বা দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে। কেবল পশ্চিমা দেশেই নয়, বাংলাদেশ ও প্রতিবেশী দেশ ভারতেও দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলার প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান এসেছে সরকারের পক্ষ থেকে। তারপরও আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে কোভিড-১৯ সংক্রমণ। এর আগে করোনা প্রতিষেধক টিকা নিয়ে বেশ স্বতঃস্ফূর্ত ছিল সাধারণ মানুষ। ভুলে গেলে চলবে না ‘দুষ্টের ছলের অভাব হয় না’!

করোনার বর্তমান পরিস্থিতি দেখে মানুষের অন্তত এ প্রবাদ বাক্য মনে করা উচিত বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সংক্রমণের হার, মৃতের সংখ্যা কম দেখে উচ্ছ্বাসের কারণ নেই। প্রতিদিন রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধিতে স্পষ্ট যে, মানব শরীরে হানা দিতে করোনা ভাইরাস তার চারিত্রিক পরিবর্তন শুরু করেছে। আর সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ তালিকায় দীর্ঘ হচ্ছে তারকা অভিনেতা-অভিনেত্রীদের নাম। ইতোমধ্যে দেশি-বিদেশি প্রায় অর্ধশতাধিক তারকা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। কেউ সুস্থ হয়েছেন কেউ বা রয়েছেন জীবন সংকটের মধ্যে।

করোনার প্রথম ঢেউয়ের একেবারে শেষের দিকে আক্রান্ত হয়েছিলেন অভিনেতা ও সংসদ সদস্য আকবর হোসেন পাঠান ফারুক। সিঙ্গাপুর থেকে উন্নত চিকিৎসা নিয়ে দেশে ফিরেই করোনায় আক্রান্ত হন তিনি। গত বছরের ১৫ নভেম্বর তার করোনা টেস্টের রিপোর্ট পজিটিভ আসে। এরপর হাসপাতালে ভর্তি হন এ অভিনেতা। করোনামুক্ত হয়ে হাসপাতাল থেকে বাসায় ফেরার মাত্র ৮ দিনের মধ্যে আবারও একই ভাইরাসে আক্রান্ত হন তিনি। একই সঙ্গে আক্রান্ত হয়েছিলেন তার সহধর্মিণী ফারহানা ফারুকও।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে আক্রান্ত হয়েছেন চিত্রনায়ক রিয়াজ। ‘বঙ্গবন্ধু’ ছবির শুটিংয়ে মুম্বাই যাওয়ার কথা ছিল তার। তবে নিয়ম অনুযায়ী দেশ ত্যাগ করার আগে ২৮ মার্চ রাজধানীর একটি হাসপাতালে কোভিড-১৯ টেস্ট করান তিনি। পরদিন পরীক্ষার ফল হাতে এলে রিয়াজ জানতে পারেন, তার কোভিড-১৯ পজিটিভ। আপাতত শুটিংয়ে ভারত যাওয়া হচ্ছে না রিয়াজের। বাসায় থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন তিনি।

গত ২ মার্চ কোভিড-১৯ প্রতিরোধী টিকা নিয়েছিলেন স্বনামধন্য চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক, অভিনেতা কাজী হায়াৎ ও তার স্ত্রী। এরপর গত ৬ মার্চ থেকে প্রচণ্ড জ্বর হয় এ নির্মাতার। এ কারণে স্ত্রীসহ করোনা পরীক্ষা করেন তিনি। এতে দু’জনেরই ফল পজিটিভ এসেছে বলে জানানো হয়। ৮ মার্চ সকালে তাদের করোনার পরীক্ষা করা হয়েছিল। সেদিনই সন্ধ্যায় এ ফল পান তারা। কীভাবে আক্রান্ত হয়েছিলেন সে ধরনের একটি সম্ভাবনার কথাও এ নির্মাতা মিডিয়ায় তখন বলেছিলেন। ‘আক্রান্তের কারণ হতে পারে অসতর্কতা। অনেক সময় তো ভুলে মুখে মাস্ক থাকে না। লিফটে নিয়মিত ওঠানামা করতে হয়। এভাবেই হয়তো কোনোভাবে আক্রান্ত হয়েছি’- নিজের আক্রান্তের বিষয়ে এমনটিই বলেছেন কাজী হায়াৎ। তবে বর্তমানে তিনি করোনামুক্ত হয়ে নিজ বাসায় বিশ্রামে আছেন।

গত ২৬ মার্চ রাজধানীর একটি হোটেলে বেশ ঘটা করেই ছেলের বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজন করেন ওমর সানী ও মৌসুমী দম্পতি। ঠিক তার পরের দিন থেকে পরিবারের সবাই অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর করোনার নমুনা পরীক্ষা করলে ৩ এপ্রিল জানতে পারেন একমাত্র ওমর সানী ছাড়া মৌসুমীসহ পরিবারের সবাই করোনায় আক্রান্ত। অথচ গত ২৪ ফেব্রুয়ারি একসঙ্গে করোনার টিকা নিয়েছিলেন মৌসুমী ও ওমর সানী।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের আঘাতে বিপর্যস্ত কিংবদন্তি অভিনেতা, পরিচালক ও সাহিত্যিক আবুল হায়াত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে আক্রান্তের খবরসহ প্লাজমা সন্ধান করেন তার মেয়ে নাতাশা হায়াত। ৩১ মার্চ রাত থেকে হাসপাতালে ভর্তি আবুল হায়াত। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। তিনি চিকিৎসকদের সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। নাতাশা জানান, তার বাবার জন্য ‘এ’ পজিটিভ গ্রুপের প্লাজমা প্রয়োজন ছিল। সে জন্য তিন সপ্তাহ আগে করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন এমন ব্যক্তিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলেন তিনি। প্লাজমা পাওয়ার পর তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

অভিনেত্রী আফসানা মিমি করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ১ এপ্রিল তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার পারিবারিক ঘনিষ্ঠজনরা জানান, আফসানা মিমির শরীর সম্প্রতি খারাপ হওয়ায় তার করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হয়। রিপোর্টে ‘কোভিড-১৯’ পজিটিভ আসে। এরপর আফসানা মিমি নিজ বাসায়ই আইসোলেশনে ছিলেন। শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন অভিনেতা ও নির্মাতা গাজী রাকায়েত। ৩১ মার্চ তার করোনা ফলাফল পজিটিভ আসে। চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি নিজ বাসায় আইসোলেশনে আছেন।

দ্বিতীয় ধাপের করোনা আঘাত করেছে সংগীত পরিচালক ফরিদ আহমেদকেও। বেশ কয়েক দিন ভীষণ জ্বর ছিল তার। খাবারে স্বাদ-গন্ধ কিছুই পাচ্ছিলেন না। তিনবার করোনার পরীক্ষা করানো হয়। প্রথম দুই দফায় নেগেটিভ এলেও তৃতীয়বারে কোভিড-১৯ পজিটিভ ধরা পড়ে। এরপর ২৫ মার্চ রাতে তাকে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করানো হয়। করোনায় ফরিদ আহমেদের ফুসফুসের ৬০ ভাগ সংক্রমিত হয়েছে বলে জানান স্ত্রী শিউলি আক্তার। অক্সিজেনের সংকট রয়েছে।

অভিনেত্রী শামিমা তুষ্টি করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে জানিয়েছেন। আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাব্য স্থান হিসাবে তিনি শুটিং স্পটকেই দায়ী করেছেন। বর্তমানে তিনি নিজ বাসায় আইসোলেশনে আছেন। এদিকে ডিরেক্টরস গিল্ডের সদ্য নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান সাগরও করোনায় আক্রান্ত হয়ে নিজ বাসায় আইসোলেশনে রয়েছেন।

এদিকে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৫ এপ্রিল মারা গেছেন নির্মাতা মাসুদ কায়নাত। এ ছাড়া টেকনিশিয়ানদের অনেকেই করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন