ত্রাতার ভূমিকায় সোনু
jugantor
ত্রাতার ভূমিকায় সোনু

  তারা ঝিলমিল ডেস্ক  

১০ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ যখন পুরো ভারতকে তছনছ করে দিচ্ছে, ঠিক তখন ‘মুশকিল আসান’ হয়ে দেখা দিলেন ভারতের প্রখ্যাত অভিনেতা সোনু সোদ।কোভিড আক্রান্ত রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি, জরুরি অক্সিজেন সরবরাহর, চিকিৎসার খরচ, রোগীদের খাবার-সবকিছুতেই তার উপস্থিতি মানুষের মনে আশার সঞ্চার করেছে। কীভাবে সামলাচ্ছেন এত কিছু?

নিজেই টুইট করে সম্প্রতি জানিয়েছেন সে কথা।টুইটারে একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন সোনু। ভিডিওটি তার বাড়ির দুধ বিক্রেতার। সেই বিক্রেতার অভিযোগ, ‘সারা দিন তার মোবাইলে ফোন আসে। সবাই ফোন করে সোনুর খোঁজ করছেন। কেউ হাসপাতালে ভর্তি করার আকুতি জানাচ্ছেন, আবারও কেউ বলছেন তার কথা সোনুর কাছে ঠিকভাবে পৌঁছানো হচ্ছে না। এসব তিনি সামলাতে পারছেন না।’ ভিডিওতে হাসতে হাসতে সোনুও উত্তর দিচ্ছেন, ‘মানুষের সেবা তো করতেই হবে। আমার কাছেও তো সারা দিন অনেক ফোন আসে। আমি কি সামলাই না!’ করুণ স্বরে সেই দুধ বিক্রেতার উত্তর, ‘আপনার মতো ক্ষমতা আর শক্তি আমার নেই। আমি আমার সাধ্যমতো কাজ করি।’ এই ভিডিও শেয়ার করে টুইটারে সোনু লিখেছেন-‘এত চাপ আর ও নিতে পারছে না। সবাই আমাকে প্রশ্ন করেন, কী করে আমি সবটা সামলাই। আমি বলব, একদিন এসে আমার সঙ্গে থাকুন। তাহলেই বুঝতে পারবেন।’

করোনাকালের পুরোটা সময় ভারতবাসীকে সোনু এতটাই সহযোগিতা করছেন, রীতিমতো তিনিই হয়ে উঠেছেন জাতীয় বীর। রাতেও ঘুমাতে পারছেন না তিনি। শুধুই অসহায় মানুষের সাহায্যের আর্তি। টুইটারে আরেকটি ভিডিও শেয়ার করে তিনি লিখেছেন, ‘এই গতিতে সাহায্যের আবেদন আসছে। আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করছি, সবাইকে সাহায্য করার। যদি কারও সাহায্যের উত্তর না দিতে পারি, আমাদের ক্ষমা করবেন।’ সোনু আরেকটি টুইটে লিখেছেন-‘একজন আমাকে প্রশ্ন করেছিলেন, কী করে আমি এত তাড়াতাড়ি সবকিছুর ব্যবস্থা করে ফেলি? আমি অচেনা কাউকে ফোন করার আগে ভাবি না, আর অচেনা কাউকে সাহায্য করার আগে ভাবি না।’

শুধু তাই নয়, একদিন এক কোভিড রোগীর প্রাণ বাঁচাতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন সোনু। সেই রোগীকে সুস্থ করে তোলার জন্য মরিয়া চেষ্টা করেছিলেন তিনি। সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন আক্রান্তের পরিবারকে। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। সে সময় হতাশাগ্রস্তও হয়ে পড়েছিলেন এ অভিনেতা। শুধু এটুকু বলেছিলেন, ‘মনে হচ্ছিল নিজের পরিবারের কাউকে হারিয়েছি!’

প্রথম ঢেউয়ের সময় ভারতের পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়ি পৌঁছে দিয়েছেন, বুভুক্ষু মানুষের মুখে খাবার তুলে দিয়েছেন, আর্থিক সাহায্য করেছেন সোনু। দ্বিতীয় ঢেউয়ে আক্রান্তদের জন্য হাসপাতালের শয্যা, অক্সিজেনের ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন। সেসব কথা তুলে ধরে এবার তার ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা নেট দুনিয়ার ভিন্নরকম এক দাবি করে বসলেন। ভারতের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসাবে সোনু সোদকেই দেখতে চান তারা। বলেছেন, ‘মানুষের সংকটে যিনি ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারেন, সর্বোচ্চ ক্ষমতার চেয়ার তাকেই মানায়’। ভারতের প্রখ্যাত অভিনেত্রী হুমা কুরেশীও এ প্রসঙ্গে টুইটারে বলেন, ‘সোনু সোদের ভোটে দাঁড়ানো উচিত। তাকে দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দেখতে চাই।’ এ নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যেও বেশ ইতিবাচক প্রভাব লক্ষ করা গেছে। বিষয়টি নিয়ে শেষ পর্যন্ত মুখও খুলেছেন সোনু। তিনি বলেছেন, ‘নেটিজেনদের মন্তব্য আমার কাছে সত্যিই মূল্যবান। কিন্তু তা বলে প্রধানমন্ত্রী পদে আমি এখন বেমানান। এটা বাড়াবাড়ি। হুমার মন্তব্য আমার কাছে সত্যিই অনেক বড় পাওয়া। কিন্তু আমি মনে করি, আমাদের প্রধানমন্ত্রী যথেষ্ট দায়িত্ববান।’

তা ছাড়া প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য বয়সটাও একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে জানিয়েছেন তিনি। এ প্রসঙ্গে সোনু বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পক্ষে আমার বয়স অনেক কম। এটা ঠিক যে রাজীব গান্ধী ৪০ বছর বয়সে প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। কিন্তু উনি এমন পরিবার থেকে এসেছেন, যেখানে রাজনৈতিক পরিসর অনেক শক্তিশালী। সেই তুলনায় আমার কোনো অভিজ্ঞতাই নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘মানুষের জন্য কাজ করতে কোনো রাজনৈতিক পদের দরকার হয় না। আমরা সবাই সাধারণ মানুষ হিসাবেই মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারি।’

ত্রাতার ভূমিকায় সোনু

 তারা ঝিলমিল ডেস্ক 
১০ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ যখন পুরো ভারতকে তছনছ করে দিচ্ছে, ঠিক তখন ‘মুশকিল আসান’ হয়ে দেখা দিলেন ভারতের প্রখ্যাত অভিনেতা সোনু সোদ।কোভিড আক্রান্ত রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি, জরুরি অক্সিজেন সরবরাহর, চিকিৎসার খরচ, রোগীদের খাবার-সবকিছুতেই তার উপস্থিতি মানুষের মনে আশার সঞ্চার করেছে। কীভাবে সামলাচ্ছেন এত কিছু?

নিজেই টুইট করে সম্প্রতি জানিয়েছেন সে কথা।টুইটারে একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন সোনু। ভিডিওটি তার বাড়ির দুধ বিক্রেতার। সেই বিক্রেতার অভিযোগ, ‘সারা দিন তার মোবাইলে ফোন আসে। সবাই ফোন করে সোনুর খোঁজ করছেন। কেউ হাসপাতালে ভর্তি করার আকুতি জানাচ্ছেন, আবারও কেউ বলছেন তার কথা সোনুর কাছে ঠিকভাবে পৌঁছানো হচ্ছে না। এসব তিনি সামলাতে পারছেন না।’ ভিডিওতে হাসতে হাসতে সোনুও উত্তর দিচ্ছেন, ‘মানুষের সেবা তো করতেই হবে। আমার কাছেও তো সারা দিন অনেক ফোন আসে। আমি কি সামলাই না!’ করুণ স্বরে সেই দুধ বিক্রেতার উত্তর, ‘আপনার মতো ক্ষমতা আর শক্তি আমার নেই। আমি আমার সাধ্যমতো কাজ করি।’ এই ভিডিও শেয়ার করে টুইটারে সোনু লিখেছেন-‘এত চাপ আর ও নিতে পারছে না। সবাই আমাকে প্রশ্ন করেন, কী করে আমি সবটা সামলাই। আমি বলব, একদিন এসে আমার সঙ্গে থাকুন। তাহলেই বুঝতে পারবেন।’

করোনাকালের পুরোটা সময় ভারতবাসীকে সোনু এতটাই সহযোগিতা করছেন, রীতিমতো তিনিই হয়ে উঠেছেন জাতীয় বীর। রাতেও ঘুমাতে পারছেন না তিনি। শুধুই অসহায় মানুষের সাহায্যের আর্তি। টুইটারে আরেকটি ভিডিও শেয়ার করে তিনি লিখেছেন, ‘এই গতিতে সাহায্যের আবেদন আসছে। আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করছি, সবাইকে সাহায্য করার। যদি কারও সাহায্যের উত্তর না দিতে পারি, আমাদের ক্ষমা করবেন।’ সোনু আরেকটি টুইটে লিখেছেন-‘একজন আমাকে প্রশ্ন করেছিলেন, কী করে আমি এত তাড়াতাড়ি সবকিছুর ব্যবস্থা করে ফেলি? আমি অচেনা কাউকে ফোন করার আগে ভাবি না, আর অচেনা কাউকে সাহায্য করার আগে ভাবি না।’

শুধু তাই নয়, একদিন এক কোভিড রোগীর প্রাণ বাঁচাতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন সোনু। সেই রোগীকে সুস্থ করে তোলার জন্য মরিয়া চেষ্টা করেছিলেন তিনি। সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন আক্রান্তের পরিবারকে। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। সে সময় হতাশাগ্রস্তও হয়ে পড়েছিলেন এ অভিনেতা। শুধু এটুকু বলেছিলেন, ‘মনে হচ্ছিল নিজের পরিবারের কাউকে হারিয়েছি!’

প্রথম ঢেউয়ের সময় ভারতের পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়ি পৌঁছে দিয়েছেন, বুভুক্ষু মানুষের মুখে খাবার তুলে দিয়েছেন, আর্থিক সাহায্য করেছেন সোনু। দ্বিতীয় ঢেউয়ে আক্রান্তদের জন্য হাসপাতালের শয্যা, অক্সিজেনের ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন। সেসব কথা তুলে ধরে এবার তার ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা নেট দুনিয়ার ভিন্নরকম এক দাবি করে বসলেন। ভারতের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসাবে সোনু সোদকেই দেখতে চান তারা। বলেছেন, ‘মানুষের সংকটে যিনি ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারেন, সর্বোচ্চ ক্ষমতার চেয়ার তাকেই মানায়’। ভারতের প্রখ্যাত অভিনেত্রী হুমা কুরেশীও এ প্রসঙ্গে টুইটারে বলেন, ‘সোনু সোদের ভোটে দাঁড়ানো উচিত। তাকে দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দেখতে চাই।’ এ নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যেও বেশ ইতিবাচক প্রভাব লক্ষ করা গেছে। বিষয়টি নিয়ে শেষ পর্যন্ত মুখও খুলেছেন সোনু। তিনি বলেছেন, ‘নেটিজেনদের মন্তব্য আমার কাছে সত্যিই মূল্যবান। কিন্তু তা বলে প্রধানমন্ত্রী পদে আমি এখন বেমানান। এটা বাড়াবাড়ি। হুমার মন্তব্য আমার কাছে সত্যিই অনেক বড় পাওয়া। কিন্তু আমি মনে করি, আমাদের প্রধানমন্ত্রী যথেষ্ট দায়িত্ববান।’

তা ছাড়া প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য বয়সটাও একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে জানিয়েছেন তিনি। এ প্রসঙ্গে সোনু বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পক্ষে আমার বয়স অনেক কম। এটা ঠিক যে রাজীব গান্ধী ৪০ বছর বয়সে প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। কিন্তু উনি এমন পরিবার থেকে এসেছেন, যেখানে রাজনৈতিক পরিসর অনেক শক্তিশালী। সেই তুলনায় আমার কোনো অভিজ্ঞতাই নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘মানুষের জন্য কাজ করতে কোনো রাজনৈতিক পদের দরকার হয় না। আমরা সবাই সাধারণ মানুষ হিসাবেই মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারি।’

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন