শান শাহেদ : পাহাড়ি চট্টলার কণ্ঠ জাদুকর
jugantor
আলো আঁধার
শান শাহেদ : পাহাড়ি চট্টলার কণ্ঠ জাদুকর

  মহিউদ্দীন জুয়েল  

১৫ জুলাই ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বন্দর নগরী চট্টগ্রাম। এ শহরেই বেড়ে উঠেছেন গানপ্রিয় এক ছেলে, শান শাহেদ। পাহাড়ের কোলঘেঁষে যার বেড়ে ওঠা। শহরের যেখানেই কনসার্ট, তারুণ্যের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস, সেখানেই মঞ্চ কাঁপাতে দেখা যায় তাকে।

স্কুলে থাকতেই গানের সঙ্গে বন্ধুত্ব। এরপর কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে কয়েকজন বন্ধু মিলে গড়ে তোলেন একটি ব্যান্ড দল। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় শাটল ট্রেন শাহেদকে গানের ভুবনে আসন গেড়ে দিয়েছিল স্থায়ীভাবে।

চট্টগ্রামে বড় কনসার্ট, ক্যাম্পাসে নবীনবরণ-কোথায় নেই তিনি। তার ভাষায়, ‘এ এক অদ্ভুত অনুভূতি। আমার গান শুনে অনেকে কাঁদেন। কেউ কেউ বলেন, ভাই মনটা সত্যি ভালো করে দিলেন। তখন মানুষ হিসাবে নিজেকে ভাবতে অন্যরকম লাগে।’

শাহেদের ব্যান্ড দলের নামটিও দারুণ, ‘তীরন্দাজ’। এ দলের কাণ্ডারি হয়েই দীর্ঘ ১৩ বছরের বেশি মঞ্চে পারফর্ম করছেন। ২০০৮ সাল থেকে প্রয়াত কিংবদন্তি আইয়ুব বাচ্চুর সান্নিধ্য। মিউজিকের খুঁটিনাটি সেখান থেকেই শেখা। শহরের ডিসি হিলে এক কনসার্টে শাহেদের গান শুনে উপস্থিত দর্শকদের উদ্দেশ্যে আইয়ুব বাচ্চু বলেছিলেন, ‘আপনারা এই ছেলেটিকে চিনে নিন। তীরন্দাজ হচ্ছে স্বুল অব রক। কি গাইলো সে...। আমি দোয়া করি শাহেদ সবার মন জয় করবে।’ হয়তো লিজেন্ডের কথাই সত্যি হওয়ার ছিল। হয়েও গেছে অনেকটা। শাহেদের ধ্যান-জ্ঞান পুরোপুরি ব্যান্ড মিউজিক। আর এ ভালোবাসা দেখেই আইয়ুব বাচ্চু তাকে নিজের সন্তানের মতো আদর করতেন। কলকাতা কিংবা দেশের যে কোনো প্রান্তে নিয়ে যেতেন কনসার্টে।

শাহেদ জানান, এখন পর্যন্ত ৬০০-এর বেশি স্টেজ শো করেছেন। তৈরি হয়েছে বেশ ক’টি মৌলিক গান। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, সিলেটসহ দেশের নানা জায়গায় তার পদচারণা অহর্নিশ। সর্বশেষ চ্যানেল আই ব্যান্ড মিউজিকের কনসার্টে শাহেদের পারফর্ম মুগ্ধ করেছে দেশের সংগীতবোদ্ধাদের। গানই তার ধ্যানজ্ঞান। বললেন, ‘ভালোবাসি। জীবিকার তাগিদে হয়তো চ্যালেঞ্জ নিয়ে বাঁচতে হচ্ছে। তবে সব কিছুই কিন্তু গানটাকে বাঁচিয়ে রাখতে করতে হচ্ছে। কারণ গানটাই আমার শেষ নিশ্বাস’-বললেন গানপাগল ছেলেটি।

আলো আঁধার

শান শাহেদ : পাহাড়ি চট্টলার কণ্ঠ জাদুকর

 মহিউদ্দীন জুয়েল 
১৫ জুলাই ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বন্দর নগরী চট্টগ্রাম। এ শহরেই বেড়ে উঠেছেন গানপ্রিয় এক ছেলে, শান শাহেদ। পাহাড়ের কোলঘেঁষে যার বেড়ে ওঠা। শহরের যেখানেই কনসার্ট, তারুণ্যের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস, সেখানেই মঞ্চ কাঁপাতে দেখা যায় তাকে।

স্কুলে থাকতেই গানের সঙ্গে বন্ধুত্ব। এরপর কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে কয়েকজন বন্ধু মিলে গড়ে তোলেন একটি ব্যান্ড দল। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় শাটল ট্রেন শাহেদকে গানের ভুবনে আসন গেড়ে দিয়েছিল স্থায়ীভাবে।

চট্টগ্রামে বড় কনসার্ট, ক্যাম্পাসে নবীনবরণ-কোথায় নেই তিনি। তার ভাষায়, ‘এ এক অদ্ভুত অনুভূতি। আমার গান শুনে অনেকে কাঁদেন। কেউ কেউ বলেন, ভাই মনটা সত্যি ভালো করে দিলেন। তখন মানুষ হিসাবে নিজেকে ভাবতে অন্যরকম লাগে।’

শাহেদের ব্যান্ড দলের নামটিও দারুণ, ‘তীরন্দাজ’। এ দলের কাণ্ডারি হয়েই দীর্ঘ ১৩ বছরের বেশি মঞ্চে পারফর্ম করছেন। ২০০৮ সাল থেকে প্রয়াত কিংবদন্তি আইয়ুব বাচ্চুর সান্নিধ্য। মিউজিকের খুঁটিনাটি সেখান থেকেই শেখা। শহরের ডিসি হিলে এক কনসার্টে শাহেদের গান শুনে উপস্থিত দর্শকদের উদ্দেশ্যে আইয়ুব বাচ্চু বলেছিলেন, ‘আপনারা এই ছেলেটিকে চিনে নিন। তীরন্দাজ হচ্ছে স্বুল অব রক। কি গাইলো সে...। আমি দোয়া করি শাহেদ সবার মন জয় করবে।’ হয়তো লিজেন্ডের কথাই সত্যি হওয়ার ছিল। হয়েও গেছে অনেকটা। শাহেদের ধ্যান-জ্ঞান পুরোপুরি ব্যান্ড মিউজিক। আর এ ভালোবাসা দেখেই আইয়ুব বাচ্চু তাকে নিজের সন্তানের মতো আদর করতেন। কলকাতা কিংবা দেশের যে কোনো প্রান্তে নিয়ে যেতেন কনসার্টে।

শাহেদ জানান, এখন পর্যন্ত ৬০০-এর বেশি স্টেজ শো করেছেন। তৈরি হয়েছে বেশ ক’টি মৌলিক গান। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, সিলেটসহ দেশের নানা জায়গায় তার পদচারণা অহর্নিশ। সর্বশেষ চ্যানেল আই ব্যান্ড মিউজিকের কনসার্টে শাহেদের পারফর্ম মুগ্ধ করেছে দেশের সংগীতবোদ্ধাদের। গানই তার ধ্যানজ্ঞান। বললেন, ‘ভালোবাসি। জীবিকার তাগিদে হয়তো চ্যালেঞ্জ নিয়ে বাঁচতে হচ্ছে। তবে সব কিছুই কিন্তু গানটাকে বাঁচিয়ে রাখতে করতে হচ্ছে। কারণ গানটাই আমার শেষ নিশ্বাস’-বললেন গানপাগল ছেলেটি।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন